West Bengal Ration System: রেশন ব্যবস্থায় নিম্নমানের চাল সরবরাহ ও ধান সংগ্রহে মধ্যস্থতাকারীদের দৌরাত্ম্য রুখতে কড়া পদক্ষেপের বার্তা দিয়েছে খাদ্য দপ্তর। কৃষকদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে ধানের দাম বাড়ানোর পাশাপাশি চালকল মালিকদের বকেয়া চাল ফেরানোর নির্দেশ এবং অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সতর্কতাও দেওয়া হয়েছে।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: রেশন ব্যবস্থায় সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দ চালের গুণগত মান বজায় রাখা থেকে শুরু করে কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ন্যায্য দামে ধান সংগ্রহ—দুই ক্ষেত্রেই কড়া অবস্থান নিল রাজ্য খাদ্য দপ্তর। চালকল মালিকদের সঙ্গে বৈঠকের পর খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, সাধারণ মানুষের প্রাপ্য অধিকার নিয়ে কোনও ধরনের আপস করা হবে না। রেশনের চালের মান খারাপ হলে যেমন সংশ্লিষ্ট চালকল বা সরবরাহকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তেমনই ধান সংগ্রহের ক্ষেত্রে মধ্যস্থতাকারী বা দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতেও কঠোর পদক্ষেপ করা হবে।
খাদ্য দপ্তরের দাবি, ধান সংগ্রহের প্রক্রিয়ায় প্রকৃত কৃষকদের পরিবর্তে দীর্ঘদিন ধরে একটি বড় অংশের সুবিধা চলে যেত মধ্যস্থতাকারীদের হাতে। ফলে চাষিরা তাঁদের উৎপাদিত ধানের প্রকৃত মূল্য থেকে বঞ্চিত হতেন। এবার সেই পরিস্থিতি বদলানোর লক্ষ্যেই কৃষকদের সরাসরি সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। প্রতি কুইন্টাল ধানের দাম ২,৪৪৩ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২,৬৪১ টাকা করার কথাও জানানো হয়েছে। সরকারের বক্তব্য, কৃষকদের আর্থিকভাবে শক্তিশালী করতে হলে তাঁদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
অন্যদিকে, রেশন ব্যবস্থায় চাল ও গমের মান নিয়ে কোনও ধরনের কারচুপি বরদাস্ত করা হবে না বলেও কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। প্রায় পাঁচশো চালকল মালিকের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকে খাদ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের জন্য নির্ধারিত চালের যে অংশ এখনও চালকল মালিকদের কাছে বাকি রয়েছে, তা দ্রুত ফেরত দিতে হবে। কোনও চালকল মালিক, সরবরাহকারী বা বণ্টনকারী নিম্নমানের খাদ্যশস্য সরবরাহের চেষ্টা করলে তার দায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকেই নিতে হবে। এমনকি এই অনিয়মের সঙ্গে খাদ্য দপ্তরের কোনও আধিকারিক বা কর্মীর যোগসাজশের প্রমাণ মিললে তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
ধান সংগ্রহে মধ্যস্থতাকারীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে কড়া পদক্ষেপ
ধান সংগ্রহের ক্ষেত্রে প্রকৃত কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা করাই এখন সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কৃষকরা যাতে তাঁদের উৎপাদিত ধানের সঠিক মূল্য পান, তা নিশ্চিত করতে ধান সংগ্রহের পুরো প্রক্রিয়ায় নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে।
চালকল মালিকদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে খাদ্য দপ্তরের দাবি, এতদিন ধান সংগ্রহের সুবিধার মাত্র ২০ থেকে ৩০ শতাংশ প্রকৃত কৃষকদের কাছে পৌঁছত। বিপরীতে প্রায় ৭০ শতাংশ সুবিধা চলে যেত মধ্যস্থতাকারী বা দালালদের হাতে। এর ফলে যাঁরা প্রকৃতপক্ষে জমিতে ধান উৎপাদন করছেন, তাঁরাই আর্থিকভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে অভিযোগ।
এই পরিস্থিতি বদলাতে ধান সংগ্রহের ব্যবস্থায় মধ্যস্থতাকারীদের ভূমিকা কমানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকারের বক্তব্য, কৃষক নিজের উৎপাদিত ধান বিক্রি করে যদি ন্যায্য দাম না পান, তাহলে কৃষি অর্থনীতি শক্তিশালী করা সম্ভব নয়। তাই চাষিদের সরাসরি সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি ধান সংগ্রহের প্রতিটি ধাপে নজরদারি বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
