দামী উপহারের চেয়েও দামী হলো শব্দ। এই ভ্যালেন্টাইনসে আপনার মনের কথা বলুন একটু অন্যভাবে, কবিতায় আর আবেগে। রইল সেরা কালেকশন। Valentine’s Day Wishes 2026 যা আপনার সম্পর্কের রসায়নে নতুন রং আর গভীরতা যোগ করবে
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: ফেব্রুয়ারির এই সময়টা বড় অদ্ভুত। বাতাস কেমন যেন ভারী হয়ে থাকে না বলা কথায়। ক্যালেন্ডারের পাতায় আজ ৮ তারিখ। আর মাত্র কয়েক দিন পরেই ১৪ ফেব্রুয়ারি। ভ্যালেন্টাইনস ডে। উপহার কেনা হয়তো হয়ে গেছে, কিংবা ডিনার ডেটের প্ল্যানও ফাইনাল। কিন্তু আসল কাজটা বাকি। রাত বারোটা বাজলেই তো উইশ করতে হবে। স্মার্টফোনটা হাতে নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপের চ্যাটবক্সে কার্সারটা কি আপনারও ব্লিংক করছে? কী লিখবেন ভাবছেন? সেই একঘেয়ে “Happy Valentine’s Day”? নাকি ইন্টারনেট থেকে কপি করা কোনো বস্তাপচা লাইন?
ভাবুন তো অরিজিতের কথা। ও ওর গার্লফ্রেন্ডকে খুব ভালোবাসে। কিন্তু মুখে প্রকাশ করতে পারে না। প্রতিবার ওই একটা জিফ (GIF) বা স্টিকার পাঠিয়ে দায় সারে। আর ওদিকে ওর গার্লফ্রেন্ড প্রিয়া আশা করে থাকে, অরিজিত অন্তত দু’কলম নিজের মনের কথা লিখবে। উপহারের মোড়ক তো ছিঁড়ে যায়, চকোলেটও শেষ হয়ে যায়, কিন্তু একটা সুন্দর মেসেজ বা হাতে লেখা চিঠির রেশ থেকে যায় সারা জীবন। ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে প্রেম যখন ডিজিটাল, তখন শব্দের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। চ্যাটবক্সের ওই নীল বাবলগুলোর মধ্যেই তো আজকাল বেঁচে থাকে হাজারো ইমোশন।
আমাদের ‘চুপকথা’ বিভাগ সাজিয়েছে ১০১টি বাছাই করা বার্তা (Valentine’s Day Wishes)। সদ্য প্রেম থেকে শুরু করে দীর্ঘ দাম্পত্য, গোপন ক্রাশ থেকে ভাঙা-গড়ার সম্পর্ক—সবার জন্য রইল ভালোবাসার রসদ। বেছে নিন আপনার গল্পের সাথে মিলে যাওয়া লাইনটি। কিছু মজার, কিছু গভীর, আবার কিছু একদম কাব্যিক। কপি করুন, পেস্ট করুন, বা কার্ডে লিখে পাঠিয়ে দিন আপনার বিশেষ মানুষটিকে।
বিভাগ ১: নতুনের আবাহন (যাঁরা সদ্য সম্পর্কে এসেছেন)
১. “তোমাকে পাওয়ার কোনো প্ল্যান ছিল না। তুমি হঠাত আমার ব্যক্তিগত ডায়েরির ভাঁজে খুঁজে পাওয়া একটা শুকনো গোলাপের মতো—অপ্রত্যাশিত, কিন্তু ভীষণ দামী।”
২. “এখনও তোমাকে পুরোপুরি বানান করে পড়ে উঠতে পারিনি। কিন্তু এই আধো-চেনা ভাষাটাই আমার সবচেয়ে প্রিয়। আমি রোজ তোমাকে নতুন করে শিখতে চাই।”
৩. “শহরের সব ম্যাপ একদিকে, আর তোমার বুকের বাঁদিকের রাস্তাটা অন্যদিকে। আমি জেনেবুঝেই ওই ভুল রাস্তাতেই আজীবন ট্রাফিক জ্যামে আটকে থাকতে রাজি।”
৪. “চায়ে চিনি কতটা খাই, সেটা মনে রাখার নামই প্রেম। এই অল্প দিনে তুমি আমাকে আমার চেয়েও বেশি ‘মুখস্থ’ করে ফেলেছ।”
৫. “তুমি আমার সিলেবাসের বাইরের সেই চ্যাপ্টার, যা আমি পরীক্ষায় আসবে না জেনেও সব কাজ ফেলে মন দিয়ে পড়ি।”
৬. “তোমাকে জড়িয়ে ধরার অধিকার এখনও পাইনি হয়তো। কিন্তু তোমার মন খারাপের দিনে, আমি সেই একলা ছাতাটা হতে চাই—যেটা বৃষ্টি থামলেও পাশে থাকে।”
৭. “নোটিফিকেশনের ভিড়ে তোমার নামটা দেখলে বুকের ভেতর যে ধক করে শব্দটা হয়—ওটাই আমার কাছে ভালোবাসা। বাকি সব তো শুধুই ডেটা খরচ।”
৮. “তুমি তাকালে আমি ইচ্ছে করেই চোখ সরিয়ে নিই। এই চোর-পুলিশ খেলাটা চলতে থাকুক। সব কথা বলে দিলে তো রহস্য শেষ।”
