Bar Bela and Kaal Bela: প্রাচীন পঞ্জিকার বার বেলা ও কাল বেলা কি শুধুই বিশ্বাস, নাকি সূর্যের অবস্থান ও মানুষের দেহঘড়ির গভীর সম্পর্কের ফল? দিনের নির্দিষ্ট সময়ে শক্তি, মনোযোগ ও সিদ্ধান্তক্ষমতার ওঠানামা জানলে বদলে যেতে পারে শুভ–অশুভ সময় নিয়ে আমাদের দীর্ঘদিনের ধারণা।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: বার বেলা ও কাল বেলা—এই শব্দ দু’টি আমরা ছোটবেলা থেকে শুনে আসছি। “এই সময় বেরোবে না”, “এখন নতুন কাজ শুরু করো না”—এমন সতর্কবার্তা বাঙালি পরিবারে খুবই সাধারণ। কিন্তু প্রশ্ন হলো, দিনের নির্দিষ্ট কিছু সময়কে কেন অশুভ ধরা হয়? এটা কি কেবল কুসংস্কার, নাকি এর পেছনে রয়েছে জ্যোতির্বিজ্ঞান, আয়ুর্বেদ ও আধুনিক বায়োরিদম বিজ্ঞানের কোনো যুক্তি?
ভারতীয় পঞ্জিকা মতে, সূর্যের অবস্থান, সপ্তাহের দিন এবং নির্দিষ্ট ‘ঘটিকা’ মিলিয়ে বার বেলা ও কাল বেলা নির্ধারিত হয়। আশ্চর্যের বিষয়, আধুনিক গবেষণাও বলছে—দিনের বিভিন্ন সময়ে মানুষের শরীর ও মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা ওঠানামা করে।এই প্রতিবেদনে আমরা জানবো—বার বেলা ও কাল বেলার প্রকৃত অর্থ, সূর্যের অবস্থানের সঙ্গে এর যোগসূত্র, এবং আধুনিক বায়োরিদম বিজ্ঞান কী বলছে।
বার বেলা ও কাল বেলা কী?
বাংলা পঞ্জিকা ও হিন্দু জ্যোতিষশাস্ত্রে দিনের নির্দিষ্ট কিছু সময়কে অশুভ বা অমঙ্গলজনক বলে ধরা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বার বেলা ও কাল বেলা। সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে সূর্যের নির্দিষ্ট অবস্থানে যে সময়টি পড়ে, সেটিকে বার বেলা বলা হয়। দিনের এমন একটি অংশ, যখন সূর্যের অবস্থান ও গ্রহগত প্রভাব মিলিয়ে সময়টিকে অশুভ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। প্রাচীনকালে মানুষ প্রকৃতিনির্ভর ছিল। সূর্যের উচ্চতা, ছায়ার দৈর্ঘ্য, পাখির আচরণ—সব কিছু পর্যবেক্ষণ করে সময় নির্ধারণ হতো। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই তৈরি হয়েছে এই সময়বিভাগ। বিশেষত নতুন ব্যবসা শুরু, বিয়ে, যাত্রা বা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে এই সময় এড়িয়ে চলার রীতি প্রচলিত।
সূর্যের অবস্থান
পৃথিবী নিজের অক্ষে ঘোরে, আর সেই ঘূর্ণনের ফলেই আমরা দিন-রাত পাই। সূর্যোদয়, মধ্যাহ্ন, সূর্যাস্ত—প্রতিটি পর্যায়ে সূর্যের আলো ও তাপমাত্রা ভিন্ন হয়। মধ্যাহ্নে সূর্য যখন প্রায় মাথার ওপরে, তখন তাপমাত্রা ও আলোর তীব্রতা সর্বাধিক। আয়ুর্বেদ মতে, এই সময় শরীরের ‘পিত্ত’ প্রবল হয়—ফলে রাগ, অস্থিরতা বা মানসিক চঞ্চলতা বাড়তে পারে। আবার বিকেলের দিকে শক্তি কমতে শুরু করে, মনোযোগও হ্রাস পায়।
প্রাচীন পঞ্জিকা রচয়িতারা লক্ষ্য করেছিলেন—দিনের কিছু নির্দিষ্ট সময়ে মানুষের সিদ্ধান্তগ্রহণ ক্ষমতা বা শারীরিক স্থিতি তুলনামূলক দুর্বল থাকে। সেই পর্যবেক্ষণই হয়তো বার বেলা ও কাল বেলার ধারণাকে জন্ম দিয়েছে। অর্থাৎ, এটি সম্পূর্ণ অলৌকিক নয়; বরং প্রকৃতিনির্ভর অভিজ্ঞতার ফসল।
