Journalist Attack West Bengal: সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনায় জামাত ও বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর যোগ থাকার অভিযোগ তুলে কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি এই হামলার নেপথ্যের কারণও ব্যাখ্যা করেছেন তিনি।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে কড়া বার্তা দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, এই হামলার পিছনে জামাত, জামাত-ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠী এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তির স্পষ্ট যোগসূত্র রয়েছে। ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এই গোষ্ঠীগুলি পরিকল্পিতভাবে মিছিলে ঢুকে অশান্তি সৃষ্টি করেছে। তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল আন্দোলনের পরিবেশকে নষ্ট করা, সাংবাদিকদের উপর হামলা চালিয়ে আতঙ্ক তৈরি করা এবং রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করে তোলা।
তিনি আরও জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য প্রমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যাঁদের বিরুদ্ধে প্রমাণ মিলবে, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের অধিকার সকলের থাকলেও হিংসা, ভাঙচুর এবং সাংবাদিকদের উপর হামলা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পশ্চিমবঙ্গে যাঁরা নিট পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ নেই। বরং আন্দোলনের মূল উদ্যোক্তারাও সামাজিক মাধ্যমে এই হামলার নিন্দা জানিয়েছেন এবং স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এই ঘটনায় তাঁদের কোনও ভূমিকা নেই। তাঁর দাবি, যাঁরা নিজেদের ‘কক্রোচ পার্টি’ নামে পরিচয় দিচ্ছেন, প্রথমে তাঁদেরই কর্মসূচি ছিল। পরে সেই কর্মসূচিতে বামপন্থী সংগঠনগুলিও অংশগ্রহণ করে। কিন্তু সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনাকে তিনি সম্পূর্ণ আলাদা ঘটনা বলেই উল্লেখ করেন।
সাতটি মামলা, সাংবাদিকদের ভূমিকার প্রশংসা (Journalist Attack West Bengal)
মুখ্যমন্ত্রী জানান, হামলার ঘটনায় ইতিমধ্যেই সাতটি পৃথক মামলা দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশ অভিযোগপত্রই দায়ের করেছেন আক্রান্ত সাংবাদিকরা। পুলিশও কয়েকটি মামলা রুজু করেছে।
তিনি বলেন, অতীতে পশ্চিমবঙ্গে বহু আন্দোলন, নির্বাচন কিংবা রাজনৈতিক সংঘর্ষের সময় সাংবাদিকরা হামলার শিকার হয়েছেন। পঞ্চায়েত নির্বাচন, ভাঙড়, সন্দেশখালি কিংবা আরজি কর আন্দোলনের সময়ও সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছিল। তবে তাঁর দাবি, সেই ঘটনাগুলিতে আক্রান্ত সাংবাদিকরা অনেক সময় আইনি পথে এগিয়ে যেতে পারেননি বা যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এবার পরিস্থিতি ভিন্ন বলে দাবি করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, হামলার খবর পাওয়ার পর তিনি নিজে হাসপাতালে গিয়ে আহত সাংবাদিকদের সঙ্গে দেখা করেন। তাঁদের পাশে দাঁড়ান এবং আইনি পদক্ষেপ গ্রহণে উৎসাহ দেন। এর ফলেই সাংবাদিকরা সাহস পেয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন এবং আইনি প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন বলে তাঁর বক্তব্য।
ভিডিও দেখে চিহ্নিত, গ্রেপ্তার ১৪ (Journalist Attack West Bengal)
তদন্তে অগ্রগতির কথা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য প্রমাণ খতিয়ে দেখে ইতিমধ্যেই ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তে যাঁদের বিরুদ্ধে হামলায় জড়িত থাকার প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে, তাঁদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তাঁর দাবি, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের কেউই ছাত্র নন এবং নিট আন্দোলনের সঙ্গেও তাঁদের কোনও সম্পর্ক নেই। বরং তাঁরা সমাজে অস্থিরতা তৈরির উদ্দেশ্যে আন্দোলনের মধ্যে প্রবেশ করেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীর ভাষায়, এরা “মৌলবাদী ও সমাজবিরোধী” চরিত্রের মানুষ, যাদের লক্ষ্য ছিল অরাজকতা সৃষ্টি করা।
প্রশাসনিক পদক্ষেপের কারণেই ক্ষোভ? (Journalist Attack West Bengal)
মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্য সরকার যে কয়েকটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে, তার ফলেই কিছু গোষ্ঠীর মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, খারিজি মাদ্রাসার নথি ও নিবন্ধন নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী অবৈধ ওবিসি শংসাপত্র সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। পাশাপাশি পশুহত্যা সংক্রান্ত আইন এবং শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে একাধিক বিধিনিষেধ বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, এই পদক্ষেপগুলিতে অসন্তুষ্ট কিছু গোষ্ঠী আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে রাজ্যে অশান্তি তৈরির চেষ্টা করেছে এবং সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই সাংবাদিকদের উপর হামলা চালানো হয়েছে।
জাতীয় প্রতীক অবমাননার অভিযোগ
সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, বিক্ষোভ চলাকালীন প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর নিজের ছবি বিকৃত করা হয়েছে ও অসম্মানজনক আচরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি কয়েকজন বিক্ষোভকারী জাতীয় পতাকাও সঠিকভাবে বহন করেননি বলে তিনি দাবি করেন।
তাঁর প্রশ্ন, গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের নামে যদি জাতীয় প্রতীক, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এবং সংবাদমাধ্যমের উপর আক্রমণ হয়, তাহলে সেটিকে কীভাবে গণতান্ত্রিক আন্দোলন বলা যায়?