৯. “কথা দিচ্ছি না যে চাঁদ এনে দেব। শুধু এইটুকু বলছি—তোমার চশমার কাঁচ ঘোলা হলে, আমি ঠিক আমার রুমালটা বাড়িয়ে দেব। স্বচ্ছতাটুকুই আমার উপহার।”
১০. “আমাদের সম্পর্কটা এখনও কোনো নাম পায়নি। তাতে কী? বেনামী চিঠির রোমাঞ্চই তো সবথেকে বেশি। এসো, আমরা বেনামীই থাকি।”
১১. “আমি তোমাকে ‘ম্যাজিক’ বলে ডাকব। কারণ, আমার সাদাকালো আর একঘেয়ে রুটিনে তুমিই একমাত্র রঙিন বিস্ময়।”
১২. “তোমার সাথে কথা বলার জন্য আমি রাত জাগি না, আমি রাত জাগি আমাদের কথোপকথনগুলো মনে মনে রিওয়াইন্ড করে শোনার জন্য।”
১৩. “হাতটা ধরো। গন্তব্য জানি না, কিন্তু এই পথটা ভীষণ সুন্দর। একা হাঁটলে হয়তো দ্রুত পৌঁছতাম, কিন্তু তোমার সাথে হাঁটলে অনেকটা পথ যাওয়া যাবে।”
১৪. “তুমি আমার সেই অসমাপ্ত কবিতা, যার পরের লাইনটা আমি এখনও ভেবে উঠতে পারছি না। এই ঘোরটা যেন না কাটে।”
১৫. “সবাই বলে প্রেমে পড়লে মানুষ বোকা হয়ে যায়। আমি তোমায় দেখে বুঝলাম, প্রেমে পড়লে মানুষ আসলে নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করে।”
বিভাগ ২: শেকড়ের সন্ধান (দীর্ঘদিনের প্রেম, কিন্তু বিবাহিত নন)
১. “এত বছর পর, প্রেম মানে আর গোলাপ ফুল নয়। প্রেম মানে—অফিস ফেরৎ বাসে হঠাত চমকে উঠে ভাবা, ‘তুমি বাড়ি ফিরেছ তো?’ এই সামান্য চিন্তাটুকুই আমার ভ্যালেন্টাইন।”
২. “বিয়েটা কাগজে-কলমে হয়নি ঠিকই, কিন্তু রোজ সকালে আমি মনে মনে তোমার কপালেই রোদের টিপ পরাল। সমাজ যা খুশি ভাবুক, আমি জানি তুমি আমার।”
৩. “শরীরের ভাঁজে বয়স বাড়ুক, চশমার পাওয়ার বদলাক। আমি কথা দিচ্ছি, হাজার ভিড়ের মধ্যেও তোমার গলার স্বর আর ওই চেনা মৌনতাটুকু ঠিক চিনে নেব।”
৪. “আমাদের ঝগড়াগুলো এখন আর বিচ্ছেদের ভয় দেখায় না। আমরা জানি, ঝড় থামলে ভাঙা ডালপালা সরিয়ে আবার ওই এক ছাদেই ফিরতে হবে।”
৫. “কাছে আসা মানেই তো সঙ্গম নয়। এই যে দীর্ঘকাল পাশাপাশি শুয়ে থেকেও একে অপরের নিঃশ্বাসের শব্দ শোনা—এর চেয়ে বড় আদিমতা আর কী হতে পারে?”
৬. “রোজকার এই বাজার, রাস্তা পার হওয়া আর সংসারের হিসেব—এর ফাঁকে যেটুকু সময় আমরা চা হাতে মুখোমুখি বসি, ওটুকুই আমার প্রেম। বাকিটা তো শুধুই বেঁচে থাকার রসদ।”
৭. “তোমাকে আমি কখনও পূর্ণতা দেব না। পূর্ণতা দিলে তো সব শেষ হয়ে যায়। আমি চাই আমাদের প্রেমটা কিছুটা অসমাপ্ত থাক, যাতে পরের জন্মে আবার সেখান থেকেই শুরু করা যায়।”
৮. “তোমার অসুখ করলে আমি ঈশ্বর মানি না, ডাক্তার মানি। প্রেম মানে তো শুধুই জ্যোৎস্না দেখা নয়, প্রেম মানে হাসপাতালের করিডোরে রাত জেগে বসে থাকার জেদ।”
৯. “আমরা কেউ নিখুঁত নই। তোমার অকারণ রাগ, আমার অগোছালো স্বভাব, আর আমাদের হাজারটা অমিল—এই সবটা মিলিয়েই তো এই সম্পর্ক। আমি তোমার ওই ভুলগুলোকেও ভালোবাসি।”
১০. “গোলাপ শুকিয়ে যায়, সুগন্ধি উবে যায়। আমি তোমাকে বরং একটা ক্যাকটাস দেব। কাঁটা আছে, কিন্তু রুক্ষ মাটিতেও সে একাই বেঁচে থাকে। আমাদের সম্পর্কটাও তো ঠিক তাই—কঠিন, কিন্তু জীবিত।”
১১. “ঝগড়া হোক, মুখ দেখাদেখি বন্ধ হোক। তবু দিনশেষে তোমার ওই চেনা নম্বরটাই আমার ডায়াল লিস্টে সবার উপরে থাকে। কারণ অভিমান আছে প্রচুর, কিন্তু তোমার কোনো বিকল্প নেই।”
১২. “যৌবন তো দুদিনের অতিথি। আমি বরং তোমার বার্ধক্যের লাঠি হতে চাই। যখন কেউ তাকাবে না, তখন আমি তোমার চোখের দিকে তাকিয়ে বলব—‘এখনও কী ভীষণ সুন্দর তুমি!’”
