West Bengal Pension Increase: পুজোর মুখে রাজ্যে বৃদ্ধ, বিধবা ও বিশেষভাবে সক্ষমদের ভাতা এক হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে দেড় হাজার টাকা করা হয়েছে। নতুন করে আবেদন, উপভোক্তা যাচাই এবং অপেক্ষমাণ তালিকা তৈরির পাশাপাশি বিশেষভাবে সক্ষম মহিলাদের জন্য অতিরিক্ত সুবিধার কথাও জানানো হয়েছে।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: পুজোর মুখে রাজ্যের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থায় বড় ঘোষণা। নবান্ন সভাঘরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, বিধবা এবং বিশেষভাবে সক্ষমদের জন্য চালু থাকা ভাতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। এতদিন যে যোগ্য উপভোক্তারা মাসে এক হাজার টাকা করে পেতেন, তাঁদের ভাতার পরিমাণ বাড়িয়ে এক হাজার পাঁচশো টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ, এই মাস থেকেই যোগ্য উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে দেড় হাজার টাকা করে পৌঁছনোর কথা জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে শুধু ভাতা বাড়ানো নয়, যোগ্য ব্যক্তিরাই যাতে সরকারি সুবিধা পান, সেই বিষয়েও জোর দেওয়া হয়েছে। পুরনো অপেক্ষমাণ তালিকা বাতিল করে নতুন করে আবেদন নেওয়া হবে গ্রাম পঞ্চায়েত ও ওয়ার্ড স্তরে আয়োজিত দুদিনের জনকল্যাণ শিবিরে। সেখানে যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে ভাতার জন্য অপেক্ষা করছেন, তাঁদেরও নতুন করে আবেদন করার সুযোগ দেওয়া হবে। পাশাপাশি ভুয়ো উপভোক্তা, ভুল তথ্য দিয়ে সুবিধা নেওয়া এবং অযোগ্য ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে সরকারি অর্থ চলে যাওয়া বন্ধ করতেও যাচাইয়ের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
এক হাজার থেকে বেড়ে দেড় হাজার, পুজোর মুখে ভাতায় বড় পরিবর্তন
নবান্ন সভাঘরে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে জানানো হয়েছে, রাজ্যের তিন ধরনের সামাজিক সুরক্ষা ভাতায় পাঁচশো টাকা করে বৃদ্ধি করা হয়েছে। ফলে আগে যে যোগ্য উপভোক্তারা মাসে এক হাজার টাকা করে পেতেন, এবার থেকে তাঁরা মাসে এক হাজার পাঁচশো টাকা করে পাবেন। আগস্ট মাসের উপভোক্তা হিসেবে ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অ্যাকাউন্টে দেড় হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।
এই বৃদ্ধির মূল লক্ষ্য হিসেবে সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ, যাঁরা সত্যিই সরকারি সহায়তা পাওয়ার যোগ্য, তাঁদের হাতে নিয়মিত অর্থ পৌঁছে দেওয়াই সরকারের উদ্দেশ্য বলে জানানো হয়েছে।
তবে ভাতা বাড়ানোর পাশাপাশি উপভোক্তা বাছাইয়ের বিষয়টিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, একজনও ভুয়ো উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে যেন সরকারি অর্থ না যায়, সে বিষয়ে নজর রাখা হবে। অর্থাৎ, শুধু টাকা বাড়িয়ে দেওয়াই নয়, সেই টাকা সঠিক ব্যক্তির কাছে পৌঁছচ্ছে কি না, সেটিও যাচাই করা হবে।
বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, বিধবা এবং বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের জন্য এই ভাতা বহু মানুষের নিয়মিত আর্থিক সহায়তার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাই ভাতার পরিমাণ এক হাজার থেকে এক হাজার পাঁচশো টাকা হওয়ায় সংশ্লিষ্ট যোগ্য উপভোক্তাদের মাসিক প্রাপ্তির অঙ্ক বাড়ল।
পুরনো অপেক্ষমাণ তালিকা বাতিল, নতুন করে আবেদন নিতে জনকল্যাণ শিবির
ভাতা পাওয়ার জন্য যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করছেন, তাঁদের জন্যও নবান্ন সভাঘর থেকে নতুন ঘোষণা করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, গ্রাম পঞ্চায়েত এবং ওয়ার্ড স্তরে দুদিনের জনকল্যাণ শিবির আয়োজন করা হবে। সেখানে ভাতার জন্য নতুন করে আবেদন নেওয়া হবে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আগের সরকারের সমস্ত অপেক্ষমাণ তালিকা বাতিল করা হয়েছে। ফলে সেই তালিকায় নাম থাকা ব্যক্তিদেরও নতুন করে আবেদন করতে হবে। যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে বৃদ্ধভাতার জন্য অপেক্ষা করছেন, রাজনৈতিক কারণে বা অন্য কোনও কারণে আগে সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে দাবি করছেন, তাঁরাও জনকল্যাণ শিবিরে গিয়ে আবেদন করতে পারবেন। সেই আবেদনের ভিত্তিতে তাঁদের আগামী দিনে নতুন তালিকায় যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।
