Journalist Turned Politicians Bengal: যাঁরা এতদিন নেতাদের প্রশ্নের মুখে ফেলতেন, এবার তাঁরাই দাঁড়িয়েছেন জনতার বিচারে। ভোটের ময়দানে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতার পরীক্ষা দিচ্ছেন দুই পরিচিত সাংবাদিক-প্রার্থী। খড়দহে দেবদীপ পুরোহিত ও সিউড়িতে জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়— দুই সাংবাদিক প্রার্থীকে ঘিরে বাড়ছে চর্চা।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: এতদিন যাঁরা ক্যামেরার এপারে দাঁড়িয়ে রাজনৈতিক নেতা-মন্ত্রীদের প্রশ্নের মুখে ফেলতেন, মানুষের হয়ে জবাবদিহি চাইতেন, তাঁরাই এবার নেমেছেন সরাসরি ভোটের ময়দানে। সংবাদমাধ্যমের পর্দা ছেড়ে এবার জনতার দরবারে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা যাচাইয়ের চ্যালেঞ্জ নিচ্ছেন দুই সাংবাদিক। রাজ্যের আসন্ন নির্বাচনে শাসক ও বিরোধী— দুই প্রধান শিবিরই বাজি ধরেছে এমন দুই পরিচিত সাংবাদিক মুখের উপর, যাঁরা এতদিন মানুষের প্রশ্ন রাজনীতির অন্দরমহলে পৌঁছে দিয়েছেন, এবার সেই মানুষের কাছেই চাইবেন ভোট।
এই প্রতিবেদনে থাকছে তেমনই দুই চর্চিত প্রার্থীর কথা—
একজন খড়দহ বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী দেবদীপ পুরোহিত,
অপরজন সিউড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়।
দু’জনেই পেশায় সাংবাদিক হলেও তাঁদের পরিচয় শুধুমাত্র সংবাদমাধ্যমে সীমাবদ্ধ নয়। সম্পূর্ণ ভিন্ন অভিজ্ঞতা, স্বতন্ত্র দৃষ্টিভঙ্গি এবং জনসংযোগের জোরে তাঁরা রাজনীতির মূল স্রোতে প্রবেশ করেছেন নতুন মুখ হিসেবে। প্রচলিত রাজনৈতিক ঘরানার বাইরে থেকে উঠে আসা এই দুই প্রার্থী ইতিমধ্যেই কৌতূহল তৈরি করেছেন রাজনৈতিক মহলে।
প্রশ্ন উঠছে— মানুষের সমস্যা, প্রশাসনের ব্যর্থতা এবং উন্নয়নের দাবিকে এতদিন যাঁরা সামনে আনতেন, ক্ষমতার অন্দরমহলে পৌঁছে দিলে তাঁরা কি এবার নিজেরাই সেই পরিবর্তনের মুখ হতে পারবেন? আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে কি এই নতুন প্রজন্মের মুখদের মধ্যে থেকেই উঠে আসবে বড় প্রশাসনিক নেতৃত্ব?
এখন সেই উত্তর লুকিয়ে ভোটের বাক্সে। বাংলার রাজনীতি কি পেতে চলেছে এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়— সেটাই দেখার। পদবি শুনে অনেকেরই প্রথমে অবাক লাগতে পারে— পুরোহিত, অর্থাৎ তিনি আদতে বাঙালি নন। ঠিকই, খড়দহের তৃণমূল প্রার্থী দেবদীপ পুরোহিতের শিকড় রাজস্থানে। তাঁর পরিবার মূলত রাজস্থানের বাসিন্দা। পরবর্তীকালে তাঁর বাবা কলকাতায় চলে আসেন, আর সেই সূত্রেই কলকাতায় বড় হয়ে ওঠা দেবদীপের।
দুই ভিন্নধারার পেশা থেকে সাংবাদিকতা, ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান (Journalist Turned Politicians Bengal)
ছাত্রজীবন থেকেই তিনি মেধাবী ও পরিশ্রমী। রামকৃষ্ণ মিশনের ছাত্র হিসেবে শিক্ষাজীবন শুরু করে পরে অর্থনীতি নিয়ে পড়াশোনা করেন দেবদীপ পুরোহিত। পেশাগত জীবনে সাংবাদিকতা করলেও অর্থনীতি ও নীতিনির্ধারণ নিয়ে তাঁর আগ্রহ বরাবরই স্পষ্ট।
এই প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই উঠতে শুরু করেছে এক বড় প্রশ্ন—
খড়দহ কি আবার বাংলাকে উপহার দিতে চলেছে আর এক অর্থমন্ত্রী?
কারণ এই কেন্দ্র থেকেই অতীতে পশ্চিমবঙ্গ পেয়েছে দুই বিশিষ্ট অর্থমন্ত্রী— অসীম দাশগুপ্ত এবং অমিত মিত্র। ফলে দেবদীপ পুরোহিতের শিক্ষাগত ও পেশাগত পটভূমি দেখে অনেকের মনেই প্রশ্ন, তিনি কি ভবিষ্যতে সেই ধারার তৃতীয় সংযোজন হতে পারেন?