১৩. “তুমি আমার ব্যক্তিগত ডায়েরির সেই ছেঁড়া পাতা, যা আমি কাউকে পড়াই না। যেখানে আমি কোনো দাড়ি, কমা বা ব্যাকরণ মানি না। শুধু মন খুলে বমি করে দিই সব কান্না, সব হাসি।”
১৪. “সব রাস্তা তোমার দিকে যায় না জানি। কিন্তু আমি যে রাস্তাতেই হাঁটি, দিনশেষে দেখি তুমি দাঁড়িয়ে আছ। একে কি হ্যালুসিনেশন বলে? নাকি গন্তব্য?”
১৫. “ভালোবাসা মানে সবসময় আঁকড়ে ধরা নয়। ভালোবাসা মানে—তোমাকে তোমার মতো করে উড়তে দেওয়া, আর দিনশেষে ফিরে আসার একটা খোলা বারান্দা হয়ে অপেক্ষা করা।”
বিভাগ ৩: এক ছাদের নিচে (সদ্য বিবাহিত দম্পতি)
নতুন সংসার, এক বিছানা, আর ভোরের আলোয় একে অপরকে দেখা। এখানে প্রেম মানে আর লুকোচুরি নয়, প্রেম মানে সম্পূর্ণ নগ্ন হওয়া—পোশাকে এবং মুখোশে। তাঁদের জন্য ২৫টি বার্তা:
১. “বিয়ের মন্ত্রগুলো সংস্কৃত ছিল, কিন্তু আমাদের আসল মন্ত্র হলো—সকালে চায়ের কাপ ভাগ করে নেওয়া। চুমুকে চুমুকে বুঝে নেওয়া, আজ দিনটা কেমন যাবে।”
২. “ঘর তো ইট-পাথরের হয়। কিন্তু বাড়ি? বাড়ি তো মানুষ দিয়ে হয়। তুমিই আমার বাড়ি, যেখানে ফিরে এসে আমি জুতো আর মুখোশ—দুটোই খুলতে পারি।”
৩. “তোমার গায়ের গন্ধে আমার ঘরদোর, বিছানার চাদর আর পুরনো বইয়ের তাক—সব মাখামাখি হয়ে আছে। তুমি না থাকলেও এই গন্ধটা আমাকে রোজ পাহারা দেয়।”
৪. “রাতে পাশ ফিরে তোমায় দেখতে পাওয়ার শান্তিটাই আমার কাছে মোক্ষ। ঈশ্বরকে ধন্যবাদ, তিনি আমাকে এই দৃশ্যটা রোজ দেখার টিকিট দিয়েছেন।”
৫. “বাজারের ফর্দ, ইলেকট্রিক বিল আর নতুন সংসারের হাজারো দায়িত্ব—এর মাঝেও হঠাত তোমাকে জড়িয়ে ধরাটা যেন ভুলে না যাই। ওটুকুই আমার অক্সিজেন।”
৬. “রান্নায় নুন কম হলে যেমন চলে না, আমার জীবনে তোমার আদর কম হলেও চলবে না। তুমি আমার স্বাদের ব্যালেন্স, আমার বেঁচে থাকার মশলা।”
৭. “বিছানার চাদর এলোমেলো হোক। বালিশগুলো নিচে পড়ে থাক। আমাদের বিশ্বাসটা যেন টানটান থাকে। চলো, এভাবেই একটা জীবন কাটিয়ে দিই—অগোছালো কিন্তু নিবিড়।”
৮. “তুমি আমার ব্যক্তিগত ঈশ্বর নও, তুমি আমার ব্যক্তিগত শান্তি। অফিস ফেরত ক্লান্তিতে তোমার কাঁধটাই আমার সেরা বালিশ। ওই কাঁধে মাথা রাখলে পৃথিবীর সব কোলাহল থেমে যায়।”
৯. “বিয়ে মানে স্বাধীনতা হারানো নয়, বিয়ে মানে একজন সহযোদ্ধা পাওয়া। যে আমার লড়াইটাকেও নিজের মনে করবে। আমার ঢাল হবে, আবার তরোয়ালও হবে।”
১০. “তোমার ভেজা চুলের জল যখন আমার গায়ে লাগে, তখন মনে হয়—সংসার মানেই তো এই ছোট ছোট ভালোলাগার সমষ্টি। কোনো মহাকাব্য নয়, শুধু ছোট ছোট পদ্য।”
১১. “ঝগড়া করলে বাপের বাড়ি চলে যাওয়ার হুমকি দিও না। কারণ আমি জানি, তুমি ছাড়া আমার সকালের চা-টাও বিস্বাদ। তুমি ছাড়া এই ঘরটা একটা ইটের খাঁচা মাত্র।”
১২. “নতুন বউয়ের মতো লজ্জা নয়, আমি চাই তুমি আমার বন্ধুর মতো পাশে থাকো। যার কাছে আমি নগ্ন হতে লজ্জা পাব না—শরীরে এবং মনে। সব খুঁত তুমি দেখে নাও।”
১৩. “আমাদের হানিমুন পিরিয়ড শেষ হতে পারে, কিন্তু রোমান্স যেন শেষ না হয়। রোজ রাতে তোমাকে নতুন করে আবিষ্কার করতে চাই। যেন রোজই আমাদের প্রথম রাত।”
১৪. “সিঁথির ওই লাল রংটা শুধু একটা চিহ্ন নয়, ওটা আমার হৃদয়ের স্পন্দন। ওটা মুছে ফেলো না, ওটা আমার অস্তিত্বের সিগনেচার।”
১৫. “তোমার শাড়ির কুঁচি ধরার মতো করেই আমি আমাদের সংসারটা ধরে রাখতে চাই। একটু এদিক-ওদিক হবে, কিন্তু খুলে পড়ে যেতে দেব না।”