একইসঙ্গে বর্তমান সরকারের আমলে যাঁরা জনকল্যাণ শিবিরে নাম নথিভুক্ত করেছেন, তাঁদের আবেদনও যাচাই করা হবে। যাচাইয়ের পরে যোগ্য উপভোক্তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
পাশাপাশি ‘আপনার সরকার আপনার পাশে’ কর্মসূচিতে যাঁরা আবেদন করেছেন, তাঁদের ক্ষেত্রেও যাচাইয়ের প্রক্রিয়া হবে। তাঁদের মধ্যে যাঁরা সত্যিই সুবিধা পাওয়ার যোগ্য, তাঁদেরও অগ্রাধিকার দিয়ে নতুন অপেক্ষমাণ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
অর্থাৎ, ভাতা পাওয়ার ক্ষেত্রে পুরনো অপেক্ষমাণ তালিকার বদলে নতুন করে যাচাই করা তালিকা তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। জনকল্যাণ শিবিরে আবেদন, তারপর তথ্য যাচাই এবং তার ভিত্তিতে নতুন উপভোক্তা তালিকা তৈরির মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া এগোবে বলে জানানো হয়েছে।
ভুয়ো উপভোক্তা নিয়ে কড়া বার্তা, বয়সের ভুল তথ্যেও আর মিলবে না সুবিধা
ভাতা বাড়ানোর পাশাপাশি অযোগ্য ব্যক্তিরা যাতে সরকারি সুবিধা না পান, সেই বিষয়েও অনুষ্ঠানে জোর দেওয়া হয়েছে। সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, যোগ্য উপভোক্তাদেরই সমস্ত সুবিধা দেওয়া হবে। একইসঙ্গে একজন ভুয়ো উপভোক্তাও যেন সরকারি অর্থ না পান, তা নিশ্চিত করার জন্য যাচাই করা হবে।
বিশেষ করে বৃদ্ধভাতা পাওয়ার ক্ষেত্রে বয়সের ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগের বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে। অনুষ্ঠানে বলা হয়েছে, অনেকে বয়স বাড়িয়ে বা ভুয়ো বার্ধক্যের শংসাপত্র ব্যবহার করে সুবিধা নিচ্ছেন। বর্তমান সরকারের আমলে এই ধরনের ব্যক্তিরা আর ভাতা পাবেন না বলে জানানো হয়েছে।
অর্থাৎ, শুধুমাত্র কোনও তালিকায় নাম থাকা বা আগে আবেদন করা থাকলেই ভাতা পাওয়া নিশ্চিত হবে না। আবেদনকারীর যোগ্যতা যাচাই করা হবে এবং সেই যাচাইয়ের পরে সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
একইভাবে বিধবা ভাতার ক্ষেত্রেও প্রকৃত যোগ্য ব্যক্তিকে চিহ্নিত করার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সরকারের বক্তব্য, কোনও পুরুষের অ্যাকাউন্টে যেন স্বামীহীনা মহিলার জন্য নির্ধারিত ভাতার টাকা না যায়। তাই উপভোক্তার পরিচয় এবং যোগ্যতা যাচাই করে তবেই সরকারি অর্থ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এই যাচাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সরকারের লক্ষ্য হিসেবে বলা হয়েছে, সরকারি অর্থের অপচয় বন্ধ করা এবং প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে সুবিধা পৌঁছে দেওয়া। অর্থাৎ, ভাতার পরিমাণ বাড়লেও উপভোক্তা বাছাইয়ের ক্ষেত্রে নিয়ম আরও কঠোর করার কথা জানানো হয়েছে।
বিধবা ভাতা নিয়ে নতুন পরামর্শ, বিশেষভাবে সক্ষম মহিলাদের জন্য বাড়তি সুবিধা
বিধবা ভাতা পাওয়া মহিলাদের মধ্যেও বয়সের ভিত্তিতে একটি বিশেষ বিষয় সামনে আনা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী, যাঁরা বর্তমানে বিধবা ভাতা পান এবং যাঁদের বয়স পঁচিশ থেকে ষাট বছরের মধ্যে, তাঁদের ক্ষেত্রে অন্য একটি প্রকল্পের সুবিধা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে বলা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়েছে, এই বয়সসীমার মহিলারা চাইলে বিধবা ভাতা সমর্পণ করে তিন হাজার টাকার ‘অন্যপূর্ণা’ যোজনার সুবিধা নিতে পারেন। অর্থাৎ, শুধুমাত্র এক হাজার পাঁচশো টাকার বিধবা ভাতা পাওয়ার পরিবর্তে তিন হাজার টাকার ওই প্রকল্পের সুবিধা নেওয়ার সুযোগ থাকবে বলে জানানো হয়েছে। এতে তুলনামূলকভাবে বেশি অঙ্কের আর্থিক সহায়তা পাওয়া সম্ভব হবে।
