নতুন বছরের শুরুতেই রাজ্যজুড়ে শীতের ঝোড়ো দাপট (West Bengal’s Cold Wave)। উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ সর্বত্র কনকনে ঠান্ডায় কাঁপছে মানুষ। জানুন, কেন ফের নামল পারদ, কী বলছে আবহাওয়া দফতর, এত ঠান্ডার কারণ কী? আর কতদিন চলবে এই হাড়কাঁপানো শীতের ঝোড়ো ব্যাটিং — বিস্তারিত প্রতিবেদনে।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: নতুন বছরের প্রথম থেকেই শীতের দাপট রাজ্যজুড়ে। উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ সর্বত্র কনকনে শীতের দাপটে সকলে জর্জরিত। তবে কলকাতা সহ রাজ্য জুড়ে এই শীত নতুন নয়, আবহাওয়া দপ্তরের আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, বিগত বছরগুলিতেও কলকাতায় পারদ ১০ ডিগ্রির নীচে নেমেছিল। শীতের ইতিহাস বলছে, ১৮৯৯ সালের ২০ জানুয়ারি কলকাতার পারদ ছিল সর্বনিম্ন। ৬.৭ ডিগ্রী। তবে বিগত বেশ কিছু বছরের তুলনায় এই বছর কলকাতা সহ রাজ্য জুড়ে ফের শীতের দাপট।চলুন জেনে নিন, এত ঠান্ডার আসল রহস্য কী (West Bengal’s Cold Wave)? শীতের ঝোড়ো ব্যাটিং আরো কতদিন পর্যন্ত থাকতে পারে। এই বিষয়ে আবহাওয়াবিদরা কী জানাচ্ছেন, বিস্তারিত জানুন এই প্রতিবেদন থেকে।
আরও পড়ুন : বাস ড্রাইভার থেকে ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রপতি │ Venezuela President Nicolás Maduro
শীতের কারণ কী কী?
উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ— সর্বত্রই কনকনে ঠান্ডায় কাঁপছে মানুষ। সকালের কুয়াশা, হিমেল হাওয়া, আর রাতের হাড়কাঁপানো ঠান্ডা মিলিয়ে যেন একেবারে রেকর্ড ব্রেকিং উইন্টার। তবে এই ঠান্ডা কি একেবারে নতুন? আবহাওয়া দফতরের তথ্য বলছে, তেমনটা নয়। কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলিতে পারদের পতন বিগত কয়েক বছর ধরেই দেখা যাচ্ছে। তবে এবারের শীত যেন একটু বেশিই আগ্রাসী। বিশেষজ্ঞদের মতে, এবারের শীতের তীব্রতার পেছনে রয়েছে একাধিক কারণ, তবে এই বছর লা- নিনা ইয়ার। এটাই শীতের সবথেকে বড় কারণ (Kolkata Weather)। উত্তর ভারতের অতিরিক্ত তুষারপাত, পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাব, এবং উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে নেমে আসা শুষ্ক ঠান্ডা হাওয়া। এই ঠান্ডা বাতাস গঙ্গা সমভূমিতে আটকে থেকে তাপমাত্রা বাড়তে দিচ্ছে না। শুধু তাই নয়, সকালবেলার ঘন কুয়াশাও সূর্যালোকের পথ রোধ করছে, ফলে দিনেও উষ্ণতা ফিরছে না। বিশেষ করে নদীয়া, বীরভূম, বর্ধমান ও মুর্শিদাবাদ জেলায় সকালবেলা কুয়াশা এতটাই ঘন যে দৃশ্যমানতা কমে আসছে মাত্র কয়েক মিটার পর্যন্ত।

লা- নিনা: আসল শীতের রহস্য
লা নিনা শব্দটি এল নিনোর বিপরীত। এটি নিম্ন অক্ষাংশের প্রশান্ত মহাসাগরের শান্ত বা শীতল সমুদ্র স্রোত কে বোঝায়। প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্ব এবং মধ্যক্রান্তীয় অঞ্চলে এটি দেখা যায়। একটি নির্দিষ্ট সময়ে শক্তিশালী বাণিজ্য বায়ু, সমুদ্রের কম উষ্ণতা এর প্রধান বৈশিষ্ট্য। প্রত্যেক তিন থেকে সাত বছর অন্তর লা নিনার আবির্ভাব হয়।
লা নিনার ফলে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বর্ষার অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। কিছু জায়গায় হঠাৎ অধিক বৃষ্টি (Cloudburst) হতে পারে। ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা ও প্রবণতা বাড়তে পারে। শীতকালে তীব্র শৈত্যপ্রবাহের সংখ্যা ও স্থায়িত্ব বৃদ্ধি পেতে পারে। হিমালয় সংলগ্ন অঞ্চলে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ও নতুন নতুন জায়গায় তুষারপাত হতে পারে, যার ফলে জনজীবন বিপর্যস্ত হতে পারে। মধ্য ভারতের তাপমাত্রাও শীতকালে স্বাভাবিকের চেয়ে কমে যেতে পারে। শক্তিশালী ও ঠান্ডা উত্তরের বাতাসের কারণে এবারের শীত সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে অন্যতম শীতল ও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।ভারতবর্ষে সাম্প্রতিককালে লা নিনার প্রভাব পড়েছে। তার ফলেই এত ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে।
উত্তর ভারতের ঠান্ডা হাওয়ার সরাসরি প্রভাব
এ বছর ডিসেম্বরের শেষ থেকে উত্তর ভারতের বেশ কিছু রাজ্যে (বিশেষ করে জম্মু-কাশ্মীর, হিমাচল, ও উত্তরাখণ্ডে) তুষারপাতের মাত্রা ছিল স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি। সেই ঠান্ডা হাওয়া পশ্চিমী ঝঞ্ঝার মাধ্যমে বাংলার দিকে নেমে এসেছে। ফলে গঙ্গা সমভূমিতে তৈরি হয়েছে ঠান্ডা বায়ুর একটি স্থিতিশীল স্তর, যা দিনে সূর্যের আলো পেলেও গরম হতে পারছে না।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী চার পাঁচ দিনের মধ্যে রাজ্যের তাপমাত্রা আরও ১-২ ডিগ্রি কমতে পারে। তবে জানুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহ থেকে আবার সামান্য উষ্ণতা ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ, আপাতত রাজ্যবাসীকে কম্বল, হিটার আর গরম চা নিয়েই শীতের এই ঝোড়ো ব্যাটিং উপভোগ করতে হবে।
#WestBengalsColdWave, #KolkataWeather, #westbengalweatherupdate, #BengalWeather, #Newsoffbeat
Most Viewed Posts
- মোটা হবেন না, মিষ্টি খান নিশ্চিন্তে │ Guilt-Free Sweets for Diwali Delight
- ২০২৬-এ মেষ রাশির জন্য আসছে বড় মোড় │ Aries Horoscope 2026 Full Prediction
- Dharmendra death: ধর্মেন্দ্রর জীবনের এই ১১টি তথ্য অনেকেই জানেন না │ 11 Untold Facts About Dharmendra
- জানেন কি নবরাত্রির চতুর্থ দিনে মা কুষ্মাণ্ডা পূজা কেন বিশেষ? ︱Why Ma Kushmanda Puja on Navratri Day 4 is Special?
- Digha Jagannath Temple Facts ︱দীঘা জগন্নাথ মন্দির সম্পর্কে জানুন এই দশটি অজানা তথ্য

