Why Abhishek Banerjee absent from Falta re-polling campaign | নিজের খাসতালুক ফলতায় পুনর্নির্বাচন, অথচ সেখানে প্রচারেই নেই ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ! জাহাঙ্গিরকে ‘গাছে তুলে মই কেড়ে নেওয়া’র এই চাঞ্চল্যকর কারণ জানলে অবাক হবেন।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: প্রবাদ আছে, ‘গাছে তুলে দিয়ে মই কেড়ে নেওয়া’। বাংলার রাজ্য রাজনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপটে, বিশেষ করে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা (Falta) বিধানসভার পুনর্নির্বাচনের দিকে নজর রাখলে এই প্রবাদটিই যেন অক্ষরে অক্ষরে মিলে যাচ্ছে!
আগামী বৃহস্পতিবার ফলতায় পুনর্নির্বাচন (Re-polling)। একদিকে যখন রাজ্যে সদ্য ক্ষমতায় আসা ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) কাছে এটি নিজেদের দাপট প্রমাণের এক চূড়ান্ত ‘প্রেস্টিজ ফাইট’, অন্যদিকে বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) কাছে এটি নিজেদের দুর্গে অস্তিত্ব ও মুখ রক্ষার এক মরিয়া লড়াই। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই হাই-ভোল্টেজ নির্বাচনে তৃণমূলের প্রচারের ময়দানে কার্যত অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে খুঁজলেও দেখা মিলছে না দলের ‘সেনাপতি’ এবং ডায়মন্ড হারবারের খোদ সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee)। যে ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’-এর কথা বলে তিনি গোটা দেশে আলোড়ন ফেলেছিলেন, আজ নিজের সেই খাসতালুকের পুনর্নির্বাচনে তাঁর এই রহস্যময় অনুপস্থিতি জন্ম দিয়েছে অসংখ্য প্রশ্নের। কেন ময়দান ছাড়লেন অভিষেক? তবে কি বদলে যাওয়া রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সত্যিই ব্যাকফুটে চলে গেল রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল? আসুন, আজকের এই প্রতিবেদনে এই রাজনৈতিক নাটকের পেছনের আসল কারণগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা যাক।
রেকর্ড ভোটের লিড, তবুও খাসতালুকে কেন ‘নিখোঁজ’ সেনাপতি?
পরিসংখ্যানের দিকে চোখ রাখলে অভিষেকের এই অনুপস্থিতি আরও বেশি বিস্ময়কর ঠেকে। মাত্র দু’বছর আগে লোকসভা নির্বাচনের সময় এই ফলতা বিধানসভা এলাকা থেকেই তিনি ১ লক্ষ ৬৮ হাজার ৩৭২ ভোটের বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন। ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রে ৭ লক্ষ ১০ হাজার ৯৩০ ভোটে জিতে সর্বকালীন রেকর্ড গড়া তৃণমূল সাংসদ অভিষেক সবচেয়ে বেশি লিড পেয়েছিলেন এই ফলতা থেকেই।
অথচ, নিজের সেই সবচেয়ে ‘নিরাপদ’ আসনেই আজ তিনি অনুপস্থিত! গত ২৬ এপ্রিল, দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে তিনি শেষবার ফলতায় প্রচারে গিয়েছিলেন। ২৯ এপ্রিল রাজ্যের ১৪২টি আসনের সঙ্গে ফলতাতেও ভোটগ্রহণ হয়। কিন্তু ভোটের দিন ব্যাপক অশান্তি, রিগিং এবং কারচুপির অভিযোগে নির্বাচন কমিশন গোটা ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রেই পুনর্নির্বাচন ঘোষণা করে। এই ঘোষণার পরেই বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য এক্স হ্যান্ডেলে তোপ দেগেছিলেন, ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল চুরমার’। সেদিন অভিষেক পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেছিলেন, “ক্ষমতা থাকলে ফলতায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুন।” কিন্তু আজ যখন সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতার সময় এসেছে, তখন ময়দানে খোদ সেনাপতিই গরহাজির!