খাদ্যমন্ত্রীর বার্তা, কৃষকের প্রাপ্য অর্থ অন্য কারও হাতে চলে যাওয়া কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। ধান সংগ্রহের নামে যদি কোনও মধ্যস্থতাকারী বেআইনি সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতি কুইন্টাল ধানের দাম বাড়ল, কৃষকদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার দাবি
কৃষকদের আর্থিকভাবে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ধানের সংগ্রহমূল্য বাড়ানোর সিদ্ধান্তের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। আগে প্রতি কুইন্টাল ধানের দাম ছিল ২,৪৪৩ টাকা। সেটি বাড়িয়ে ২,৬৪১ টাকা করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি কুইন্টালে ১৯৮ টাকা করে বৃদ্ধি করা হয়েছে।
সরকারের বক্তব্য, ধানের দাম বাড়ানোর মূল উদ্দেশ্য হল কৃষকদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা। কারণ চাষের খরচ প্রতিনিয়ত বাড়ছে। বীজ, সার, সেচ, শ্রমিকের মজুরি এবং পরিবহণ—সব ক্ষেত্রেই কৃষকদের অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হয়। সেই তুলনায় উৎপাদিত ফসলের দাম যদি যথাযথ না হয়, তাহলে কৃষকের হাতে প্রকৃত লাভ থাকে না।
এর পাশাপাশি ধান বিক্রির ক্ষেত্রে মধ্যস্থতাকারীদের দৌরাত্ম্য থাকলে কৃষকের সমস্যা আরও বাড়ে। কৃষক তাঁর উৎপাদিত ধানের যে মূল্য পাওয়ার কথা, তার একটি অংশ অন্য কারও হাতে চলে যাওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
তাই ধানের সংগ্রহমূল্য বাড়ানোর পাশাপাশি প্রকৃত কৃষকের কাছে সেই সুবিধা পৌঁছে দেওয়াকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য, কৃষক যেন নিজের উৎপাদিত ধানের জন্য সরাসরি এবং ন্যায্য মূল্য পান।
রেশনের চালের মান নিয়ে মিল মালিকদের কড়া সতর্কবার্তা
রেশন ব্যবস্থায় খাদ্যশস্যের গুণগত মান নিয়ে কোনও ধরনের আপস করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে খাদ্য দপ্তর। চালকল মালিকদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকে এই বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
খাদ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, সাধারণ মানুষ রেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে যে চাল বা গম পাওয়ার অধিকারী, সেই খাদ্যশস্যের মান অবশ্যই নির্দিষ্ট মানদণ্ড অনুযায়ী হতে হবে। নিম্নমানের চাল বা গম সরবরাহ করে সাধারণ মানুষের প্রাপ্য অধিকার থেকে তাঁদের বঞ্চিত করা যাবে না।
কোনও চালকল মালিক বা বণ্টনকারী যদি ইচ্ছাকৃতভাবে নিম্নমানের চাল বা গম সরবরাহ করার চেষ্টা করেন, তাহলে তার দায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ওপরই বর্তাবে। খাদ্য দপ্তরের কোনও কর্মী বা আধিকারিক যদি এই ধরনের অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
অর্থাৎ শুধু চালকল মালিক বা সরবরাহকারীদের ওপরই নজরদারি নয়, খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত সরকারি কর্মীদের ভূমিকার ওপরও নজর রাখা হবে। সরকারের বক্তব্য, রেশন ব্যবস্থায় দুর্নীতি বা অনিয়মের কোনও সুযোগ রাখা হবে না।
পাঁচশো চালকল মালিকের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক, বকেয়া চাল ফেরানোর নির্দেশ
ধান সংগ্রহ এবং রেশন ব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে প্রায় পাঁচশো চালকল মালিকের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেছে খাদ্য দপ্তর। বৈঠকে ধান সংগ্রহ থেকে শুরু করে চাল উৎপাদন, খাদ্যশস্যের মান এবং সরকারি গুদামে চাল ফেরত দেওয়ার মতো একাধিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
বিশেষ করে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের জন্য নির্ধারিত চালের যে অংশ এখনও বিভিন্ন চালকল মালিকের কাছে বাকি রয়েছে, তা দ্রুত ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সরকারি ব্যবস্থায় চাল সংগ্রহের পর সেই চাল নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সরকারি ব্যবস্থায় ফেরত আসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ রেশন ব্যবস্থায় সাধারণ মানুষের কাছে খাদ্যশস্য পৌঁছে দিতে পর্যাপ্ত মজুত থাকা দরকার। কোনও চালকল মালিকের কাছে চাল আটকে থাকলে বা নির্দিষ্ট সময়ে চাল ফেরত না এলে তার প্রভাব সরাসরি রেশন ব্যবস্থার ওপর পড়তে পারে।
