TMC BJP candidates criminal cases: মামলার অভিযোগ ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গে, তবু তৃণমূল ও বিজেপির একাধিক হেভিওয়েট প্রার্থী ভোটের ময়দানে সক্রিয়। হলফনামার তথ্য ঘিরে উঠছে প্রশ্ন, রাজনৈতিক মহলে বাড়ছে চাপ ও চর্চা।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক লড়াই যত তীব্র হয়েছে, ততই সামনে এসেছে প্রার্থীদের অতীতের বিতর্ক ও মামলার তথ্য। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী তালিকায় এমন বহু নাম রয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে অতীতে একাধিক ফৌজদারি মামলা বা দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, দলের বেশ কিছু হেভিওয়েট প্রার্থী আছেন, যাদের নাম জড়িয়েছে বিভিন্ন আলোচিত মামলায়। এর মধ্যে রয়েছে রেশন দুর্নীতি মামলা, সারদা চিটফান্ড কেলেঙ্কারি, নারদা স্টিং অপারেশন—যেখানে কয়েকজন নেতাকে সরাসরি টাকা নিতে দেখা গিয়েছিল। এই সমস্ত ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তাঁদের মধ্যে অনেকেই এবারও টিকিট পেয়েছেন এবং নির্বাচনী লড়াইয়ে রয়েছেন।
অন্যদিকে, একই দলের মধ্যে এমন কয়েকজন প্রাক্তন বিধায়কও রয়েছেন, যারা মামলায় জড়িত থাকার কারণে এবারের নির্বাচনে টিকিট পাননি। উদাহরণ হিসেবে উঠে আসে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নাম, যিনি স্কুল চাকরি দুর্নীতি মামলায় জড়িত থাকার কারণে বেহালা পশ্চিম কেন্দ্র থেকে এবার প্রার্থী হননি। একইভাবে মানিক ভট্টাচার্যও এই মামলার সঙ্গে যুক্ত থাকায় টিকিট পাননি।
মুর্শিদাবাদের বড়ঞা কেন্দ্রের প্রাক্তন বিধায়ক জীবন কৃষ্ণ সাহার ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যায়। শিক্ষা দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলার তাঁর নাম জড়িয়ে পড়ায় তাঁকেও এবার প্রার্থী করা হয়নি। ফলে স্পষ্ট, একদিকে যেমন বিতর্কিত কিছু প্রার্থী টিকিট পেয়েছেন, তেমনই অন্যদিকে মামলার কারণে কয়েকজনকে বাদও দেওয়া হয়েছে।
বিরোধী শিবিরেও একই চিত্র। বিজেপির অন্যতম উল্লেখযোগ্য মুখ এবং বর্তমান বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও মামলার তালিকার বাইরে নন। অতীতে নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় থেকে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। এবারের নির্বাচনে তিনি ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম—এই দুই কেন্দ্র থেকেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লড়ছেন।
সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হয় অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মস (ADR)-এর রিপোর্টে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থীদের দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, পশ্চিমবঙ্গের মোট ২৯১ জন বিধায়কের মধ্যে অন্তত ১৩৬ জনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলার উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে আবার প্রায় ১০৯ জনের বিরুদ্ধে গুরুতর ফৌজদারি মামলা রয়েছে।

তবে চূড়ান্ত ও বিস্তারিত তথ্য সামনে আসবে মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার পর। প্রতিটি প্রার্থীর হলফনামায় তাঁদের বিরুদ্ধে থাকা সমস্ত মামলার বিবরণ প্রকাশিত হবে। এই তথ্য সাধারণ মানুষের জন্য উপলব্ধ থাকবে ADR এবং মাই নেটা (MyNeta) প্ল্যাটফর্মে, যা ভোটারদের প্রার্থীদের সম্পর্কে সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে।
তৃণমূল কংগ্রেসের হেভিওয়েট প্রার্থী যাঁরা টিকিট পেয়েছেন, কিন্তু মামলা আছে (TMC BJP candidates criminal cases)
