Vijaynagar’er Hirey Movie Review: বিজয়নগরের হীরে ছবির মাধ্যমে কাকাবাবু ফিরল তার চেনা রহস্য ও রোমাঞ্চ নিয়ে। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের সংযত ও দৃঢ় অভিনয়, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং শক্তপোক্ত নির্মাণশৈলীতে দর্শকের মন জয় করেছে এই ছবি। আগের কাকাবাবু ছবিগুলোর তুলনায় এই ছবি কেন আলাদা এবং পরিবার নিয়ে দেখার মতো অভিজ্ঞতা দেয়, তা নিয়েই এই প্রতিবেদন।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: একটা সময় ছিল, যখন ‘কাকাবাবু’ নামটাই বাঙালি অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের চোখে স্বপ্নের আলো জ্বালিয়ে দিত। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের সৃষ্ট এই আইকনিক চরিত্র মানেই রহস্য, ইতিহাস, বিপদের মুখোমুখি হওয়া আর তীক্ষ্ণ বুদ্ধির এক অনন্য মেলবন্ধন। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলিতে কাকাবাবুকে ঘিরে নির্মিত কিছু ছবির পর অনেক দর্শকের মনেই এক ধরনের সন্দেহ দানা বাঁধছিল—’মিশর রহস্য’, ‘ইয়েতি অভিযান’, ‘কাকাবাবুর প্রত্যাবর্তন’ সিনেমাগুলির মুক্তির পর মনে হয়েছিল কাকাবাবু হয়তো তার চেনা ছন্দ হারিয়ে ফেলছেন? ঠিক এই প্রশ্নের উত্তর দিতেই পরিচালক চন্দ্রাশিস রায় নিয়ে এলেন ‘বিজয়নগরের হীরে’। এই ছবি শুধু একটি নতুন অভিযান নয়, বরং বলা যায় কাকাবাবু ধারাবাহিকতার জন্য এক নতুন আত্মবিশ্বাসের ঘোষণা। কেন এই ছবি গুরুত্বপূর্ণ, কেন এটি আগের কাকাবাবু ছবিগুলোর তুলনায় আলাদা, আর পরিবার নিয়ে বসে দেখার মতো অভিজ্ঞতা দিতে পারে কি না—এই প্রতিবেদনে সেই দিকগুলোই তুলে ধরা হলো।
হাম্পিতে হীরের সন্ধানে কাকাবাবু
‘বিজয়নগরের হীরে’-এর গল্প আমাদের নিয়ে যায় কর্ণাটকের ঐতিহাসিক হাম্পি নগরীতে। কাকাবাবু, সন্তু এবং তাঁদের সঙ্গীরা একটি কিংবদন্তি হীরের সন্ধানে পাড়ি দেন এই প্রাচীন সভ্যতার ধ্বংসস্তূপের গভীরে। ইতিহাস, লোককথা আর একের পর এক বিপদের ফাঁদে ঘেরা এই যাত্রা কেবল ধন অনুসন্ধানের গল্প নয়—এটি এক ধরনের মানসিক দৃঢ়তা ও নৈতিক পরীক্ষার পথচলাও বটে। গল্পের মূল কাঠামো সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের মূল রচনার প্রতি যথেষ্ট বিশ্বস্ত থেকেছে, যা এই ছবির অন্যতম বড় শক্তি হিসেবে ধরা পড়ে।
এই কাহিনিতে রহস্য ধাপে ধাপে উন্মোচিত হয়েছে, হঠাৎ করে সবকিছু একসঙ্গে দর্শকের সামনে তুলে ধরা হয়নি। এর ফলে গল্পের প্রতি স্বাভাবিক এক আকর্ষণ তৈরি হয়, যা দর্শককে শেষ পর্যন্ত ধরে রাখে। আগের কিছু কাকাবাবু ছবিতে যে টানটান কৌতূহলের অভাব অনুভূত হয়েছিল, এখানে সেই শূন্যতা অনেকটাই পূরণ হয়েছে।
অভিজ্ঞতার ভারে দৃঢ়
