West Bengal PhD Admission Rules: পিএইচডি ভর্তির নিয়মে বড় পরিবর্তন। এবার আলাদা প্রবেশিকা পরীক্ষা নয়, জাতীয় স্তরের যোগ্যতা পরীক্ষার ফল এবং সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতেই হবে গবেষণায় ভর্তির সুযোগ, জানাল উচ্চশিক্ষা দপ্তর।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: রাজ্যের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় পিএইচডি (PhD) ভর্তির নিয়মে বড় পরিবর্তনের পথে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এতদিন রাজ্যের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি কোর্সে ভর্তি হতে গেলে ইউজিসি নেট (UGC NET), সিএসআইআর-নেট (CSIR-NET) বা গেট (GATE)-এর মতো জাতীয় স্তরের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরেও সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব প্রবেশিকা পরীক্ষায় বসতে হতো। এবার সেই নিয়মে পরিবর্তন আনতে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা জারি করেছে রাজ্যের উচ্চশিক্ষা দপ্তর।
উচ্চশিক্ষা দপ্তরের তরফে রাজ্যের সমস্ত সরকারি, সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত এবং স্বশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়কে জানানো হয়েছে, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে পিএইচডি ভর্তির জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলি আর কোনও পৃথক প্রবেশিকা পরীক্ষা বা এন্ট্রান্স টেস্ট নিতে পারবে না। অর্থাৎ, বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে আলাদা আলাদা লিখিত পরীক্ষা দেওয়ার প্রয়োজন থাকবে না।
কেন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হল?
এতদিন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নিয়ম ছিল। প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়-সহ রাজ্যের বহু উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পিএইচডি ভর্তির জন্য আলাদা প্রবেশিকা পরীক্ষা নেওয়া হতো। ফলে একজন পড়ুয়াকে যদি একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করতে হতো, তাহলে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পৃথক পরীক্ষায় অংশ নিতে হতো।
এই প্রক্রিয়ায় সময়, অর্থ এবং মানসিক চাপ—সবকিছুরই বাড়তি বোঝা তৈরি হতো। পাশাপাশি, একেক বিশ্ববিদ্যালয়ের একেক ধরনের নিয়ম থাকায় অনেক পড়ুয়ার অভিযোগ ছিল, ভর্তির ক্ষেত্রে সমতা বজায় থাকছে না।
এই পরিস্থিতি দূর করতেই উচ্চশিক্ষা দপ্তর নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে বলে জানা গিয়েছে।
এবার কীভাবে হবে পিএইচডিতে ভর্তি?
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে ২০২২ সালের ইউজিসি বিধি (UGC Regulations 2022) অনুসরণ করতে হবে।
পিএইচডি ভর্তির ক্ষেত্রে মূল ভিত্তি হবে—
- ইউজিসি নেট (UGC-NET)-এর ফলাফল
- সিএসআইআর-নেট (CSIR-NET)-এর ফলাফল
- গেট (GATE)-এর ফলাফল
- অথবা কেন্দ্রীয় সরকারের স্বীকৃত অন্যান্য জাতীয় স্তরের যোগ্যতা নির্ধারণকারী পরীক্ষার স্কোর
এই পরীক্ষাগুলিতে সফল হওয়া প্রার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় সাক্ষাৎকার (ইন্টারভিউ)-এর জন্য ডাকবে। এরপর জাতীয় স্তরের পরীক্ষার স্কোর এবং ইন্টারভিউয়ের মূল্যায়নের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত মেধাতালিকা প্রকাশ করতে হবে।
অর্থাৎ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলি আলাদা করে কোনও লিখিত প্রবেশিকা পরীক্ষা নিতে পারবে না।
কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে এই নিয়ম প্রযোজ্য?
উচ্চশিক্ষা দপ্তরের পাঠানো নির্দেশিকা অনুযায়ী, এই নিয়ম রাজ্যের সমস্ত সরকারি, সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত এবং স্বশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
যে সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনও নতুন শিক্ষাবর্ষের পিএইচডি ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হয়নি অথবা খুব শীঘ্রই শুরু হতে চলেছে, তাদের এই নতুন নিয়ম মেনেই ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে।
পড়ুয়াদের কী সুবিধা হবে?
শিক্ষা মহলের একাংশের মতে, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে পড়ুয়াদের একাধিক সুবিধা হবে।
প্রথমত, একই বিষয়ে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বারবার আলাদা প্রবেশিকা পরীক্ষায় বসতে হবে না।
দ্বিতীয়ত, জাতীয় স্তরের পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে সারা দেশে একটি অভিন্ন মানদণ্ড অনুসরণ করা হবে।
তৃতীয়ত, ভর্তি প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও একরূপ হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে আলাদা নিয়মের কারণে যে বিভ্রান্তি তৈরি হতো, তা অনেকটাই কমবে।
উচ্চশিক্ষা দপ্তরের মূল বার্তা কী?
উচ্চশিক্ষা দপ্তর স্পষ্ট জানিয়েছে, পিএইচডি ভর্তির ক্ষেত্রে ২০২২ সালের ইউজিসি বিধিই অনুসরণ করতে হবে। তাই আলাদা বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক প্রবেশিকা পরীক্ষা নয়, বরং ইউজিসি নেট, সিএসআইআর-নেট, গেট বা অন্যান্য স্বীকৃত জাতীয় পরীক্ষার ফলাফল এবং ইন্টারভিউয়ের ভিত্তিতেই গবেষক নির্বাচন করতে হবে।
এর ফলে রাজ্যের সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি ভর্তির প্রক্রিয়ায় আরও বেশি স্বচ্ছতা, একরূপতা এবং সমতা বজায় থাকবে বলেই মনে করছে শিক্ষা মহল।
#WestBengalPhD #PhDAdmission #HigherEducation #UGCNET #CSIRNET #GATE #EducationNews
সাম্প্রতিক পোস্ট
‘সাথীরা, প্রশ্নফাঁস মাফিয়াদের রেয়াত নয়’– সংসদে বিল পাসের পর প্রথমবার কী বললেন প্রধানমন্ত্রী?
সিলেবাসে বড় পরিবর্তন কবে থেকে? শিক্ষক নিয়োগেও সুখবর? কী বললেন শিক্ষামন্ত্রী?
আবার কি বদলে যাবে নোট? দেশে আসছে প্লাস্টিকের নোট,জানুন, কী বদল আসছে?
১লা আগস্ট থেকে স্কুলের খাবারের দায়িত্ব ইস্কনের, ডিম বিতরণ, ও শিক্ষক নিয়োগে বড় ঘোষণা