তৃণমূল কংগ্রেসের এমন একাধিক হেভিওয়েট প্রার্থী রয়েছেন, যারা এবার নির্বাচনে টিকিট পেয়েছেন, কিন্তু তাঁদের নাম জড়িয়ে রয়েছে বিভিন্ন বিতর্কিত মামলা বা দুর্নীতির অভিযোগে। বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ এবং বিরোধীদের কাছে বড় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে। নিচে পয়েন্ট আকারে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন প্রার্থীর তথ্য তুলে ধরা হল—
১. জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক (হাবরা কেন্দ্র)
তাকে হাবরা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে রেশন বণ্টন দুর্নীতি মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এই মামলায় ইডি (ED) তাঁকে গ্রেফতার করেছিল এবং বর্তমানে তিনি জামিনে রয়েছেন। বিরোধী দলগুলি ইতিমধ্যেই এই ঘটনাকে দুর্নীতির বড় উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরছে, যা নির্বাচনী প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হতে পারে।
২. মদন মিত্র (কামারহাটি কেন্দ্র)
মদন মিত্রকে কামারহাটি থেকে আবারও প্রার্থী করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে সারদা চিটফান্ড কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল। এই মামলায় তিনি গ্রেফতারও হয়েছিলেন। তা সত্ত্বেও তিনি দলের অন্যতম পরিচিত মুখ হিসেবে আবারও টিকিট পেয়েছেন।
৩. কুণাল ঘোষ (বেলেঘাটা কেন্দ্র)
বেলেঘাটা কেন্দ্র থেকে নতুন মুখ হিসেবে কুণাল ঘোষকে প্রার্থী করা হয়েছে। তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের একজন পরিচিত মুখ এবং দলের মুখপাত্র হিসেবে টেলিভিশনে নিয়মিত দেখা যায়। তাঁর নামও সারদা চিটফান্ড কেলেঙ্কারিতে জড়িয়েছিল এবং তিনি এই মামলায় জেলও খেটেছেন। এবারই প্রথম তিনি বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন, যা রাজনৈতিকভাবে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
৪. ফিরহাদ হাকিম (কলকাতা বন্দর কেন্দ্র)
তৃণমূলের অন্যতম হেভিওয়েট নেতা ফিরহাদ হাকিমকে আবারও কলকাতা বন্দর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করা হয়েছে। নারদা স্টিং অপারেশনে তাঁকে প্রকাশ্যে টাকা নিতে দেখা গিয়েছিল, যা নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়। পরবর্তীকালে তাঁকে গ্রেফতারও করা হয়েছিল। এই ঘটনাও বিরোধীদের প্রচারে বড় অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
এই তালিকা থেকে স্পষ্ট, শাসক দলের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থী বিতর্ক ও মামলার ছায়া সত্ত্বেও নির্বাচনী লড়াইয়ে রয়েছেন, যা এবারের ভোটে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠতে পারে।

বিজেপি প্রার্থীদের বিরুদ্ধে মামলার বিস্তারিত বিবরণ (TMC BJP candidates criminal cases)
এডিআর (ADR) রিপোর্ট অনুযায়ী, বিজেপির প্রার্থীদের মধ্যেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নেতা রয়েছেন, যাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলার অভিযোগ রয়েছে। ২০২১ সালের হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বিজেপির মোট ৬৪ জন বিধায়কের মধ্যে অন্তত ৪২ জন নিজেদের হলফনামায় ফৌজদারি মামলার কথা স্বীকার করেছেন। শতাংশের হিসেবে যা প্রায় ৬৬%, যা তৃণমূল কংগ্রেসের তুলনায় (প্রায় ৪১%) অনেকটাই বেশি। এই ৪২ জনের মধ্যে—
- অন্তত ৮ জনের বিরুদ্ধে খুনের মামলা রয়েছে
- ২৯ জনের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টার অভিযোগ রয়েছে
- ২২ জনের বিরুদ্ধে মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধ সংক্রান্ত মামলা রয়েছে
নিচে বিজেপির কয়েকজন উল্লেখযোগ্য প্রার্থীর তথ্য তুলে ধরা হল—
১. দিলীপ ঘোষ (খড়গপুর সদর কেন্দ্র)