‘পুষ্পা’ বনাম ‘সিঙ্গম’: জাহাঙ্গিরের পাশে কি আজ কেউ নেই?
ফলতার এই পুনর্নির্বাচনের মূল আকর্ষণ কেবল তৃণমূল বা বিজেপি নয়, বরং ফলতার তৃণমূল প্রার্থী তথা দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা জাহাঙ্গির খান। এই জাহাঙ্গিরকে ঘিরেই দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে রাজ্য এক অদ্ভুত ‘সিনেমাটিক’ দ্বন্দ্বের সাক্ষী থেকেছিল। ভোটের সময় ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার পর্যবেক্ষক হয়ে এসেছিলেন উত্তরপ্রদেশের কড়া আইপিএস অফিসার অজয়পাল শর্মা, যাঁকে উত্তরপ্রদেশের ‘সিঙ্গম’ বলা হয়। সেই পুলিশকর্তার চোখে চোখ রেখে জাহাঙ্গির দম্ভভরে বলেছিলেন, “উনি সিঙ্গম হলেও আমিও পুষ্পা… ঝুঁকেগা নহি।”
কিন্তু গত ৪ মে-র পর থেকে রাজ্যে ক্ষমতার হাতবদল হওয়ার সাথে সাথে ফলতার রাজনৈতিক চিত্রও আমূল বদলে গিয়েছে। রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। আর সেই ‘দোর্দণ্ডপ্রতাপ’ জাহাঙ্গিরকে এখন গ্রেফতারি এড়াতে কলকাতা হাইকোর্টের রক্ষাকবচের ওপর নির্ভর করে দিন কাটাতে হচ্ছে। দলের প্রার্থীর যখন এমন করুণ দশা, তখন দলের শীর্ষ নেতার এভাবে প্রচার থেকে সরে থাকা কি প্রার্থীর মনোবল ভেঙে দিচ্ছে না? তৃণমূলের অন্দরেই এখন কান পাতলে এই ফিসফিসানি শোনা যাচ্ছে।
বিজেপির হুঙ্কার: ‘কোথায় পুষ্পা? আমরা আপনাকে মিস করছি!’
তৃণমূল যখন প্রচারে কার্যত নিষ্প্রভ, তখন ফলতার ময়দান দাপাচ্ছে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। গত শনিবার ফলতার বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পণ্ডার হয়ে বিশাল জনসভা করেছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার প্রচারে ঝড় তুলেছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রীর নিশানায় ছিলেন অভিষেক ও জাহাঙ্গির। নাম না করে অভিষেককে ‘ভাইপুবাবু’ বলে কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ওই ডাকাতটা কোথায়, পুষ্পা না কী যেন নাম! সাধারণ নির্বাচনের সময় যত অভিযোগ করেছে, সবগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হবে। গুন্ডামি করতে দেব না। সাদা থান বাড়িতে ফেলতে দেখব না। কোথায় পুষ্পা, কোথায় আপনি? ২০২১ সালে ভোট-পরবর্তী হিংসায় মানবাধিকার কমিশন যাদের কুখ্যাত অপরাধী ঘোষণা করেছিল, তার মধ্যে এই জাহাঙ্গির ছিল। ওর ব্যবস্থা করব। আমার ওপর ছেড়ে দিন সেই দায়িত্ব।”
অন্যদিকে, শমীক ভট্টাচার্য তাঁর স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে অভিষেকের অনুপস্থিতি নিয়ে তীব্র শ্লেষ ছুড়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “পুলিশ নেই, তাই নেতা নেই। কনভয় নেই, তাই হুঙ্কার নেই! আমরা তো বলছি, আপনি আসুন ফলতায়। আমাদের কর্মীরা, জেলা সভাপতি ফুল দিয়ে শাঁখ বাজিয়ে আপনাকে স্বাগত জানাবেন। হে বীর, তোমার আসন পূর্ণ করো। তোমাকে আমরা মিস করছি… ভীষণ মিস করছি।” এমনকি তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে গেরুয়া শিবির।
আরও পড়ুন: বিরোধী দলনেতার পদ কি হারাতে চলেছেন শোভন দেব? নিয়োগ নিয়েই উঠল বড় প্রশ্ন! আসল কারণ জানলে চমকে উঠবেন
কেন অনুপস্থিত অভিষেক? নেপথ্যের আসল সমীকরণ
ফলতায় মঙ্গলবারই পুনর্নির্বাচনের প্রচার শেষ হচ্ছে। তৃণমূল সূত্রের খবর, মঙ্গলবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে দলের বিধায়কদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক রয়েছে এবং অভিষেক সেখানেই উপস্থিত থাকবেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, নিজের খাসতালুক ছেড়ে কেন এই বৈরাগ্য?
