Medical Device Overpricing India: ২৫ টাকার ইঞ্জেকশন কেন ১০০ টাকায়? হাসপাতালের বিলে কীভাবে নিঃস্ব হচ্ছেন সাধারণ মানুষ! কারখানার আসল দামের চেয়ে ২৫ গুণ বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে চিকিৎসা সরঞ্জাম। রোগীদের জীবন বাঁচাতে গিয়ে হাসপাতালগুলোর বিলের বহর কেন এত দীর্ঘ হয়? এর পেছনের আসল কারণ জানলে অবাক হবেন।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: পরিবারের কেউ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে, সবচেয়ে প্রথম যে দুশ্চিন্তাটি সাধারণ মানুষকে গ্রাস করে, তা হলো হাসপাতালের বিল। চিকিৎসকের ফি, বেড চার্জ এবং ওষুধের দাম তো রয়েছেই, কিন্তু সবচেয়ে বেশি চোখ কপালে ওঠে যখন দেখা যায় সামান্য একটি ইঞ্জেকশনের সিরিঞ্জ বা স্যালাইনের পাইপের জন্য কত টাকা নেওয়া হয়েছে। আমরা অনেকেই ভাবি, আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা হয়তো এমনই ব্যয়বহুল। কিন্তু সম্প্রতি ভারতের চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রস্তুতকারকদের একটি সংগঠনের দেওয়া পরিসংখ্যানে যে সত্য উঠে এসেছে, তা চমকে দেওয়ার মতো। সাধারণ রোগীরা ভারতে চিকিৎসা সরঞ্জামের (Medical Devices) আসল দামের চেয়ে প্রায় ২৫ গুণ বেশি টাকা মেটাচ্ছেন।
এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং গোটা দেশজুড়ে চলতে থাকা এক নীরব শোষণ ব্যবস্থা, যার শিকার হচ্ছেন দিনের পর দিন হাসপাতালে পড়ে থাকা রোগীরা। অথচ তাঁরা নিজেরাও জানেন না যে, তাঁদের অজান্তেই কীভাবে একটি চক্র কাজ করছে।
আসল দাম বনাম এমআরপি: পার্থক্যটা ঠিক কতটা?
Association of Indian Medical Devices (AIMED) নামের একটি সংগঠন, যারা দেশের প্রায় ৩০০টি সরঞ্জাম প্রস্তুতকারক সংস্থার প্রতিনিধিত্ব করে, তারা সম্প্রতি সরকারকে এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার অনুরোধ জানিয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কারখানা থেকে তৈরি হওয়া একটি সরঞ্জামের দামের সঙ্গে তার এমআরপি (Maximum Retail Price) বা সর্বোচ্চ খুচরো মূল্যের আকাশপাতাল তফাৎ রয়েছে। কয়েকটি উদাহরণ দিলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে: একটি সাধারণ সিরিঞ্জ (Syringe) কারখানায় তৈরি হতে খরচ হয় মাত্র ৬ টাকা, অথচ তার এমআরপি রাখা হয় ৩০ টাকা।
স্যালাইন বা ওষুধ দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত আইভি ক্যানুলা (IV cannulas)-র কারখানার দাম ৬ টাকা হলেও, রোগীকে তা কিনতে হয় ১২০ টাকায়। হার্টের রোগীদের জন্য জীবনদায়ী পেসমেকার (Pacemaker)-এর আসল দাম বা আমদানি মূল্য যেখানে ২৫,০০০ টাকা, সেখানে তার এমআরপি লেখা থাকে প্রায় ২ লক্ষ টাকা। একইভাবে, ৪ লক্ষ টাকা দামের একটি হার্ট ভালভ (Heart valve) দেশে এনে বিক্রি করা হয় ২৬ লক্ষ টাকায়।
এমনকি রোগীদের ইন্ট্রাভেনাস ফ্লুইড দেওয়ার সময় ব্যবহৃত একটি থ্রি-ওয়ে স্টপকক, যার কারখানার দাম ৫ থেকে ১৬ টাকার মধ্যে, তার গায়ে খুচরো মূল্য লেখা থাকে ৯৫ থেকে ১৩৬ টাকা পর্যন্ত। একটি ব্র্যান্ডের কারখানার দাম মাত্র ৫.৬০ টাকা হওয়া সত্ত্বেও, তার গায়ে ১৩৬ টাকার ট্যাগ লাগানো থাকে।
কেন এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি?
আপনার মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে, কেন প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলো নিজেরাই নিজেদের পণ্যের গায়ে এত বেশি দাম লিখে রাখছেন? এর উত্তর লুকিয়ে রয়েছে বাজারের একটি অলিখিত নিয়মে। AIMED-এর কোঅর্ডিনেটর রাজীব নাথ জানিয়েছেন, রোগীরা জানতেই পারেন না আসলে কী ঘটছে। দেশীয় প্রস্তুতকারকদের বাধ্য হয়েই পণ্যের এমআরপি বাড়িয়ে লিখতে হয়, যাতে হাসপাতাল এবং খুচরো বিক্রেতারা একটি মোটা অঙ্কের মুনাফা বা মার্জিন (Profit Margin) রাখতে পারেন।
হাসপাতালের পারচেজ অফিসাররা প্রায়ই প্রস্তুতকারকদের মৌখিকভাবে নির্দেশ দেন পণ্যের এমআরপি বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য। কারণ, যে পণ্যে হাসপাতালের লাভ যত বেশি, তারা রোগীদের জন্য সেই পণ্যটিই তত বেশি ব্যবহার করতে চায়। একটি প্রস্তুতকারক সংস্থার চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার মণীশ সভারওয়াল জানিয়েছেন, হাসপাতালগুলো যত বড় মার্জিন চায়, এমআরপি ততটাই বাড়িয়ে লিখতে হয়।
হাসপাতালের বক্তব্য কী?
এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে হাসপাতালগুলোরও একটি নিজস্ব যুক্তি রয়েছে। অ্যাসোসিয়েশন অফ হেলথকেয়ার প্রোভাইডারস অফ ইন্ডিয়া (Association of Healthcare Providers of India)-র ডিরেক্টর জেনারেল গিরধর জ্ঞানী জানিয়েছেন, চিকিৎসাজনিত অন্যান্য পরিষেবা দিতে গিয়ে অনেক হাসপাতালকে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। তাই চিকিৎসা সরঞ্জামের ওপর মার্জিন রেখে তারা সেই ক্ষতিটুকু পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে মাত্র। তবে কোনো হাসপাতাল সরাসরি প্রস্তুতকারকদের এমআরপি বাড়ানোর জন্য চাপ দেয় বলে তাঁর জানা নেই।
সমাধানের পথ খুঁজছে প্রস্তুতকারক সংস্থারা
এই অস্বচ্ছ ব্যবস্থার অবসান ঘটাতে AIMED গত দুই বছর ধরে সরকারের কাছে ট্রেড মার্জিন এবং এমআরপি-র ওপর একটি নির্দিষ্ট সীমা বা ক্যাপ (Cap) বসানোর দাবি জানিয়ে আসছে। তাদের মতে, ১ লক্ষ টাকার বেশি দামের পণ্যের (যেমন হার্ট ভালভ) ওপর সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ, ১ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকার মধ্যে থাকা পণ্যের (যেমন পেসমেকার) ওপর ৬৬ শতাংশ এবং ১ হাজার টাকার কম দামের পণ্যের ওপর (যেমন সিরিঞ্জ) সর্বোচ্চ ৭৫ শতাংশ মার্জিন নির্দিষ্ট করে দেওয়া উচিত।
ভারতের চিকিৎসা সরঞ্জাম বাজারের প্রায় ৭০ শতাংশই আমদানি করা বিদেশি পণ্যের দখলে, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ১.৩ লক্ষ কোটি টাকা। এমআরপি নির্দিষ্ট করা হলে দেশীয় প্রস্তুতকারকরা বিদেশি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আরও ভালোভাবে প্রতিযোগিতা করতে পারবেন এবং বাজার অনেক বেশি রোগীবান্ধব হবে।
কেন্দ্রীয় সংস্থা ন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যাল প্রাইসিং অথরিটি (NPPA) এবং ফার্মাসিউটিক্যাল বিভাগের আধিকারিকরা এই সমস্যার কথা শুনে সহানুভূতি দেখালেও, এখনও পর্যন্ত এর কোনো স্থায়ী ও কার্যকরী সমাধান সূত্র বেরিয়ে আসেনি।
সুস্থ জীবনযাপন (Healthy Lifestyle) সকলের কাম্য, কিন্তু রোগ হলে চিকিৎসা করানোটা প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার। সাধারণ মানুষের পকেট কেটে মুনাফা লোটার এই খেলা কবে বন্ধ হবে, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
চিকিৎসা ব্যবস্থার এই দিকটি নিয়ে আপনার কী মতামত? আপনার নিজের বা পরিচিত কারও কি হাসপাতালে বিল মেটানোর সময় এমন কোনো অভিজ্ঞতা হয়েছে? আপনার মতামত আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া পেজে কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না।
সাম্প্রতিক পোস্ট
- “ভোট সে তো যুদ্ধ নয়…”— বুথে বুথে এ কোন নতুন উৎসব? যে মানবিক উদ্যোগে ইতিহাস গড়ল বাংলার প্রথম দফার নির্বাচন!
- বাংলার ভোটে আন্তর্জাতিক চমক! শিলিগুড়ি ও কার্শিয়াংয়ের বুথে বিদেশি প্রতিনিধিরা, নির্বাচন পরিচালনা দেখে কী বার্তা দিলেন বিশ্বের দরবারে?
- প্রথম দফার ভোটে কী ফল আসতে চলেছে? উল্টে যেতে পারে সমীকরণ, বুথ ফেরত সমীক্ষায় ইঙ্গিত বড় চমকের!
- ভুলে ভরা বক্তব্যে নেতারা ট্রোলের টার্গেট! আগামী প্রজন্মের চোখে নেতারা কি তবে হাসির খোরাক? ভুল বার্তায় ভবিষ্যৎ নিয়ে বাড়ছে প্রশ্ন!
- নতুন ভোটারদের মধ্যে উন্মাদনা তুঙ্গে: জানুন, প্রথমবারের বিশেষ পদ্ধতিতে কীভাবে দিচ্ছেন ভোটাররা ভোট

