West Bengal Encounter History: পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রতিক পুলিশি গুলির ঘটনাকে ঘিরে আবারও সামনে এসেছে ‘এনকাউন্টার’ শব্দটি। কিন্তু এনকাউন্টার আসলে কী, এর আইনি ভিত্তি কতটা, আর রাজ্যে এর আগে এমন কী কী ঘটনা ঘটেছে—ইতিহাস ও তথ্যের ভিত্তিতে রইল বিস্তারিত বিশ্লেষণ।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রতিক একটি পুলিশি গুলির ঘটনার পর ফের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে একটি বহুল বিতর্কিত শব্দ—এনকাউন্টার। এরই মধ্যে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে তুমুল তরজা। কারণ, ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের সময় দক্ষিণ ২৪ পরগনায় নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে এসেছিলেন উত্তরপ্রদেশের বিতর্কিত ‘এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট’ হিসেবে পরিচিত আইপিএস অফিসার অজয় পাল শর্মা। সেই সময় থেকেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছিল, পশ্চিমবঙ্গেও কি উত্তরপ্রদেশের ধাঁচে পুলিশি এনকাউন্টারের সংস্কৃতি দেখা যাবে? সাম্প্রতিক ঘটনাকে ঘিরে সেই প্রশ্নই যেন আরও জোরালো হয়েছে। কিন্তু সত্যিই কি এটি পশ্চিমবঙ্গের প্রথম এনকাউন্টার? নাকি এর ইতিহাস আরও পুরনো? আসলে ‘এনকাউন্টার’ বলতে কী বোঝায়, এর আইনি ভিত্তি কতটা, আর রাজ্যের অতীতে এমন কী কী ঘটনা ঘটেছে? চলুন, ইতিহাস, আইন এবং বাস্তবতার আলোকে বিষয়টি খতিয়ে দেখা যাক।
এনকাউন্টার কী? West Bengal Encounter History
সাধারণ অর্থে এনকাউন্টার বলতে পুলিশ বা নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে কোনো সশস্ত্র অপরাধী, সন্ত্রাসবাদী বা বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সদস্যদের মুখোমুখি সংঘর্ষকে বোঝায়। এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের মধ্যে গুলি বিনিময় হতে পারে। যদি সেই গুলিবিনিময়ে অভিযুক্ত নিহত হন, তাহলে ঘটনাটিকে সাধারণভাবে পুলিশ এনকাউন্টার বলা হয়।
ভারতের আইনে “এনকাউন্টার” নামে আলাদা কোনো আইন বা সংজ্ঞা নেই। আইন অনুযায়ী, এটি আত্মরক্ষার অধিকার (Right of Private Defence) বা বৈধ পুলিশি অভিযানের সময় প্রাণঘাতী বলপ্রয়োগের একটি পরিস্থিতি হতে পারে। তবে প্রতিটি এমন ঘটনার পর তদন্ত হওয়া বাধ্যতামূলক।
কেন এনকাউন্টার নিয়ে বিতর্ক হয়? West Bengal Encounter History
ভারতে বহু ক্ষেত্রে অভিযোগ উঠেছে যে কিছু তথাকথিত এনকাউন্টার আসলে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড (Extrajudicial Killing)। অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্তকে হেফাজতে রেখে বা পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে পরে দাবি করা হয় যে সে পালানোর চেষ্টা করেছিল বা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছিল।
এই কারণে ২০১৪ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয় যে প্রতিটি এনকাউন্টারের ক্ষেত্রে—
- এফআইআর দায়ের করতে হবে।
- স্বাধীন সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত করতে হবে।
- প্রয়োজনে বিচার বিভাগীয় তদন্ত হবে।
- জাতীয় বা রাজ্য মানবাধিকার কমিশনকে জানাতে হবে।
- ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক তদন্ত বাধ্যতামূলক।
এর উদ্দেশ্য হলো, পুলিশি পদক্ষেপ আইনসঙ্গত ছিল কি না, তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা।
পশ্চিমবঙ্গে এনকাউন্টারের ইতিহাস (West Bengal Encounter History)
পশ্চিমবঙ্গে এনকাউন্টার নতুন ঘটনা নয়। বিশেষ করে নকশাল আন্দোলন এবং পরে মাওবাদী দমন অভিযানের সময় একাধিক আলোচিত এনকাউন্টার হয়েছে।
