Abhishek Banerjee Bank Account Freeze নিয়ে হাইকোর্টে নতুন আবেদন। বিদেশে চিকিৎসার আগে কেন অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ, বুধবার শুনানিতে কী হয় নজর সবার।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার অনুমতি পাওয়ার পরেও নতুন আইনি জটিলতায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার তাঁর অভিযোগ, কোনও স্পষ্ট কারণ না দেখিয়েই তাঁর ব্যক্তিগত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দেওয়া হয়েছে। বিদেশযাত্রার ঠিক আগে এই বিষয়টি নিয়ে ফের হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। শুধু অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার সিদ্ধান্তই নয়, সেটি কোন আইনি প্রক্রিয়ায় করা হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিষেকের আইনজীবী। আদালতে তাঁর পক্ষের বক্তব্য, তদন্তে সহযোগিতা করা সত্ত্বেও ব্যক্তিগত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট আটকে দেওয়ার সঙ্গে সেই তদন্তের সম্পর্ক কী, তা স্পষ্ট নয়। ফলে চিকিৎসার জন্য বিদেশযাত্রার আগে আদালতের কাছে দ্রুত শুনানির আবেদন করা হয়েছে। এখন নজর আগামী বুধবারের শুনানির দিকে। সেখানে আদালত এই অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার প্রক্রিয়া এবং তার আইনি ভিত্তি নিয়ে কী নির্দেশ দেয়, সেটিই হতে চলেছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
বিদেশযাত্রার আগে কেন ফের আদালতের দ্বারস্থ অভিষেক?
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদেশযাত্রা নিয়ে এর আগেও আদালতে আইনি লড়াই হয়েছে। চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার অনুমতি চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসার কারণে বিদেশযাত্রার অনুমতি পেয়েছেন তিনি। কিন্তু সেই বিদেশযাত্রার আগেই সামনে এসেছে নতুন সমস্যা—ব্যক্তিগত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ।
অভিষেকের পক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার আগে তাঁকে এর স্পষ্ট কারণ জানানো হয়নি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, কোন অভিযোগ বা তদন্তের ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে এবং তার জন্য কী আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে।
এই প্রশ্নের উত্তর জানতে চেয়েই এবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন অভিষেক। তাঁর আইনজীবী আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত মামলাটির শুনানির আবেদন করেছেন। কারণ সামনে তাঁর চিকিৎসার জন্য বিদেশযাত্রা রয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে ব্যক্তিগত আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হয়ে থাকলে তা বাস্তবে কী ধরনের সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে, সেটিও আদালতের সামনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ নিয়ে কী প্রশ্ন উঠল?
অভিষেকের আইনজীবীর মূল বক্তব্যের কেন্দ্রে রয়েছে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার আইনি পদ্ধতি। আদালতে তাঁর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১০৭ নম্বর ধারার প্রয়োগ ছাড়া কীভাবে কোনও ব্যক্তির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা যায়, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
আইনজীবী অরুণ ভট্টাচার্যের বক্তব্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ধারার অধীনে পুলিশকে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার জন্য সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন করতে হয়। সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না, সেটিই এখন আদালতের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
অর্থাৎ, বিষয়টি শুধুমাত্র একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাওয়ার অভিযোগে সীমাবদ্ধ নেই। এর সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে তদন্তকারী সংস্থার ক্ষমতা, আইনি প্রক্রিয়া এবং একজন নাগরিকের ব্যক্তিগত আর্থিক অধিকারের প্রশ্নও।
অভিষেকের পক্ষ থেকে আদালতে বলা হয়েছে, অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার কারণও স্পষ্ট করা হয়নি। ফলে কেন এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং তার পিছনে নির্দিষ্ট আইনি ভিত্তি কী, তা আদালতের কাছে পরিষ্কার করার দাবি জানানো হয়েছে।
‘তদন্তে সহযোগিতা করছেন’, তবু অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ কেন?