বিভাগ ৪: সহবাস ও সহ্যবাস (দীর্ঘদিনের বিবাহিত)
প্রেম এখন আর চমক নয়, প্রেম এখন নিছকই অভ্যেস। দায়িত্ব, সন্তান, ইএমআই আর বয়সের ভারে প্রেম এখানে অনেক বেশি পরিণত, অনেকটা পুরনো আসবাবের মতো—যার পালিশ চটেছে, কিন্তু আরামটুকু একই আছে। তাঁদের জন্য ২৫টি বার্তা:
১. “বিয়ের এত বছর পর, প্রেম মানে আর গোলাপ ফুল নয়। প্রেম মানে—তোমার প্রেশারের ওষুধের খেয়াল রাখা আর আমার হারিয়ে যাওয়া চশমাটা খুঁজে দেওয়া।”
২. “চামড়ায় ভাঁজ পড়ুক, চুলে পাক ধরুক। আমি তো তোমার শরীর খুঁজিনি, আমি সেই ওমটুকু খুঁজেছি যা আমাকে শীতের রাতেও বাঁচিয়ে রাখে। আমাদের বার্ধক্য বলে কিছু নেই।”
৩. “আমরা কেউ কাউকে পূর্ণ করিনি, আমরা আসলে দুজন অসম্পূর্ণ মানুষ—ভাঙা টুকরোগুলো দিয়ে একটা আস্ত সংসার জোড়া দিয়েছি। এই জোড়াতালিটাই আমাদের শিল্প, আমাদের অহংকার।”
৪. “ছেলেমেয়েদের মানুষ করতে করতে আমরা নিজেদের প্রেমিকা-প্রেমিক সত্তাটাকে হারিয়ে ফেলিনি তো? চলো আজ একটু স্বার্থপর হই, শুধু নিজেদের জন্য বাঁচি।”
৫. “তোমাকে আমি মুক্তি দিলাম না। কারণ সংসারের খাঁচায় নয়, তুমি আছ আমার পাঁজরের খাঁচায়। সেখান থেকে বেরোনোর সাধ্য তোমার নেই, আমারও নেই।”
৬. “রোজকার একঘেয়েমি, সংসারের হিসেব-নিকেশ আর ক্লান্তির মাঝেও যে মানুষটার মুখের দিকে তাকিয়ে মনে হয়—’যাক, অনেকটা পথ তো একসাথে হাঁটা গেল’—সেটা তুমি।”
৭. “তোমার নীরবতা আমি পড়তে পারি। তোমার না বলা কথাগুলো আমি শুনতে পাই। শব্দের আড়ম্বর ছাড়াই আমাদের এই যোগাযোগ—এটাই তো ম্যাজিক।”
৮. “এতগুলো বসন্ত পার করার পরেও, আজও শাড়ি পরলে তোমাকে দেখলে আমার হৃৎস্পন্দন বেড়ে যায়। বিশ্বাস করো, এটা মিথ্যে নয়, শুধু প্রকাশ করার ভাষা হারিয়েছি।”
৯. “সংসার মানে শুধু মানিয়ে নেওয়া নয়, সংসার মানে—তোমার নাক ডাকার শব্দেও আমার গভীর ঘুম আসা। ওই শব্দটা থামলে আমি ভয় পাই।”
১০. “ঝগড়া তো রোজই করি। কিন্তু জানো তো, তুমি ছাড়া ঝগড়া করার মতো আর কোনো যোগ্য লোক আমি খুঁজে পেলাম না। আমার রাগের একমাত্র হকদার তুমিই।”
১১. “আমাদের প্রেমটা এখন পুরনো মদের মতো। যত দিন যাচ্ছে, তত তার নেশা আর ঝাঁঝ বাড়ছে। নতুন বোতলের চকচকে ভাব নেই, কিন্তু স্বাদটা খাঁটি।”
১২. “তুমি যদি আগে চলে যাও, আমাকেও সাথে নিয়ে যেও। কারণ চশমা ছাড়া আমি তো কিছুই দেখতে পাই না, আর তুমি ছাড়া জীবনটা ওই ঝাপসা চশমার মতো।”
১৩. “আমার শরীরের কোথায় কোন তিল আছে, বা মনের কোথায় কোন ক্ষত আছে—সেটা তুমি ছাড়া আর কে জানে? এই নগ্নতাটাই তো আমাদের জোর।”
১৪. “অফিস ফেরত ক্লান্তি যখন ঘাড়ে চাপে, তখন মনে হয় তোমার কোলে মাথা না রাখলে এই যুদ্ধটা জেতা যাবে না। তুমি আমার রিচার্জ পয়েন্ট।”
১৫. “রোজ একই রুটিন। একই বাজার, একই টিভি সিরিয়াল। কিন্তু এই ‘একই’ থাকার মধ্যে যে আরাম আছে, সেটা অন্য কোথাও নেই। আমি এই একঘেয়েমিটাই চাই।”
বিভাগ ৫: দূরের তারারা (লং ডিসটেন্স রিলেশনশিপ)
যাঁদের প্রেম টিকে আছে ভিডিও কলের পিক্সেল, ভয়েস নোটের কাঁপা স্বর আর অনন্ত অপেক্ষার ওপর। এখানে স্পর্শ নেই, কিন্তু অনুভব তীব্র। দূরত্ব এখানে কাঁটা নয়, বরং প্রেমের গভীরতার মাপকাঠি। তাঁদের জন্য ২৫টি বার্তা:
১. “কাছে আসা মানেই তো ছোঁয়া নয়। এই যে হাজার মাইল দূরে থেকেও আমি টের পাই তোমার মন খারাপ—এটাই কি আসল সহবাস নয়? শরীরের চেয়েও এই অনুভূতির শেকড় অনেক গভীরে।”
