নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: অবশেষে অপেক্ষার অবসান। প্রকাশ হল পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিকের ফলাফল। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় সাংবাদিক বৈঠকের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে মেধাতালিকা প্রকাশ করলেন West Bengal Council of Higher Secondary Education। তারপর সকাল ১১টা থেকে পরীক্ষার্থীরা অনলাইনে নিজেদের রেজাল্ট দেখতে পারবেন। প্রায় ৭ লক্ষেরও বেশি পরীক্ষার্থীর জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই ফলাফল ঘিরে ইতিমধ্যেই উত্তেজনা তুঙ্গে।
এবারের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা ছিল একাধিক দিক থেকে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমবারের মতো সেমেস্টার ভিত্তিক পরীক্ষার প্রভাব, নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতি, সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ—সব মিলিয়ে এবারের ফলাফল নিয়ে আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো। শুধু নতুন সিস্টেম নয়, পুরনো সিলেবাসের পরীক্ষার্থীরাও এবারে নিজেদের ফল জানতে পারবেন একইসঙ্গে। ফলে বহু ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকের নজর এখন একটাই দিকে—WBCHSE HS Result 2026।
প্রকাশিত হল ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার মেধাতালিকা। এবারের পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করেছে আদ্রিত পাল। নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের এই কৃতী ছাত্রের প্রাপ্ত নম্বর ৪৯৬।
উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের লক্ষাধিক পরীক্ষার্থীর মধ্যে সেরার সেরা হয়ে উঠে এসেছে আদ্রিত। তার এই সাফল্যে খুশির হাওয়া নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন সহ গোটা শিক্ষা মহলে।
এবারের পরীক্ষায় জেলাভিত্তিক পাশের হারেও নজর কেড়েছে পূর্ব মেদিনীপুর। দ্বিতীয় স্থান দখল করেছেন ঋতব্রত নাথ, তিনিও নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের ছাত্র। অন্যদিকে ৪৯৫ নম্বর পেয়ে দ্বিতীয় স্থানেই রয়েছেন যীষ্ণু কুণ্ডু, যিনি Purulia Ramakrishna Mission-এর ছাত্র। এছাড়াও মেধাতালিকায় উঠে এসেছে ঐতিহ্য পাচাল-এর নাম, যার প্রাপ্ত নম্বরও ৪৯৫ বলে সংসদ সূত্রে জানা গিয়েছে।
কীভাবে জানা যাবে উচ্চমাধ্যমিকের ফলাফল?
উচ্চমাধ্যমিকের ফলাফল প্রকাশের পর সকাল ১১টা থেকে পরীক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে গিয়ে নিজেদের রোল নম্বর ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে রেজাল্ট দেখতে পারবেন। সংসদ সূত্রে জানা গিয়েছে, একাধিক ডিজিটাল মাধ্যমেই ফলাফল জানার সুযোগ থাকছে এবার।
ফলাফল দেখা যাবে এই ওয়েবসাইটগুলিতে: https://result.wb.gov.in/
এছাড়াও এসএমএসের মাধ্যমেও জানা যাবে ফলাফল। যেসব পরীক্ষার্থীর এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা দুর্বল, তাদের জন্য এই পদ্ধতি যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। পাশাপাশি গুগল প্লে স্টোর থেকে “WBCHSE Results” অ্যাপ ডাউনলোড করেও রেজাল্ট দেখা যাবে।
টপ টেনে মোট ৬৪ জন
এবারের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় প্রথম দশের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে মোট ৬৪ জন পরীক্ষার্থী। এর মধ্যে ছাত্রের সংখ্যা ৫৬ এবং ছাত্রীর সংখ্যা ৮।
র্যাঙ্ক অনুযায়ী পরিসংখ্যান —
- প্রথম স্থান — ১ জন
- দ্বিতীয় স্থান — ৩ জন
- তৃতীয় স্থান — ৫ জন
- চতুর্থ স্থান — ৪ জন
- পঞ্চম স্থান — ৭ জন
- ষষ্ঠ স্থান — ১০ জন
- সপ্তম স্থান — ১ জন
- অষ্টম স্থান — ১১ জন
- নবম স্থান — ৯ জন
- দশম স্থান — ১০ জন
সংসদের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম থেকে চতুর্থ স্থান পর্যন্ত সমস্ত র্যাঙ্কই ছাত্ররা দখল করেছে। পঞ্চম স্থানে থাকা সাতজনের মধ্যে ছয়জন ছাত্র এবং একজন ছাত্রী।
এবারের পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কত?
