POCSO Law Fast Track Trial: বারুইপুরের মর্মান্তিক ঘটনার পর আবারও সামনে এসেছে শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন অপরাধে দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তির প্রশ্ন। পকসো আইন, বিশেষ আদালত এবং বিচারপ্রক্রিয়ার বাস্তব চিত্র নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ এই প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের সূর্যপুর হাট সংলগ্ন ধপধপি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ঘটে যাওয়া ১১ বছরের এক ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীর গণধর্ষণ ও নৃশংস হত্যার ঘটনায় রাজ্যজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়েছে। অভিযোগ, নির্যাতনের পর ওই নাবালিকার মৃত্যু হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন সাধারণ মানুষ। বর্তমানে পকসো আইন-সহ একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত চলছে। ১১ বছরের এক নাবালিকার উপর গণধর্ষণ ও নৃশংস হত্যার ঘটনায় রাজ্যজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—ভারতের আইন এমন অপরাধের ক্ষেত্রে কী বলে? কত দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ হওয়ার কথা? ফাস্ট ট্র্যাক আদালতে বিচার কি সত্যিই দ্রুত হয়? আর পশ্চিমবঙ্গের ‘অপরাজিতা’ বিল কার্যকর হলে বিচার প্রক্রিয়ায় কতটা পরিবর্তন আসতে পারে? চলুন দেখে নেওয়া যাক।
নাবালিকার ক্ষেত্রে যেহেতু যৌন নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে, তাই পকসো (Protection of Children from Sexual Offences) আইন, ২০১২-এর বিধান এখানে প্রযোজ্য। পাশাপাশি ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস) এবং ফৌজদারি কার্যবিধির সংশ্লিষ্ট ধারাও কার্যকর হবে।
সম্প্রতি এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও দ্রুত বিচারের দাবি উঠেছে। অতীতে বিরোধী নেতা থাকাকালীন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, এ ধরনের জঘন্য অপরাধে “সকালেই জমা, বিকেলেই খরচ”—অর্থাৎ দ্রুততম সময়ে কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত। তবে বাস্তবে আইন কী বলছে এবং বিচার প্রক্রিয়ার নির্ধারিত সময়সীমাই বা কত?
পকসো আইন ও ভারতীয় ন্যায় সংহিতায় কী শাস্তির বিধান রয়েছে? (POCSO Law Fast Track Trial)
১১ বছরের নাবালিকার উপর গণধর্ষণ ও হত্যার মতো ঘটনায় পকসো (POCSO) আইনের ৪ ও ৬ নম্বর ধারা, অর্থাৎ Aggravated Penetrative Sexual Assault-এর বিধান প্রযোজ্য হয়। পাশাপাশি ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) ১০৩ ধারা (খুন) এবং ৭০(২) ধারা (নাবালিকার গণধর্ষণ)-এর আওতায়ও মামলা রুজু হয়।
এই ধরনের অপরাধে আইনে অত্যন্ত কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। ১২ বছরের কম বয়সী নাবালিকাকে ধর্ষণ বা গণধর্ষণের পর হত্যা করলে সর্বনিম্ন ২০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, যা আমৃত্যু কারাদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। অপরাধের নৃশংসতা বিবেচনায় আদালত মৃত্যুদণ্ডও দিতে পারে।
তদন্ত ও বিচার কত দিনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা? (POCSO Law Fast Track Trial)
পকসো আইনের ৩৫ নম্বর ধারা অনুযায়ী, নির্যাতিতার বয়ান রেকর্ড হওয়ার পর থেকে এক বছরের মধ্যে বিশেষ আদালতে বিচার প্রক্রিয়া শেষ করার চেষ্টা করতে হবে।
এছাড়া তদন্তকারী সংস্থার লক্ষ্য থাকে দ্রুত চার্জশিট জমা দেওয়া। সাধারণভাবে গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে প্রায় ৬০ দিনের মধ্যে চার্জশিট পেশ করার প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়। যদিও বাস্তবে তদন্তের অগ্রগতি, ফরেনসিক রিপোর্ট এবং অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহের ওপর সময়সীমা নির্ভর করে।
‘অপরাজিতা’ বিলে কী বলা হয়েছে? (POCSO Law Fast Track Trial)
আর জি কর হাসপাতালের ঘটনার পর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় সর্বসম্মতভাবে পাস হয় ‘অপরাজিতা ওমেন অ্যান্ড চাইল্ড (ওয়েস্ট বেঙ্গল ক্রিমিনাল ল’জ অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল’। এই বিলে নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন অপরাধের ক্ষেত্রে আরও কঠোর ও দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