অবশ্য সেই উত্তর এখনই দেওয়া সম্ভব নয়। তিনি নির্বাচনে জিতবেন কি না, তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় ফিরবে কি না, এবং ফিরলে তাঁর কাঁধে বড় দায়িত্ব আসবে কি না— সবটাই সময়ের অপেক্ষা। তবে এটুকু স্পষ্ট, খড়দহের ভোট এবার শুধুই একটি বিধানসভা আসনের লড়াই নয়; তা হয়ে উঠেছে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়েও জল্পনার কেন্দ্রবিন্দু।
খড়দহের তৃণমূল প্রার্থী দেবদীপ পুরোহিত কেবল পেশায় সাংবাদিক নন, তাঁর শিক্ষাগত ও পেশাগত পথচলাও যথেষ্ট ব্যতিক্রমী। অর্থনীতির ছাত্র হিসেবে কর্মজীবনের শুরু করেছিলেন অর্থনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে। পরে সেই পেশা ছেড়ে তিনি প্রবেশ করেন সাংবাদিকতায় এবং দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত থাকেন দেশের অন্যতম প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ-এর সঙ্গে একজন সাংবাদিক হিসেবে।
জন্মসূত্রে রাজস্থানি হলেও বাংলা ভাষায় বলা ও লেখায় সমান দক্ষ দেবদীপ। তাঁর লেখনীতে বারবার উঠে এসেছে সমাজের নানা অসঙ্গতি, বৈষম্য এবং প্রান্তিক মানুষের কথা। পড়াশোনার প্রতি গভীর অনুরাগী দেবদীপ বড় হয়েছেন খড়দহেই। তাঁর শিক্ষাজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ কেটেছে রহড়া রামকৃষ্ণ মিশনে, যার প্রভাব তাঁর জীবনদর্শনে স্পষ্ট।
দেবদীপ নিজেই একাধিকবার বলেছেন, তিনি মাটিতে পা রেখে চলার শিক্ষা পেয়েছেন রামকৃষ্ণ মিশন থেকে। তাঁর বিশ্বাস, উন্নয়নের পথে ধর্ম কোনওদিন বাধা হতে পারে না। সমাজের সকল শ্রেণি, সকল ধর্ম এবং সকল সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য সমানভাবে কাজ করাই তাঁর লক্ষ্য। নির্বাচনে জয়ী হলে মানুষের আরও কাছাকাছি থেকে কাজ করাই হবে তাঁর প্রধান অঙ্গীকার।
অন্যদিকে, শিউড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়-ও সাংবাদিকতা জগতের পরিচিত মুখ। তিনি দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত আনন্দবাজার পত্রিকা-র সঙ্গে। তবে তাঁর শিক্ষাজীবন আলাদা— তিনি পদার্থবিদ্যার ছাত্র। বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করার পর তিনি সাংবাদিকতায় পা রাখেন এবং ধীরে ধীরে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন রাজ্যের অন্যতম পরিচিত সাংবাদিক হিসেবে।
এবার সেই জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ই বিজেপির মুখ হয়ে লড়ছেন শিউড়ি থেকে। ফলে এবারের নির্বাচন কেবল রাজনৈতিক লড়াই নয়, বরং দুই সাংবাদিক-প্রার্থীর মাধ্যমে এক নতুন ধরনের রাজনৈতিক পরীক্ষারও সাক্ষী হতে চলেছে বাংলা।
শিউড়ির বিজেপি প্রার্থী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ও ভোটের ময়দানে নামার পর থেকেই জোর দিচ্ছেন জনসংযোগ বাড়ানোর উপর। নিয়মিত এলাকায় ঘুরে ঘুরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলছেন তিনি, শুনছেন তাঁদের অভাব-অভিযোগ, সমস্যা এবং প্রত্যাশার কথা। স্থানীয় বাসিন্দাদের নানা দাবি-দাওয়া ও দীর্ঘদিনের সমস্যা সামনে আসতেই তিনি আশ্বাস দিয়েছেন— নির্বাচিত হলে সেই বিষয়গুলিতে দ্রুত পদক্ষেপ করবেন এবং এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য নিরন্তর কাজ করবেন।
একদিকে অর্থনীতি-মনস্ক, সমাজসচেতন দেবদীপ পুরোহিত; অন্যদিকে বিজ্ঞানমনস্ক, (Journalist Turned Politicians Bengal) মাঠে নেমে মানুষের কথা শোনা জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়— দুই ভিন্ন রাজনৈতিক শিবিরের এই দুই সাংবাদিক-প্রার্থী এবারের নির্বাচনে এনে দিয়েছেন আলাদা মাত্রা। এতদিন যাঁরা প্রশ্ন করতেন, এবার তাঁদেরই জবাব দিতে হবে মানুষের সামনে। ক্যামেরার সামনে নয়, এবার জনতার আদালতেই পরীক্ষা হবে তাঁদের গ্রহণযোগ্যতার। ভোটের ফল বলবে কে জিতবেন, কিন্তু একটি বিষয় স্পষ্ট— বাংলার রাজনীতিতে নতুন ধরনের নেতৃত্বের চাহিদা বাড়ছে, আর সেই পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবেই উঠে আসছেন এই দুই সাংবাদিক-প্রার্থী।
সাম্প্রতিক পোস্ট
- দিনের ২৪ ঘণ্টা বদলে দিতে পারে আপনার জীবন! জানুন, সময় ব্যবহারের এই সহজ কৌশল
- পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে তরুণ তুর্কিদের ঝড়! ভোটের ময়দানে কতটা প্রভাব ফেলছে যুব মুখ?
- শালিমার বাগের ভবিষ্যৎ রহস্য: প্রেম, স্মৃতি আর সময়কে ছাপিয়ে ভবিষ্যৎ কি বদলে দেবে ইতিহাস?
- বিতর্ক পিছু ছাড়েনি, মামলা মাথায় নিয়েই ভোটের ময়দানে! তৃণমূল-বিজেপির হেভিওয়েটদের ভোটযুদ্ধ ঘিরে উত্তাপ
- গ্যাস সিলিন্ডার দ্রুত শেষ হয়ে যায়? এই ৬টি সহজ টিপস জানলে সিলিন্ডার চলবে বেশি দিন

