নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: সিএনএনের ডিজিটাল মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সেই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে অসাধারণ সাহস ও উপস্থিত বুদ্ধির পরিচয় দেন ভারতীয় বৈমানিক স্মিত মাচ্ছার। সহকারী বৈমানিকের হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার পরও তিনি ককপিটের দরজা খুলে দেন। সেই দরজা দিয়েই যাত্রী এবং বিমানের সঙ্গে থাকা অন্য প্রশিক্ষিত কর্মীরা ভিতরে ঢুকে হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। পরে বিমানটি সৌদি আরবের তাবুক শহরে জরুরি অবতরণ করে। বিমানে থাকা ১৭৪ জনের জীবন রক্ষা পাওয়ার পেছনে স্মিতের ভূমিকা তাই এখন আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত হচ্ছে।
সিএনএন সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, স্মিত শুধু একজন অভিজ্ঞ পাইলট নন, তিনি দুই সন্তানের বাবা এবং পরিচিতদের কাছে শান্ত, হাসিখুশি ও সদালাপী মানুষ হিসেবেও পরিচিত। জীবনের এমন এক ভয়ংকর মুহূর্তে তাঁর ব্যক্তিত্বের সেই শান্ত স্বভাবই যেন অন্য এক অর্থ পেয়েছে। গুরুতর রক্তক্ষরণ সত্ত্বেও তিনি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, সেটিই বিমানের দরজা খুলে দিয়ে যাত্রীদের প্রতিরোধের সুযোগ তৈরি করে।
যে কয়েক মিনিটে বদলে গেল পুরো বিমানের পরিস্থিতি
সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুবাই থেকে তেল আভিভের উদ্দেশে উড়েছিল বিমানটি। যাত্রার শুরুতে সবকিছু স্বাভাবিকই ছিল। বিমানটি প্রায় ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতায় উঠে স্বাভাবিক গতিতে চলছিল। কিন্তু উড্ডয়নের প্রায় দুই ঘণ্টা পর পরিস্থিতি আচমকা বদলে যায়। বিমান দ্রুত নিচের দিকে নামতে শুরু করে এবং যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
বিমানে থাকা যাত্রীদের বর্ণনা অনুযায়ী, বিমান এমনভাবে নেমে যাচ্ছিল যে অনেকেই মনে করেছিলেন তাঁদের আর বাঁচার সম্ভাবনা নেই। শিশুদের কান্না, যাত্রীদের চিৎকার এবং বিমানের আকস্মিক পতনের মধ্যে কয়েকটি মুহূর্ত যেন অসীম দীর্ঘ হয়ে উঠেছিল। সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমানটি অল্প সময়ের মধ্যে প্রায় ১৭ হাজার ৪০০ ফুট নিচে নেমে যায়। অন্য সম্প্রচারে উল্লিখিত উড়ান-তথ্য বিশ্লেষণে ৩৫ সেকেন্ডে প্রায় ২০ হাজার ফুট উচ্চতা হারানোর কথাও বলা হয়েছে।
এই সময়েই বিমানের ককপিটে ঘটে যায় মূল ঘটনা। সিএনএন সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সহকারী বৈমানিক স্মিত মাচ্ছারের ওপর হামলা করেন। স্মিত গুরুতর আহত হলেও প্রতিরোধ করার চেষ্টা চালিয়ে যান। হামলার মধ্যেই তিনি ককপিটের দরজা খুলে দিতে সক্ষম হন। এই একটি সিদ্ধান্তই পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
কারণ আধুনিক যাত্রীবাহী বিমানের ককপিট সাধারণ যাত্রীদের জন্য সহজে প্রবেশযোগ্য নয়। সেখানে ঢোকার সুযোগ না থাকলে বাইরে থাকা যাত্রী বা কর্মীদের পক্ষে ভিতরের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ত। স্মিত আহত অবস্থায় দরজা খুলে দেওয়ায় যাত্রীরা ভিতরে ঢোকার সুযোগ পান এবং হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেন।
