নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: গ্যাংটক থেকে দিল্লি। সঙ্গে সিকিমের রুদ্রাক্ষ, বিষ্ণু পুরাণের বই এবং গৌতম বুদ্ধের মূর্তি। বিজেপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়ে রাজ্যসভার সাংসদ ডঃ সতীশ পুনিয়ার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন সিকিম প্রফেশনাল ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার অধ্যাপক রমেশ কুমার রাওয়াত। বিজেপির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক, পাঞ্জাব ও জম্মু-কাশ্মীরের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা এবং দলের তফসিলি জনজাতি (ST) মোর্চার জাতীয় দায়িত্ব পাওয়ার পর তাঁকে শুভেচ্ছা জানাতেই এই সাক্ষাৎ বলে আয়োজকের দেওয়া বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
সাক্ষাৎটি ছিল সৌজন্যমূলক। তবে উপহারের তালিকায় সিকিমের প্রাকৃতিক রুদ্রাক্ষ থেকে শুরু করে ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের নানা প্রতীক থাকায় আয়োজনটি পেয়েছে আলাদা মাত্রা। অধ্যাপক রাওয়াত দিল্লির বিজেপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পুনিয়ার সঙ্গে দেখা করেন। তাঁকে রুদ্রাক্ষের কণ্ঠি ও উত্তরীয় পরিয়ে দেন। উপহার দেন বিষ্ণু পুরাণের বই এবং গৌতম বুদ্ধের মূর্তি। নতুন দায়িত্বে তাঁর সাফল্য কামনা করেন বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ রয়েছে।
রাজস্থানের জয়পুর জেলার চৌমু শহরের অশোক বিহার এলাকার বাসিন্দা অধ্যাপক রাওয়াত বর্তমানে সিকিমের রাজধানী গ্যাংটকে কর্মরত। তাঁর এই সফরকে কেন্দ্র করে পুনিয়ার নতুন দায়িত্ব নিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় হয়েছে। তবে সাক্ষাতে কোনও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, নতুন কর্মসূচি বা দলীয় কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ নেই।
ডঃ সতীশ পুনিয়া রাজস্থানের বিজেপি রাজনীতিতে আগে থেকেই পরিচিত মুখ। তিনি রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি ছিলেন। পরে হরিয়ানায় দলের দায়িত্ব সামলেছেন এবং বর্তমানে জাতীয় স্তরে দলের একাধিক সাংগঠনিক দায়িত্বে রয়েছেন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। পাঞ্জাব ও জম্মু-কাশ্মীরের দায়িত্বের পাশাপাশি বিজেপির ST মোর্চার জাতীয় দায়িত্ব পাওয়াকে তাঁর রাজনৈতিক যাত্রার আরও একটি অধ্যায় হিসেবে তুলে ধরেছেন অধ্যাপক রাওয়াত।
সাক্ষাৎকালে অধ্যাপক রাওয়াত আশা প্রকাশ করেন, রাজস্থান, হরিয়ানা ও দেশের অন্যান্য জায়গায় দায়িত্ব পালনের মতোই পুনিয়া নতুন দায়িত্বেও দলের সংগঠনকে শক্তিশালী করতে ভূমিকা নেবেন। পাঞ্জাব ও জম্মু-কাশ্মীরে তাঁর নেতৃত্বে বিজেপি ভালো ফল করবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এগুলি অধ্যাপক রাওয়াতের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক মূল্যায়ন; নতুন দায়িত্বের ফলাফল সম্পর্কে কোনও নিশ্চিত সিদ্ধান্ত নয়।
এই সাক্ষাতের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে ২০২০ সালের একটি পুরনো সাক্ষাৎকারের কথাও। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের ৩ জুলাই হিন্দি সংবাদমাধ্যম ওয়েবদুনিয়ায় সাংবাদিক ডঃ রমেশ কুমার রাওয়াতকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সতীশ পুনিয়া জানিয়েছিলেন, ক্ষমতা বা পদ পাওয়ার জন্য সংঘাত হওয়া উচিত নয়। দলের দেওয়া দায়িত্ব ও কাজের ভিত্তিতে ভবিষ্যতেও স্বীকৃতি পাওয়ার আশা প্রকাশ করেছিলেন তিনি।
অধ্যাপক রাওয়াতের মতে, পরবর্তী সময়ে পুনিয়া রাজ্য বিজেপির সভাপতি, হরিয়ানার দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা, রাজ্যসভার সাংসদ এবং দলের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক-সহ বিভিন্ন দায়িত্ব পেয়েছেন। তাঁর এই পথচলাকে তিনি দলের তরফে কাজের স্বীকৃতি হিসেবে দেখেছেন। একই সঙ্গে তিনি মত প্রকাশ করেছেন, বিজেপি যে দায়িত্ব দেওয়ার কথা বলেছিল, তা বাস্তবেও করেছে। এই বক্তব্যটি আয়োজকের রাজনৈতিক ব্যাখ্যা; স্বাধীনভাবে যাচাই করা মূল্যায়ন নয়।
সৌজন্য সাক্ষাতের এই বিবরণে রাজনৈতিক দায়িত্বের পাশাপাশি প্রতীকী উপহারের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। রুদ্রাক্ষ, বিষ্ণু পুরাণ ও বুদ্ধমূর্তি—তিনটি উপহারের মধ্যে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ভিন্ন ভিন্ন অনুষঙ্গ রয়েছে। তবে উপহারগুলির মাধ্যমে কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বার্তা দেওয়া হয়েছে, এমন দাবি বিবৃতিতে করা হয়নি। তাই সেগুলিকে সাক্ষাতের সৌজন্যমূলক অংশ হিসেবেই দেখা যুক্তিযুক্ত।
রাজনীতিতে নতুন দায়িত্ব ঘোষণার পর শুভেচ্ছা বিনিময় পরিচিত ঘটনা। এই ক্ষেত্রেও সাক্ষাৎকার, উপহার এবং ভবিষ্যৎ দায়িত্ব নিয়ে আশাবাদ—সব মিলিয়ে একটি সৌজন্য সাক্ষাতের বিবরণ সামনে এসেছে। পাঞ্জাব ও জম্মু-কাশ্মীরে পুনিয়ার নতুন দায়িত্বে কী ধরনের সাংগঠনিক কাজ হবে, তার উত্তর অবশ্য মিলবে আগামী দিনের কার্যকলাপেই।