তবে বিশেষভাবে সক্ষম মহিলাদের ক্ষেত্রে আলাদা সুবিধার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। বলা হয়েছে, পঁচিশ থেকে ষাট বছর বয়সী বিশেষভাবে সক্ষম মহিলারা দেড় হাজার টাকার ভাতার পাশাপাশি তিন হাজার টাকার অন্যপূর্ণা যোজনার সুবিধাও পাবেন।
ফলে এই শ্রেণির যোগ্য মহিলাদের ক্ষেত্রে মাসে মোট সাড়ে চার হাজার টাকা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়েছে। অর্থাৎ, একদিকে বিশেষভাবে সক্ষমদের জন্য দেড় হাজার টাকা ভাতা থাকবে, অন্যদিকে নির্দিষ্ট বয়সসীমার মহিলা উপভোক্তারা তিন হাজার টাকার অতিরিক্ত প্রকল্পের সুবিধাও পাবেন।
এই ঘোষণার ক্ষেত্রে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, একই ব্যক্তিকে একই ধরনের একাধিক ভাতা দেওয়ার বদলে কোন ক্ষেত্রে কোন সুবিধা বেশি উপযুক্ত, তা বিবেচনা করা হবে। বিশেষভাবে সক্ষম মহিলাদের ক্ষেত্রে অবশ্য দেড় হাজার টাকার ভাতার সঙ্গে তিন হাজার টাকার অন্যপূর্ণা যোজনার সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
ফলে সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের ক্ষেত্রে শুধু ভাতার অঙ্ক বাড়ানো নয়, উপভোক্তার বয়স, পরিস্থিতি এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে কোন সুবিধা পাওয়া যাবে, সেই বিষয়টিও নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে।
রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?
ভাতা বাড়ানোর ঘোষণার পাশাপাশি রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, রাজ্যের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এখনও ভালো নয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সরকারি অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা না থাকা, বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া বা চুরি হয়ে যাওয়া এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচিতে যুক্ত না হওয়ার কারণে রাজ্য আর্থিকভাবে অত্যন্ত খারাপ পরিস্থিতিতে পৌঁছেছিল।
তিনি বলেন, সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে এখনও অন্তত আরও এক বছর সময় লাগতে পারে বলে তিনি মনে করেন। অর্থাৎ, বর্তমান আর্থিক সমস্যার সম্পূর্ণ সমাধান এখনও হয়নি বলেই তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে।
তবে এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও তিনি জানান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এখন রাজ্য ভারত সরকারের সমস্ত প্রকল্পে যুক্ত হয়েছে। এর ফলে কেন্দ্রের বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে রাজ্যে অর্থ আসা শুরু করেছে এবং আগামী দিনে আরও অর্থ পাওয়া যাবে বলে তিনি জানান।
এর পাশাপাশি গত বছরের তুলনায় রাজ্যের রাজস্ব প্রায় আঠেরো শতাংশ বাড়ছে বলেও তিনি দাবি করেন। অর্থাৎ, সরকারের কোষাগারে আগের বছরের তুলনায় বেশি রাজস্ব আসছে বলে তাঁর বক্তব্য।
রাজস্ব বৃদ্ধির আরেকটি কারণ হিসেবে তিনি রাজস্ব ফাঁস বা রাজস্ব চুরি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনার কথা বলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আগে যে সমস্ত রাজস্ব ফাঁস হয়ে যেত, তার কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে। পুরোপুরি এই রাজস্ব ফাঁস নিয়ন্ত্রণ করা গেলে রাজ্যের আয় আরও বাড়বে বলেও তিনি জানান।
এই আর্থিক পরিস্থিতির মধ্যেই সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে ভাতার পরিমাণ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, একদিকে রাজ্যের আর্থিক সীমাবদ্ধতা রয়েছে, অন্যদিকে যোগ্য মানুষের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করাও জরুরি। তাই রাজস্ব বাড়ানো, আর্থিক শৃঙ্খলা ফেরানো এবং সরকারি সুবিধা সঠিক উপভোক্তার কাছে পৌঁছে দেওয়ার উপর একসঙ্গে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিল্প থেকে কৃষি—উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বার্তা
