St. Xavier’s University Seventh Convocation 2026: ১০৫২ শিক্ষার্থীর সাফল্য, ২৫ গবেষকের ডিগ্রি এবং ১৭ স্বর্ণপদকের গৌরবময় মুহূর্তে সেন্ট জেভিয়ার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের সপ্তম সমাবর্তন ২০২৬ হতে চলেছে এক ঐতিহাসিক অধ্যায়। সম্মানসূচক ডিগ্রি, অবকাঠামোগত বিস্তার ও নতুন পাঠক্রমের ঘোষণা এই অনুষ্ঠানে যোগ করছে বিশেষ তাৎপর্য।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন শুধু ডিগ্রি প্রদান নয়—এটি এক প্রজন্মের স্বপ্নপূরণের দিন, পরিবারগুলোর গর্বের মুহূর্ত এবং প্রতিষ্ঠানের অগ্রগতির এক উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি। কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স বিশ্ববিদ্যালয় তাদের সপ্তম সমাবর্তন উৎসব আয়োজন করতে চলেছে এক বিশেষ প্রেক্ষাপটে—যেখানে একদিকে থাকছে আন্তর্জাতিক ধর্মীয় নেতৃত্বের উপস্থিতি, অন্যদিকে থাকছে জাতীয় রাজনীতির বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে সম্মানসূচক ডিগ্রি প্রদান। ১০৫২ জন স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী এবং ২৫ জন গবেষক এই মঞ্চে তাদের বহু বছরের পরিশ্রমের স্বীকৃতি পাবেন। কেন এই অনুষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ? কারণ এটি শুধু শিক্ষার্থীদের নয়, সমগ্র পূর্ব ভারতের উচ্চশিক্ষার মানচিত্রে এক বড় পরিবর্তনের সাক্ষ্য বহন করছে। এই প্রতিবেদনে জানুন সমাবর্তনের তাৎপর্য, অবকাঠামোগত বিস্তার, নতুন পাঠক্রম, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিস্তারিত চিত্র।
ঐতিহ্য ও গৌরবের মঞ্চে সপ্তম সমাবর্তন
আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি নিউ টাউনের বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে সেন্ট জেভিয়ার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের সপ্তম সমাবর্তন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য রেভারেন্ড ডক্টর জন ফেলিক্স রাজের নেতৃত্বে এই অনুষ্ঠান বিশেষ মর্যাদা পাচ্ছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন রোম, ইতালি ভিত্তিক যিশু সংঘের সর্বোচ্চ নেতা রেভারেন্ড ডক্টর আর্তুরো সোসা। ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত পুরোহিত ও বিশিষ্টজনেরা এই গৌরবময় মুহূর্তের সাক্ষী হবেন। এই সমাবর্তনে ১০৫২ জন স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী এবং ২৫ জন গবেষক তাঁদের ডিগ্রি গ্রহণ করবেন। ১৭ জন কৃতী শিক্ষার্থী স্বর্ণপদক অর্জন করবেন তাঁদের অসাধারণ ফলাফলের জন্য। একসঙ্গে এত সংখ্যক শিক্ষার্থীর সাফল্য উদযাপন নিঃসন্দেহে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক মানের প্রমাণ বহন করে।
সম্মানসূচক ডিগ্রি পাচ্ছেন ডক্টর শশী থারুর
এই বছরের অন্যতম আকর্ষণ হল বিশিষ্ট সাংসদ ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ব্যক্তিত্ব ডক্টর শশী থারুরকে সম্মানসূচক ডিগ্রি প্রদান। তিরুবনন্তপুরমের সাংসদ এবং পররাষ্ট্র বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সভাপতি হিসেবে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও বৌদ্ধিক অবদান তাঁকে এই সম্মানের উপযুক্ত করে তুলেছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ডক্টর থারুরের সাহিত্যচর্চা, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পক্ষে তাঁর অবস্থান শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। সমাবর্তনের মঞ্চে তাঁর উপস্থিতি নতুন প্রজন্মকে বৈশ্বিক চিন্তা ও দায়িত্বশীল নাগরিকত্বের বার্তা দেবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোয় বিনিয়োগ