২. “ভিডিও কলের ওই চৌকোনা স্ক্রিনটাই এখন আমার ঘর-সংসার। পিক্সেলগুলো ঝাপসা হতে পারে, কিন্তু তোমার প্রতি আমার টানটা ফোর-কে (4K) রেজোলিউশনের চেয়েও স্বচ্ছ।”
৩. “তোমার শহরের বাতাসকেও আমার মাঝে মাঝে ভীষণ হিংসে হয়। ও তোমাকে যখন তখন ছুঁতে পারছে, অথচ আমি পারছি না। এই অক্ষমতা আর জেদটাই আমার ভালোবাসা।”
৪. “কলটা কাটার পর ঘরের মধ্যে যে নিস্তব্ধতাটা নামে, ওটা আমাকে রোজ মারে। মনে হয়, এই তো ছিলে, হঠাত কোথায় গেলে? এই হ্যালুসিনেশন, এই ভ্রমটুকু নিয়েই আমি বাঁচতে চাই।”
৫. “তোমার গায়ের গন্ধটা ভুলে যাওয়ার ভয়ে আমি রোজ পুরোনো চ্যাটগুলো পড়ি। শব্দ দিয়ে কি গন্ধ পাওয়া যায়? আমি পাই। ওগুলো আমাকে পাহারা দেয়।”
৬. “একই আকাশের নিচে আছি, এটাই বা কম কী? তুমি যখন ওখানে চাঁদ দেখছ, আমিও এখানে দেখছি। আমাদের দৃষ্টির বিনিময় তো ওখানেই হয়ে যায়।”
৭. “তোমার সকাল, আমার রাত। ঘড়ির কাঁটা মিলল না, কিন্তু বুকের ধকধকানিটা ঠিক মিলে গেল। একেই বোধহয় বলে সিনক্রোনাইজেশন।”
৮. “এয়ারপোর্টের ওই নির্দিষ্ট গেটটার দিকে তাকিয়ে আমি বছরের পর বছর কাটিয়ে দিতে পারি। কারণ আমি জানি, ওখান দিয়েই একদিন আমার ‘বাড়ি’ ফিরবে।”
৯. “তোমার রেকর্ড করা হাসিটা আমি কানে হেডফোন দিয়ে লুপে শুনছি। ওটা আমার ঘুমের ওষুধ। কোনো ডাক্তার এই ওষুধের নাম জানে না।”
১০. “স্ক্রিনে আঙুল বুলিয়ে তোমাকে আদর করি। মোবাইলের কাঁচটা ঠান্ডা, কিন্তু ওপাশে তুমি আছ বলেই আমার আঙুল পুড়ে যায়। প্রযুক্তি হার মানে আবেগের কাছে।”
১১. “শারীরিক দূরত্ব তো ম্যাপের ফিতে দিয়ে মাপা যায়। কিন্তু মনের দূরত্ব? সেটা তো নেই। তুমি আমার রক্তে মিশে আছ, ভাইরাস হয়ে নয়, ভ্যাকসিন হয়ে।”
১২. “মাঝে মাঝে মনে হয়, তুমি একটা কাল্পনিক চরিত্র। কিন্তু যখন ‘টাইপিং…’ লেখাটা ভেসে ওঠে, তখন বিশ্বাস হয়—না, আমার গল্পটা সত্যি।”
১৩. “পরের বার দেখা হলে কিন্তু ঘড়ির দিকে তাকানো বারণ। সময়কে সেদিন আমাদের জন্য থামতেই হবে। সূর্য ডুববে না, রাত হবে না—শুধু আমরা থাকব।”
১৪. “তোমার ফেলে যাওয়া টি-শার্টটা আমি ধুইনি। ওতে এখনও তোমার ঘামের গন্ধ লেগে আছে। ওটা জড়িয়ে ধরলেই মনে হয়, তুমি পাশেই শুয়ে আছ।”
১৫. “সবাই বলে ‘আউট অফ সাইট, আউট অফ মাইন্ড’। আমি বলি, তুমি চোখের আড়ালে আছ বলেই মনের এত গভীরে গেঁথে গেছ। তোমাকে উপড়ে ফেলা অসম্ভব।
বিভাগ ৬: অব্যক্ত ও গোপন (যাঁরা এখনও বলতে পারেননি)
১. “তোমাকে আমি ‘নীরা’ ডাকব না। তুমি আমার নামহীন কষ্ট। বুকের বাঁ পকেটে তোমাকে লুকিয়ে রেখেছি, যেমন করে লোকে খুব দামী কোনো হারানো বিজ্ঞপ্তি লুকিয়ে রাখে।”
২. “এই হাতটা বাড়িয়েই আছি। তুমি ধরলে ধরো, না ধরলে আমি অনন্তকাল এই স্ট্যাচু হয়েই দাঁড়িয়ে থাকব। আমার কোনো তাড়া নেই, আমার শুধু তুমি আছ।”
৩. “তোমার সঙ্গে আমার কোনো কথা হয়নি। শুধু চোখের দিকে তাকিয়েছিলাম তিন সেকেন্ড। ওই তিন সেকেন্ডেই আমার একটা গোটা জীবন খরচ হয়ে গেছে।”
৪. “আমি তোমার গল্পের হিরো হতে চাইনি। আমি সেই পার্শ্বচরিত্র, যে পর্দার আড়ালে দাঁড়িয়ে তোমাকে আলোয় ভাসতে দেখে। আমার অন্ধকারই ভালো, যদি আলোটা তুমি হও।”
৫. “বন্ধুত্বের দিব্যি দিয়ে আটকে রেখেছ। আমি সেই লক্ষ্মণরেখা ডিঙোইনি, কিন্তু মনটা তো কবেই সীতা হয়ে তোমার অশোকবনে বসে আছে। তুমি কি টের পাও না?”
