Sonam Wangchuk Hunger Strike: দিল্লির যন্তর মন্তরের অনশনই তাঁর প্রথম আন্দোলন নয়। সোনম ওয়াংচুকের অনশন শুরু হয়েছিল লাদাখের মাটিতেই। পরিবেশ, শিক্ষা, আদিবাসী অধিকার ও ষষ্ঠ তফসিলের দাবিতে একের পর এক শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে তাঁর।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: লাদাখের শিক্ষাবিদ, উদ্ভাবক ও পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক এখন শুধু একজন শিক্ষক বা বিজ্ঞানমনস্ক চিন্তাবিদ নন, তিনি সাংবিধানিক অধিকার এবং পরিবেশ রক্ষার আন্দোলনের অন্যতম মুখ। দিল্লির যন্তর মন্তরে তাঁর চলমান অনশন নতুন করে জাতীয় রাজনীতির আলোচনায় উঠে এসেছে। তবে অনেকেরই প্রশ্ন—এটাই কি তাঁর প্রথম অনশন?
উত্তর হল, না। দিল্লির এই অনশন তাঁর দীর্ঘ আন্দোলনের সর্বশেষ অধ্যায় মাত্র। এর আগে একাধিকবার লাদাখের মাটিতে এবং পরে দিল্লিমুখী পদযাত্রার সময়ও তিনি অনশন ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন।
শিক্ষাক্ষেত্রে কেন এত সম্মান পান সোনম ওয়াংচুক?
সোনম ওয়াংচুক মূলত একজন শিক্ষা সংস্কারক, প্রকৌশলী ও উদ্ভাবক। লাদাখের কঠিন ভৌগোলিক পরিস্থিতির সঙ্গে মানানসই শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে তিনি বহু বছর ধরে কাজ করছেন।
তাঁর প্রতিষ্ঠিত Students’ Educational and Cultural Movement of Ladakh (SECMOL) আজ আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত। এই প্রতিষ্ঠান এমন শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ করে, যারা প্রচলিত পরীক্ষাভিত্তিক শিক্ষায় পিছিয়ে পড়েছিল। বাস্তবমুখী শিক্ষা, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি এবং স্থানীয় সংস্কৃতিকে গুরুত্ব দিয়ে নতুন শিক্ষার মডেল তৈরি করেছেন তিনি।
বিশ্বজুড়ে আলোচিত ‘আইস স্টুপা’ প্রকল্পও তাঁরই উদ্ভাবন। শীতকালে কৃত্রিমভাবে বরফ সংরক্ষণ করে গ্রীষ্মে পানীয় জল ও সেচের জন্য ব্যবহার করার এই প্রযুক্তি জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলায় একটি সফল উদাহরণ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
২০১১
- Rolex Award for Enterprise
২০১৩
- Green Teacher Award
২০১৪
- বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পরিবেশ ও শিক্ষা সম্মান।
২০১৬
- Ramon Magsaysay Award
- শিক্ষা ও সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদানের জন্য।
২০১৮
- Global Award for Sustainable Architecture
২০১৯
- একাধিক আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মাননা।
- পরিবেশ ও উদ্ভাবনে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।
২০২১
- Earth Day Network Award
- জলবায়ু সচেতনতা ও পরিবেশ রক্ষায় অবদানের জন্য।
২০২২–২০২৫
একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানসূচক বক্তা। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিশেষ সম্মাননা।
দিল্লির অনশন নয়, আন্দোলনের শুরু লাদাখেই
বর্তমান দিল্লির অনশন নিয়ে আলোচনা হলেও তাঁর আন্দোলনের ইতিহাস অনেক পুরনো।
২০২৩: প্রথম বড় অনশন লেহ-তে
২০২৩ সালের ২৬ জানুয়ারি লাদাখের লেহ শহরে পাঁচ দিনের অনশন শুরু করেন সোনম ওয়াংচুক। তাঁর দাবি ছিল, লাদাখকে সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলের আওতায় এনে সাংবিধানিক সুরক্ষা দিতে হবে।
সে সময় তিনি অভিযোগ করেছিলেন, প্রশাসন তাঁকে গৃহবন্দি করে রেখেছিল। এই অনশনই ছিল তাঁর প্রথম বড় রাজনৈতিক প্রতিবাদ।
তাঁর মূল দাবি কী?
