Taratala Warehouse Roof Collapse: তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদামের ছাদ ধসে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়েছেন বহু শ্রমিক। সেনাবাহিনী, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ও পুলিশ যৌথভাবে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। ঘটনায় বাড়ছে উদ্বেগ, উঠছে নিরাপত্তা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: বুধবার দুপুরে তারাতলায় একটি নির্মীয়মাণ গুদামের ছাদ আচমকাই ভেঙে পড়ে। দুর্ঘটনার সময় সেখানে প্রায় পঞ্চাশ থেকে ষাট জন শ্রমিক কাজ করছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। ছাদ ধসে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই বহু শ্রমিক ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়েন। ভিতর থেকে শ্রমিকদের আর্তনাদ শোনা যায় বলে দাবি সংবাদমাধ্যম সূত্রের।
ঘটনার পরপরই শুরু হয় ব্যাপক উদ্ধার অভিযান। ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকল, কলকাতা পুলিশ, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীর উদ্ধারকারী দল। ধ্বংসস্তূপ সরাতে ব্যবহার করা হচ্ছে একাধিক ক্রেন, হাইড্রোলিক যন্ত্র এবং বিশেষ উদ্ধার সরঞ্জাম।
উদ্ধারকারীরা গ্যাস কাটারের সাহায্যে বিশাল লোহার বিম কেটে আটকে পড়া শ্রমিকদের বের করে আনার চেষ্টা চালাচ্ছেন। তবে ভারী লোহার কাঠামো কাটতে যথেষ্ট সময় লাগছে বলে জানা গিয়েছে। ধ্বংসস্তূপের ভিতর থেকে এখনও শ্রমিকদের সাড়া পাওয়া যাচ্ছে বলে উদ্ধারকারী সূত্রে খবর।
এখনও পর্যন্ত অন্তত তেরো জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য ঘটনাস্থলে রাখা হয়েছে একাধিক অ্যাম্বুল্যান্স। উদ্ধার হওয়া কয়েকজনকে ট্রমা কেয়ার ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন রাজ্যের একাধিক মন্ত্রী, পুলিশ ও প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা। উপস্থিত রয়েছেন বিজেপি নেতা রাকেশ সিং, নগর উন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ, পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ-সহ একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিক। সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্তাদেরও ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে বলে সূত্রের খবর।
অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হল আটকে পড়া শ্রমিকদের জীবিত উদ্ধার করা। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও উদ্ধারকাজে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
নবান্নের পক্ষ থেকে একটি কন্ট্রোলরুম খোলা হয়েছে। জরুরি তথ্যের জন্য যোগাযোগ করা যেতে পারে নিম্নলিখিত নম্বরগুলিতে—
- ১০৭০
- ৮৬৯৭৯৮১০৭০
- (০৩৩) ২২১৪৩৫২৬
- (০৩৩) ২২৫৩৫১৮৫
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গুদামটির লোহার কাঠামোর উপর কংক্রিটের স্তর ঢালাইয়ের কাজ চলছিল। কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার দাবি, সকাল থেকেই কাঠামোটি অস্বাভাবিকভাবে নড়ছিল। তা সত্ত্বেও শ্রমিকরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। ঢালাই চলাকালীনই আচমকা পুরো ছাদের একটি বড় অংশ ধসে পড়ে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, জমিটি বন্দর কর্তৃপক্ষের অধীন। একটি চা সংস্থাকে জমিটি লিজ দেওয়া হয়েছিল এবং গত প্রায় দেড় বছর ধরে সেখানে গুদাম নির্মাণের কাজ চলছিল। গুদামের ঠিকাদারদেরও কয়েকজন ধ্বংসস্তূপের ভিতরে আটকে পড়েছেন বলে খবর।
দুপুর প্রায় বারোটার সময় দমকলের কাছে প্রথম খবর পৌঁছায়। এরপর দ্রুত উদ্ধারকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান শুরু করে। কয়েক হাজার বর্গফুট এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে থাকা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে শ্রমিকদের খোঁজ চালানো হচ্ছে। গুদামের ভিতরে শ্রমিকদের থাকার জন্যও একটি নির্দিষ্ট অংশ ছিল বলে জানা গিয়েছে।
কোন শ্রমিক দুর্ঘটনার আগে কোথায় কাজ করছিলেন বা অবস্থান করছিলেন, তা বোঝার জন্য নিরাপত্তারক্ষীদের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। হ্যান্ড মাইকের মাধ্যমে আটকে পড়াদের উদ্দেশে নির্দেশ এবং আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে। কিছু ফাঁকা জায়গা দিয়ে শ্রমিকদের দেখা গেলেও তাঁদের কাছে পৌঁছানো এখনও অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভিতরে কয়েকজন মহিলা শ্রমিকও আটকে রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ঘটনাস্থল জুড়ে এখন উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা এবং হাহাকারের পরিবেশ। পরিবারের সদস্যরা বাইরে দাঁড়িয়ে প্রিয়জনদের খোঁজে অপেক্ষা করছেন। উদ্ধারকাজ যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে হতাহতের আশঙ্কা। কী কারণে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তবে প্রশাসনের দাবি, উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার পরই ধসের প্রকৃত কারণ নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত করা হবে।
#KolkataNews
#RescueOperation
#BreakingNews
#WarehouseCollapse
#WestBengalNews
সাম্প্রতিক পোস্ট
নিয়োগ দুর্নীতি কি আগামী দিনে কমবে? জানুন, চাকরির নিয়মে এই পরিবর্তনে আসবে কি স্বচ্ছতা?
এক্সপোজড! ককরোচ জনতা পার্টির নেপথ্যে কোন চক্রান্তের গন্ধ? সত্যিটা জানলে চমকে উঠবেন
মহিলাদের বাসে টিকিট কাটতে হবে না! জানুন, এই কার্ড থাকলেই দিঘা থেকে দার্জিলিং সফর ফ্রী তে
কলেজে ভর্তি নিয়ে বড় খবর, এক নজরে দেখে নিন স্নাতকে ভর্তির আবেদন কবে

