Shashi Tharoor Speech: সেন্ট জেভিয়ার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন মঞ্চে সম্মানিত হলেন বিশিষ্ট কূটনীতিবিদ ও সাংসদ শশী থারুর, তরুণ প্রজন্মকে দিলেন দায়িত্ব, গণতন্ত্র ও মানবিক মূল্যবোধ রক্ষার শক্তিশালী আহ্বান।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: কলেজ জীবনের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্তগুলোর একটি হল Convocation বা সমাবর্তন। আর সেই মঞ্চে যখন উপস্থিত থাকেন দেশের এক বিশিষ্ট কূটনীতিবিদ, প্রাবন্ধিক ও সাংসদ, তখন অনুষ্ঠান পায় অন্য মাত্রা। কলকাতার শিক্ষা-মানচিত্রে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা। নিউ টাউনের বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত সপ্তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বড় ঘোষণা করল সেন্ট জেভিয়ার্স ইউনিভার্সিটি, কলকাতা (এসএক্সইউকে)। এই অনুষ্ঠানে সম্মানসূচক ডক্টরেট (Honoris Causa D.Litt) প্রদান করা হয় শশী থারুর-কে। তিনি ভারতের একজন প্রখ্যাত কূটনীতিবিদ, স্বনামধন্য লেখক (Author), কেরালার তিরুবনন্তপুরম কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত চারবারের সংসদ সদস্য, প্রাক্তন জাতিসংঘের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা।
আরও পড়ুন : ঐতিহ্য ও গৌরবের মঞ্চে সেন্ট জেভিয়ার্স বিশ্ববিদ্যালয়: সপ্তম সমাবর্তনে নতুন দিগন্তের সূচনা
সেন্ট জেভিয়ার্স ইউনিভার্সিটি, কলকাতার উপাচার্য রেভারেন্ড ডক্টর জন ফেলিক্স রাজ ঘোষণা করেন, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হচ্ছে বি.টেক পাঠ্যক্রম। তিনি আরও জানান, সময়ের সঙ্গে যুক্ত হবে এম.টেক পাঠ্যক্রমও। এই ঘোষণা শুধু একটি নতুন পাঠ্যক্রম চালুর খবর নয়—এটি পূর্ব ভারতের উচ্চশিক্ষা পরিসরে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়। প্রযুক্তি, ব্যবস্থাপনা ও মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে ভবিষ্যতের শিক্ষার রূপরেখা কেমন হতে পারে, তারই ইঙ্গিত মিলল এই মঞ্চে। আজকের এই প্রতিবেদনে থাকছে সমাবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত, বিশিষ্ট অতিথিদের বক্তব্য, অবকাঠামো উন্নয়ন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা এবং ‘ভিশন ২০৩০’-এর রূপরেখা।
এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই দেখছেন, শিক্ষাক্ষেত্রে এক কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে। বর্তমানে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের যুগে প্রকৌশল শিক্ষার চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। এসএক্সইউকে এতদিন মূলত মানববিদ্যা, বাণিজ্য, ব্যবস্থাপনা ও সমাজবিজ্ঞান বিষয়ে পরিচিত ছিল। এখন বি.টেক চালুর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টি একটি পূর্ণাঙ্গ বহু-বিষয়ভিত্তিক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত হতে চলেছে।
উপাচার্যের কথায়, ভবিষ্যতের লক্ষ্য শুধু নতুন পাঠ্যক্রম সংযোজন নয়, বরং এমন এক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা যেখানে প্রযুক্তি ও মানবিকতা পাশাপাশি বিকশিত হবে।

তরুণদের কী বার্তা দিলেন শশী থারুর? (Shashi Tharoor Speech)