বিল অনুযায়ী—
- ধর্ষণের ফলে নির্যাতিতার মৃত্যু হলে বা তিনি কোমায় চলে গেলে মৃত্যুদণ্ড বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব রয়েছে।
- এফআইআর দায়েরের ২১ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করে চার্জশিট জমা দিতে হবে। বিশেষ পরিস্থিতিতে আরও ১৫ দিন সময় বাড়ানো যেতে পারে।
- চার্জশিট জমা পড়ার ৩০ দিনের মধ্যে বিশেষ ফাস্ট ট্র্যাক আদালতে বিচার শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
অর্থাৎ, সব মিলিয়ে প্রায় দুই মাসের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে।
তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই বিল এখনও কার্যকর আইন নয়। এটি বাস্তবায়নের জন্য রাষ্ট্রপতির সম্মতি প্রয়োজন। কেন্দ্র ও রাজ্যের আইনের মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে এই প্রক্রিয়ায় সময় লাগতে পারে।
‘সকালেই জমা, বিকেলেই খরচ’—আইন কি তা সমর্থন করে? (POCSO Law Fast Track Trial)
এ ধরনের নৃশংস ঘটনার পর জনমনে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে অনেক সময় তাৎক্ষণিক শাস্তির দাবি ওঠে। অতীতে রাজনৈতিক মহলেও ‘সকালেই জমা, বিকেলেই খরচ’-এর মতো মন্তব্য শোনা গিয়েছে।
তবে ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী, ডিউ প্রসেস অফ ল বা যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া মেনে বিচার করা বাধ্যতামূলক। অর্থাৎ, তদন্ত, ফরেনসিক পরীক্ষা, সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহ এবং আদালতের বিচার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না করে কাউকে শাস্তি দেওয়া যায় না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তাড়াহুড়ো করে অসম্পূর্ণ তদন্তের ভিত্তিতে চার্জশিট দিলে অভিযুক্ত পরবর্তীকালে উচ্চ আদালতে আইনি সুবিধা পেতে পারে। তাই দ্রুত বিচার যেমন জরুরি, তেমনই নিশ্ছিদ্র ও বৈজ্ঞানিক তদন্তও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
আইনে এক বছরের মধ্যে বিচার শেষ করার নির্দেশ থাকলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই সেই সময়সীমা মানা সম্ভব হয় না। এর অন্যতম কারণ—
- বিশেষ পকসো আদালতের সংখ্যা কম।
- ফরেনসিক রিপোর্ট পেতে দীর্ঘ সময় লাগে।
- বিচারকের ঘাটতি ও বিপুল সংখ্যক বিচারাধীন মামলা।
কামদুনি এবং পার্ক স্ট্রিট-এর মতো বহুচর্চিত ঘটনায় নিম্ন আদালত থেকে উচ্চ আদালত পর্যন্ত চূড়ান্ত বিচার সম্পন্ন হতে বহু বছর সময় লেগেছে।
তবে ব্যতিক্রমও রয়েছে। বিহারের আরারিয়া জেলা আদালত মাত্র চার দিনের মধ্যে একটি পকসো মামলার বিচার শেষ করে নজির গড়েছিল। মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থানেও একাধিক ক্ষেত্রে ২০ থেকে ২৫ দিনের মধ্যে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে কঠোর সাজা ঘোষণা করা হয়েছে।
আইনের বইয়ে কঠোর শাস্তি ও দ্রুত বিচারের স্পষ্ট বিধান থাকলেও, তার সফল বাস্তবায়ন নির্ভর করে দ্রুত তদন্ত, নির্ভুল প্রমাণ সংগ্রহ, পর্যাপ্ত বিচারক, আধুনিক ফরেনসিক ব্যবস্থা এবং ফাস্ট ট্র্যাক আদালতের কার্যকারিতার ওপর। তাই ১১ বছরের ওই নাবালিকার ঘটনায়ও এখন নজর থাকবে—আইনের প্রতিশ্রুতি কি বাস্তবে রূপ পায়, নাকি দীর্ঘসূত্রিতার চক্রে আটকে যায় বিচার।
#POCSO #POCSOAct #FastTrackTrial #ChildProtection #JusticeForChildren #IndianLaw #BNS #LegalNews #CrimeNews #ForensicEvidence #FastTrackCourt
সাম্প্রতিক পোস্ট
রাত পেরিয়েও অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা এল না? এবার কী করতে হবে জেনে নিন, মিস করবেন না
রাজ্যে চালু প্রধানমন্ত্রী মাতৃ বন্দনা যোজনা, ১১ হাজার টাকা পাবেন কারা? জেনে নিন কীভাবে আবেদন করবেন?
মহিলাদের বাসে টিকিট কাটতে হবে না! জানুন, এই কার্ড থাকলেই দিঘা থেকে দার্জিলিং সফর ফ্রী তে
আপনার এলাকায় কি মিলবে ১২৫ দিনের কাজ? আজ থেকেই চালু নতুন প্রকল্প, জানুন কারা পাবেন এই সুবিধা
রাতভর খোলা থাকবে দোকান! জানলে অবাক হবেন বদলে যাচ্ছে কলকাতার চেনা ছবি, নতুন নিয়মে চমক

