কলকাতা পুলিশের কনস্টেবল থেকে ইন্ডিয়ান আইডল -৩ (Prashant tamang death) চ্যাম্পিয়ন। করেছেন ওয়েব সিরিজে অভিনয়। প্রশান্ত তামাং এর আকস্মিক মৃত্যুতে ভক্তমহল শোকগ্রস্ত। জানুন তার কঠিন সংগ্রামের দিনগুলোর কথা।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: কলকাতা পুলিশের এক সাধারণ কনস্টেবল থেকে জাতীয় স্তরের আইকন হয়ে ওঠার গল্প — এ যেন সিনেমার চিত্রনাট্য। সেই গল্পের নায়ক প্রশান্ত তামাং আজ আর নেই। তাঁর আকস্মিক প্রয়াণে শোকস্তব্ধ গোটা দার্জিলিং ও সংগীতপ্রেমী ভারত। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে “ইন্ডিয়ান আইডল” সিজন ৩-এর সেই চিরচেনা হাসি ম্লান হয়ে গেল চিরতরে। এই প্রতিবেদনে জানুন , কীভাবে এক পাহাড়ি যুবকের স্বপ্ন, সংগ্রাম ও সংগীত মিলেছিল এক কিংবদন্তি যাত্রায়।
আরও পড়ুন : লগ্নজিতার গান, জীবন, বিতর্ক – অনন্য সুরের গল্প │ LagnaJita Chakraborty Life & Controversy
দার্জিলিং এর ভূমিপুত্র বলে পরিচিত ছিলেন। ১৯৮৩ সালে দার্জিলিং এ জন্ম প্রশান্ত তামাং এর। গান তাকে ছোটবেলা থেকেই টানতো। কিন্তু দারিদ্র্যের কারণে প্রথাগতভাবে শিক্ষা লাভ করা তখন সম্ভব হয়নি। সেখান থেকে তারকা হয়ে ওঠার যাত্রা খুব একটা সহজ ছিল না। সেই নক্ষত্রের মৃত্যু মাত্র ৪৩ বছর বয়সে। শনিবার অরুণাচল প্রদেশে একটি অনুষ্ঠানে গান গাইতে গিয়েছিলেন তিনি। সেখান থেকে দিল্লিতে আসেন। রাতে অসুস্থ বোধ করলে দ্বারকার কাছে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়, স্ট্রোকে তাঁর মৃত্যু হয়েছে (Prashant tamang death)। রবিবার সকালে খবরটি সংবাদ মাধ্যমে জানানো হয়।
অসময়ে নক্ষত্রপতন (Prashant tamang death)। জন্মের পর থেকেই দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই শুরু হয় তার। অল্প বয়সে বাবা মারা যান। বাবা পুলিশে চাকরি করতেন। পরিবারের হাল ধরতে তাকেও চাকরি নিতে হয়। কলকাতা পুলিশে কনস্টেবল এর চাকরি। চাকরিসূত্রে সহকর্মীর কাছে বাংলা ভাষা শেখেন তিনি। পুলিশের যে গানের দল ছিল সেখানে যোগদান করেন। তার গলায় যে সুর ছিল, তা বুঝতেই পেরেছিলেন তার সহকর্মীরা। পুলিশে চাকরি চলাকালীন তিনি যোগদান করেন ইন্ডিয়ান আইডলে-৩ তে। প্রত্যেকটি পর্যায়ে সফল হতে হতে তিনি পৌঁছে যান ফাইনালে। ২০০৭ সালের সেই মুহূর্তটি আজও ইতিহাস। পুরো উত্তর-পূর্ব ভারতের মানুষ একজোট হয়ে ভোট দিয়েছিল প্রশান্তের পক্ষে। তাঁর জয়ের মধ্যে অনেকেই দেখেছিলেন পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর গর্ব, পরিচয়ের প্রতীক। চূড়ান্ত পর্বে তিনি হারান অমিত পলকে। সেই দিন থেকে পুলিশ কনস্টেবল প্রশান্ত তামাং হয়ে ওঠেন জাতীয় তারকা।
গান ছাড়াও প্রশান্ত ছিলেন এক বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। ২০১১ সালে নেপালি ছবি ‘গোরখা পাল্টন’ (Gorkha Paltan)-এ অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি সিনেমা জগতে পা রাখেন। সংগীত ও অভিনয়— দুই জগতেই নিজের দৃঢ় অবস্থান তৈরি করেছিলেন প্রশান্ত। শুধু নেপাল নয়, দার্জিলিং, সিকিম, ভুটান— সমগ্র পাহাড়ি অঞ্চলে ছিল তাঁর অগণিত ভক্ত, যাঁরা আজও ভালোবাসেন সেই সরল, হাসিখুশি শিল্পীকে, যিনি কখনও নিজের শিকড় ভোলেননি। তার সহজ সরল জীবন অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে থাকবে।
বলিউডের প্লেব্যাক এর পাশাপাশি নেপালি সিনেমা জগতে তার আত্মপ্রকাশ ঘটে। নেপালি সংস্কৃতিতে তিনি খুবই প্রাণবন্ত ছিলেন। নেপালি ভাষায় তার একাধিক গান রয়েছে। মুম্বাই ছিল তার কর্মক্ষেত্র। পাকাপাকিভাবে কখনোই তিনি সেখানে বসবাস করেননি। বারবার ছুটে গেছেন পাহাড়ে। সেখানে ছিল তার পরিবার। ‘পরদেশী’, ‘পরদেশী টু’ এর মতো সফল নেপালি ছবিতে তিনি অভিনয় করেছেন। ২০২৫ এ শেষবার তাকে দেখা গেছে ‘পাতাল লোক -২’ ওয়েব সিরিজে। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী প্রশান্ত তামাং এর জীবন অকালেই ঝরে গেল।
পৃথক গোর্খাল্যান্ড এর দাবিতে যখন পাহাড়ে অশান্তি, সেই সময় পাহাড়ের মুখ হয়ে ওঠেন তিনি। গোর্খাল্যান্ড এর আন্দোলনে তিনি জড়িয়ে পড়েন। তাঁকে ঘিরে শুরু হয়েছিল বিতর্ক (Prashant tamang death)। তাঁকে ঘিরে শুরু হয়েছিল বিতর্ক। কিন্তু তার সরলতা, বিনয় আর সংগীত কোন কিছুর ঊর্ধ্বেই উঠতে পারেনি। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশান্ত তামাং এর মৃত্যুতে শোক বার্তা জানিয়েছেন। তিনি শুধু অগণিত মানুষের কাছে অনন্ত প্রেরণা হয়ে রয়ে যাবেন।
#PrashantTamang, #IndianIdol3, #PrashantTamangDeath, #IndianIdolWinner ,#IndianIdol2007, #PrashantTamangForever