বিজেপির প্রার্থী দিলীপ ঘোষের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে প্রায় ৮৭টি মামলা উল্লেখ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ফৌজদারি ষড়যন্ত্র, জনসাধারণের নিরাপত্তা বিপন্ন করা, সরকারি কর্মচারীর কাজে বাধা সৃষ্টি, দায়িত্ব পালনে আক্রমণ ইত্যাদি অভিযোগ। এছাড়া ২০২১ সালের নির্বাচনী প্রচারে উস্কানিমূলক মন্তব্যের অভিযোগে কলকাতা পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে এফআইআর দায়ের করে। ২০২০ সালে সিএএ বিরোধী এক মহিলা আন্দোলনকারীকে নিয়ে যৌনতাবিদ্বেষমূলক মন্তব্য করার অভিযোগেও তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছিল।
২. শুভেন্দু অধিকারী (ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম কেন্দ্র)
বর্তমান বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবারের নির্বাচনে ভবানীপুর এবং নন্দীগ্রাম—এই দুই কেন্দ্র থেকেই প্রার্থী। পুরনো এডিআর রিপোর্ট অনুযায়ী, তাঁর হলফনামায় মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধ সংক্রান্ত অভিযোগের উল্লেখ ছিল, যেখানে শালীনতাহানির মতো ধারাও অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া নারদা স্টিং অপারেশন সংক্রান্ত মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্ত চলছে। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বারবার অভিযোগ করা হয়েছে যে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর তিনি কেন্দ্রীয় সংস্থার কাছ থেকে বিশেষ সুবিধা পাচ্ছেন, যদিও বিজেপি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
৩. অগ্নিমিত্রা পাল (আসানসোল দক্ষিণ কেন্দ্র)
আসানসোল দক্ষিণের বর্তমান বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পালকে আবারও একই কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে একাধিক এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। বিজেপির দাবি, এই অভিযোগগুলি মূলত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের হলফনামাতেও তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলার উল্লেখ ছিল।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই সমস্ত তথ্য মূলত ২০২১ এবং ২০২৪ সালের এডিআর ডিসক্লোজার বা হলফনামার ভিত্তিতে জানা গেছে (TMC BJP candidates criminal cases)। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের জন্য প্রার্থীদের মনোনয়ন পত্র এখনও জমা পড়েনি। মনোনয়ন জমা পড়ার পর প্রত্যেক প্রার্থীর সর্বশেষ হলফনামা প্রকাশিত হবে, যেখানে তাঁদের বিরুদ্ধে থাকা মামলার বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
আইনি দিক মনে রাখা জরুরি— এই সমস্ত ক্ষেত্রেই প্রার্থীরা “অভিযুক্ত” (accused), কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনও আদালত তাঁদের চূড়ান্তভাবে দোষী সাব্যস্ত করেনি। ভারতীয় আইনের দৃষ্টিতে, আদালতের রায় না হওয়া পর্যন্ত কাউকে অপরাধী বলা যায় না। তাই এই অভিযোগগুলি বিচারাধীন এবং তদন্তাধীন বিষয় হিসেবেই বিবেচিত হবে।
সাম্প্রতিক পোস্ট
- বৃদ্ধ বয়সে ডিভোর্স চাইছেন পঙ্কজ-ডিম্পল! মাঝখানে ফেঁসে গেলেন অপরশক্তি খুরানা?
- ‘গুজারিশ’-এর ইথান মাসকারেনহাস আজ বাস্তব! ১৩ বছরের যন্ত্রণার অবসান, দেশে প্রথমবার ইউথেনেশিয়া (নিষ্কৃতিমৃত্যুর) অনুমতি সুপ্রিম কোর্টের
- স্বেচ্ছামৃত্যু কি ভারতে বৈধ? স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন কে করতে পারেন? ভারতে ইউথানেসিয়া নিয়ে কী বলছে আইন
- মাছ-মাংস না খেলেও শরীর থাকবে ফিট! জেনে নিন, ৩টি হেলদি সুস্বাদু নিরামিষ রেসিপি
- যোটক বিচার কি সত্যিই কাজ করে? বিয়ের আগে আসলে কোনটা জরুরি, কী বলছে আধুনিক বিজ্ঞান?

