shubhra-life-story: চার বন্ধুর ভেতরে সবচেয়ে নিঃশব্দ লড়াইটা চালিয়ে গেছে শুভ্র। জীবনে বারবার ভালোবাসা এসেও থেকে যায়নি, ঠিক যেমন পরীক্ষার খাতায় ভালো উত্তর লিখেও নম্বর না পাওয়া। স্বাতী, তিলোত্তমা, শতরূপা—প্রতিটি নামের সঙ্গেই জড়িয়ে ছিল আলাদা স্বপ্ন, আলাদা আশা। কিন্তু প্রতিবারই বাস্তবতা এসে দাঁড়িয়েছে সামনে, ভেঙেছে মনের ভিত। কেন্দ্রীয় সরকারি চাকরি, স্থায়ী আয়—সব থাকা সত্ত্বেও শুভ্র আজও একা। সমাজ যেখানে সাফল্যের মানে শুধু চাকরি আর বিয়েতে মাপে, সেখানে শুভ্র রয়ে গেছে ব্যতিক্রম—যার জীবনে প্রাপ্তির চেয়ে অপূর্ণতাই বেশি কথা বলে। লিখছেন মৌ চৌধুরী।
সময় কিছুটা এগিয়ে যাওয়ার পর থেকেই নারী, পুরুষের জীবন সাথীকে নিয়ে কিছুটা ক্ষণ কখনও রোদ কখনও বৃষ্টি আবার হয়তো ঝালটকের মিশ্রন চলতেই থাকে। হয়তো সারাটা সময় ধরেই। তবে সকলের জীবনে এমনই সমীকরণ আসবে এমনটা নাও হতে পারে।
কারও কারও জীবনে দু’তিনটে প্রেম একই সময়ে কড়া নাড়ে নীরবে। অনেকেই হয়ত বলি বলি করেও ভাষায় ফোটাতে পারে না। আজকের প্রসঙ্গ অনেকটা সেই রকম। চারবন্ধু রাতুল দেবাঙ্কন শুভ্র অভিরূপ সেই হাই স্কুলের জীবন থেকে শুরু করে কলেজ পর্যন্ত একই সেকশন একই সাবজেক্ট নিয়ে লেখাপড়া করেছে। কিন্তু পরিবর্তনটা হয়েছিল উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার আগে দিয়ে। ফিজিক্স টিচারের কাছে ব্যাচে প্রাইভেট পড়তে গিয়ে দুটি মেয়েকে ওদের ভালো লেগে যায়। মেয়ে দুটির নাম রিমঝিম আর শতরূপা। আরও একজন ছিল তিলোত্তমা। তাকে নিয়েই অনেকটা গল্প। আক্ষরিক অর্থেই সে ছিল তিলোত্তমা, পাশাপাশি অতীব মেধাবী। ভীষণ ভালো রেজাল্ট। কিন্তু কোনও ছেলেকেই ‘পাত্তা’ দেয় না। তার ওপর মা নয়ত বাবা ব্যাচে পড়তে দিতে ও নিয়ে আসে।
চার বন্ধুর ভেতর রাতুলের ঠাটবাট একটু বেশী। ব্যবসায়ী ঘরের ছেলে। তার ওপর উচ্চমাধ্যমিকের আগেই বাইক কিনে বন্ধুদের কাছে গল্প শোনানোর শেষ নেই পাশাপাশি বান্ধবীরও শেষ নেই। শুভ্র খুবই সাধারণ ঘরের ছেলে। মধ্যমেধা তবে লেখাপড়াটা সিরিয়াসলি করে। মামার বাড়িতে থাকে। প্রত্যন্ত গ্রামে ওদের বাড়ি। দেশের বাড়িতে মা বাবা থাকে। ওর আরও দুটো ভাই আছে। সব মা বাবার মতো ওর মায়ের স্বপ্ন ছেলে লেখাপাড়া শেষ করে ভালো চাকরি করবে। গ্রামের বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে একটা কোএড স্কুলে পড়ত। ক্লাসের একটি মেয়েকে বাবার পকেট থেকে টাকা চুরি করে কাঁচের চুরি, পুঁতির মালা মেলায় পাঁপড় ভাজা খাওয়াত। টাকা চুরির কথা জানতে পেরে ওর বাবা হালচাষের গরু পেটানোর লাঠি দিয়ে খুব মেরেছিল। ওর মা কড়াইতে দুধ জ্বাল করে রাখলে ওর ভাই পাটকাঠিকে স্ট্র হিসাবে ব্যবহার চুপিচুপি করে খেয়ে নিত। শুভ্র ওর মাকে ভাইএর দুধ চুরির নালিশ করেছিল। পাল্টা ওর ভাই শুভ্রর বান্ধবীকে নিয়ে মেলায় বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে দিয়েছিল। এর সামগ্রিক ফল হিসেবে বাবার কাছে ওর মার খাওয়া আর গ্রামের বাড়ি থেকে কলকাতায় মামার বাড়িতে ওকে পাঠিয়ে দেওয়া।
