Shaheed Diwas Menu: শহিদ দিবসে কর্মী-সমর্থকদের জন্য কোথাও ডিম-ভাত, কোথাও নিরামিষ খাবার, আবার কোথাও মাছ-ডিমের আয়োজন। কলকাতার তিন ভিন্ন রাজনৈতিক মঞ্চে এবার খাবারের মেনুতে কী থাকছে, কোন শিবির কীভাবে কর্মীদের আপ্যায়নের পরিকল্পনা করেছে, তা নিয়েই শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক চর্চা।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: একুশে জুলাই মানেই শুধু রাজনৈতিক সমাবেশ নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বাংলার রাজনৈতিক সংস্কৃতির এক পরিচিত ছবি—দূরদূরান্ত থেকে আসা কর্মী-সমর্থকদের ভিড়, মঞ্চের বক্তৃতা, স্লোগান আর দিনভর নানা আয়োজন। সেই তালিকায় বহু বছর ধরেই জায়গা করে নিয়েছে কর্মীদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা। আর সেই খাবারের প্রসঙ্গ উঠলেই যে মেনুর কথা সবার আগে মনে আসে, তা হল ‘ডিম-ভাত’। কিন্তু এবারের শহিদ দিবসে সেই চেনা ছবিতে যেন কিছুটা বদল এসেছে। কলকাতার বিভিন্ন রাজনৈতিক মঞ্চে কর্মী-সমর্থকদের জন্য খাবারের আয়োজনও আলাদা আলাদা। কোথাও নেই আগের মতো ঢালাও আয়োজন, কোথাও আবার ফিরে এসেছে পুরনো দিনের জনপ্রিয় মেনু। আবার কোথাও নিরামিষ খাবারের পাশাপাশি রাত্রিবাস করা কর্মীদের জন্য রাখা হয়েছে মাছ-ডিমের ব্যবস্থাও। ফলে এবারের একুশে জুলাই ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপের পাশাপাশি খাবারের মেনু নিয়েও শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। কোন মঞ্চে কর্মীদের পাতে কী থাকছে, কোথায় কী আয়োজন—সেই ছবিটাই এবার দেখে নেওয়া যাক।
কালীঘাটের মঞ্চে বদলেছে চেনা ছবির ‘ডিম-ভাত’?
একুশে জুলাইয়ের সঙ্গে ‘ডিম-ভাত’-এর সম্পর্ক কার্যত বহু বছরের। সমাবেশে যোগ দিতে আসা কর্মী-সমর্থকদের জন্য খাবারের আয়োজন রাজনৈতিক কর্মসূচিরই একটি পরিচিত অংশ হয়ে উঠেছে। কিন্তু এবারের শহিদ দিবসে কালীঘাট তৃণমূলের আয়োজনে সেই চেনা ছবিতে কিছুটা পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে বলেই দাবি করা হচ্ছে। বিরলা প্ল্যানেটোরিয়ামের সামনে আয়োজিত কর্মসূচিকে ঘিরে কর্মী-সমর্থকদের জন্য আগের মতো ঢালাও খাবারের আয়োজন থাকছে না বলে জানা যাচ্ছে।
অর্থাৎ, অন্যান্য বছরের মতো দলীয় বা সরকারি স্তরে বিপুল পরিমাণ খাবারের বন্দোবস্ত এবার করা হচ্ছে না। ফলে দূরদূরান্ত থেকে কর্মসূচিতে আসা সমর্থকদের নিজেদের খাবারের ব্যবস্থা নিজেদেরই করে নিতে হবে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এবারের আয়োজনের ধরন অন্য বছরের তুলনায় অনেকটাই আলাদা। বিশেষ করে একুশে জুলাইয়ের সঙ্গে যে ‘ডিম-ভাত’ কার্যত একটি প্রতীকী সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছিল, কালীঘাটের এই কর্মসূচিতে সেই চেনা মেনুর উপস্থিতি এবার তেমনভাবে চোখে পড়ছে না।
তবে এর সঙ্গে কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতি বা সমাবেশের রাজনৈতিক গুরুত্বকে সরাসরি যুক্ত করা ঠিক হবে না। কারণ, খাবারের আয়োজনের ধরন বদলালেই যে রাজনৈতিক সমাবেশের গুরুত্ব কমে যায়, এমনটা নয়। বরং এবারের আয়োজনের কাঠামো এবং ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন এসেছে বলেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
