শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী, আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। জানা যাচ্ছে, মধ্যমগ্রাম এলাকায় গাড়ি থামিয়ে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
সূত্রের খবর, ওই সময় গাড়িতে ছিলেন শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক, গাড়ির চালকসহ আরও দু’জন। হামলাকারীরা আচমকাই গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে চন্দ্রনাথ রথ মারাত্মকভাবে আহত হন। পাশাপাশি গাড়ির চালকও জখম হয়েছেন বলে জানা গেছে।
সূত্রের খবর, হামলাকারীরা পরিকল্পিতভাবেই এই আক্রমণ চালায়। চন্দ্রনাথ রথের মৃত্যু নিশ্চিত করতে দুষ্কৃতীরা পরপর প্রায় চোদ্দো থেকে ষোলো রাউন্ড গুলি চালায় বলে জানা যাচ্ছে। এত সংখ্যক গুলি চালানো থেকেই স্পষ্ট, হামলাটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল এবং লক্ষ্য ছিল একেবারে নিশ্চিতভাবে হত্যা করা।
যদিও এখনও পর্যন্ত সরকারি ভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, তবে প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, হামলার পর দুষ্কৃতীরা রাজারহাটের দিকেই পালিয়ে যায়। জানা গেছে, তারা দুটি মোটরবাইকে করে ঘটনাস্থলে আসে এবং হামলার পর দ্রুত সেখান থেকে চলে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ঘটনাটি ছিল সম্পূর্ণ পরিকল্পিত। একটি চারচাকা গাড়ি সামনে এসে পথ আটকায় এবং সেই সুযোগেই একটি মোটরবাইক থেকে দুষ্কৃতীরা গুলি চালাতে শুরু করে। মূল লক্ষ্য ছিল চন্দ্রনাথ রথ।
জানা যাচ্ছে, তাঁকে পরপর তিনটি গুলি করা হয়। এর মধ্যে একটি গুলি তাঁর কোমরের নীচের অংশে লাগে, একটি বুকে এবং আরেকটি সরাসরি হৃদযন্ত্রে আঘাত করে। গুরুতর আঘাতে তাঁর হৃদপিণ্ড মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে গাড়ির ঠিক পাশেই তিনটি গুলির খোল পড়ে থাকতে দেখা যায়। গুলি চালানোর পর চন্দ্রনাথ রথ এবং অন্যরা রক্তাক্ত অবস্থায় গাড়ির ভেতরেই লুটিয়ে পড়েছিলেন বলে তিনি জানান। তাঁর আরও দাবি, এই হামলার পেছনে পরিচিত কারও যোগ থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। কারণ হামলার পর একটি গাড়িকে দ্রুত একটি গলির মধ্যে দিয়ে পালানোর চেষ্টা করতে দেখা যায়, যা পুরো ঘটনাটিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে।
এছাড়াও, গাড়ির চালকও রেহাই পাননি। তাঁর শরীরেও তিনটি গুলি লাগে। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য অ্যাপোলো হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। বর্তমানে তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা যাচ্ছে।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, রাত প্রায় দশটা মধ্যেই এই ভয়াবহ ঘটনাটি ঘটে। আচমকা গুলি চালানোর পর গুরুতর জখম অবস্থায় চন্দ্রনাথ রথকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে সেখানে পৌঁছানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। জানা যাচ্ছে, চন্দ্রনাথ রথের আসল বাড়ি চণ্ডীপুরে হলেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে মধ্যমগ্রামে ভাড়া বাড়িতে বসবাস করতেন। এলাকায় তাঁর পরিচিতি ছিল যথেষ্ট এবং এই আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এছাড়াও অনুমান করা হচ্ছে, দুষ্কৃতীরা আগেই ঘটনাস্থলটি রেইকি করে গিয়েছিল। কারণ ঘটনাস্থলের আশেপাশে আগে থেকেই একাধিক মোটরবাইক উপস্থিত ছিল, যা এই পরিকল্পিত হামলার ইঙ্গিত দিচ্ছে। পুলিশ পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে এবং দুষ্কৃতীদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে।
চন্দ্রনাথ রথ শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক এর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। এই হামলার পেছনে কী উদ্দেশ্য রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে এবং পুলিশ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই বড়সড় নিরাপত্তা প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে গিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী, সুকান্ত মজুমদার, অর্জুন সিং-সহ বিজেপির একাধিক শীর্ষ নেতা। এলাকাজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়েছে এবং পরিস্থিতি ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, চন্দ্রনাথ রথ এলাকায় অত্যন্ত পরিচিত ও জনপ্রিয় ব্যক্তি ছিলেন। তাঁর আচরণ ও ব্যবহার নিয়ে সকলের মধ্যেই ইতিবাচক ধারণা ছিল। তরুণ জ্যোতি তিওয়ারী জানিয়েছেন, মানুষ হিসেবে চন্দ্রনাথ রথ অত্যন্ত ভালো ছিলেন এবং রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
বিশেষ করে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—এই দুই গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ভোট পরিচালনার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য বলে দাবি করা হচ্ছে। ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে শুভেন্দু অধিকারীর জয় নিশ্চিত করার পেছনেও তাঁর বড় ভূমিকা ছিল বলে স্থানীয়দের একাংশের মত।
গত পাঁচ বছর ধরে তিনি শুভেন্দু অধিকারীর আত্মসহায়ক হিসেবে কাজ করছিলেন। এর আগে তিনি বায়ুসেনার একজন কর্মী ছিলেন। সেখান থেকে অবসর নেওয়ার পরই তিনি শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে যুক্ত হন এবং আত্মসহায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন।
সাম্প্রতিক পোস্ট
- বিজেপিতে যোগ দিয়েই সোজা ভবানীপুরে রাঘব? মমতার গড়েই কি বড় চমকের প্রস্তুতি?
- ভোট দিতে গিয়ে ছবি তুলবেন? ভোটের বুথে এবার দেখা মিলবে বিশেষ চরিত্রের, জানুন কেন এই নতুন ব্যবস্থা
- ৬ সাংসদকে নিয়ে হঠাৎ বিজেপিতে রাঘব চাড্ডা! জাতীয় রাজনীতিতে এ কোন বড় পালাবদলের ইঙ্গিত?
- নস্টালজিয়ার টানে ভিড় শহরে! কেন সবাই ছুটছে আইকনিক সেটে ছবি তুলতে? জানুন বিস্তারিত
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে নামী কলেজে কমছে আসন! কোন বিষয়ের দিকে ঝুঁকছে এখন ছাত্রছাত্রীরা?

