Taslima Nasrin Kolkata Visit: দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর কলকাতায় ফিরলেন তসলিমা নাসরিন। আত্মজীবনী প্রকাশ, কবিতা পাঠ এবং সাহিত্য-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে তাঁর এই সফর ঘিরে সাহিত্যপ্রেমী ও সংস্কৃতিমহলে তৈরি হয়েছে প্রবল আগ্রহ।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: মোহিত রায় জানান, পৃথিবীর কোনও শহরে একজন নির্বাসিত লেখিকাকে স্বাগত জানাতে এভাবে হোর্ডিং পড়েছে— এমন নজির খুব কমই দেখা যায়। তাঁর কথায়, তসলিমা নাসরিনের কলকাতায় ফেরা যেন এক নতুন বসন্তের আগমন। সেই আবহকেই ফুটিয়ে তুলতে অনুষ্ঠানে উপস্থিত তাঁর বহু বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ী হলুদ রঙের পোশাক পরে তাঁকে স্বাগত জানান। দীর্ঘ ২০ বছর পর শুক্রবার সাদা-লাল পাড়ের শাড়ি পরে কলকাতার মাটিতে পা রাখেন তসলিমা নাসরিন।
উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে তৎকালীন পরিস্থিতিতে তাঁকে প্রায় এক ঘণ্টার নোটিসে কলকাতা ছাড়তে হয়েছিল। নিরাপত্তাজনিত কারণে পুলিশি নিরাপত্তায় তাঁকে বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখান থেকে দিল্লিতে পাঠানো হয়। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৎকালীন সরকারের ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক ও বুদ্ধিজীবী মহলের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন। পরবর্তী সময়ে সরকার পরিবর্তনের পরও তাঁকে স্থায়ীভাবে কলকাতায় ফেরানোর উদ্যোগ নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও সমালোচনা চলেছে। এবার দুই দশক পর তাঁর কলকাতায় প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে সাহিত্য ও সংস্কৃতি মহলে নতুন করে আলোচনার আবহ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের লেখিকা তসলিমা নাসরিন বাংলার মাটি থেকে বঞ্চিত ছিলেন। নিরাপত্তাজনিত কারণে তাঁকে এই বাংলা ছাড়তে হয়েছিল। দীর্ঘ সময় ধরেই বিভিন্ন মহল থেকে দাবি উঠেছিল, তাঁকে সম্মানের সঙ্গে আবার বাংলায় ফিরিয়ে আনা হোক।
২০০৭ সালে কলকাতায় অশান্তির পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পর নিরাপত্তার স্বার্থে তসলিমা নাসরিনকে শহর ছাড়তে বাধ্য করা হয়। সেই সময় মাত্র এক ঘণ্টার নোটিশে তাঁকে কলকাতা ছাড়তে হয়েছিল। কড়া পুলিশি নিরাপত্তায়, প্রায় কালো কাপড় দিয়ে আড়াল করে তাঁকে বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে একটি বিশেষ বিমানে তাঁকে দিল্লি পাঠানো হয়েছিল।

এরপর রাজনৈতিক পালাবদল হয়েছে। বামফ্রন্ট সরকারের অবসান ঘটেছে। কিন্তু এত বছরেও তসলিমা নাসরিনকে স্থায়ীভাবে বাংলায় ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে তেমন কোনও দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখা যায়নি। তবে তসলিমা নাসরিন বারবার সমাজমাধ্যমে বাংলায় ফেরার ইচ্ছার কথা প্রকাশ করেছেন। তিনি বিভিন্ন সময়ে লিখেছেন, কলকাতাকে তিনি ভীষণ মিস করেন এবং সুযোগ পেলে আবার এই শহরে ফিরতে চান।
তাঁর লেখা বইকে কেন্দ্র করে যে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল, সেই ঘটনাই তাঁর নির্বাসিত জীবনের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সেই বিতর্কের জেরেই প্রথমে ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ ছাড়তে হয় তাঁকে। পরে ২০০৭ সালে কলকাতাও ছাড়তে বাধ্য হন।
২০২৫ সালে এই বিষয়টি আবার নতুন করে আলোচনায় আসে। রাজ্য বিজেপি সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য সংসদে তসলিমা নাসরিনের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তসলিমার মতো আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন একজন লেখিকাকে দীর্ঘদিন বাংলার মাটি থেকে দূরে থাকতে হয়েছে। তাঁকে সম্মানের সঙ্গে বাংলায় ফিরে আসার সুযোগ দেওয়া উচিত।
বাংলার রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তসলিমা নাসরিনও একাধিকবার এই প্রসঙ্গে আশার কথা জানিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, নতুন সরকারের কাছে তাঁর প্রত্যাশা রয়েছে। তিনি আশা করেছিলেন, পরিবর্তিত এবং মুক্ত পরিবেশে একদিন আবার বাংলায় ফিরতে পারবেন।
অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটল। প্রায় কুড়ি বছর পর কলকাতায় ফিরলেন লেখিকা ও কবি তসলিমা নাসরিন।
বাংলাদেশ ছাড়ার পর তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থেকেছেন। ভারতেরও একাধিক শহরে যাওয়ার সুযোগ হয়েছে তাঁর। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে তিনি কলকাতায় আসতে পারেননি। বিশেষ করে বাংলায় তাঁর সফর কার্যত বন্ধই ছিল।