রক্তাক্ত অবস্থাতেও থামেননি স্মিত
সিএনএনের প্রতিবেদনে যাত্রী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা থেকে যে চিত্র উঠে এসেছে, তা ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ। হামলার পরে ককপিটে রক্ত ছড়িয়ে পড়েছিল এবং স্মিত গুরুতর আহত অবস্থায় মাটিতে পড়ে ছিলেন। বিমানে থাকা দন্ত চিকিৎসক শোতা মুসায়েভ তাঁকে চিকিৎসা দিতে এগিয়ে আসেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, স্মিতের প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছিল এবং রক্তচাপ দ্রুত নেমে যাচ্ছিল।
সিএনএনকে দেওয়া বর্ণনায় মুসায়েভ জানান, আরও কিছুক্ষণ দেরি হলে স্মিতকে বাঁচানো কঠিন হয়ে যেত। তিনি হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলেন এবং চারপাশে রক্ত ছড়িয়ে পড়েছিল। এমন পরিস্থিতিতেও ককপিটের দরজা খুলে দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজটি তিনি করতে পেরেছিলেন।
এই ঘটনার পর বিমানে থাকা যাত্রীদের কয়েকজন দ্রুত ককপিটের দিকে এগিয়ে যান। তাঁদের মধ্যে একজন হামলাকারীকে ধরে বাইরে টেনে আনার চেষ্টা করেন। অন্য যাত্রীরা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করেন। পাশাপাশি বিমানে থাকা দুই অতিরিক্ত পাইলট পরিস্থিতি সামাল দিতে এগিয়ে আসেন। শেষ পর্যন্ত বিমানটিকে সৌদি আরবের তাবুক শহরের দিকে ঘুরিয়ে নেওয়া হয় এবং সেখানে জরুরি অবতরণ করা হয়।
সিএনএনের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, হামলার সময় বিমানটি এত দ্রুত নিচে নামছিল যে যাত্রীদের কাছে সেটি ছিল মৃত্যুর মুখোমুখি হওয়ার মতো অভিজ্ঞতা। পরে বিমানের কিছু অংশে ক্ষতির চিহ্নও দেখা যায়। তবে বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু স্মিতের সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন। সিএনএনের সম্প্রচারে তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, স্মিতের পদক্ষেপ একটি ভয়াবহ বিমান বিপর্যয় ঠেকাতে সাহায্য করেছে। তবে ঘটনার উদ্দেশ্য বা হামলার সুনির্দিষ্ট কারণ নিয়ে তদন্ত তখনও চলছিল এবং কর্তৃপক্ষ কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি।
মুম্বইয়ের হাসিখুশি ছেলেটি কীভাবে পাইলট হলেন
সিএনএনের প্রতিবেদনে স্মিত মাচ্ছারের জীবনের আরও একটি অন্যরকম দিক উঠে এসেছে। বৈমানিক হওয়া তাঁর ছোটবেলার স্বপ্ন ছিল না। তিনি এমন একটি পরিবারে বড় হয়েছেন, যেখানে পারিবারিক বস্ত্র ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি ছিল। পড়াশোনার পর তিনি বস্ত্র প্রকৌশল নিয়ে পড়াশোনাও শুরু করেছিলেন।
কিন্তু পরে তাঁর জীবনের গতিপথ বদলে যায়। প্রায় ১৯ বছর বয়সে তিনি বৈমানিক হওয়ার প্রশিক্ষণের জন্য নিউজিল্যান্ডে যান। দক্ষিণাঞ্চলের ডানেডিন শহরে তাঁর প্রশিক্ষণের সময়কার শিক্ষক ফিলিপ কিন সিএননকে জানিয়েছেন, স্মিত তখনও অত্যন্ত হাসিখুশি ও প্রাণবন্ত তরুণ ছিলেন। তিনি পরিশ্রম করতেন এবং নিজের কাজ শেখার ব্যাপারে যথেষ্ট আগ্রহী ছিলেন।