৬. “তোমার চুলে বিনুনি দেখলে আমার ইচ্ছে করে সব নিয়ম ছিঁড়ে ফেলি। কিন্তু আমি ভদ্রলোক সেজে বসে থাকি। এই ভদ্রতা আসলে আমার ভীরুতা, নাকি আমার প্রেম?”
৭. “ভিড়ের বাসে তোমার কনুইটা আমার গায়ে ঠেকেছিল। বিদ্যুৎ চমকায়নি, কিন্তু আমি পুড়ে গেছি। তুমি জানলে না, আমি ছাই হয়ে পাশে দাঁড়িয়ে ছিলাম।”
৮. “তোমার হাসির কারণ আমি হতে চাই না। আমি চাই তোমার কান্নার সময় চোখ মোছানোর অধিকারটা। হাসি তো সবাই ভাগ করে নেয়, জল কজন নেয়?”
৯. “আজ ভ্যালেন্টাইনস ডে। সবাই গোলাপ দিচ্ছে। আমি তোমাকে দিলাম আমার ‘না বলা কথাগুলো’। বাতাস জানে, এই শহরের ধুলো জানে—আমি তোমাকে কতটা চেয়েছি।”
১০. “তুমি অন্য কারো আকাশের চাঁদ হও, তাতে আমার দুঃখ নেই। আমি তোমায় দূর থেকে দেখব। আমি তো সেই নক্ষত্র, যার আলোয় তুমি উজ্জ্বল হও, কিন্তু যাকে তুমি চেনো না।”
১১. “তোমার জন্য আমি তেত্রিশ বছর অপেক্ষা করতে পারি। তেত্রিশ সেকেন্ডের সাহসে শুধু ‘ভালোবাসি’ কথাটা বলতে পারি না। এই অক্ষমতাটুকুই আমার অহংকার।”
১২. “চিঠি লিখব ভাবি। কিন্তু ল্যাম্পপোস্টের নিচে দাঁড়িয়ে ঠিকানা ভুলে যাই। তুমি এমন এক ঠিকানা, যেখানে পৌঁছানো যায় না, শুধু তাকিয়ে থাকা যায়।”
১৩. “তুমি কি জানো, ভিড়ের মধ্যে আমার চোখ শুধু তোমাকেই খোঁজে? তুমি তাকালে আমি চোখ সরিয়ে নিই। এই চোর-পুলিশ খেলাটাই আমার বেঁচে থাকা।”
১৪. “তোমার বিয়েতে আমিই সবচেয়ে বেশি হাসব। আর সানাই বাজলে আড়ালে গিয়ে নিজের বুকের পাঁজর ভাঙার শব্দ শুনব। ভালোবাসা মানে তো স্যাক্রিফাইস, তাই না?”
১৫. “তোমার ওই উদাসীনতা আমার বুকে বিঁধলেও, আমি হাসি মুখে মেনে নিই। কারণ ওটা তোমার দেওয়া। তোমার দেওয়া অবহেলাও আমার কাছে প্রসাদ।”
বিভাগ ৭: ভাঙা-গড়ার খেলা (যাঁদের সম্পর্কে অভিমান বা টানাপোড়েন চলছে)
সম্পর্ক এখন টালমাটাল। হয়তো কথা বন্ধ, হয়তো ব্লকলিস্টে নাম, কিংবা একই ছাদের নিচে থেকেও যোজন যোজন দূরত্ব। তবুও মায়া কাটেনি। ইগো এবং ভালোবাসার এই দ্বন্দ্বে যাঁরা ক্ষতবিক্ষত, তাঁদের জন্য ২৫টি বার্তা:
১. “অভিমান জমে জমে পাহাড় হয়েছে। আমি হাতুড়ি নিয়ে আসব না ভাঙতে। আমি অপেক্ষা করব, কখন তোমার চোখের জলে সেই পাহাড় গলে নদী হবে। আমি সেই নদীতেই ভাসাব আমার ডিঙি।”
২. “আমরা যুদ্ধ করছি কার সাথে? নিজেদের সাথে? চলো আজ সন্ধি করি। সাদা পতাকা ওড়াতে হবে না, শুধু একবার তাকাও। তোমার চোখের ভাষাই আমার সন্ধিপত্র।”
৩. “ব্লক করে রেখেছ জানি। কিন্তু মনের যোগাযোগটা ব্লক করবে কী দিয়ে? টেলিপ্যাথি বা কোনো অলৌকিক ফ্রিকোয়েন্সিতে আমি ঠিক পৌঁছে যাচ্ছি তোমার কাছে। তুমি কি টের পাও না?”
৪. “রাগ করলে তোমাকে আগুনের মতো দেখায়। আমি সেই আগুনে পতঙ্গ হতে রাজি, পুড়ে যেতে রাজি, কিন্তু দূরে সরে যেতে রাজি নই। পোড়াবে আমায়?”