কাকাবাবু চরিত্রে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের ফিরে আসা নতুন কোনো ঘটনা নয়, তবে এই ছবিতে তাঁর উপস্থিতি আলাদাভাবে চোখে পড়ে। বিশেষ করে ছবির শুরুতেই যে দুর্ধর্ষ সূচনা দৃশ্য রাখা হয়েছে, তা নিঃসন্দেহে কাকাবাবু ধারাবাহিকতার অন্যতম সেরা সূচনাগুলোর মধ্যে পড়ে। বয়স, দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং ব্যক্তিত্বের দৃঢ়তা—সব মিলিয়ে এখানে প্রসেনজিৎ এক পরিণত, আত্মবিশ্বাসী কাকাবাবুকে পর্দায় তুলে ধরেছেন।
শুধু শারীরিক সাহসিকতা নয়, সংলাপ বলার সংযত ভঙ্গি, চোখের ভাষায় অনুভূতির প্রকাশ এবং বিপদের মুহূর্তে স্থির ও শান্ত থাকার ক্ষমতা—এই সবকিছু মিলিয়েই তিনি চরিত্রটিকে অত্যন্ত বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছেন। স্পষ্ট বোঝা যায়, এই ছবিতে কাকাবাবু আর ভ্রমণপ্রিয় কোনো হালকা নায়ক নন, বরং তিনি একজন সত্যিকারের অভিযাত্রী, যাঁর প্রতিটি সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে অভিজ্ঞতা ও গভীর চিন্তার ছাপ।
সন্তু ও অন্যান্য চরিত্র: দলগত অভিনয়ের সাফল্য
আরিয়ান ভৌমিকের অভিনীত সন্তু চরিত্রটি আগের তুলনায় বেশ পরিণত। সে আর শুধু কাকাবাবুর ছায়া নয়, বরং গল্পের একটি সক্রিয় অংশ। তার প্রতিক্রিয়া ভয় কৌতুহল সবই স্বাভাবিক। চিরঞ্জিত চক্রবর্তি এবং অন্যান্য পার্শ্ব চরিত্ররাও নিজেদের জায়গায় যথেষ্ট ছাপ ফেলেছেন। দলগত অভিনয়ের দিক থেকে ছবিটি সুষম এবং ভারসাম্যপূর্ণ।
আগের কাকাবাবু ছবিগুলির থেকে কেন আলাদা
দর্শকদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, ‘বিজয়নগরের হীরে’ আগের কিছু কাকাবাবু ছবির থেকে আলাদা কয়েকটি কারণে। প্রথমত, এই ছবিতে ভ্রমণ দৃশ্য দেখানোর চেয়ে গল্প বলার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয়ত, চিত্রগ্রহণ ও শব্দ পরিকল্পনা গল্পের আবহ তৈরি করতে সাহায্য করেছে, শুধু দৃশ্য সুন্দর দেখানোর জন্য নয়।
এছাড়া, গল্পের শেষ অংশে যে টানটান উত্তেজনা তৈরি হয়, তা বইয়ের পাতায় থাকা অনুভূতিকে অনেকটাই জীবন্ত করে তোলে। এই জায়গাতেই ছবিটি কাকাবাবু ফ্র্যাঞ্চাইজির জন্য নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে বলে মত অনেকের।
পরিচালনা ও নির্মাণশৈলী
পরিচালনার ক্ষেত্রে ছবিটি পরিমিত পথে হেঁটেছে। অতিরিক্ত কৌশল বা চমক দেখানোর চেষ্টা নেই। বরং গল্পকে বিশ্বাসযোগ্যভাবে তুলে ধরাই ছিল মূল লক্ষ্য। ছবির গতি মোটের উপর সঠিক, যদিও মাঝখানের কিছু অংশে সামান্য ঢিলেমি অনুভূত হতে পারে। তবে তা সামগ্রিক অভিজ্ঞতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে না। অপ্রয়োজনীয় লম্বা দৃশ্য নেই।