রাজনৈতিক মহলের মতে, এর পেছনে মূলত একটি বড় কারণ কাজ করছে। রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল হওয়ায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘জেড প্লাস’ (Z+) নিরাপত্তা এবং বিশেষ পাইলট কারের সুবিধা প্রত্যাহার করা হয়েছে। আগে পুলিশের যে নিশ্ছিদ্র বলয় তাঁকে ঘিরে থাকত, আজ তা নেই। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ফলতার মতো রাজনৈতিকভাবে উত্তপ্ত এলাকায় গেলে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের হাতে ঘেরাও বা বিক্ষোভের মুখে পড়ার একটা প্রবল আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। পুলিশের ছায়া সরে যাওয়ায় হয়তো সেই ঝুঁকি নিতে চাইছে না তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব।
যদিও তৃণমূলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী এই তত্ত্ব মানতে নারাজ। তাঁর দাবি, “ফলতা এমনিতেই তৃণমূলের দুর্জয় ঘাঁটি। ভোট লুট বা গণনায় কারচুপি না হলে ওখানে তৃণমূলকে কেউ হারাতে পারবে না। তাই অভিষেকের আলাদা করে প্রচার করার কোনো প্রয়োজন নেই।” ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটেও এই কেন্দ্র থেকে তৃণমূল ৪০ হাজারেরও বেশি ভোটে জিতেছিল বলে মনে করিয়ে দেন তিনি।
তবে বাস্তব হলো, পুনর্নির্বাচনের এই কঠিন লড়াইয়ে, যখন দলের একনিষ্ঠ কর্মীরা এবং প্রার্থী রীতিমতো ব্যাকফুটে, তখন শীর্ষ নেতার এই ‘কৌশলী’ দূরত্ব দলের নিচুতলার কর্মীদের মনে বিরূপ প্রভাব ফেলতে বাধ্য। ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’-এর ভবিষ্যৎ এখন কোন দিকে মোড় নেয় এবং রবিবারের গণনায় ফলতার মানুষ কাকে শেষ হাসি হাসার সুযোগ দেয়, সেটাই এখন দেখার।
বদলে যাওয়া রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই অনুপস্থিতিকে আপনি কীভাবে দেখছেন? এটি কি নিছকই কোনো রাজনৈতিক কৌশল নাকি আত্মবিশ্বাসের অভাব? আপনার মতামত আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া পেজে কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না। রাজ্য রাজনীতির প্রতিটি খুঁটিনাটি খবর ও নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ পড়তে চোখ রাখুন NewsOffBeat-এ।
Most Viewed Posts
- ‘মায়া ভরা রাতি’ আবার ফিরছে—অরিজিৎ সিং-এর কণ্ঠে নতুন করে জেগে উঠবে এক চিরন্তন গান
- ২০২৬-এ মেষ রাশির জন্য আসছে বড় মোড় │ Aries Horoscope 2026 Full Prediction
- পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে তরুণ তুর্কিদের ঝড়! ভোটের ময়দানে কতটা প্রভাব ফেলছে যুব মুখ?
- বাড়িতে রাখুন এই নয় গাছ, সৌভাগ্য ফিরবেই
- বিতর্ক পিছু ছাড়েনি, মামলা মাথায় নিয়েই ভোটের ময়দানে! তৃণমূল-বিজেপির হেভিওয়েটদের ভোটযুদ্ধ ঘিরে উত্তাপ