অনুষ্ঠানে সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের পাশাপাশি রাজ্যের সামগ্রিক উন্নয়নের বিষয়টিও সামনে আসে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিল্প, বাণিজ্য, আধুনিক কৃষি এবং উন্নয়নের কাজকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
অর্থাৎ, শুধু ভাতা বা সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের মাধ্যমে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই সরকারের একমাত্র লক্ষ্য নয়; রাজ্যের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের ক্ষেত্রগুলিকেও গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এই বক্তব্যের সঙ্গে আর্থিক পরিস্থিতির কথাও যুক্ত রয়েছে। রাজ্যের আয় বাড়ানো এবং রাজস্ব ফাঁস বন্ধ করার মাধ্যমে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি শক্তিশালী করার কথা যেমন বলা হয়েছে, তেমনই শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিল্প, বাণিজ্য এবং কৃষির মতো ক্ষেত্রগুলিতে উন্নয়নের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের ক্ষেত্রে যোগ্য উপভোক্তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া এবং একইসঙ্গে রাজ্যের আর্থিক ভিত শক্ত করার যে কথা বলা হয়েছে, তার মধ্যেই সরকারের সামগ্রিক পরিকল্পনার দিকটি তুলে ধরা হয়েছে।
ভাতা পাওয়ার ক্ষেত্রে নতুন করে আবেদন, যাচাই এবং অপেক্ষমাণ তালিকা তৈরির যে প্রক্রিয়া ঘোষণা করা হয়েছে, তাতেও প্রকৃত উপভোক্তাদের চিহ্নিত করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। ভুয়ো বা অযোগ্য ব্যক্তিরা যাতে সুবিধা না পান এবং প্রকৃত প্রাপকের কাছে অর্থ পৌঁছয়, সেই ব্যবস্থার কথাই বারবার তুলে ধরা হয়েছে।
সব মিলিয়ে পুজোর মুখে রাজ্যের সামাজিক সুরক্ষা ভাতায় পাঁচশো টাকা করে বৃদ্ধির ঘোষণা হয়েছে। এক হাজার টাকার ভাতা বেড়ে হয়েছে এক হাজার পাঁচশো টাকা। আগস্ট মাসের উপভোক্তাদের দেড় হাজার টাকা করে দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। পাশাপাশি গ্রাম পঞ্চায়েত এবং ওয়ার্ড স্তরে দুদিনের জনকল্যাণ শিবির করে নতুন করে আবেদন নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।
যাঁরা পুরনো অপেক্ষমাণ তালিকায় ছিলেন, তাঁদেরও নতুন করে আবেদন করতে হবে। বর্তমান সরকারের আমলে বিভিন্ন শিবিরে আবেদন করা ব্যক্তি এবং ‘আপনার সরকার আপনার পাশে’ কর্মসূচিতে আবেদনকারীদেরও যাচাই করে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
বিশেষভাবে সক্ষম পঁচিশ থেকে ষাট বছর বয়সী মহিলাদের ক্ষেত্রে দেড় হাজার টাকার ভাতার সঙ্গে তিন হাজার টাকার অন্যপূর্ণা যোজনার সুবিধা মিলিয়ে মাসে সাড়ে চার হাজার টাকা পাওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, পরিস্থিতি এখনও কঠিন হলেও কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পে যুক্ত হওয়া, রাজস্ব বৃদ্ধি এবং রাজস্ব ফাঁস নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতির চেষ্টা চলছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই পরিস্থিতি থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে আসতে আরও অন্তত এক বছর সময় লাগতে পারে।
#WestBengalPensionIncrease #WestBengalPension #PensionIncrease2026 #SeniorCitizenPension #WidowPension #DisabilityPension #WestBengalGovernment #PensionScheme #SocialSecurityScheme #PensionBeneficiaries #GovernmentPension #JanakalyanShibir #PensionApplication #PensionVerification #WestBengalWelfareScheme #newsoffbeat
সাম্প্রতিক পোস্ট
‘সাথীরা, প্রশ্নফাঁস মাফিয়াদের রেয়াত নয়’– সংসদে বিল পাসের পর প্রথমবার কী বললেন প্রধানমন্ত্রী?
সিলেবাসে বড় পরিবর্তন কবে থেকে? শিক্ষক নিয়োগেও সুখবর? কী বললেন শিক্ষামন্ত্রী?
আবার কি বদলে যাবে নোট? দেশে আসছে প্লাস্টিকের নোট,জানুন, কী বদল আসছে?
১লা আগস্ট থেকে স্কুলের খাবারের দায়িত্ব ইস্কনের, ডিম বিতরণ, ও শিক্ষক নিয়োগে বড় ঘোষণা
কেন জেন জির ‘ক্রাশ’ সৌরভ দাস ও অভিজিৎ দীপকে? নেপথ্যে কী রহস্য?