চলচ্চিত্র সমালোচকদের মতে, ছবির শেষ পনেরো থেকে কুড়ি মিনিট এক কথায় চোখ জুড়ানো দৃশ্যসম্ভার। হাম্পির প্রাচীন ধ্বংসাবশেষ, দৃশ্যমান কৌশলের সুচারু ব্যবহার এবং ক্যামেরার নিখুঁত কাজ—সব মিলিয়ে এই অংশটি যেন গল্পের বইয়ের পাতাকে পর্দায় জীবন্ত করে তোলে। এই অংশেই পরিচালক চন্দ্রাশিস রায় প্রমাণ করেন, বাড়তি বাহুল্য বা অকারণ চমক না দেখিয়েও কীভাবে পরিমিত নির্মাণশৈলী ও কারিগরি দক্ষতার মাধ্যমে টানটান রোমাঞ্চ সৃষ্টি করা যায়।চলচ্চিত্র সমালোচকদের মতে, ছবির শেষ পনেরো থেকে কুড়ি মিনিট এক কথায় চোখ জুড়ানো দৃশ্যসম্ভার। হাম্পির প্রাচীন ধ্বংসাবশেষ, দৃশ্যমান কৌশলের সুচারু ব্যবহার এবং ক্যামেরার নিখুঁত কাজ—সব মিলিয়ে এই অংশটি যেন গল্পের বইয়ের পাতাকে পর্দায় জীবন্ত করে তোলে। এই অংশেই পরিচালক চন্দ্রাশিস রায় প্রমাণ করেন, বাড়তি বাহুল্য বা অকারণ চমক না দেখিয়েও কীভাবে পরিমিত নির্মাণশৈলী ও কারিগরি দক্ষতার মাধ্যমে টানটান রোমাঞ্চ সৃষ্টি করা যায়। দৃশ্যায়ন ও বিশেষ দৃশ্যপ্রভাব ব্যবহার করা হয়েছে কাহিনির প্রয়োজনে, অতিরঞ্জন বা অযথা প্রদর্শন এখানে নেই। পাশাপাশি শব্দ পরিকল্পনা ও আবহসংগীত রহস্য ও উত্তেজনা তৈরি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে।
‘বিজয়নগরের হীরে’ এমন একটি ছবি, যা কাকাবাবু চরিত্রকে নতুন করে দর্শকের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। দর্শকের ভালোবাসা, ইতিবাচক আলোচনা এবং প্রেক্ষাগৃহে উপস্থিতি বলছে, এই ছবি তার উদ্দেশ্যে সফল। বিশেষ করে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের অভিনয় কাকাবাবু চরিত্রকে আবার কেন্দ্রে ফিরিয়ে এনেছে। যাঁরা অ্যাডভেঞ্চার, রহস্য আর বুদ্ধিদীপ্ত গল্প পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য এই ছবি নিঃসন্দেহে এক আকর্ষণীয় অভিজ্ঞতা। দীর্ঘদিন পর বাংলা অ্যাডভেঞ্চার ছবির জগতে এমন সাড়া পড়া ছবি খুব কমই দেখা গেছে—এই দিক থেকে ‘বিজয়নগরের হীরে’ নিঃসন্দেহে উল্লেখযোগ্য।
(আরও গুরুত্বপূর্ণ খবর ও রাশিফল আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল WhatsApp চ্যানেলে যোগ দিন! সবচেয়ে আগে পান জ্যোতিষ, অফবিট নিউজ, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি, বিনোদন, জীবনধারা ও অফবিট এক্সক্লুসিভ আপডেট —আমাদের WhatsApp Channel-এ যোগ দিন)
সাম্প্রতিক পোস্ট
- ভোটের বছরেও ‘বঞ্চিত’ বাংলা? হাইস্পিড রেল আর ফ্রেট করিডর ছাড়া ঝুলিতে শূন্য! বাজেটে বাড়ল ক্ষোভের পারদ
- ভোটের আগে পশ্চিমবঙ্গের জন্য বাজেট কি জনদরদী হতে চলেছে? জানুন, লাইভ বাজেট আপডেট ২০২৬
- পুরনো ধাতুর ওপর বিশ্বাস │ রাজপথে কীভাবে ভিন্টেজ গাড়ি হয়ে ওঠে চলমান ইতিহাস
- ঋতুস্রাব আর বাধা নয় শিক্ষায় │ যুগান্তকারী রায় দেশের শীর্ষ আদালতের
- বাজেট প্রত্যাশা ২০২৬ │ ভোটের আগে বাংলার জন্য কী চমক রাখছে কেন্দ্র? │ জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞ অর্থনীতিবিদ

