West Bengal Durga Puja Tourism Plan: দুর্গাপুজোকে বিশ্বমঞ্চে আরও বড় করে তুলে ধরতে বিশেষ আন্তর্জাতিক প্রচারাভিযান, হেরিটেজ কমিশন, শক্তিপীঠ সার্কিট ও ঐতিহ্যবাহী মন্দির সংস্কারের পরিকল্পনা ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। পাশাপাশি উৎসবভিত্তিক পর্যটনে জোর দিয়ে কর্মসংস্থান বৃদ্ধিরও আশা করা হচ্ছে।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: দুর্গাপুজো শুধু বাঙালির উৎসব নয়, আজ তা বিশ্বের সাংস্কৃতিক মানচিত্রে পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম পরিচয়। আর সেই পরিচয়কে আরও শক্তিশালী করতেই এবারের বাজেটে একাধিক বড় ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। অর্থমন্ত্রী ড. স্বপন দাশগুপ্ত বিধানসভায় বাজেট পেশ করতে গিয়ে জানান, দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে শুরু হবে বিশেষ আন্তর্জাতিক পর্যটন ব্র্যান্ডিং অভিযান। পাশাপাশি রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী মন্দির ও ধর্মীয় কেন্দ্রগুলির উন্নয়ন, সংরক্ষণ এবং পুনর্গঠনের জন্য নেওয়া হবে বিশেষ উদ্যোগ।
সরকারের মতে, ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পাওয়ার পর দুর্গাপুজো এখন শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং পশ্চিমবঙ্গের সাংস্কৃতিক শক্তির অন্যতম প্রতীক। তাই দেশ-বিদেশের পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে দুর্গাপুজোর থিম, প্যান্ডেল, শিল্পকলা, সঙ্গীত, ঐতিহ্যবাহী আচার-অনুষ্ঠান এবং সম্প্রীতির বার্তাকে আন্তর্জাতিক স্তরে তুলে ধরা হবে।
দুর্গাপুজোকে ঘিরে আন্তর্জাতিক প্রচার
বাজেট বক্তৃতায় জানানো হয়েছে, দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে বিশেষ আন্তর্জাতিক প্রচারাভিযান চালানো হবে। পর্যটকদের জন্য তৈরি হবে বিশেষ ভ্রমণ প্যাকেজ, ডিজিটাল গাইড এবং উন্নত দর্শনার্থী পরিষেবা। লক্ষ্য একটাই—বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আরও বেশি পর্যটককে বাংলায় নিয়ে আসা।
সরকারের বিশ্বাস, দুর্গাপুজোর আবেগ এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে কাজে লাগিয়ে পশ্চিমবঙ্গকে আন্তর্জাতিক পর্যটনের অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব।
হেরিটেজ কমিশন ও শক্তিপীঠ সার্কিট
রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলিকে সংরক্ষণ এবং উন্নয়নের জন্য গঠন করা হবে একটি বিশেষ হেরিটেজ কমিশন। পাশাপাশি তৈরি হবে বেঙ্গল শক্তিপীঠ সার্কিট, যার মাধ্যমে রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ শক্তিপীঠ ও ধর্মীয় কেন্দ্রগুলিকে এক সুতোয় বাঁধা হবে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই উদ্যোগ শুধু ধর্মীয় পর্যটন নয়, সাংস্কৃতিক পর্যটনকেও নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেবে।
কোন কোন স্থানের উন্নয়ন হবে?
বাজেটে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে কালীঘাট, তারাপীঠ, জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি, মদনমোহন মন্দির, মা কল্যাণেশ্বরী, তারকেশ্বর এবং কঙ্কালিতলার মতো ঐতিহ্যবাহী কেন্দ্রগুলির কথা।
এই সমস্ত স্থানের সংরক্ষণ, পুনর্গঠন এবং পর্যটন পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট জেলাগুলিকে কেন্দ্র করে গড়ে তোলা হবে ‘হাব অ্যান্ড স্পোক’ মডেলের পর্যটন ব্যবস্থা, যাতে একটি প্রধান পর্যটন কেন্দ্রকে ঘিরে আশপাশের একাধিক গন্তব্যও সমানভাবে বিকশিত হয়।
গঙ্গাসাগর থেকে রাস মেলা, বাড়বে উৎসব পর্যটন
সরকারের লক্ষ্য গঙ্গাসাগর মেলাকে আন্তর্জাতিক আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক উৎসব হিসেবে আরও বড় পরিসরে তুলে ধরা। একইসঙ্গে জগদ্ধাত্রী পুজো, তারকেশ্বরের মেলা, রাস মেলা-সহ অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী উৎসবগুলিকেও জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিচিত করে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
এর ফলে রাজ্যের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রচার যেমন বাড়বে, তেমনই পর্যটনের নতুন দিগন্তও খুলবে বলে মনে করছে সরকার।
স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব
সরকারের মতে, এই প্রকল্পগুলির সরাসরি প্রভাব পড়বে স্থানীয় অর্থনীতির উপর। পর্যটকের সংখ্যা বাড়লে ক্ষুদ্র ব্যবসা, হোটেল শিল্প, পরিবহণ ব্যবস্থা, হস্তশিল্প এবং স্থানীয় পরিষেবা ক্ষেত্র নতুন গতি পাবে। ফলে কর্মসংস্থানের সুযোগও বৃদ্ধি পাবে।
রাজ্য সরকারের আশা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং পর্যটনকে একসঙ্গে যুক্ত করে পশ্চিমবঙ্গকে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
#DurgaPuja #WestBengal #Tourism #CulturalTourism #HeritageTourism #Gangasagar #Kalighat #Tarapith #BengalCulture #WestBengalBudget
সাম্প্রতিক পোস্ট
নিয়োগ দুর্নীতি কি আগামী দিনে কমবে? জানুন, চাকরির নিয়মে এই পরিবর্তনে আসবে কি স্বচ্ছতা?
এক্সপোজড! ককরোচ জনতা পার্টির নেপথ্যে কোন চক্রান্তের গন্ধ? সত্যিটা জানলে চমকে উঠবেন
মহিলাদের বাসে টিকিট কাটতে হবে না! জানুন, এই কার্ড থাকলেই দিঘা থেকে দার্জিলিং সফর ফ্রী তে
কলেজে ভর্তি নিয়ে বড় খবর, এক নজরে দেখে নিন স্নাতকে ভর্তির আবেদন কবে