পরবর্তীতে বন্ধু অভিরূপের বোনকে ওর ভালো লাগে যায়। কিন্তু এখানে শুভ্র এগুতে পারেনি। আবার ক্লাসের সহপাঠী স্বাতীর মন ভোলানোর জন্য নোটস লেখা, বিজ্ঞানের ড্রয়িং করা অনেক কিছুই করেছে। কিন্তু সরস্বতী পূজার দিন শুভ্রকে আবাক করে অভিরূপের হাত ধরে স্বাতী বেড়াতে চলে গেল। খুবই কষ্ট পেয়েছিল ও। কত স্বপ্ন দেখেছিল স্বাতীকে নিয়ে। এভাবেই স্বপ্ন ভেঙ্গেছে বারবার।
ব্যাচের তিলোত্তমাকে নিয়েও স্বপ্ন দেখছিল ও। তিলোত্তমার সঙ্গে ভালো বন্ধুত্ব হয়েছিল ঠিকই কিন্তু তাকে ঘীরে স্বপ্ন দেখার কিছু ছিল না। রাতুলও তিলোত্তমাকে পছন্দ করত। কিন্তু তিলোত্তমার গাম্ভীর্যে কোনও ফাটল ধরাতে পারেনি। পরে তিলোত্তমা প্রত্যাশা মতোই জয়েন্ট দিয়ে মেডিক্যাল পড়তে চলে যায়। স্কুলের শেষের দিকে তিলোত্তমার সঙ্গে শুভ্রর সহপাঠী সুলভ বন্ধুত্ব নিয়ে রাতুল অভিরূপের কাছে কত ব্যাঙ্গ শুনেছে। এই ব্যাঙ্গের ভেতর ঈর্ষা ছিল। তিলোত্তমার বাড়িতেও যাতায়াত ছিল। এখানেই একটা ভুল স্বপ্ন দেখেছিল শুভ্র। তিলোত্তমা মেডিক্যাল পড়তে চলে যাওয়ার পর আর কোনও যোগাযোগ ছিল না।
শতরূপা আর রিমঝিমের রেজাল্ট ভালোই ছিল কিন্তু ওরা জয়েন্টে বসেনি। পরে শতরূপা পিএসসি পরীক্ষা দিয়ে জয়েন্ট বিডিও হিসেবে কাজ শুরু করেছিল। শুভ্র শতরূপার সঙ্গে বন্ধুত্ব রেখেছিল। ভেবেছিল শতরূপাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখবে কিন্তু কোথাকার কে এক বড় অফিসারের সঙ্গে ওর বিয়ে হয়ে গেল।
পরবর্তী সময়ে রাতুল পারিবারিক ব্যবসায় নেমে পড়ে অভিরূপ আর দেবাঙ্কন আই টি সেক্টরে চাকরি নিয়ে মানবিক গুনগুলো হারিয়ে হায়দরাবাদে চাকুরি সূত্রে পাওয়া মানসিক অস্থিরতার ভেতর দিন কাটিয়ে যাচ্ছে। শুভ্র পরীক্ষা দিয়ে পোষ্ট অফিসের কেরানী। তবে গর্ব করে বলে সেন্ট্রাল ‘গরমেন্টের’ চাকরি করে। তবে এখনও বিয়ে হয়নি কারণ কোনও এক অজানা কারণে কোনও মেয়েই ওকে স্বামী হিসাবে মেনে নিতে চায় না।
(আরও গুরুত্বপূর্ণ খবর ও রাশিফল আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল WhatsApp চ্যানেলে যোগ দিন! সবচেয়ে আগে পান জ্যোতিষ, অফবিট নিউজ, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি, বিনোদন, জীবনধারা ও অফবিট এক্সক্লুসিভ আপডেট —আমাদের WhatsApp Channel-এ যোগ দিন)
সাম্প্রতিক পোস্ট
- ভোটের বছরেও ‘বঞ্চিত’ বাংলা? হাইস্পিড রেল আর ফ্রেট করিডর ছাড়া ঝুলিতে শূন্য! বাজেটে বাড়ল ক্ষোভের পারদ
- ভোটের আগে পশ্চিমবঙ্গের জন্য বাজেট কি জনদরদী হতে চলেছে? জানুন, লাইভ বাজেট আপডেট ২০২৬
- পুরনো ধাতুর ওপর বিশ্বাস │ রাজপথে কীভাবে ভিন্টেজ গাড়ি হয়ে ওঠে চলমান ইতিহাস
- ঋতুস্রাব আর বাধা নয় শিক্ষায় │ যুগান্তকারী রায় দেশের শীর্ষ আদালতের
- বাজেট প্রত্যাশা ২০২৬ │ ভোটের আগে বাংলার জন্য কী চমক রাখছে কেন্দ্র? │ জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞ অর্থনীতিবিদ