ময়ো রোডে ফিরছে পুরনো দিনের ‘ডিম-ভাত’ মেনু
একদিকে যখন কালীঘাটের কর্মসূচিতে আগের মতো খাবারের ঢালাও আয়োজন থাকছে না, তখন ময়ো রোডের ছবিটা একেবারেই আলাদা। নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরের কর্মী-সমর্থকদের জন্য রাখা হয়েছে একেবারে চেনা এবং জনপ্রিয় মেনু। সেখানে কর্মীদের মন জয় করতে ফিরে এসেছে একুশে জুলাইয়ের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জড়িয়ে থাকা সেই পুরনো ‘ডিম-ভাত’।
শুধু ডিম-ভাতই নয়, মেনুতে থাকছে সয়াবিনের তরকারিও। ফলে কর্মীদের পাতে এবার ভাতের সঙ্গে ডিম এবং সয়াবিনের তরকারির আয়োজন থাকছে বলে জানা যাচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই মেনুর মধ্যে শুধু খাবারের বিষয় নেই, এর সঙ্গে রয়েছে এক ধরনের রাজনৈতিক স্মৃতিও। একুশে জুলাইয়ের পুরনো দিনের আবহকে ফিরিয়ে এনে কর্মীদের মধ্যে উৎসাহ ও আবেগ তৈরি করাই এই আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
কারণ, দীর্ঘদিন ধরে একুশে জুলাইয়ের সঙ্গে কর্মী-সমর্থকদের খাবারের যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, সেখানে ডিম-ভাত নিছক একটি খাবার নয়। বরং সমাবেশে যোগ দেওয়া কর্মীদের কাছে এটি এক ধরনের পরিচিত স্মৃতি। সেই আবেগকে কাজে লাগিয়ে কর্মীদের চাঙ্গা রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
কংগ্রেসের কর্মীদের পাতে থাকছে নিরামিষ আয়োজন
শহিদ দিবস উপলক্ষে কলকাতার আর একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি রয়েছে গান্ধীমূর্তির কাছে শহিদ মিনার এলাকায়। সেখানে কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও আলাদা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। আর সেই কর্মসূচিতে আসা কর্মী-সমর্থকদের জন্য খাবারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
তবে সেখানে মেনুর ধরন সম্পূর্ণ আলাদা। কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকদের জন্য মূলত নিরামিষ খাবারের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। মেনুতে থাকছে ভাত, ডাল এবং পাঁচমিশালি সবজি-তরকারি। অর্থাৎ, একদিকে যখন ময়ো রোডে ডিম-ভাত ও সয়াবিনের তরকারির মতো পরিচিত মেনু জায়গা করে নিয়েছে, তখন শহিদ মিনার এলাকার কংগ্রেসের কর্মসূচিতে কর্মীদের পাতে থাকছে তুলনামূলকভাবে সাদামাটা নিরামিষ খাবার।
দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে থাকা কর্মী-সমর্থকদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক বিষয়। বিশেষ করে বাইরে থেকে আসা কর্মীদের ক্ষেত্রে খাবার ও থাকার ব্যবস্থা নিয়ে দলগুলিকে আলাদা পরিকল্পনা করতে হয়। সেই জায়গা থেকেই কংগ্রেসের এই নিরামিষ মেনুও এবারের শহিদ দিবসের খাবারের ছবিতে একটি আলাদা মাত্রা যোগ করেছে।
সল্টলেকে রাত্রিবাস করা কর্মীদের মেনুতে মাছ-ডিম
