Mother’s Day History: আজ সোশ্যাল মিডিয়াজুড়ে মাতৃ দিবসের আবেগঘন ছবি ভাইরাল। কিন্তু এই বিশেষ দিনের পিছনে রয়েছে এক কন্যার মায়ের প্রতি গভীর ভালোবাসা, সংগ্রাম আর স্বপ্নপূরণের ইতিহাস, যা আজও কোটি মানুষকে আবেগে ভাসায়।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: এই মুহূর্তে সোশ্যাল মিডিয়া খুললেই একটাই ছবি চোখে পড়ছে—মায়ের সঙ্গে সন্তানের হাসিমুখ, পুরোনো স্মৃতি, ভালোবাসার পোস্ট আর আবেগঘন বার্তা। কারণ আজ Mother’s Day বা মাতৃ দিবস। কিন্তু জানেন কি, এই বিশেষ দিনটির পিছনে লুকিয়ে রয়েছে এক নারীর অসম্ভব আবেগ, সংগ্রাম আর মায়ের প্রতি গভীর ভালোবাসার গল্প? আজ যে দিনটি সারা পৃথিবীতে উদযাপিত হয়, তার সূচনা কিন্তু আজকের সোশ্যাল মিডিয়া যুগে নয়, বরং বিংশ শতাব্দীর একেবারে গোড়ার দিকে আমেরিকায়।
মাতৃ দিবস চালু করার পিছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল এক নারী—Anna Jarvis। আর এই গল্পের কেন্দ্রে ছিলেন তাঁর মা Anna Reeves Jarvis, যিনি ছিলেন একজন সমাজসেবী ও মানবতাবাদী নারী। তাঁর স্বপ্ন, তাঁর কাজ আর তাঁর প্রতি কন্যার শ্রদ্ধাই আজকের Mother’s Day-কে বিশ্বজুড়ে পরিচিত করেছে।
আনা রিভস জার্ভিস: সমাজসেবী এক মায়ের স্বপ্ন (Mother’s Day History)
আনা রিভস জার্ভিস ছিলেন আমেরিকার এক সমাজসেবী নারী। আমেরিকার গৃহযুদ্ধের সময় তিনি অসুস্থ ও আহত সৈন্যদের সেবা করতেন। শুধু তাই নয়, যুদ্ধের বিভাজনের মধ্যেও তিনি মায়েদের একত্রিত করে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালিয়েছিলেন।
তিনি বিশ্বাস করতেন, মায়েরাই সমাজকে একত্রিত রাখতে পারেন। সেই ভাবনা থেকেই তিনি এমন একটি সংগঠন গড়ে তুলেছিলেন যার মূল উদ্দেশ্য ছিল সমাজের মায়েদের মধ্যে ঐক্য ফিরিয়ে আনা। তাঁর কাছে মাতৃত্ব শুধুমাত্র পরিবারের বিষয় ছিল না, বরং সমাজ গঠনের এক বিশাল শক্তি।
জীবনের শেষ সময়ে আনা রিভস জার্ভিস একটি স্বপ্ন দেখতেন—একদিন পৃথিবীর সমস্ত মায়েদের সম্মান জানাতে একটি বিশেষ দিন পালন করা হবে। কারণ একজন মা সারা জীবন নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দিয়ে সন্তানকে মানুষ করেন, পরিবারের জন্য নিরন্তর পরিশ্রম করেন। সেই ত্যাগকে সম্মান জানানো উচিত বলেই তিনি মনে করতেন।
মায়ের মৃত্যুর পর কন্যার শপথ (Mother’s Day History)
১৯০৫ সালে আনা রিভস জার্ভিস মারা যান। মায়ের মৃত্যু গভীরভাবে আঘাত করেছিল তাঁর কন্যা আনা জার্ভিসকে। কিন্তু শোকের মধ্যেই তিনি এক বড় সিদ্ধান্ত নেন। তিনি শপথ করেন, মায়ের স্বপ্ন তিনি একদিন পূরণ করবেই।
মায়ের স্মৃতিকে সম্মান জানাতে এবং পৃথিবীর সমস্ত মায়েদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে তিনি মাতৃ দিবস চালু করার উদ্যোগ নেন। সেই সময় বিষয়টি এত সহজ ছিল না। আজকের মতো সোশ্যাল মিডিয়া বা অনলাইন প্রচারের সুযোগ তখন ছিল না। তবুও আনা জার্ভিস নিরলসভাবে মানুষের কাছে আবেদন জানাতে শুরু করেন।
তিনি বিশ্বাস করতেন, একজন মাকে সম্মান জানানো মানে মানবতার সবচেয়ে বড় শক্তিকে সম্মান জানানো।
প্রথম মাতৃ দিবস পালন (Mother’s Day History)