সমাবর্তনের মঞ্চে দাঁড়িয়ে শশী থারুর প্রথমেই শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, প্রতিটি ডিগ্রি কেবল ব্যক্তিগত কৃতিত্ব নয়, বরং দেশের ভবিষ্যতের প্রতি একটি বিনিয়োগ। তাঁর কথায়, প্রতিটি প্রযুক্তিগত সাফল্যের পিছনে থাকে মানুষের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা। আর প্রতিটি প্রাতিষ্ঠানিক বিতর্কের পিছনে থাকে মূল্যবোধের প্রশ্ন। তিনি শিক্ষার্থীদের মনে করিয়ে দেন, শুধু প্রযুক্তি জানা বা তথ্য অর্জন করাই যথেষ্ট নয়। জ্ঞানকে মানবিকতা, নৈতিকতা ও সহমর্মিতার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। ভারতের মতো বৈচিত্র্যময় ও মতবিরোধপূর্ণ সমাজে প্রয়োজন এমন মনন, যা প্রশ্ন করতে পারে, শুনতে পারে এবং ভিন্ন মতকে সম্মান করতে পারে। শিক্ষার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত নিজের বিবেককে (Conscience) জাগ্রত করা। শিক্ষার একমাত্র উদ্দেশ্য কেবল পেশাগত উন্নতি বা ক্যারিয়ার গঠন নয়। একজন শিক্ষার্থীর জ্ঞান যেন সমাজের বৃহত্তর কল্যাণে এবং নৈতিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় ব্যবহৃত হয়। তিনি উল্লেখ করেন যে, সেন্ট জেভিয়ার্স ইউনিভার্সিটি শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের চেতনার বিকাশের এই আদর্শকে ধারণ করে আসছে।
শশী থারুর বলেন, আজকের বিশ্বে প্রযুক্তি দ্রুত এগোচ্ছে, কিন্তু তার সঙ্গে সঙ্গে মূল্যবোধের আলোচনাও জরুরি। তিনি বোঝাতে চান, শিক্ষা শুধুমাত্র একটি চাকরি পাওয়ার মাধ্যম নয়। শিক্ষা এমন এক প্রক্রিয়া, যা মানুষকে চিন্তা করতে শেখায়, বিশ্লেষণ করতে শেখায় এবং নৈতিকভাবে দৃঢ় করে তোলে। একটি শক্তিশালী গণতন্ত্রের জন্য প্রয়োজন সচেতন, সহমর্মী এবং যুক্তিবাদী নাগরিক। আর সেই নাগরিক তৈরির ভিত্তি হল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা।
অন্যান্য বক্তাদের বার্তা
সমাবর্তনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রেভারেন্ড ডক্টর আর্তুরো সোসা। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, আমরা এমন এক সময়ে বাস করছি যখন বিশ্বে অভূতপূর্ব অগ্রগতি ঘটছে। কিন্তু এই অগ্রগতির মধ্যেও মানবিক মূল্যবোধকে অটুট রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন।
এই সমাবর্তনে বহু শিক্ষার্থী ডিগ্রি অর্জন করেন এবং স্বর্ণপদক লাভ করেন কৃতিত্বের জন্য। কিন্তু বক্তৃতাগুলোর মূল সুর ছিল একটাই— ডিগ্রি পাওয়া শেষ লক্ষ্য নয়, এটি একটি নতুন যাত্রার শুরু। শশী থারুরের বার্তা ছিল স্পষ্ট (Shashi Tharoor Speech), তরুণ প্রজন্ম শুধু নিজেদের ভবিষ্যৎ নয়, দেশের ভবিষ্যৎও গড়ে তুলবে। তাই প্রয়োজন জ্ঞান, সততা, সহমর্মিতা এবং দায়িত্ববোধ।
#StXaviersUniversity, #Convocation2026 #SXUK #KolkataEducation #ShashiTharoor #UniversityNews #HigherEducation #KolkataEvents
সাম্প্রতিক পোস্ট
- স্মার্ট সিটির কর্পোরেট চাকচিক্যের আড়ালে ‘বিষ-জল’! আইটি হাবের ঠিকানায় সাপুরজির ই-ব্লকে হাহাকার
- ভাগ্য বদলাতে চান? গ্রহের প্রতিকার হিসেবে এই রঙের পোশাকই হতে পারে চাবিকাঠি!
- টি-২০ বিশ্বকাপে ভারতের জয় অব্যাহত │ লণ্ডভণ্ড চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান
- মঞ্চে উঠলেই ভয়? │ পাবলিক স্পিকিং ভীতি কাটানোর ৫টি কৌশল জানুন এখনই
- গায়ে হঠাৎ র্যাশ? মিথ ভেঙে জানুন, চিকেন পক্সের এই লক্ষণগুলো