উচ্চমাধ্যমিকের ফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করল West Bengal Council of Higher Secondary Education। সংসদের তরফে জানানো হয়েছে, পরীক্ষার্থীরা এবার অনলাইনেই নিজেদের ফলাফল ডাউনলোড এবং প্রিন্ট করতে পারবেন। পাশাপাশি নির্দিষ্ট মার্কশিট বিতরণ কেন্দ্র থেকে স্কুলের প্রধান শিক্ষকরা মার্কশিট সংগ্রহ করে ছাত্রছাত্রীদের হাতে তুলে দেবেন।
এবছর উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হয়েছিল ১২ ফেব্রুয়ারি। ফল প্রকাশের পর এবার শুরু হচ্ছে পিপিএস ও পিপিআর আবেদন প্রক্রিয়াও। সংসদ সূত্রে খবর, যারা তৎকাল পদ্ধতিতে পিপিএস বা পিপিআর করতে চান, তারা আজ রাত ১২টার পর থেকেই সংসদের অনলাইন পোর্টালে আবেদন করতে পারবেন। এই আবেদন প্রক্রিয়া চলবে আগামী ১৭ মে রাত ১২টা পর্যন্ত।
অন্যদিকে সাধারণ পিপিএস ও পিপিআর আবেদনও আজ রাত থেকেই শুরু হচ্ছে এবং তা চলবে ১৮ মে রাত পর্যন্ত। আবেদন ফি জমা দেওয়া যাবে ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, ইউপিআই, নেট ব্যাংকিং এবং অন্যান্য অনলাইন পেমেন্ট মাধ্যমের মাধ্যমে।
সংসদ সূত্রে জানা গিয়েছে, এবছর মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৭ লক্ষ ১০ হাজার ৮১১ জন। এর মধ্যে দ্বিতীয় সেমেস্টারের পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৭ লক্ষ ১০ হাজার ৮৬৪ জন। অন্যদিকে পুরনো নিয়ম বা ওল্ড সিলেবাসে পরীক্ষা দেওয়া পরীক্ষার্থীর সংখ্যাও কম নয়।
পুরনো নিয়মে পরীক্ষা দেওয়া পরীক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১৫ হাজার ৪৯২ জন বলে জানা যাচ্ছে। এছাড়াও দ্বিতীয় সেমেস্টারের সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৫৯ হাজার ৪৫২ জন। ফলে এবারের ফলপ্রকাশ শুধু নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের জন্য নয়, সাপ্লিমেন্টারি এবং ওল্ড সিলেবাসের ছাত্রছাত্রীদের কাছেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
চূড়ান্ত সেমেস্টার অর্থাৎ চতুর্থ সেমেস্টারের পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন ৬ লক্ষ ৩৫ হাজারেরও বেশি পরীক্ষার্থী। তাদের সকলের ফলাফল আজ প্রকাশিত হবে।
মেধাতালিকায় কারা থাকছেন? নজর গোটা বাংলার
সকাল সাড়ে ১০টার সাংবাদিক বৈঠকে শুধুমাত্র ফল প্রকাশ নয়, প্রকাশ করা হবে এবারের মেধাতালিকাও। কোন জেলা থেকে সর্বাধিক মেধাবী উঠে এলেন, কে প্রথম হলেন, কত নম্বর পেয়ে শীর্ষে জায়গা করে নিলেন—এই সব তথ্য জানার অপেক্ষায় এখন রাজ্যের লক্ষ লক্ষ মানুষ।
প্রতি বছরের মতো এবছরও বিজ্ঞান, কলা ও বাণিজ্য বিভাগে কাদের আধিপত্য থাকছে, তা নিয়েও কৌতূহল রয়েছে প্রবল। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন সেমেস্টার পদ্ধতির কারণে এবারের নম্বরের ধরণ কিছুটা আলাদা হতে পারে। ফলে কাট-অফ, কলেজে ভর্তি এবং ভবিষ্যতের উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
নতুন সেমেস্টার পদ্ধতিতে কী বদল এল?
শুধুমাত্র নম্বর প্রকাশ নয়, এবার উচ্চমাধ্যমিকের ফলাফল বিশ্লেষণেও বড় বদলের পথে হাঁটছে West Bengal Council of Higher Secondary Education। শিক্ষাব্যবস্থার গুণগত মান উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে এ বছর থেকে চালু করা হচ্ছে “বক্স প্লট” ভিত্তিক বৈজ্ঞানিক ফলাফল বিশ্লেষণ ব্যবস্থা। সংসদের দাবি, এই নতুন পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রতিটি স্কুল নিজেদের ছাত্রছাত্রীদের ফলাফল আরও গভীরভাবে বিশ্লেষণ করতে পারবে।
সংসদ সভাপতি জানিয়েছেন, প্রতিটি স্কুলের অনলাইন পোর্টালে এবার বিভিন্ন বিষয়ের ফলাফলের একটি পরিসংখ্যানভিত্তিক “বক্স প্লট” চিত্র তুলে ধরা হবে। এই পদ্ধতির মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক ছাত্রছাত্রীর প্রাপ্ত নম্বরকে খুব সহজ ও সংক্ষিপ্তভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব হবে।
বক্স প্লট হল এমন একটি পরিসংখ্যান চিত্র, যা কোনও নির্দিষ্ট বিষয় বা পরীক্ষায় ছাত্রছাত্রীদের নম্বর কতটা কাছাকাছি বা কতটা ছড়ানো তা সহজে বুঝতে সাহায্য করে। অর্থাৎ, কোনও ক্লাস বা স্কুলে অধিকাংশ পড়ুয়া গড়ের আশেপাশে নম্বর পেয়েছে, নাকি কেউ অত্যন্ত ভালো বা অত্যন্ত খারাপ ফল করেছে—সেটা এক নজরেই বোঝা যাবে।
এবারের উচ্চমাধ্যমিকের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন ছিল সেমেস্টার ভিত্তিক মূল্যায়ন। বহু পরীক্ষার্থী প্রথমদিকে কিছুটা বিভ্রান্ত হলেও পরে ধীরে ধীরে নতুন পদ্ধতির সঙ্গে মানিয়ে নেয়। শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদ্ধতি ছাত্রছাত্রীদের উপর একসঙ্গে অতিরিক্ত চাপ কমাতে সাহায্য করবে।
একইসঙ্গে সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার্থীদেরও এবার সুযোগ দেওয়া হয়েছে দ্রুত নিজেদের ফলাফল জানার। এতে আগামী শিক্ষাবর্ষে কলেজে ভর্তি বা ক্যারিয়ার পরিকল্পনায় দেরি কম হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
রেজাল্ট দেখার আগে কী কী প্রস্তুতি রাখবেন?