এবার তাঁর কলকাতা সফরকে কেন্দ্র করে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কলকাতা বিমানবন্দরে নামার পর থেকেই তাঁকে নিরাপত্তা বলয়ে রাখা হয়। বিমানবন্দর চত্বর এবং বাইরে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল।
বিমানবন্দর থেকে তিনি আলিপুরের একটি হোটেলে যান। সেখানে বিশ্রাম নেওয়ার পাশাপাশি তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও পরিচিতদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করারও কথা রয়েছে।
শুধু তাই নয়, আগামীকাল রবীন্দ্র সদনে তাঁর ‘আত্মজীবনী সমগ্র’ প্রকাশ উপলক্ষে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তসলিমা নাসরিন। সেখানে তিনি বক্তব্য রাখবেন, কবিতা পাঠ করবেন এবং সাহিত্যপ্রেমীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।
সব মিলিয়ে, দীর্ঘ কুড়ি বছরের অপেক্ষার পর আবার কলকাতায় ফিরলেন তসলিমা নাসরিন। এটি শুধু তাঁর ব্যক্তিগত প্রত্যাবর্তন নয়, সাহিত্য ও সংস্কৃতি মহলেও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কলকাতা বিমানবন্দরে আমাদের ক্যামেরার সামনে তাঁর অনুভূতি জানতে চাওয়া হলে তসলিমা নাসরিন সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “খুব ভালো লাগছে।” তাঁর কণ্ঠেই ধরা পড়ে বহু বছর পর প্রিয় শহরে ফেরার আবেগ।
আগামীকাল তাঁর একাধিক কর্মসূচি রয়েছে। রবীন্দ্র সদনের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি তিনি সাহিত্যিক, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ীদের সঙ্গেও সময় কাটাবেন। তাঁর কলকাতা সফরের আরও বিস্তারিত আপডেট আগামীকাল পাওয়া যাবে।
কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন তসলিমা নাসরিন। আমাদের ক্যামেরার সামনে সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “খুব ভালো লাগছে।” দীর্ঘ দুই দশক পর প্রিয় শহরে ফিরে তাঁর কণ্ঠেই ধরা পড়ে আবেগ ও উচ্ছ্বাস।
আগামীকাল তাঁর কলকাতা সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি রয়েছে রবীন্দ্র সদনে। সেখানে তাঁর ‘আত্মজীবনী সমগ্র’ প্রকাশ উপলক্ষে একটি বিশেষ সাহিত্য-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সাহিত্য ও সংস্কৃতিজগতের একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন প্রখ্যাত সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়। তিনি বক্তব্য রাখবেন এবং তসলিমা নাসরিনকে শুভেচ্ছা জানাবেন। অনুষ্ঠানের সূচনায় মোহিত রায় স্বাগত ভাষণ দেবেন।
অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ থাকছেন তসলিমা নাসরিন নিজে। তিনি মঞ্চে বক্তব্য রাখার পাশাপাশি নিজের লেখা কবিতা পাঠ করবেন। সাংস্কৃতিক পর্বে সঙ্গীত পরিবেশন করবেন মৌসুমী হোসেন। অনুষ্ঠানের শেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করবেন শান্তনু সিংহ।
এই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও উপস্থিত থাকবেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অনুষ্ঠানে তসলিমা নাসরিনকে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মান জানানো হবে এবং সেই সম্মাননা প্রদান করবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
সব মিলিয়ে আত্মজীবনী প্রকাশ, সাহিত্য আলোচনা, কবিতা পাঠ, সঙ্গীত পরিবেশন এবং সম্মাননা প্রদানকে কেন্দ্র করে রবীন্দ্র সদনে এক বিশেষ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়েছে। প্রায় দুই দশক পর কলকাতায় ফিরে এই অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন তসলিমা নাসরিন। ফলে সাহিত্যপ্রেমী, পাঠক এবং সংস্কৃতিমহলে এই অনুষ্ঠান ঘিরে ইতিমধ্যেই ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। আগামীকাল তাঁর কলকাতা সফরের আরও বিভিন্ন কর্মসূচি ও প্রতিক্রিয়ার দিকে নজর থাকবে
#TaslimaNasrin #TaslimaNasrinKolkataVisit #Kolkata #RabindraSadan #BengaliLiterature #Author #BookLaunch #WestBengal #BreakingNews #LiteraryEvent
সাম্প্রতিক পোস্ট
‘সাথীরা, প্রশ্নফাঁস মাফিয়াদের রেয়াত নয়’– সংসদে বিল পাসের পর প্রথমবার কী বললেন প্রধানমন্ত্রী?
সিলেবাসে বড় পরিবর্তন কবে থেকে? শিক্ষক নিয়োগেও সুখবর? কী বললেন শিক্ষামন্ত্রী?
আবার কি বদলে যাবে নোট? দেশে আসছে প্লাস্টিকের নোট,জানুন, কী বদল আসছে?
১লা আগস্ট থেকে স্কুলের খাবারের দায়িত্ব ইস্কনের, ডিম বিতরণ, ও শিক্ষক নিয়োগে বড় ঘোষণা
কেন জেন জির ‘ক্রাশ’ সৌরভ দাস ও অভিজিৎ দীপকে? নেপথ্যে কী রহস্য?

