Indian Parenting vs Dutch Parenting: মুম্বাইয়ে বসবাসকারী এক ডাচ মা তুলে ধরলেন ভারত ও নেদারল্যান্ডসের সন্তান পালনের পার্থক্য— যেখানে একদিকে স্বাধীনতা, অন্যদিকে পরিবার ও সামাজিক বন্ধনের গুরুত্ব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে তাঁর অভিজ্ঞতায়।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: মুম্বাইয়ে প্রায় নয় বছর ধরে বসবাস করছেন ডাচ মা ইভানা। সম্প্রতি তাঁর মেয়ের দ্বিতীয় জন্মদিন উপলক্ষে সোশ্যাল মিডিয়ায় এক আবেগঘন অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন তিনি। সেখানে তিনি তুলে ধরেছেন ভারত ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে সন্তান পালনের সংস্কৃতিগত পার্থক্য— তবে তুলনা করার জন্য নয়, বরং দুই ভিন্ন সমাজের বাস্তব অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার উদ্দেশ্যে।
ইভানা জানান, নেদারল্যান্ডসে সন্তান পালন অনেকটাই একক যাত্রার মতো— যেখানে বাবা-মাকেই বেশিরভাগ দায়িত্ব নিজেরাই সামলাতে হয়। কিন্তু মুম্বাইয়ে এসে তিনি একেবারে ভিন্ন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হন। এখানে পরিবার, প্রতিবেশী— সবাই মিলে যেন এক শক্তিশালী সামাজিক নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে, যা শিশুকে বড় করে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে একেবারেই বাস্তব, কোনো কল্পনা নয়।
তবে এই পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে শুরুতে কিছুটা সময় লেগেছিল বলেও স্বীকার করেছেন তিনি। কারণ ডাচ সংস্কৃতিতে ছোটবেলা থেকেই শিশুদের স্বনির্ভর হতে শেখানো হয়— এমনকি তারা একাই স্কুলে যাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলে। অন্যদিকে, ভারতে শিশুদের দীর্ঘ সময় পর্যন্ত বাবা-মায়ের সান্নিধ্যে বড় হওয়ার প্রথা প্রচলিত।
ভারতের এই পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধন ইভানাকে মুগ্ধ করেছে। তিনি মনে করেন, বৃহত্তর সমাজের সঙ্গে মিশে বড় হওয়া, বড়দের সম্মান করা— এই শিক্ষাগুলো শিশুদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে তিনি এটাও উল্লেখ করেছেন যে ভারতে খুব অল্প বয়স থেকেই পড়াশোনার চাপ শুরু হয়ে যায়— পরীক্ষা, নম্বর ও ভবিষ্যৎ কেরিয়ার নিয়ে ভাবনা শিশুর জীবনে তাড়াতাড়ি প্রবেশ করে। অন্যদিকে, নেদারল্যান্ডসে শিশুদের শৈশব উপভোগ করার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়, এবং শেখার আগ্রহ স্বাভাবিকভাবেই গড়ে ওঠে বলে সেখানে বিশ্বাস করা হয়।
ভারতের আরেকটি দিক তাঁকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে— এখানে প্রায় সব জায়গাতেই শিশুদের স্বাগত জানানো হয়। রেস্তোরাঁ হোক বা সামাজিক অনুষ্ঠান, শিশুদের উপস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই গ্রহণ করা হয়। কিন্তু নেদারল্যান্ডসে শিশুদের জন্য নির্দিষ্ট কিছু পরিসর রয়েছে, যেখানে তাদের প্রবেশ সীমাবদ্ধ।
এছাড়াও, ডাচ সংস্কৃতিতে শিশুদের ছোটবেলা থেকেই নিজের মতামত প্রকাশ করতে এবং যুক্তি দিয়ে কথা বলতে উৎসাহ দেওয়া হয়। ভারতের ক্ষেত্রে এই সুযোগ তুলনামূলকভাবে কম বলেই তিনি মনে করেন।
ইভানা আরও জানান, তাঁর মেয়ে স্বাভাবিকভাবেই তিনটি ভাষার পরিবেশে বড় হচ্ছে— যা ভারতের বৈচিত্র্যময় ভাষিক পরিবেশেরই প্রতিফলন। তাঁর মতে, এই বহুভাষিক পরিবেশ শিশুর মানসিক বিকাশে অসাধারণ ভূমিকা রাখে।
সবশেষে, তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন— তিনি কোনোভাবেই দুই দেশের মধ্যে কে শ্রেষ্ঠ তা প্রমাণ করতে চান না। বরং তাঁর মতে, দুই সংস্কৃতিরই নিজস্ব ইতিবাচক দিক রয়েছে, যা শিশুদের বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর নিজের কথায়, “ভারত আমাকে শিখিয়েছে— একা নয়, একসাথে চলতে হয়। আর নেদারল্যান্ডস আমাকে আত্মবিশ্বাসী হতে শিখিয়েছে।”
সব মিলিয়ে, ইভানার অভিজ্ঞতা আমাদের সামনে স্পষ্ট করে তোলে যে সন্তান পালনের ক্ষেত্রে কোনো একটিই ‘সঠিক’ পদ্ধতি নয় (Indian Parenting vs Dutch Parenting)। বরং ভিন্ন সংস্কৃতি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আসে, যা শিশুর বিকাশকে নানা দিক থেকে সমৃদ্ধ করতে পারে। একদিকে স্বাধীনতা ও আত্মবিশ্বাস, অন্যদিকে পারিবারিক বন্ধন ও সামাজিক সহায়তা— এই দুইয়ের সমন্বয়ই হয়তো একটি শিশুর জন্য সবচেয়ে সুস্থ ও পূর্ণাঙ্গ পরিবেশ তৈরি করতে পারে।
সাম্প্রতিক পোস্ট
- বৃদ্ধ বয়সে ডিভোর্স চাইছেন পঙ্কজ-ডিম্পল! মাঝখানে ফেঁসে গেলেন অপরশক্তি খুরানা?
- ‘গুজারিশ’-এর ইথান মাসকারেনহাস আজ বাস্তব! ১৩ বছরের যন্ত্রণার অবসান, দেশে প্রথমবার ইউথেনেশিয়া (নিষ্কৃতিমৃত্যুর) অনুমতি সুপ্রিম কোর্টের
- স্বেচ্ছামৃত্যু কি ভারতে বৈধ? স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন কে করতে পারেন? ভারতে ইউথানেসিয়া নিয়ে কী বলছে আইন
- মাছ-মাংস না খেলেও শরীর থাকবে ফিট! জেনে নিন, ৩টি হেলদি সুস্বাদু নিরামিষ রেসিপি
- যোটক বিচার কি সত্যিই কাজ করে? বিয়ের আগে আসলে কোনটা জরুরি, কী বলছে আধুনিক বিজ্ঞান?