ফলাফল দেখার আগে পরীক্ষার্থীদের নিজেদের রোল নম্বর ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর হাতের কাছে রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই ওয়েবসাইটে অতিরিক্ত ট্র্যাফিকের কারণে সার্ভার স্লো হতে পারে। তাই আতঙ্কিত না হয়ে কয়েক মিনিট অপেক্ষা করে পুনরায় চেষ্টা করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
মোবাইল অ্যাপ বা এসএমএস পরিষেবাও এ ক্ষেত্রে কার্যকর বিকল্প হতে পারে। অনেক সময় অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে চাপ বেশি থাকলে অ্যাপের মাধ্যমে দ্রুত ফল জানা যায়।
এদিকে উচ্চমাধ্যমিকের ফল প্রকাশ ঘিরে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন স্কুলে ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। কারও চোখে স্বপ্ন, কারও মনে উদ্বেগ—সব মিলিয়ে রাজ্যজুড়ে আজ যেন এক অন্যরকম আবেগের দিন।
রাজ্যে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর এবার পড়ুয়া ও অভিভাবকদের নজর কলেজে ভর্তির দিকে। গতকাল প্রকাশিত হয়েছে Central Board of Secondary Education-এর দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষার ফলাফল। একইসঙ্গে বিভিন্ন বোর্ডের ফল প্রকাশের পর আজ পশ্চিমবঙ্গের উচ্চমাধ্যমিকের ফলও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হচ্ছে। আর এর মধ্যেই শিক্ষা মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে কলেজ ভর্তি প্রক্রিয়া নিয়ে।
সূত্রের খবর, আগামী ২০ মের পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন কলেজে অনলাইন ভর্তি পোর্টাল খুলে যেতে পারে। যদিও এখনও পর্যন্ত নতুন সরকারের তরফে শিক্ষামন্ত্রীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি, তবুও প্রশাসনিক স্তরে কলেজ ভর্তি প্রক্রিয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে বলেই জানা যাচ্ছে।
শিক্ষা দফতর সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে, খুব শীঘ্রই কলেজগুলির পক্ষ থেকে অনলাইন ফর্ম ফিল-আপ শুরু করার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হতে পারে। উচ্চমাধ্যমিকের ফল প্রকাশের পর সাধারণত কলেজ ভর্তি প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু হয়, যাতে নতুন শিক্ষাবর্ষ সময়মতো চালু করা যায়। সেই কারণেই এবারও মে মাসের শেষ সপ্তাহের মধ্যেই অধিকাংশ সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত কলেজে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশেষ করে কলকাতা ও জেলার নামী কলেজগুলিতে অনলাইন আবেদন শুরু হলে প্রথম কয়েকদিনেই বিপুল সংখ্যক আবেদন জমা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে ছাত্রছাত্রীদের এখন থেকেই প্রয়োজনীয় নথি, মার্কশিট, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, কাস্ট সার্টিফিকেট ও অন্যান্য তথ্য প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন শিক্ষাবিদরা।
এবারও সম্পূর্ণ অনলাইন পদ্ধতিতেই কলেজে ভর্তি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। ফলে বাড়িতে বসেই বিভিন্ন কলেজের ওয়েবসাইটে আবেদন করা যাবে। কোন কলেজ কবে পোর্টাল খুলছে, কী যোগ্যতা লাগবে এবং কত আসন রয়েছে—এই সমস্ত তথ্য খুব শীঘ্রই প্রকাশ্যে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উচ্চমাধ্যমিকের সকল পরীক্ষার্থীদের জন্য নিউজ অফবিটের পক্ষ থেকে রইল আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অনেক অনেক অভিনন্দন। জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার ফল যেন আপনাদের আগামী দিনের সাফল্যের নতুন দরজা খুলে দেয়।
#WBCHSEResult2026 #HSResult #HigherSecondary #WestBengal #EducationNews #ResultLive