‘গুন্ডা দমন আইনে’ কড়া ব্যবস্থা (Journalist Attack West Bengal)
হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যারা সাংবাদিকদের উপর হামলা চালিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে গুন্ডা দমন আইন-সহ প্রয়োজনীয় আইনি ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি স্পষ্ট করেন, সরকার শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের অধিকারে বিশ্বাস করে। কিন্তু হিংসা, ভাঙচুর, হামলা কিংবা সংবাদমাধ্যমকে ভয় দেখানোর মতো কোনও কর্মকাণ্ড বরদাস্ত করা হবে না।
তাঁর বক্তব্য, আইনের শাসন বজায় রাখতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে।
কার্গিল বিজয় দিবসে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা
সাংবাদিক বৈঠকের শুরুতেই কার্গিল বিজয় দিবস উপলক্ষে শহিদ সেনাদের স্মরণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, শহিদ বেদিতে গিয়ে তিনি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আত্মবলিদানকারী সেনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে অটল বিহারী বাজপেয়ীর নেতৃত্বে কার্গিল যুদ্ধে ভারতের সাফল্যের কথাও স্মরণ করেন।
সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন আইন আসছে
সড়ক দুর্ঘটনা রোধের বিষয়েও মুখ্যমন্ত্রী মন্তব্য করেন। তিনি জানান, কেন্দ্রীয় সরকার একটি নতুন আইন আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে, যাতে দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তি ও জরিমানার বিধান থাকবে। তাঁর মতে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে “শূন্য সহনশীলতা” নীতিতে বিশ্বাস করেন। তবে বিলটি সংসদে আনুষ্ঠানিকভাবে পেশ হওয়ার আগে এর বিস্তারিত নিয়ে মন্তব্য করা সমীচীন হবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
রাজনৈতিক বার্তা
সাংবাদিক বৈঠকের শেষে মুখ্যমন্ত্রী পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা সংবিধানপ্রদত্ত অধিকার। কিন্তু সেই স্বাধীনতার সুযোগ নিয়ে যদি কেউ হিংসা ছড়ায়, সাংবাদিকদের উপর হামলা চালায় বা আইনশৃঙ্খলা ভাঙার চেষ্টা করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, এই ঘটনায় প্রকৃত আন্দোলনকারীদের সঙ্গে হামলাকারীদের গুলিয়ে দেখা উচিত নয় এবং তদন্তের মাধ্যমে প্রত্যেক দোষীকে আইনের আওতায় আনা হবে।
#JournalistAttack #WestBengal #SuvenduAdhikari #Jamaat #PoliticalViolence #MediaAttack #LawAndOrder #BengalPolitics #BreakingNews #WestBengalNews
সাম্প্রতিক পোস্ট
রাত পেরিয়েও অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা এল না? এবার কী করতে হবে জেনে নিন, মিস করবেন না
রাজ্যে চালু প্রধানমন্ত্রী মাতৃ বন্দনা যোজনা, ১১ হাজার টাকা পাবেন কারা? জেনে নিন কীভাবে আবেদন করবেন?
মহিলাদের বাসে টিকিট কাটতে হবে না! জানুন, এই কার্ড থাকলেই দিঘা থেকে দার্জিলিং সফর ফ্রী তে
আপনার এলাকায় কি মিলবে ১২৫ দিনের কাজ? আজ থেকেই চালু নতুন প্রকল্প, জানুন কারা পাবেন এই সুবিধা