শুধু কলকাতার মূল সমাবেশস্থলগুলিতেই নয়, শহরের অন্য প্রান্তে থাকা কর্মী-সমর্থকদের জন্যও রয়েছে আলাদা খাবারের আয়োজন। সল্টলেক এলাকায় যাঁরা রাত্রিবাস করছেন, তাঁদের জন্য মেনুতে রাখা হয়েছে আরও কিছু বৈচিত্র্য। সেখানে ভাত ও ডালের পাশাপাশি মাছ এবং ডিমের ব্যবস্থাও থাকছে বলে জানা যাচ্ছে।
অর্থাৎ, যাঁরা দূরদূরান্ত থেকে এসে রাত কাটাচ্ছেন, তাঁদের জন্য খাবারের তালিকায় রাখা হয়েছে তুলনামূলকভাবে বৈচিত্র্যময় পদ। দিনের কর্মসূচির ব্যস্ততার পর রাত্রিবাস করা কর্মীদের জন্য এই ধরনের খাবারের আয়োজন তাঁদের শারীরিকভাবে স্বস্তি দেওয়ার পাশাপাশি সংগঠনের পক্ষ থেকেও যত্নের বার্তা দেয়।
এখানেই এবারের শহিদ দিবসের খাবারের ছবিটা আরও বৈচিত্র্যময় হয়ে উঠছে। এক জায়গায় নেই আগের মতো ঢালাও আয়োজন, অন্য জায়গায় ফিরেছে ঐতিহ্যবাহী ডিম-ভাত, আবার কোথাও নিরামিষ খাবার, আর রাত্রিবাস করা কর্মীদের জন্য রয়েছে মাছ-ডিমের ব্যবস্থা। ফলে রাজনৈতিক মঞ্চ আলাদা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে খাবারের মেনুতেও দেখা যাচ্ছে স্পষ্ট পার্থক্য।
তিন মঞ্চ, তিন রকম মেনু—কর্মীদের পাতে কী?
এবারের শহিদ দিবসের খাবারের আয়োজনকে যদি এক কথায় বলা হয়, তাহলে বলা যায়—একুশে জুলাইয়ের মেনুতেও এবার বৈচিত্র্যের ছাপ। কালীঘাটের কর্মসূচিতে আগের মতো ঢালাও খাবারের আয়োজন না থাকার খবর যেমন আলোচনায় এসেছে, তেমনই ময়ো রোডে ফিরে এসেছে ডিম-ভাতের পুরনো স্মৃতি। আবার শহিদ মিনারে কংগ্রেসের কর্মীদের জন্য রয়েছে ভাত, ডাল ও পাঁচমিশালি সবজি-তরকারির নিরামিষ আয়োজন।
অন্যদিকে, সল্টলেকে রাত্রিবাস করা কর্মীদের জন্য ভাত-ডালের সঙ্গে মাছ ও ডিমের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। সব মিলিয়ে এবারের শহিদ দিবসে রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি খাবারের মেনু নিয়েও তৈরি হয়েছে আলাদা আগ্রহ।
তবে খাবারের আয়োজনের এই পার্থক্যকে শুধুমাত্র রাজনৈতিক শক্তি বা জনসমাগমের মাপকাঠি হিসেবে দেখা কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে অবশ্যই ভিন্ন মত থাকতে পারে। শেষ পর্যন্ত শহিদ দিবসের মূল গুরুত্ব রাজনৈতিক ইতিহাস, আন্দোলনের স্মৃতি এবং দলীয় কর্মীদের অংশগ্রহণে। কিন্তু সেই বড় রাজনৈতিক ছবির মধ্যে কর্মীদের পাতে কী উঠছে, সেটিও যে মানুষের কৌতূহলের বিষয় হয়ে উঠেছে, এবারের আয়োজন তারই প্রমাণ।
#shaheeddiwasmenu #ekusheyjuly #21julyrally #trinamoolcongress #tmc #mamatabanerjee #ritabratabanerjee #congress #westbengalpolitics #kolkatanews
সাম্প্রতিক পোস্ট
রাত পেরিয়েও অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা এল না? এবার কী করতে হবে জেনে নিন, মিস করবেন না
রাজ্যে চালু প্রধানমন্ত্রী মাতৃ বন্দনা যোজনা, ১১ হাজার টাকা পাবেন কারা? জেনে নিন কীভাবে আবেদন করবেন?
মহিলাদের বাসে টিকিট কাটতে হবে না! জানুন, এই কার্ড থাকলেই দিঘা থেকে দার্জিলিং সফর ফ্রী তে
আপনার এলাকায় কি মিলবে ১২৫ দিনের কাজ? আজ থেকেই চালু নতুন প্রকল্প, জানুন কারা পাবেন এই সুবিধা