তাই বকেয়া চাল দ্রুত ফেরত দেওয়ার বিষয়ে চালকল মালিকদের সতর্ক করা হয়েছে। খাদ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে, সরকারি ব্যবস্থার জন্য নির্ধারিত খাদ্যশস্য নিয়ে কোনও ধরনের গাফিলতি বা অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না।
নিম্নমানের চাল বা গম গ্রহণ না করার নির্দেশ বণ্টনকারীদের
রেশন ব্যবস্থায় খাদ্যশস্যের গুণগত মান বজায় রাখতে বণ্টনকারীদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সেই কারণে তাঁদের উদ্দেশেও বিশেষ বার্তা দিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী।
কোনও বণ্টনকারীর কাছে নিম্নমানের চাল বা গম পৌঁছলে তা গ্রহণ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কারণ নিম্নমানের খাদ্যশস্য একবার সরবরাহ ব্যবস্থায় ঢুকে পড়লে তা পরবর্তী সময়ে রেশন দোকানের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে যেতে পারে।
তাই খাদ্যশস্যের মান যাচাইয়ের ক্ষেত্রে কোনও ধরনের আপস না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিম্নমানের খাদ্যশস্য পাওয়া গেলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে এবং বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
সরকারের বক্তব্য, সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দ খাদ্যশস্যের গুণগত মান নিশ্চিত করা শুধুমাত্র খাদ্য দপ্তরের দায়িত্ব নয়। ধান সংগ্রহ থেকে শুরু করে চাল উৎপাদন, মজুত, পরিবহণ এবং রেশন দোকানে সরবরাহ—প্রতিটি পর্যায়ে যুক্ত ব্যক্তিদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
রেশন দোকানে কম পরিমাণে খাদ্যশস্য বা কৃত্রিম সংকট তৈরি হলে ব্যবস্থা
রেশন ব্যবস্থায় সাধারণ মানুষ যাতে নির্ধারিত পরিমাণে খাদ্যশস্য পান, সেই বিষয়েও নজরদারি বাড়ানোর কথা জানানো হয়েছে। কোনও রেশন দোকানে নির্ধারিত পরিমাণের তুলনায় কম খাদ্যশস্য দেওয়া হলে বা কৃত্রিম সংকট তৈরি করার চেষ্টা হলে তা বরদাস্ত করা হবে না বলে খাদ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে।
অনেক সময় রেশন দোকানে খাদ্যশস্যের সরবরাহ কম থাকার অজুহাত দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কম খাদ্যশস্য দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। আবার কোথাও খাদ্যশস্য মজুত থাকা সত্ত্বেও কৃত্রিম সংকট তৈরি করার অভিযোগও সামনে আসে।
এই ধরনের অভিযোগ যাতে না ওঠে, তার জন্য নজরদারি বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। সরকারের দাবি, রেশন ব্যবস্থায় সাধারণ মানুষের প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য।
সম্প্রতি উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরে অনিয়মের অভিযোগে এক বণ্টনকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। তাঁকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে সূত্রের দাবি। এই ঘটনাকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে খাদ্য দপ্তর স্পষ্ট করেছে, রেশন ব্যবস্থায় অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
ধান দেওয়ার পর চালের হিসাব না মেলার অভিযোগও নজরে
ধান সংগ্রহের ক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগও সামনে এসেছে। অভিযোগ, অতীতে কিছু চালকলকে বিপুল পরিমাণ ধান দেওয়া হলেও পরবর্তীতে সেই ধানের সম্পূর্ণ হিসাব পাওয়া যায়নি। কোথাও পর্যাপ্ত পরিমাণ চাল উৎপাদনের সক্ষমতা না থাকা সত্ত্বেও চালকলকে বিপুল পরিমাণ ধান দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
আবার কোথাও ধান মজুত রাখার পরও নির্দিষ্ট সময়ে সেই ধান থেকে উৎপাদিত চাল সরকারি ব্যবস্থায় ফেরত দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এই ধরনের পরিস্থিতি খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা তৈরি করতে পারে। কারণ সরকারি ব্যবস্থায় সংগৃহীত ধান শেষ পর্যন্ত চাল হিসেবে রেশন ব্যবস্থায় পৌঁছনোর কথা। কিন্তু ধান দেওয়ার পর যদি তার যথাযথ হিসাব না থাকে, তাহলে সেই খাদ্যশস্য কোথায় গেল, কতটা চাল উৎপাদিত হল এবং কতটা সরকারি ব্যবস্থায় ফেরত এল—এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
তাই চালকলগুলির কার্যক্ষমতা, ধান মজুত এবং চাল উৎপাদনের পরিমাণ—প্রতিটি বিষয়েই নজরদারি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হচ্ছে।