সোনম ওয়াংচুকের আন্দোলনের কেন্দ্রে রয়েছে চারটি বিষয়—
- লাদাখকে সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলের আওতায় আনা,
- পরিবেশ ও হিমালয়ের বাস্তুতন্ত্র রক্ষা,
- স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করা,
- লাদাখের উন্নয়নে স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি।
মাইনাস তাপমাত্রায় ২১ দিনের ঐতিহাসিক অনশন
২০২৪ সালের শুরুতে লাদাখের তীব্র শীতের মধ্যে ২১ দিন ধরে অনশন করেন ওয়াংচুক।
তাঁর দাবি ছিল—
- লাদাখের ভঙ্গুর পরিবেশ রক্ষা,
- হিমালয়ের বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণ,
- স্থানীয় আদিবাসী সংস্কৃতির সাংবিধানিক নিরাপত্তা,
- ষষ্ঠ তফসিল কার্যকর করা।
মাইনাস তাপমাত্রায় এই দীর্ঘ অনশন দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।
লাদাখ থেকে দিল্লি পদযাত্রা
একাধিক অনশনেও সরকারের তরফে প্রত্যাশিত সাড়া না পাওয়ায় ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে সমর্থকদের নিয়ে লাদাখ থেকে দিল্লি পর্যন্ত পদযাত্রা শুরু করেন তিনি।
রাজধানীতে পৌঁছানোর আগেই পুলিশ তাঁদের আটক করে। পরে মুক্তি পাওয়ার পর রাজঘাটে মহাত্মা গান্ধীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শান্তিপূর্ণ অনশন কর্মসূচি পালন করেন ওয়াংচুক।
২০২৫ সালে আবার অনশন, তারপর গ্রেপ্তার
২০২৫ সালে লাদাখে আবারও অনশনে বসেন সোনম ওয়াংচুক ও তাঁর সমর্থকেরা।
এই আন্দোলনের মধ্যেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং রাজস্থান-এর যোধপুর কারাগারে পাঠানো হয়। পরে কয়েক মাস পর তিনি মুক্তি পান। এই ঘটনাও লাদাখের সাংবিধানিক দাবি নিয়ে দেশজুড়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করে।
২০২৬: যন্তর মন্তরে নতুন লড়াই
বর্তমানে দিল্লির যন্তর মন্তরে তাঁর দীর্ঘ অনশন চলেছে। দীর্ঘদিন না খাওয়ায় তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে।
বিরোধী জোটের একাধিক নেতা তাঁর সঙ্গে দেখা করে অনশন প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়েছেন। তবে ওয়াংচুক এখনও তাঁর দাবিতে অনড়।
সংগ্রামের পথ দীর্ঘ, মঞ্চ বদলেছে
সোনম ওয়াংচুকের আন্দোলন আজ দিল্লির যন্তর মন্তরে পৌঁছেছে ঠিকই, কিন্তু এর শুরু রাজধানীতে নয়। বরফে ঢাকা লাদাখের পাহাড় থেকেই তিনি বারবার একই দাবি তুলে ধরেছেন—প্রকৃতি, সংস্কৃতি এবং মানুষের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা করতে হবে।
শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁর উদ্ভাবনী কাজ যেমন তাঁকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এনে দিয়েছে, তেমনি পরিবেশ ও সাংবিধানিক অধিকারের প্রশ্নে তাঁর ধারাবাহিক অনশন তাঁকে দেশের অন্যতম আলোচিত গণআন্দোলনের মুখে পরিণত করেছে।
#SonamWangchuk #HungerStrike #Ladakh #SixthSchedule #EducationReformer #ClimateAction #SECMOL #IndiaNews
সাম্প্রতিক পোস্ট
রাত পেরিয়েও অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা এল না? এবার কী করতে হবে জেনে নিন, মিস করবেন না
রাজ্যে চালু প্রধানমন্ত্রী মাতৃ বন্দনা যোজনা, ১১ হাজার টাকা পাবেন কারা? জেনে নিন কীভাবে আবেদন করবেন?
মহিলাদের বাসে টিকিট কাটতে হবে না! জানুন, এই কার্ড থাকলেই দিঘা থেকে দার্জিলিং সফর ফ্রী তে
আপনার এলাকায় কি মিলবে ১২৫ দিনের কাজ? আজ থেকেই চালু নতুন প্রকল্প, জানুন কারা পাবেন এই সুবিধা