৫. “পাশাপাশি হাঁটাই তো সব নয়। মাঝেমধ্যে উল্টো দিকে হেঁটেও যদি দিনশেষে একই দরজায় কড়া নাড়ি—তবে জানবে, আমাদের শেকড়টা ছিঁড়ে যায়নি। পৃথিবী গোল, দেখা হবেই।”
৬. “ঝড় এসেছে বলে কি ঘর ভেঙে দিতে হয়? এসো না, দুজনে মিলে জানলাগুলো বন্ধ করে ঝড়টা থামার অপেক্ষা করি। সব ঝড়ই তো একসময় থামে।”
৭. “আমাদের মধ্যে এখন কাঁটাতার। কিন্তু আমি জানি, একটা ছোট্ট ‘সরি’ এই কাঁটাতারটা নিমেষে ফুলশয্যা করে দিতে পারে। সেই সাহসটা কি দেখাবে? নাকি আমিই দেখাব?”
৮. “সম্পর্ক মানে তো শুধু ‘আই লাভ ইউ’ বলা নয়। সম্পর্ক মানে—তুমি যখন ভেঙে চুরমার হয়ে যাবে, তখন আমি নিজেকে শক্ত রেখে বলব, ‘চিন্তা করো না, আমি আছি’।”
৯. “ভালোবাসা মানে—ভিড় রাস্তার মাঝে হঠাত থমকে দাঁড়িয়ে মনে করা, ‘আমরা কি সত্যিই আর কথা বলব না?’ এই হাহাকারটুকুই প্রমাণ করে আমরা এখনও শেষ হয়ে যাইনি।”
১০. “তুমি যদি বিষও হও, আমি নীলকণ্ঠ হতে রাজি। শুধু শর্ত একটাই—অমৃত হয়ে অন্য কারো গ্লাসে যেও না। তোমার বিষটুকুই আমার একার থাক।”
১১. “চলো আজ সব ইগো বিসর্জন দিই। কে আগে মেসাজ করল, সেটা বড় কথা নয়। আমরা এই ধুলোবালি মাখা পৃথিবীতে একসাথে আছি, সেটাই শেষ কথা।”
১২. “ভাঙা কাঁচ জোড়া লাগলে দাগ থাকে জানি। কিন্তু সেই দাগগুলোই তো আমাদের যুদ্ধের সাক্ষী, আমাদের বেঁচে ফেরার মেডেল। এসো, দাগগুলো নিয়েই আবার শুরু করি।”
১৩. “তুমি ছাড়া আমি ভালো নেই—এই সহজ সত্যিটা বলতে আমার কোনো লজ্জা নেই। তুমি কি খুব ভালো আছ আমাকে ছাড়া? বুকে হাত দিয়ে বলো তো?”
১৪. “ভালোবাসা মরে যায় না, শুধু ধুলো জমে। চলো আজ সেই ধুলো ঝেড়ে ফেলি। ভ্যালেন্টাইনস ডে-তে নতুন কিছু চাই না, শুধু পুরনো তুমিটাকেই ফেরত চাই।”
১৫. “আজ কোনো প্রতিজ্ঞা নয়। শুধু এইটুকু মনে রেখো—বাইরে যতই ঝড় আসুক, আমাদের ঘরের ভেতরের আবহাওয়ায় যেন সবসময় ফেরার পথ খোলা থাকে। দরজাটা ভেজানো আছে।”
আধুনিক কবিতার মেজাজে, অভিমান ও দূরত্বের বরফ গলানোর মতো ধারালো অথচ গভীর ২৫টি বার্তা নিচে দেওয়া হলো। এখানে প্রেম ভিক্ষা করা হচ্ছে না, বরং প্রেমের অস্তিত্বটাকে স্বীকার করা হচ্ছে এক অদ্ভুত আভিজাত্যের সঙ্গে।
অতিরিক্ত কোটেশন
১. “তোমার আকাশ জুড়ে মেঘ করুক। আমি ছাতা হব না। আমি বরং পাশে দাঁড়িয়ে ভিজব। ভিজতে ভিজতে বুঝব, তোমার কান্না আর আমার বৃষ্টি—দুটো আসলে একই জল।”
২. “প্রেম এখন আর স্লোগান নয়, প্রেম এখন নিছকই অভ্যেস। যেমন সকালে চা, বা রাতে শোবার আগে দরজা চেক করা। তোমাকে ভালোবাসাটা আমার শ্বাস-প্রশ্বাসের মতোই একঘেয়ে, কিন্তু জরুরি।”
৩. “পৃথিবীর কাছে তুমি হয়তো সফল বা ব্যর্থ কেউ। কিন্তু আমার কাছে? তুমি সেই নিরাপদ আশ্রয়, যেখানে জুতো খুলে, মুখোশ খুলে আমি নিশ্চিন্তে ঘুমোতে পারি।”
৪. “বেনীমাধব, তোমার বাড়ি যাব না। কিন্তু তুমি যদি ডাকো, আমি সংসারের সব নিয়ম ভেঙে, সব নিষেধ ডিঙিয়ে ঠিক চলে আসব। সমাজ আমাকে কী নাম দেবে, আমি পরোয়া করি না।”
৫. “স্পর্শ মানেই শরীর নয়। মাঝরাতে দুঃস্বপ্ন দেখে ঘুম ভেঙে গেলে, অন্ধকারে হাতড়ে তোমার হাতটা খুঁজে পাওয়া—আমার কাছে ওটাই সবচেয়ে বড় আশ্রয়।”
৬. “আমি তোমাকে চাঁদ-তারা এনে দেওয়ার মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দেব না। আমি তোমাকে আমার সময়ের সবটুকু দেব, আমার মনোযোগ দেব, আর দেব আমার নগ্ন সততা। নেবে?”