অনিয়মে সরকারি আধিকারিক জড়িত থাকলেও রেহাই নয়
খাদ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে সবচেয়ে কড়া বার্তাগুলির একটি এসেছে সরকারি কর্মী ও আধিকারিকদের ভূমিকা নিয়ে। যদি রেশন ব্যবস্থায় নিম্নমানের খাদ্যশস্য সরবরাহ, ধান সংগ্রহে অনিয়ম বা অন্য কোনও দুর্নীতির সঙ্গে কোনও সরকারি আধিকারিক বা কর্মীর যোগসূত্র পাওয়া যায়, তাহলে তাঁকেও রেহাই দেওয়া হবে না বলে জানানো হয়েছে।
অর্থাৎ, অনিয়মের ক্ষেত্রে শুধু বেসরকারি চালকল মালিক বা বণ্টনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। সরকারি ব্যবস্থার ভিতরে থাকা কেউ যদি কোনও অনিয়মে যুক্ত থাকেন, তাহলেও তাঁর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হবে।
সরকারের এই অবস্থান থেকে স্পষ্ট, খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতিটি স্তরে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে চাইছে খাদ্য দপ্তর।
সাধারণ মানুষের অভিযোগ জানাতে সরাসরি যোগাযোগের বার্তা
রেশন সামগ্রী নিয়ে কোনও সমস্যা হলে সাধারণ মানুষ যাতে অভিযোগ জানাতে পারেন, সেই বিষয়েও বার্তা দেওয়া হয়েছে। খাদ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রেশন ব্যবস্থায় খাদ্যশস্যের মান খারাপ হওয়া, নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কম খাদ্যশস্য পাওয়া, সরবরাহে সমস্যা বা অন্য কোনও অনিয়মের ঘটনা সামনে এলে তা কর্তৃপক্ষকে জানানো যেতে পারে।
খাদ্যমন্ত্রীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টে যোগাযোগের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষ সরাসরি তাঁদের সমস্যার কথা জানাতে পারবেন বলে দাবি করা হয়েছে।
সরকারের বক্তব্য, রেশন ব্যবস্থাকে স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত রাখতে সাধারণ মানুষের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনও অনিয়ম চোখে পড়লে তা চেপে না রেখে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।
সব মিলিয়ে, রাজ্যের খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় একসঙ্গে একাধিক ক্ষেত্রে কড়া নজরদারির বার্তা দিয়েছে খাদ্য দপ্তর। একদিকে যেমন রেশন ব্যবস্থায় নিম্নমানের চাল বা গম সরবরাহ বন্ধ করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে, তেমনই ধান সংগ্রহের ক্ষেত্রে প্রকৃত কৃষকদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। মধ্যস্থতাকারীদের দৌরাত্ম্য কমিয়ে কৃষকদের সরাসরি সুবিধা দেওয়া এবং প্রতি কুইন্টাল ধানের দাম ২,৪৪৩ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২,৬৪১ টাকা করার সিদ্ধান্তও সেই বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ বলে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, চালকলগুলির কাছে বকেয়া থাকা সরকারি চাল দ্রুত ফেরত দেওয়া, নিম্নমানের খাদ্যশস্য সরবরাহে কঠোর ব্যবস্থা, রেশন দোকানে কৃত্রিম সংকট ঠেকানো এবং অনিয়মের সঙ্গে সরকারি কর্মী বা আধিকারিকদের যোগসূত্র পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়ার মতো একাধিক বিষয়েও কড়া অবস্থান নেওয়া হয়েছে।
এখন দেখার বিষয়, খাদ্য দপ্তরের এই নির্দেশ কতটা কার্যকরভাবে মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়িত হয়। প্রকৃত কৃষকের হাতে ধানের ন্যায্য মূল্য পৌঁছয় কি না, মধ্যস্থতাকারীদের দৌরাত্ম্য কতটা কমে এবং রেশন দোকানে সাধারণ মানুষ নির্ধারিত পরিমাণে ভালো মানের খাদ্যশস্য পান কি না—আগামী দিনে তার ওপরই নির্ভর করবে এই উদ্যোগের সাফল্য।
#WestBengalRationSystem #PaddyProcurement #RationRice #RiceQuality #FoodDepartment #FarmerFairPrice #PaddyPrice #RiceMillers #MiddlemenControl #RationDistribution #FoodSupply #RationShop
সাম্প্রতিক পোস্ট
রাত পেরিয়েও অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা এল না? এবার কী করতে হবে জেনে নিন, মিস করবেন না
রাজ্যে চালু প্রধানমন্ত্রী মাতৃ বন্দনা যোজনা, ১১ হাজার টাকা পাবেন কারা? জেনে নিন কীভাবে আবেদন করবেন?
মহিলাদের বাসে টিকিট কাটতে হবে না! জানুন, এই কার্ড থাকলেই দিঘা থেকে দার্জিলিং সফর ফ্রী তে
আপনার এলাকায় কি মিলবে ১২৫ দিনের কাজ? আজ থেকেই চালু নতুন প্রকল্প, জানুন কারা পাবেন এই সুবিধা