স্মিতের সেই পুরনো প্রশিক্ষণদাতা তাঁকে স্মরণ করে বলেছেন, তাঁর মুখে সবসময় একটি স্বাভাবিক হাসি থাকত। তাঁর পরিচিতদের কাছ থেকেও একই ধরনের বর্ণনা পাওয়া যায়। মুম্বইয়ে তাঁর পুরনো প্রতিবেশী জিনাত শাহ সিএনএনকে জানিয়েছেন, স্মিত ছিলেন নরম স্বভাবের, ভালো মনের এবং ভদ্র মানুষ। তাঁর পরিচিতরা তাঁকে এমন একজন মানুষ হিসেবেই মনে রেখেছেন, যাঁর আচরণে অহংকারের ছাপ ছিল না।
বৈমানিক হিসেবে স্মিতের অভিজ্ঞতাও দীর্ঘ। সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি ভারতের একটি বেসরকারি বিমান সংস্থায় প্রায় ১১ বছর কাজ করেছেন এবং পরে দুবাইয়ের বিমান সংস্থায় যোগ দেন। তাঁর পেশাগত জীবনের মোট উড়ান-অভিজ্ঞতা ১৫ বছরেরও বেশি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এত বছরের পেশাগত জীবনে মাঝআকাশের এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি তাঁর জন্য সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী ছিল। এর আগে তাঁর মুখোমুখি হওয়া অস্বাভাবিক ঘটনাগুলির মধ্যে একটি ছিল বিমানের ভিতরেই এক যাত্রীর সন্তান প্রসবের পরিস্থিতি। সেই ঘটনার কথাও তিনি আগের এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন।
বাবা হিসেবে স্মিত, আর পেশার বাইরে এক সাধারণ মানুষ
সিএনএনের প্রতিবেদনে স্মিতকে ৩৯ বছর বয়সী দুই সন্তানের বাবা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একজন আন্তর্জাতিক বিমানের অভিজ্ঞ বৈমানিক হিসেবে তাঁর পরিচিতি যতই বড় হোক, ব্যক্তিগত জীবনে তিনি নিজের পেশা নিয়ে খুব বেশি প্রচার করতে পছন্দ করতেন না। বরং পরিচিতদের বর্ণনায় উঠে এসেছে একজন সাধারণ, হাসিখুশি এবং পরিবারকেন্দ্রিক মানুষের ছবি।
এই দিকটি ঘটনাটিকে আরও মানবিক করে তোলে। বিমানের ভিতরে যখন তাঁর নিজের জীবন বিপন্ন, তখন তাঁর সামনে শুধু একজন বৈমানিক হিসেবে দায়িত্ব পালনের প্রশ্ন ছিল না। একজন বাবা, একজন স্বামী এবং একজন পরিবারের সদস্য হিসেবেও তাঁর জীবন তখন ঝুঁকির মধ্যে ছিল। তবুও আহত অবস্থায় ককপিটের দরজা খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত তিনি নেন।
তাঁর সেই সিদ্ধান্তের ফলেই যাত্রীরা ভিতরে ঢুকে হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনার সুযোগ পান। পরে দুই অতিরিক্ত বৈমানিক বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সেটিকে সৌদি আরবের দিকে নিয়ে যান। সিএনএন সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, স্মিতকে সৌদি আরবের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল। অস্ত্রোপচারের পর তিনি বিপদমুক্ত বলেও তাঁর পরিবারের সূত্রে জানানো হয়েছে।
তাঁর সাবেক প্রশিক্ষক ফিলিপ কিনও সিএনএনকে জানিয়েছেন, স্মিত যে পরিস্থিতি সামলেছেন তা অত্যন্ত কঠিন ছিল। তাঁর মতে, ককপিটের দরজা খুলতে পারার বিষয়টি পুরো ঘটনার মোড় ঘুরিয়ে দেয়। অল্প কিছু সময়ের ব্যবধানেই পরিস্থিতি সম্পূর্ণ অন্যরকম হয়ে যেতে পারত বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।