৭. “আজ কোনো প্রতিজ্ঞা নয়। শুধু এইটুকু মনে রেখো—বাইরে যতই ঝড় আসুক, আমাদের সম্পর্কের আবহাওয়ায় যেন সবসময় একটা অদ্ভুত শান্তি থাকে। এটুকুই আমার ভ্যালেন্টাইন।”
৮. “তোমার শরীরের ম্যাপ আমি মুখস্থ জানি না, কিন্তু তোমার মনের গলিপথগুলো আমি চিনি। কোথায় আলো জ্বলে, আর কোথায় অন্ধকার—সেটা একমাত্র আমিই জানি।”
৯. “আমাদের সম্পর্কটা কোনো সিনেমার স্ক্রিপ্ট নয়, তাই এখানে ক্লাইম্যাক্স নেই। আছে শুধু রোজকার ডাল-ভাতের মতো একঘেয়েমি, আর সেটাই আমার কাছে অমৃত।”
১০. “তুমি আমার সেই পুরনো চাদর, যা ছিঁড়ে গেলেও আমি ফেলি না। কারণ নতুনে ওই ওমটা নেই, ওই গন্ধটা নেই। তুমি আমার অপরিহার্য।”
১১. “দরজা বন্ধ করার পর এই যে আমরা দুজন—পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন। এই গোপনতা, এই একাত্মতা—এর নামই কি সহবাস? নাকি এর নাম ঈশ্বর?”
১২. “তোমার শ্বাস পড়ার শব্দে আমার ঘুম আসে। এই শব্দটা থামলে আমার পৃথিবী থেমে যাবে। তুমি শুধু নিঃশ্বাস নিও, আমার জন্য।”
১৩. “এতদিন আমি ‘আমি’ ছিলাম। এখন আমি ‘আমরা’। এই বহুবচনটা আমার খুব প্রিয়। একা আর বাঁচতে ইচ্ছে করে না।”
১৪. “মাঝে মাঝে মনে হয়, তোমাকে আগেও কোথাও দেখেছি। গত জন্মেও কি আমরা এই এক ছাদেই ছিলাম? নাকি ওটা আমার স্বপ্ন ছিল?”
১৫. “তুমি আমাকে শুধরে দিও না। আমার ভুলগুলোকেও ভালোবাসো। কারণ বিয়ের পর মানুষ বদলায় না, মানুষ শুধু আরও বেশি ‘মানুষ’ হয়ে ওঠে।”
শব্দ মানুষকে হাসায়, কাঁদায়, আবার নতুন করে বাঁচতে শেখায়। এই ৫২টি বার্তার মধ্যে যেটি আপনার মনের কথার সাথে সবচেয়ে বেশি মিলে যায়, সেটি বেছে নিন। চাইলে দু-তিনটে লাইন নিজের মতো করে জুড়ে দিন। হোয়াটসঅ্যাপে টেক্সট করার চেয়েও ভালো হয় যদি একটা ছোট কার্ডে নিজের হাতে লিখে উপহারের সাথে দেন। অথবা নিজের গলার ভয়েস নোট (Voice Note) রেকর্ড করে পাঠান।
ভালোবাসা কোনো নির্দিষ্ট দিনের অপেক্ষা করে না ঠিকই, কিন্তু একটা বিশেষ দিনে সেই ভালোবাসাকে উদযাপন করতে দোষ কী? ২০২৬-এর এই ভ্যালেন্টাইনস ডে আপনাদের জীবনে নিয়ে আসুক একরাশ নতুন স্মৃতি।
নিউজ অফবিট-এর পক্ষ থেকে আপনাদের সবার জন্য রইল অনেক অনেক ভালোবাসা আর শুভকামনা। ভালোবাসুন, আর মন খুলে বলুন— “ভালোবাসি”।
#valentinesdaywishes2026 #lovequotes #bengalilove #romanticmessages #couplegoals #valentinesday2026 #newsoffbeat #chupkotha #kolkata #relationshipadvice
(আরও গুরুত্বপূর্ণ খবর ও রাশিফল আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল WhatsApp চ্যানেলে যোগ দিন! সবচেয়ে আগে পান জ্যোতিষ, অফবিট নিউজ, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি, বিনোদন, জীবনধারা ও অফবিট এক্সক্লুসিভ আপডেট —আমাদের WhatsApp Channel-এ যোগ দিন)
সাম্প্রতিক পোস্ট
- ভোটের বছরেও ‘বঞ্চিত’ বাংলা? হাইস্পিড রেল আর ফ্রেট করিডর ছাড়া ঝুলিতে শূন্য! বাজেটে বাড়ল ক্ষোভের পারদ
- ভোটের আগে পশ্চিমবঙ্গের জন্য বাজেট কি জনদরদী হতে চলেছে? জানুন, লাইভ বাজেট আপডেট ২০২৬
- পুরনো ধাতুর ওপর বিশ্বাস │ রাজপথে কীভাবে ভিন্টেজ গাড়ি হয়ে ওঠে চলমান ইতিহাস
- ঋতুস্রাব আর বাধা নয় শিক্ষায় │ যুগান্তকারী রায় দেশের শীর্ষ আদালতের
- বাজেট প্রত্যাশা ২০২৬ │ ভোটের আগে বাংলার জন্য কী চমক রাখছে কেন্দ্র? │ জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞ অর্থনীতিবিদ

