West Bengal Anti Goonda Act: গুণ্ডা দমন আইন নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ। রাষ্ট্রপতির অনুমোদন না মেলায় জনস্বার্থ মামলায় আপাতত শুনানি নয়, তবে রাজ্য সরকারকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে সদ্য কার্যকর হওয়া গুণ্ডা দমন আইনকে ঘিরে আইনি জট আরও স্পষ্ট হল কলকাতা হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণে। এই আইনকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলা আপাতত গ্রহণ করেনি আদালত। কারণ হিসেবে হাইকোর্ট জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট আইনে এখনও রাষ্ট্রপতির অনুমোদন মেলেনি। ফলে আইনটির সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে এই মুহূর্তে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছানো বা শুনানি করা সম্ভব নয়।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি পার্থসারথী চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের আগে আইনটি নিয়ে বিচারিক পর্যালোচনার সুযোগ সীমিত। সেই কারণেই জনস্বার্থ মামলাটি আপাতত খারিজ করা হয়েছে।
তবে মামলার এখানেই ইতি পড়ছে না। আদালত রাজ্য সরকারকে চার সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা জমা দিয়ে নিজেদের অবস্থান জানাতে নির্দেশ দিয়েছে। একইসঙ্গে মামলাকারীদের আগামী ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পাল্টা হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে ১৬ সেপ্টেম্বর।
কী এই গুণ্ডা দমন আইন?
রাজ্যে অসামাজিক কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণে আনতে পশ্চিমবঙ্গ সরকার এই আইন কার্যকর করেছে। গত ১৩ জুলাই থেকে আইনটি কার্যকর হয়েছে। তবে আইনসভায় বিলটি পাস হওয়ার পর প্রথমে রাজ্যপাল তাতে সম্মতি দিলেও পরে সেই সম্মতি প্রত্যাহার করে বিলটি রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য পাঠিয়ে দেন। এখনও পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির অনুমোদন না আসায় আইনটি নিয়ে সাংবিধানিক প্রশ্ন থেকেই গিয়েছে।
কোন কাজকে অসামাজিক কার্যকলাপ বলা হয়েছে?
এই আইনে অসামাজিক কার্যকলাপ বলতে এমন সব কাজকে বোঝানো হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয়, আতঙ্ক বা নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশ সৃষ্টি করে। এছাড়া কারও বৈধ ব্যবসা বা জীবিকায় বাধা সৃষ্টি করা, জোর করে জমি বা অন্য সম্পত্তি দখল করা, কিংবা সমাজে অস্থিরতা তৈরি করে এমন কর্মকাণ্ডও এই আইনের আওতায় পড়বে।
রাজ্য সরকারের দাবি, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই আইন আনা হয়েছে। গুজরাট ও উত্তরপ্রদেশে একই ধরনের আইন কার্যকর থাকায় সেই মডেল অনুসরণ করেই পশ্চিমবঙ্গে এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
এই আইনে কী কী ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে?
আইনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল প্রতিরোধমূলক আটক করার বিধান। কোনও ব্যক্তি ভবিষ্যতে অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়তে পারেন বলে যদি পুলিশ সুপার বা তার ঊর্ধ্বতন কোনও আধিকারিক রিপোর্ট দেন, তাহলে সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে রাজ্য সরকার ওই ব্যক্তিকে আটক রাখার নির্দেশ দিতে পারবে।
এছাড়া জেলা শাসক এবং পুলিশ কমিশনারকেও নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে আটকাদেশ জারি করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। একবার আটকাদেশ জারি হলে তা রাজ্যের যে কোনও জায়গায় কার্যকর করা যাবে।
নজরদারির জন্য থাকবে বিশেষ বোর্ড
আইন অনুযায়ী, আটক সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত পর্যালোচনার জন্য রাজ্য সরকার এক বা একাধিক পরামর্শদাতা বোর্ড গঠন করবে। প্রতিটি বোর্ডের প্রধান হিসেবে থাকবেন হাইকোর্টের বর্তমান বা প্রাক্তন বিচারপতি। পাশাপাশি আরও দু’জন সদস্য থাকবেন, যাঁদের হাইকোর্টের বিচারপতি হওয়ার যোগ্যতা রয়েছে। এই বোর্ড আটকাদেশের যৌক্তিকতা পরীক্ষা করবে এবং প্রয়োজনীয় মতামত দেবে।
কেন তৈরি হয়েছে আইনি জট?
যদিও আইনটি রাজ্যে কার্যকর হয়েছে, তবুও রাষ্ট্রপতির অনুমোদন এখনও না আসায় এর সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সেই কারণেই কলকাতা হাইকোর্ট জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতির অনুমোদন ছাড়া এই মুহূর্তে আইনটির বৈধতা নিয়ে বিস্তারিত শুনানি করা সম্ভব নয়। তবে মামলার পরবর্তী শুনানিতে আদালত রাজ্য সরকারের বক্তব্য এবং মামলাকারীদের হলফনামা বিবেচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।
আইনটি কার্যকর হওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক মহল এবং আইন বিশেষজ্ঞদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। একদিকে রাজ্য সরকারের দাবি, এই আইন সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। অন্যদিকে বিরোধীদের অভিযোগ, এই আইনের অপব্যবহারের আশঙ্কা রয়েছে। ফলে আগামী ১৬ সেপ্টেম্বরের শুনানির দিকে নজর থাকবে রাজনৈতিক ও আইন মহলের।
#WestBengalAntiGoondaAct #KolkataHighCourt #WestBengalNews #LegalNews #IndianJudiciary #PublicInterestLitigation #LawAndOrder
সাম্প্রতিক পোস্ট
‘সাথীরা, প্রশ্নফাঁস মাফিয়াদের রেয়াত নয়’– সংসদে বিল পাসের পর প্রথমবার কী বললেন প্রধানমন্ত্রী?
সিলেবাসে বড় পরিবর্তন কবে থেকে? শিক্ষক নিয়োগেও সুখবর? কী বললেন শিক্ষামন্ত্রী?
আবার কি বদলে যাবে নোট? দেশে আসছে প্লাস্টিকের নোট,জানুন, কী বদল আসছে?
১লা আগস্ট থেকে স্কুলের খাবারের দায়িত্ব ইস্কনের, ডিম বিতরণ, ও শিক্ষক নিয়োগে বড় ঘোষণা

