West Bengal Health Minister: বারাসাত মেডিকেল কলেজে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে একাধিক চিকিৎসককে অনুপস্থিত দেখতে পান স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। এরপরই সরকারি হাসপাতালের দায়িত্ব, বেসরকারি চিকিৎসা এবং বদলি নীতি নিয়ে একের পর এক কড়া বার্তা দেন তিনি।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: সরকারি হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকদের দায়িত্ব পালন এবং ব্যক্তিগত চিকিৎসা চর্চা নিয়ে কড়া বার্তা দিলেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। বারাসাত মেডিকেল কলেজে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে একাধিক অনিয়ম দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। সরকারি হাসপাতালে নির্ধারিত দায়িত্বের সময় ব্যক্তিগত চিকিৎসা চর্চা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, অনেক শিক্ষক-চিকিৎসক সরকারি হাসপাতালে উপস্থিত না থেকে বেসরকারি হাসপাতাল বা নার্সিংহোমে রোগী দেখছেন। এর ফলে সরকারি হাসপাতালের রোগীরা যেমন বঞ্চিত হচ্ছেন, তেমনই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে চিকিৎসা শিক্ষার পরিবেশও।
তিনি বলেন, “জনগণের চিকিৎসার জন্যই সরকার আপনাদের বেতন দেয়। সপ্তাহে অন্তত তিন থেকে চার দিন হাসপাতালে নিয়মিত থাকতে হবে। নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করতে না পারলে চাকরি ছেড়ে দেওয়াই উচিত।”
বারাসাত মেডিকেল কলেজে গিয়ে কী দেখলেন?
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, বারাসাত মেডিকেল কলেজে পরিদর্শনের সময় তিনি দেখেন, এক স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ কর্মস্থলে অনুপস্থিত। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তিনি সেই সময় একটি বেসরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচার ও প্রসব করাতে গিয়েছেন।
এই ঘটনাকে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালের দায়িত্ব ফেলে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করতে যাওয়া কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
শিক্ষক-চিকিৎসকদের উদ্দেশে কড়া বার্তা
শারদ্বত মুখোপাধ্যায় বলেন, চিকিৎসকরা শুধু ডাক্তার নন, তাঁরা শিক্ষকও। অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক বা সহকারী অধ্যাপক হিসেবে সমাজ তাঁদের বিশেষ মর্যাদা দেয়। সেই সম্মান বজায় রাখতে হলে নিজের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতেই হবে।
তিনি বলেন, “অনেক চিকিৎসক নিজেদের নামের আগে অধ্যাপক লেখার সুযোগও পান না। তাই যাঁরা এই সম্মান পেয়েছেন, তাঁরা নিজেদের পেশা ও ডিগ্রির মর্যাদা রক্ষা করুন।”
প্রিন্সিপালদের অভিযোগও সামনে আনলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী
রাজ্যের ২৬টি মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষদের কাছ থেকে একই ধরনের অভিযোগ পাওয়ার কথা জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
তাঁর দাবি, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শিক্ষক-চিকিৎসকদের খুঁজে পাওয়া যায় না। পরে জানা যায়, তাঁরা পাশের কোনও নার্সিংহোমে রোগী দেখছেন।
তিনি বলেন, “অনেকে দাবি করেন সরকারি হাসপাতালের রোগীদের থেকে তাঁরা আলাদা করে অর্থ নেন না। কিন্তু সরকারি হাসপাতালের রোগীদের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করানোও অনৈতিক। এটা কোনও দান নয়। জনগণের করের টাকায় আপনাদের বেতন হয়। তাই আগে সরকারি দায়িত্ব পালন করুন।”
ট্রান্সফার নিয়েও কড়া অবস্থান
চিকিৎসকদের বদলি নিয়েও কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
তাঁর অভিযোগ, বদলির নির্দেশ এলেই নানা অজুহাত সামনে আনা হয়। বিশেষ করে বাবা-মায়ের অসুস্থতা বা সন্তানের বিশেষ শারীরিক ও মানসিক সমস্যার কথা উল্লেখ করে বদলি আটকানোর চেষ্টা করেন অনেকেই।
তিনি বলেন, “বয়স বাড়লে বাবা-মা অসুস্থ হবেন, সেটাই স্বাভাবিক। শুধুমাত্র এই কারণ দেখিয়ে বদলি এড়ানো যাবে না। তবে সন্তানের বিশেষ শারীরিক বা মানসিক সমস্যা থাকলে তা যথাযথভাবে যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, পাঁচ বছর এক জায়গায় কর্মরত থাকলে বদলি প্রক্রিয়া কার্যকর হবে। তবে প্রত্যন্ত এলাকা, সুন্দরবন, জঙ্গলমহল, পার্বত্য অঞ্চল এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় কর্মরত চিকিৎসকদের জন্য নির্দিষ্ট সময় পর পছন্দের জায়গায় ফেরার নীতি তৈরি করেছে রাজ্য সরকার।
স্বাস্থ্য পরিষেবায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা, রোগীদের পরিষেবা উন্নত করা এবং বদলি নীতিতে স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই কড়া বার্তা দিয়েছেন বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়।
#WestBengalHealthMinister #GovernmentDoctors #BarasatMedicalCollege #Healthcare #MedicalEducation #PrivatePractice #WestBengal #HealthDepartment #DoctorsDuty
সাম্প্রতিক পোস্ট
রাত পেরিয়েও অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা এল না? এবার কী করতে হবে জেনে নিন, মিস করবেন না
রাজ্যে চালু প্রধানমন্ত্রী মাতৃ বন্দনা যোজনা, ১১ হাজার টাকা পাবেন কারা? জেনে নিন কীভাবে আবেদন করবেন?
মহিলাদের বাসে টিকিট কাটতে হবে না! জানুন, এই কার্ড থাকলেই দিঘা থেকে দার্জিলিং সফর ফ্রী তে
আপনার এলাকায় কি মিলবে ১২৫ দিনের কাজ? আজ থেকেই চালু নতুন প্রকল্প, জানুন কারা পাবেন এই সুবিধা