১. নকশাল আন্দোলনের সময় (১৯৬৭–১৯৭৫)
১৯৬৭ সালে দার্জিলিং জেলার নকশালবাড়ি থেকে সশস্ত্র কৃষক আন্দোলনের সূচনা হয়। পরে তা শহরাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ে।
১৯৭০-এর দশকে নকশাল আন্দোলন দমনে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী যৌথভাবে অভিযান চালায়। এই সময় বহু নকশাল কর্মী পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হন। একই সঙ্গে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ ছিল, বহু ঘটনাই বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড।
অপারেশন স্টিপলচেজ (১৯৭১)
১৯৭১ সালে ভারতীয় সেনা, কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিশ যৌথভাবে অপারেশন স্টিপলচেজ চালায়। এই অভিযানে হাজার হাজার নকশালপন্থীকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং বহু বন্দুকযুদ্ধের ঘটনাও ঘটে। ইতিহাসবিদদের মতে, এই অভিযান নকশাল আন্দোলনকে বড় ধাক্কা দেয়।
২. বরানগর–কাশীপুর হত্যাকাণ্ড (১৯৭১)
এটি পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে বিতর্কিত অধ্যায়গুলোর একটি। বহু নকশালপন্থী যুবক নিহত হন। তবে এটিকে সরকারি নথিতে “এনকাউন্টার” হিসেবে নয়, বরং গণহত্যা বা রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা হিসেবেই বেশি উল্লেখ করা হয়।
৩. অপরাধী দমন অভিযান (১৯৮০–১৯৯০)
কলকাতা ও বন্দর এলাকায় কুখ্যাত গ্যাংস্টারদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে গিয়ে কয়েকটি আলোচিত পুলিশি বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। যদিও সংখ্যায় এগুলো খুব বেশি ছিল না।
৪. জঙ্গলমহল ও মাওবাদী দমন (২০০৮–২০১১)
মাওবাদী দমনে পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়া জেলায় যৌথ বাহিনীর একাধিক অভিযান চলে।
কিষেণজির মৃত্যু (২০১১)
২৪ নভেম্বর ২০১১ সালে ঝাড়গ্রামের বুড়িশোল জঙ্গলে যৌথ বাহিনীর অভিযানে শীর্ষ মাওবাদী নেতা কিষেণজি (মল্লোজুলা কোটেশ্বর রাও) নিহত হন।
সরকারি দাবি ছিল এটি ছিল একটি প্রকৃত বন্দুকযুদ্ধ। অন্যদিকে মাওবাদী সংগঠন ও মানবাধিকার কর্মীদের অভিযোগ ছিল, এটি পরিকল্পিত বা “ফেক এনকাউন্টার”। এই ঘটনাকে ঘিরে আজও বিতর্ক রয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গে কি এনকাউন্টার খুব সাধারণ? (West Bengal Encounter History)
না। উত্তরপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা বা অন্ধ্রপ্রদেশের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গে পুলিশি এনকাউন্টার অনেক কম হয়েছে। রাজ্যে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে আদালতে পেশ করার প্রথাই বেশি দেখা যায়। তাই সাম্প্রতিক কোনো এনকাউন্টারের ঘটনা সামনে এলে তা স্বাভাবিকভাবেই বড় রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্কের বিষয় হয়ে ওঠে।
#WestBengalEncounter #EncounterHistory #PoliceEncounter #WestBengal #NaxaliteMovement #Kishenji #IndianLaw #CrimeHistory #BreakingNews
সাম্প্রতিক পোস্ট
রাত পেরিয়েও অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা এল না? এবার কী করতে হবে জেনে নিন, মিস করবেন না
রাজ্যে চালু প্রধানমন্ত্রী মাতৃ বন্দনা যোজনা, ১১ হাজার টাকা পাবেন কারা? জেনে নিন কীভাবে আবেদন করবেন?
মহিলাদের বাসে টিকিট কাটতে হবে না! জানুন, এই কার্ড থাকলেই দিঘা থেকে দার্জিলিং সফর ফ্রী তে
আপনার এলাকায় কি মিলবে ১২৫ দিনের কাজ? আজ থেকেই চালু নতুন প্রকল্প, জানুন কারা পাবেন এই সুবিধা
রাতভর খোলা থাকবে দোকান! জানলে অবাক হবেন বদলে যাচ্ছে কলকাতার চেনা ছবি, নতুন নিয়মে চমক