১৯০৮ সালের ১০ মে পশ্চিম ভার্জিনিয়ার একটি গির্জায় প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে মাতৃ দিবস পালন করেন আনা জার্ভিস। সেই অনুষ্ঠানে তিনি সাদা কার্নেশন ফুল বিতরণ করেছিলেন।
এই ফুল বেছে নেওয়ার পিছনেও ছিল আবেগঘন কারণ। সাদা কার্নেশন ছিল তাঁর মা আনা রিভস জার্ভিসের সবচেয়ে প্রিয় ফুল। আনা জার্ভিস মনে করতেন, এই ফুলের শুভ্রতা মায়ের নিঃস্বার্থ ভালোবাসার প্রতীক।
ধীরে ধীরে এই অনুষ্ঠান মানুষের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠতে শুরু করে। আমেরিকার বিভিন্ন জায়গায় মানুষ মায়েদের সম্মান জানাতে এই দিন পালন করতে থাকেন।
আন্দোলনের পর সরকারি স্বীকৃতি
প্রথম মাতৃ দিবস পালনের পরও আনা জার্ভিস থেমে থাকেননি। তিনি বহু বছর ধরে সরকারকে চিঠি লিখেছেন, আন্দোলন করেছেন এবং দাবি জানিয়েছেন যাতে এই দিনটিকে জাতীয় ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
অবশেষে তাঁর সেই লড়াই সফল হয়। ১৯১৪ সালে আমেরিকার তৎকালীন রাষ্ট্রপতি Woodrow Wilson সরকারিভাবে ঘোষণা করেন, প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার মাতৃ দিবস হিসেবে পালন করা হবে।
এরপর ধীরে ধীরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও Mother’s Day জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। আজ ভারত-সহ পৃথিবীর বহু দেশে এই দিনটি বিশেষভাবে উদযাপিত হয়।
মাতৃ দিবসের বাণিজ্যিকরণ নিয়ে ক্ষুব্ধ ছিলেন আনা জার্ভিস
অদ্ভুত বিষয় হল, যে নারী এত কষ্ট করে মাতৃ দিবস চালু করেছিলেন, পরবর্তীকালে তিনিই এই দিনের বাণিজ্যিক ব্যবহারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান।
মাতৃ দিবস জনপ্রিয় হওয়ার পর বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ফুল, কার্ড, উপহার এবং বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই দিনটিকে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার শুরু করে। বিষয়টি মোটেই ভালোভাবে নেননি আনা জার্ভিস।
তিনি স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, মাতৃ দিবস কোনো ব্যবসা করার দিন নয়। এটি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিন। তিনি চাইতেন মানুষ যেন হৃদয় থেকে মাকে সম্মান জানায়, শুধুমাত্র উপহার বা বাজারকেন্দ্রিক উদযাপনে সীমাবদ্ধ না থাকে।
আজ এত বছর পরেও তাঁর সেই বার্তা সমান প্রাসঙ্গিক। কারণ একজন মায়ের ভালোবাসার মূল্য কোনো উপহার দিয়ে মাপা যায় না।
মাকে ভালোবাসা শুধু একটি দিনের বিষয় নয় (Mother’s Day History)। মাতৃত্ব মানে নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, ত্যাগ, ধৈর্য আর নিরন্তর সংগ্রাম। আর সেই ভালোবাসাকে সম্মান জানাতেই শুরু হয়েছিল Mother’s Day।
সাম্প্রতিক পোস্ট
- মেদিনীপুরের ‘বুবাই’ থেকে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী: কণ্টকাকীর্ণ পথে শুভেন্দু অধিকারীর রাজকীয় উত্থানের মহাকাব্য
- মুখ্যমন্ত্রীর শপথ নেওয়ার ঠিক আগেই সোশ্যাল মিডিয়ায় আবেগঘন জোড়া পোস্ট শুভেন্দু অধিকারীর। কী লিখলেন তিনি?

