Trinamool Congress MP Resignation ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে। একের পর এক সাংসদের অসন্তোষ ও পদত্যাগের আবহে সংসদে তৃণমূলের শক্তি কতটা অটুট থাকবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বাড়ছে কৌতূহল ও উদ্বেগ।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: রাজ্যসভা থেকে একের পর এক সাংসদের ইস্তফা, দলের অন্দরে বাড়তে থাকা অসন্তোষ এবং দিল্লিতে রাজনৈতিক তৎপরতা— সব মিলিয়ে সোমবারটি তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন হয়ে উঠেছে। প্রশ্ন উঠছে, সংসদীয় রাজনীতিতে নিজের দলের অবস্থান ধরে রাখতে পারবেন তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?
সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে সুখেন্দুশেখর রায়ের পদত্যাগে। দীর্ঘদিন তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম পরিচিত মুখ ছিলেন তিনি। ২০১১ সালে প্রথমবার রাজ্যসভার সাংসদ হন এবং পরপর তিনবার তাঁকে রাজ্যসভায় পাঠিয়েছিল দল। ২০২১ সালের নন্দীগ্রাম নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। এমনকি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও আইনি লড়াইয়েও তিনি দলনেত্রীর অন্যতম ভরসার মুখ ছিলেন।
তবে গত কয়েক বছরে দলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব ক্রমশ বেড়েছে। বিশেষ করে আর জি কর আন্দোলনের সময় এবং দুর্নীতি সংক্রান্ত একাধিক ইস্যুতে প্রকাশ্যে দলের সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ ছিল, দলের শীর্ষ নেতৃত্ব তাঁর বক্তব্যকে গুরুত্ব দেয়নি। সামাজিক মাধ্যমেও বারবার ক্ষোভ উগরে দিতে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। অবশেষে রাজ্যসভার পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে সেই দূরত্বকে আনুষ্ঠানিক রূপ দিলেন তিনি।
বিক্ষুব্ধ সাংসদদের সমীকরণ
দলীয় সূত্রে খবর, তৃণমূলের একাধিক সাংসদ বর্তমানে অসন্তুষ্ট। দলত্যাগ বিরোধী আইনের বাধা এড়াতে প্রয়োজনীয় সংখ্যার সমীকরণ নিয়েও আলোচনা চলছে। বিক্ষুব্ধ শিবিরের লক্ষ্য, এমন একটি সংখ্যা অর্জন করা যাতে আইনি জটিলতা ছাড়াই ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।
সূত্রের দাবি, একাধিক সাংসদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে অনেকেই সেই যোগাযোগ এড়িয়ে গিয়েছেন বলেও রাজনৈতিক মহলে জল্পনা। যদিও তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, অন্তত তেরোজন সাংসদ এখনও দলনেত্রীর সঙ্গেই রয়েছেন।
এদিকে, অভিনেত্রী তথা রাজ্যসভার সাংসদ কোয়েল মল্লিক নয়, বরং রাজনৈতিক মহলে অন্য কয়েকজন সাংসদকে ঘিরেও পদত্যাগের জল্পনা ছড়িয়েছে। ফলে আগামী কয়েক দিন তৃণমূলের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে।
দিল্লিতে মমতা, নজরে বিরোধী শিবিরের বৈঠক
এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই দিল্লিতে পৌঁছেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ইন্ডি জোটের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নিতে গিয়েছেন তাঁরা। সেখানে উপস্থিত থাকছেন অখিলেশ যাদব-সহ বিরোধী রাজনীতির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নেতা।
তবে বিরোধী জোটের অন্দরেও মতভেদ ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে। বিভিন্ন আঞ্চলিক দলের সঙ্গে কংগ্রেসের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ফলে এই বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যতম লক্ষ্য হতে পারে জাতীয় রাজনীতিতে নিজের গুরুত্ব আরও জোরালোভাবে তুলে ধরা।
মেগা সোমবারে একাধিক রাজনৈতিক সমীকরণ
অন্যদিকে দিল্লিতে রয়েছেন শুভেন্দু অধিকারীও। রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হতে পারে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যক্ষেত্রেও বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রকল্পের বাস্তবায়নে নতুন অধ্যায়ের দিকে এগোতে পারে বলেও জল্পনা চলছে।
সব মিলিয়ে সোমবারটি শুধু তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য নয়, রাজ্য ও জাতীয় রাজনীতির জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
লোকসভা ও রাজ্যসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের শক্তি কি আগের মতো থাকবে? নাকি সাংসদদের একাংশের অসন্তোষ আরও বড় ভাঙনের ইঙ্গিত দিচ্ছে? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি নিজের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবেন, নাকি দল নতুন সংকটের মুখে পড়বে?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তরই আগামী কয়েক দিনের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ নির্ধারণ করবে। আপাতত নজর দিল্লিতে, নজর তৃণমূলের অন্দরে, আর নজর সেই সাংসদদের দিকে, যাঁদের সিদ্ধান্ত আগামী দিনের রাজনীতির ছবি বদলে দিতে পারে।
#TrinamoolCongress #MPResignation #MamataBanerjee #SukhenduSekharRoy #RajyaSabha #ParliamentPolitics #WestBengalPolitics
সাম্প্রতিক পোস্ট
নিয়োগ দুর্নীতি কি আগামী দিনে কমবে? জানুন, চাকরির নিয়মে এই পরিবর্তনে আসবে কি স্বচ্ছতা?
এক্সপোজড! ককরোচ জনতা পার্টির নেপথ্যে কোন চক্রান্তের গন্ধ? সত্যিটা জানলে চমকে উঠবেন
মহিলাদের বাসে টিকিট কাটতে হবে না! জানুন, এই কার্ড থাকলেই দিঘা থেকে দার্জিলিং সফর ফ্রী তে
কলেজে ভর্তি নিয়ে বড় খবর, এক নজরে দেখে নিন স্নাতকে ভর্তির আবেদন কবে

