Prabhas Mondal Encounter: বারুইপুর কাণ্ডে গ্রেপ্তারের মাত্র আটচল্লিশ ঘণ্টার মধ্যেই পুনর্নির্মাণের সময় পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয় অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক, পাশাপাশি পুলিশের ভূমিকা নিয়েও উঠেছে নানা প্রশ্ন।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: রাজ্যে একের পর এক নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে যখন পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন উঠছিল, ঠিক সেই সময় বারুইপুরের নাবালিকা নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের তদন্তে বড় মোড় আসে। গ্রেপ্তারের মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই ঘটনাস্থলে পুনর্নির্মাণের সময় পুলিশের গুলিতে নিহত হয় অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল। এই ঘটনাকে ঘিরে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক বিতর্ক। বিরোধীদের একাংশের দাবি, পশ্চিমবঙ্গে এমন ঘটনা আগে খুব একটা দেখা না গেলেও উত্তরপ্রদেশের মতো ‘এনকাউন্টার’ পদ্ধতির প্রতিফলন এবার বাংলাতেও দেখা গেল।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সারাদিন জিজ্ঞাসাবাদের পর গভীর রাতে তদন্তের স্বার্থে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলকে নিয়ে যায় বারুইপুরের সূর্যপুর এলাকায়। তদন্তের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী, অভিযুক্তের বয়ানের সঙ্গে ঘটনাস্থলের বাস্তব পরিস্থিতি মিলিয়ে দেখতেই পুনর্নির্মাণ (রিকনস্ট্রাকশন) চলছিল।
সেই সময়ই পুলিশের দাবি অনুযায়ী, আচমকা সিটের সদস্য রনি সরকারের কোমর থেকে সার্ভিস পিস্তল ছিনিয়ে নেয় প্রভাস মণ্ডল এবং একটি গুলি চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় এবং আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালান বারুইপুর থানার গুন্ডা দমন শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার অর্ঘ্য মণ্ডল। সেই গুলিতেই গুরুতর জখম হয় প্রভাস। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এই অভিযানের সঙ্গে যুক্ত দুই পুলিশ আধিকারিকের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। ২০১৪ ব্যাচের অফিসার অর্ঘ্য মণ্ডল এর আগে সোনারপুর, কুলতলি, জয়নগর-সহ একাধিক থানায় দায়িত্ব পালন করেছেন। বারুইপুরে বিশেষ অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রেও তাঁর অভিজ্ঞতা রয়েছে। অন্যদিকে, রণি সরকার কর্মজীবন শুরু করেছিলেন কনস্টেবল হিসেবে। পরে পদোন্নতি পেয়ে সাব-ইন্সপেক্টর হন এবং নরেন্দ্রপুর, বারুইপুর, জয়নগর ও বকুলতলা-সহ বিভিন্ন থানায় দায়িত্ব সামলেছেন।
বারুইপুর কাণ্ডের তদন্তে এই দুই আধিকারিকের ওপরই প্রশাসনের বিশেষ আস্থা ছিল। ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে তাঁদের ভূমিকা নিয়ে পুলিশের একাংশের দাবি, তাঁরা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে বড় বিপদ এড়িয়েছেন।
এদিকে এই ঘটনায় নিহত নাবালিকার পরিবারের প্রতিক্রিয়াও সামনে এসেছে। পরিবারের দাবি, প্রধান অভিযুক্তের মৃত্যুতে তাঁরা বিচার পাওয়ার আশা আরও দৃঢ় হয়েছে। একই সঙ্গে প্রভাস মণ্ডলের মা ও স্ত্রীও প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, প্রভাসের কাজকে তাঁরা সমর্থন করেন না। তাঁদের বক্তব্য, যদি সে অপরাধ করে থাকে, তবে তার শাস্তি হওয়াই উচিত। এই মন্তব্যের জেরে ঘটনাটি নতুন মাত্রা পেয়েছে।
তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এনকাউন্টারে মৃত্যুর ঘটনা আইনগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল। এমন প্রতিটি ঘটনার ক্ষেত্রেই নিরপেক্ষ তদন্ত, ফরেনসিক পরীক্ষা এবং আদালতের নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। ফলে বারুইপুরের এই ঘটনাতেও তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট এবং সরকারি নথিই শেষ পর্যন্ত প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট করবে।
#PrabhasMondal #Baruipur #Encounter #WestBengalPolice #SuvenduAdhikari #CrimeNews #BreakingNews #WestBengal #PoliceInvestigation
সাম্প্রতিক পোস্ট
রাত পেরিয়েও অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা এল না? এবার কী করতে হবে জেনে নিন, মিস করবেন না
রাজ্যে চালু প্রধানমন্ত্রী মাতৃ বন্দনা যোজনা, ১১ হাজার টাকা পাবেন কারা? জেনে নিন কীভাবে আবেদন করবেন?
মহিলাদের বাসে টিকিট কাটতে হবে না! জানুন, এই কার্ড থাকলেই দিঘা থেকে দার্জিলিং সফর ফ্রী তে
আপনার এলাকায় কি মিলবে ১২৫ দিনের কাজ? আজ থেকেই চালু নতুন প্রকল্প, জানুন কারা পাবেন এই সুবিধা
রাতভর খোলা থাকবে দোকান! জানলে অবাক হবেন বদলে যাচ্ছে কলকাতার চেনা ছবি, নতুন নিয়মে চমক

