Taratala Godown Collapse: তারাতলার গোডাউন ধসের পর নির্মাণ অনুমোদন ও সম্ভাব্য অনিয়ম নিয়ে বিতর্ক তীব্র হয়েছে। কলকাতা পুরসভার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরব মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: তারাতলায় গোডাউন ভেঙে পড়ার ঘটনায় এখনও কাটেনি আতঙ্ক। দুর্ঘটনার পর থেকেই কীভাবে এই নির্মাণের অনুমোদন মিলল, নির্মাণে কোনও অনিয়ম ছিল কি না, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এবার সেই বিতর্কে সরাসরি কলকাতা পুরসভার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
বুধবার এই ঘটনায় মুখ খুলে শুভেন্দু দাবি করেন, প্রাথমিক তদন্তে এমন কিছু তথ্য সামনে এসেছে যা গোটা ঘটনাকে অন্য মাত্রা দিতে পারে। তাঁর অভিযোগ, যে নকশার ভিত্তিতে নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল, বাস্তবে তৈরি হওয়া কাঠামোর সঙ্গে বেশ কিছু মিল নেই ।
শুভেন্দুর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৭ জানুয়ারি কলকাতা পুরসভার তরফে ওই গোডাউনের নির্মাণ নকশা অনুমোদিত হয়েছিল। কিন্তু দুর্ঘটনার পর প্রাথমিক পর্যায়ে যে তথ্য উঠে এসেছে, তাতে অনুমোদিত নকশা এবং বাস্তব নির্মাণের মধ্যে গরমিলের ইঙ্গিত মিলছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
এখানেই থেমে থাকেননি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল পরিচালিত পুরবোর্ডের আমলে অর্থের বিনিময়ে এবং প্রভাব খাটিয়ে বহু নির্মাণ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তারাতলার ঘটনাও সেই ধরনের কোনও ঘটনার সঙ্গে যুক্ত কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি তুলেছেন তিনি।
এই ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। কলকাতা পুরসভা এলাকায় চলতে থাকা সমস্ত বাণিজ্যিক নির্মাণকাজে সাময়িক স্থগিতাদেশ জারি করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত নতুন করে কোনও বাণিজ্যিক নির্মাণের কাজ এগোবে না।
পুরসভার সূত্রে খবর, এই সময়ের মধ্যে অনুমোদিত নকশা, নির্মাণের মান এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখা হবে। বিশেষ করে বহুতল এবং বড় বাণিজ্যিক প্রকল্পগুলির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত নজরদারি চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
এছাড়াও পুরসভার অনুমোদন পাওয়া নির্মাণগুলির উপর বিশেষ অডিট করার কথাও উঠে এসেছে। সেই অডিটের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে, সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলে আগামী ১ আগস্টের পর ধাপে ধাপে নির্মাণকাজ শুরু করার অনুমতি দেওয়া হতে পারে।
এদিকে তারাতলা কাণ্ডকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে চাপ ক্রমশ বাড়ছে। শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, বিষয়টি তিনি বিধানসভাতেও তুলবেন। তাঁর দাবি, শুধু এই একটি ঘটনা নয়, কলকাতা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় অনুমোদিত নির্মাণ প্রকল্পগুলিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
তবে একটি বিষয় স্পষ্ট— তারাতলার এই দুর্ঘটনা শুধুমাত্র একটি ভবন ধসের ঘটনা হয়ে থাকছে না। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শহরের নির্মাণ নিরাপত্তা, অনুমোদন প্রক্রিয়া এবং নজরদারি ব্যবস্থা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। তদন্ত যত এগোবে, ততই সামনে আসতে পারে নতুন তথ্য।
এখন নজর তদন্তের দিকে। কারণ সেই তদন্তই বলবে, এটি শুধুই দুর্ঘটনা ছিল, নাকি এর পিছনে ছিল আরও বড় কোনও গাফিলতি।
#TaratalaCollapse #KolkataNews #SuvenduAdhikari #KMC #WestBengalNews #BuildingCollapse #Taratala #BengalPolitics #ConstructionSafety #BreakingNews