বায়োরিদম
আধুনিক বিজ্ঞানে ‘সার্কাডিয়ান রিদম’ বলতে বোঝায় দেহের ২৪ ঘণ্টার স্বাভাবিক জৈবিক ছন্দ। আমাদের মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস অংশে অবস্থিত ‘সুপ্রাকায়াজম্যাটিক নিউক্লিয়াস’ দেহঘড়িকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং আলো–অন্ধকারের পরিবর্তনের সঙ্গে শরীরকে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে। গবেষণায় দেখা গেছে—সকাল ৮টা থেকে ১১টা মনোযোগ, বিশ্লেষণ ক্ষমতা ও মানসিক সতর্কতা সবচেয়ে বেশি থাকে। দুপুর ১টা থেকে ৩টা শরীরের শক্তি কিছুটা কমে যায়, ক্লান্তি ও তন্দ্রাভাব দেখা দেয়। সন্ধ্যার পর হরমোন নিঃসরণের ধরণ বদলে যায়, শরীর ধীরে ধীরে বিশ্রামের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। এই ওঠানামাকেই বলা হয় দেহের স্বাভাবিক ছন্দ। অর্থাৎ দিনের সব সময় সমান কার্যকর নয়। কিছু সময় নতুন কাজ শুরু করলে সফলতার সম্ভাবনা বেশি থাকে, আবার কিছু সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া বা গুরুত্বপূর্ণ কাজ শুরু করলে ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হতে পারে। এখানেই বার বেলা ও কাল বেলার সঙ্গে একটি আকর্ষণীয় মিল খুঁজে পাওয়া যায়—প্রাচীন মানুষ হয়তো দীর্ঘ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এমন সময়গুলো চিহ্নিত করেছিলেন, যখন মানুষের শক্তি, মনোযোগ বা স্থিতি স্বাভাবিকের তুলনায় কম থাকে।
বার বেলা ও কাল বেলাকে অনেকে নিছক কুসংস্কার বলেন। আবার কেউ মনে করেন, এতে রয়েছে গভীর জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ও মানসিক বিজ্ঞান। সত্যি বলতে, এর কোনও নির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই যে এই সময়েই দুর্ঘটনা বা অমঙ্গল ঘটবেই। তবে এটাও সত্য—মানুষের শরীর ও মনের কার্যক্ষমতা সময়ভেদে বদলায়। তাই গুরুত্বপূর্ণ কাজের সময় নির্বাচন করার ক্ষেত্রে নিজের শরীরঘড়ি, মানসিক প্রস্তুতি ও বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করাই বুদ্ধিমানের কাজ।অতএব, বার বেলা ও কাল বেলা হয়তো আমাদের পূর্বপুরুষদের একটি সতর্কবার্তা—“সময়কে বুঝে কাজ করো।”
সাম্প্রতিক পোস্ট
- স্মার্ট সিটির কর্পোরেট চাকচিক্যের আড়ালে ‘বিষ-জল’! আইটি হাবের ঠিকানায় সাপুরজির ই-ব্লকে হাহাকার
- ভাগ্য বদলাতে চান? গ্রহের প্রতিকার হিসেবে এই রঙের পোশাকই হতে পারে চাবিকাঠি!
- টি-২০ বিশ্বকাপে ভারতের জয় অব্যাহত │ লণ্ডভণ্ড চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান
- মঞ্চে উঠলেই ভয়? │ পাবলিক স্পিকিং ভীতি কাটানোর ৫টি কৌশল জানুন এখনই
- গায়ে হঠাৎ র্যাশ? মিথ ভেঙে জানুন, চিকেন পক্সের এই লক্ষণগুলো