স্মিতের নিজের পুরনো কথাতেও পাইলট পেশার প্রতি তাঁর গভীর টান প্রকাশ পেয়েছে। এক সাক্ষাৎকারে তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, পাইলট হওয়ার অনুভূতি কেমন। তাঁর উত্তর ছিল, এই পেশায় থাকতে পারা তাঁর কাছে আশীর্বাদের মতো।
তদন্ত চলছে, কিন্তু স্মিতের সাহসের গল্প ইতিমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে
ঘটনার পর এখন মূল প্রশ্ন হল, বিমানের ককপিটে হামলার কারণ কী ছিল। সিএনএনের বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে সম্ভাব্য সন্ত্রাসবাদী হামলা হিসেবে দেখছে। তবে হামলার নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য এখনও প্রকাশ্যে নিশ্চিত করা হয়নি। হামলাকারী সহকারী বৈমানিক ওমানের নাগরিক বলে জানানো হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে কী উদ্দেশ্যে এই হামলা হয়েছিল, তা তদন্তের বিষয়।
বিমানটির গতিপথও তদন্তকারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। উড়ান-তথ্যে হঠাৎ তীব্র অবতরণ, আবার ওপরে ওঠা এবং পরবর্তী সময়ে আরও দ্রুত নিচে নেমে যাওয়ার চিত্র দেখা গেছে। সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমানের উড়ান-তথ্য সংগ্রাহক এবং ককপিটের কথোপকথন ধারণকারী যন্ত্র তদন্তকারীদের আরও তথ্য দিতে পারে।
তবে তদন্তের ফল প্রকাশের আগে হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক হবে না। সিএনএনের বিশ্লেষণেও এই বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে যে ঘটনার পেছনে প্রকৃত উদ্দেশ্য জানতে আরও তদন্ত প্রয়োজন।
এর মধ্যেই স্মিত মাচ্ছারের নাম ছড়িয়ে পড়েছে দুই দেশের মানুষের মধ্যে। মুম্বইয়ে তাঁর বাড়ির আশপাশে মানুষ তাঁর সাহসিকতার কথা বলছেন। যাঁরা তাঁকে ছোটবেলা থেকে চেনেন, তাঁদের কাছে তিনি এখনও সেই হাসিখুশি মানুষটিই—যিনি একদিন পারিবারিক ব্যবসার সম্ভাবনা ছেড়ে আকাশে ওড়ার স্বপ্ন বেছে নিয়েছিলেন।
কিন্তু ২০২৬ সালের এই ভয়াবহ উড়ান তাঁকে অন্য এক পরিচয় দিয়েছে। একজন বৈমানিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি আহত অবস্থায় ককপিটের দরজা খুলে দিয়ে তিনি যাত্রীদের প্রতিরোধের সুযোগ তৈরি করেছেন। সিএনএনের ডিজিটাল মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সেই সিদ্ধান্তই বিপর্যয়ের গতিপথ বদলে দেওয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ হয়ে উঠেছিল।
#smitmachchhar #flydubai #indianpilot #pilothero #aviationnews #cockpitattack #mumbaipilot #aviation
সাম্প্রতিক পোস্ট
স্কুলের শৌচাগারে সাপ! নামী বেসরকারি স্কুলের নিরাপত্তা নিয়ে উঠল প্রশ্ন, কী বলছে কর্তৃপক্ষ
নিউ মার্কেটের অগ্নিকাণ্ডের নেপথ্যে আসল কারণ কী? ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য
অভিজিৎ দীপকে কি তবে এবার বিজেপিতে? রাজনৈতিক প্রস্তাব ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা
ঋতব্রতই বিরোধী দলনেতা, হাইকোর্টের বড় পর্যবেক্ষণ, কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের পদক্ষেপ কী?