২০১৭ সাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টির শারীরিক ও একাডেমিক পরিকাঠামোয় নাটকীয় পরিবর্তন এসেছে। প্রায় ৫৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে গড়ে উঠছে আধুনিক শিক্ষাঙ্গন। দ্বিতীয় একাডেমিক ভবন প্রায় সম্পূর্ণ, যেখানে থাকবে আধুনিক শ্রেণিকক্ষ, পরীক্ষাগার, গ্রন্থাগার ও মক আদালত। আসন্ন প্রধান প্রেক্ষাগৃহে প্রায় ১৫০০ জনের বসার ব্যবস্থা থাকবে। পাশাপাশি ৬০০ ও ৩০০ আসনবিশিষ্ট দুটি ছোট প্রেক্ষাগৃহ নির্মাণাধীন। পরিকল্পনায় রয়েছে ৭৫ কক্ষবিশিষ্ট ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন ব্লক, যেখানে বিশিষ্ট অতিথিদের জন্য বিশেষ আবাসনের ব্যবস্থাও থাকবে। শুধু পড়াশোনা নয়, খেলাধুলায় উৎসাহ দিতে দুটি সুইমিং পুল নির্মাণের কথাও ভাবা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সাঁতার প্রশিক্ষণ দেওয়ার বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে—যা সর্বাঙ্গীণ বিকাশের লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
২০২৬ সাল থেকে প্রকৌশল স্নাতক পাঠক্রম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তীতে প্রকৌশল স্নাতকোত্তর পাঠক্রমও যুক্ত হবে। এছাড়া সমন্বিত ব্যবস্থাপনা, সমন্বিত শিক্ষক শিক্ষা, নকশা বিদ্যা, সেবিকা শিক্ষা এবং একটি চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় স্থাপনের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। কর্পোরেট ক্ষেত্র থেকে উল্লেখযোগ্য সাড়া পাচ্ছে কার্যনির্বাহী ব্যবস্থাপনা স্নাতকোত্তর পাঠক্রম। ভবিষ্যতে এটি আংশিক অনলাইন পদ্ধতিতে চালুর ভাবনা রয়েছে। হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় বিশেষ ব্যবস্থাপনা পাঠক্রম চালুর পরিকল্পনাও চলছে, যাতে দক্ষ প্রশাসনিক কর্মী তৈরি করা যায়। কর্মজীবী পেশাজীবী ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য স্বল্পমেয়াদি সনদ ও ডিপ্লোমা পাঠক্রম চালুর কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।
২০২৫ সালের নভেম্বরে ষষ্ঠ একাডেমিক ও প্রশাসনিক নিরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। বাহ্যিক বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর শিক্ষাব্যবস্থাপনা প্রবর্তিত হয়েছে, যা পূর্ব ভারতের মধ্যে প্রথম। যুক্তরাজ্যভিত্তিক শিক্ষাপ্রযুক্তি সংস্থার সঙ্গে অংশীদারিত্বে এই আধুনিক পদ্ধতি চালু হয়েছে। এতে রয়েছে অ্যাসাইনমেন্ট ব্যবস্থাপনা, অনলাইন পরীক্ষা ও পাঠ্যসামগ্রী নিয়ন্ত্রণের সুবিধা—যা শিক্ষকদের শিক্ষার্থীদের সাফল্যে আরও মনোনিবেশ করতে সহায়তা করছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চাকাঙ্ক্ষী ‘দৃষ্টি ২০৩০’ পরিকল্পনা অনুযায়ী ১০,০০০ শিক্ষার্থী ভর্তির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ও বহুমুখী পাঠক্রম এই লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে।
সেন্ট জেভিয়ার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের সপ্তম সমাবর্তন কেবল একটি আনুষ্ঠানিক ডিগ্রি প্রদান অনুষ্ঠান নয়, এটি এক স্বপ্নযাত্রার গৌরবময় পরিণতি এবং নতুন সম্ভাবনার দ্বারোদ্ঘাটন। একদিকে যেমন হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর বহু বছরের অধ্যবসায়ের স্বীকৃতি মিলবে, তেমনি অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত বিস্তার, নতুন পাঠক্রম প্রবর্তন এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার দৃঢ় ভিত্তিও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। সম্মানসূচক ডিগ্রি প্রদান থেকে শুরু করে গবেষণা ও মানোন্নয়নের প্রস্তুতি—সব মিলিয়ে এই সমাবর্তন প্রমাণ করে যে প্রতিষ্ঠানটি কেবল বর্তমানেই নয়, আগামীর শিক্ষাক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে প্রস্তুত। ঐতিহ্য, মূল্যবোধ ও আধুনিকতার সমন্বয়ে এই অগ্রযাত্রা নিঃসন্দেহে শিক্ষাজগতে এক অনুপ্রেরণার অধ্যায় হয়ে থাকবে।
#StXaviersUniversity, #Convocation2026 #SXUK #KolkataEducation #ShashiTharoor #UniversityNews #HigherEducation #KolkataEvents
সাম্প্রতিক পোস্ট
- স্মার্ট সিটির কর্পোরেট চাকচিক্যের আড়ালে ‘বিষ-জল’! আইটি হাবের ঠিকানায় সাপুরজির ই-ব্লকে হাহাকার
- ভাগ্য বদলাতে চান? গ্রহের প্রতিকার হিসেবে এই রঙের পোশাকই হতে পারে চাবিকাঠি!
- টি-২০ বিশ্বকাপে ভারতের জয় অব্যাহত │ লণ্ডভণ্ড চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান
- মঞ্চে উঠলেই ভয়? │ পাবলিক স্পিকিং ভীতি কাটানোর ৫টি কৌশল জানুন এখনই
- গায়ে হঠাৎ র্যাশ? মিথ ভেঙে জানুন, চিকেন পক্সের এই লক্ষণগুলো