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবীর আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি হল, তাঁর মকেল আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তদন্তে সহযোগিতা করছেন। অর্থাৎ তদন্তের ক্ষেত্রে আদালতের নির্দেশ অমান্য করা হচ্ছে না বলেই তাঁর পক্ষের বক্তব্য।
এই পরিস্থিতিতে ব্যক্তিগত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার সঙ্গে তদন্তে সহযোগিতা করার বিষয়টির সম্পর্ক কোথায়, সেই প্রশ্নই আদালতের সামনে তুলে ধরা হয়েছে।
আইনজীবীর যুক্তি অনুযায়ী, কোনও ব্যক্তি তদন্তে সহযোগিতা করলে এবং আদালতের নির্দেশ মেনে চললে, তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার মতো পদক্ষেপের ক্ষেত্রে যথাযথ আইনি কারণ এবং প্রক্রিয়া থাকা দরকার। সেই কারণেই বিষয়টির দ্রুত শুনানি চাওয়া হয়েছে।
এখানে অবশ্য আদালতের চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণ এখনও সামনে আসেনি। ফলে অ্যাকাউন্ট কেন ফ্রিজ করা হয়েছে, তার নির্দিষ্ট কারণ কী এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোন আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছে—এসব প্রশ্নের উত্তর আগামী শুনানিতেই আরও স্পষ্ট হতে পারে।
আগামী বুধবার শুনানি, নজর আদালতের দিকে
অভিষেকের পক্ষ থেকে সোমবার বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। দ্রুত শুনানির আবেদন গ্রহণ করে আদালত মামলার অন্য পক্ষগুলিকে নোটিস দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলে দেওয়া তথ্য থেকে জানা যাচ্ছে। আগামী বুধবার মামলাটির শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই শুনানিতে মূলত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার আইনি ভিত্তি এবং সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া নিয়ে আদালতে বিস্তারিত বক্তব্য শোনা হতে পারে। অভিষেকের পক্ষ যেমন দাবি করেছে, কোনও কারণ না দেখিয়েই অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে, তেমনই অন্য পক্ষের বক্তব্যও আদালতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
বিশেষ করে যদি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার পিছনে কোনও তদন্ত বা নির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে, তাহলে সেই সংক্রান্ত নথি ও আইনি প্রক্রিয়াও আদালতের আলোচনায় আসতে পারে। ফলে আগামী শুনানি শুধু অভিষেকের ব্যক্তিগত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের ভবিষ্যৎ নয়, তদন্তের সময় কোনও ব্যক্তির আর্থিক সম্পদের উপর পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে কী ধরনের আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা উচিত, সেই বৃহত্তর প্রশ্নের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ।
চিকিৎসার বিদেশযাত্রার সঙ্গে নতুন আইনি জটিলতা
পুরো ঘটনাটির সময়কালও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশযাত্রার অনুমতি তিনি সুপ্রিম কোর্ট থেকে পেয়েছেন বলে তাঁর পক্ষের বক্তব্য। সেই বিদেশযাত্রার আগেই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হওয়ার অভিযোগ সামনে এসেছে।
ফলে একদিকে চিকিৎসার জন্য বিদেশযাত্রা, অন্যদিকে ব্যক্তিগত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নিয়ে আইনি জটিলতা—দুই বিষয় একই সময়ে সামনে এসেছে। অভিষেকের পক্ষের আইনজীবী সেই কারণেই মামলাটির দ্রুত শুনানির আবেদন করেছেন।
এখন আদালত কীভাবে বিষয়টি দেখে, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পর্যাপ্ত আইনি ভিত্তি ছিল কি না, প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিকে যথাযথভাবে কারণ জানানো হয়েছে কি না—এই প্রশ্নগুলির উত্তর সামনে আসতে পারে পরবর্তী শুনানিতে।
সব মিলিয়ে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদেশযাত্রার আগে ব্যক্তিগত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ নিয়ে নতুন করে যে মামলা হয়েছে, তা ফের একবার রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে ঘিরে চলা তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়াকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। তবে এই মুহূর্তে অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার চূড়ান্ত কারণ বা তার বৈধতা সম্পর্কে আদালতের কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সামনে আসেনি। তাই আগামী বুধবারের শুনানিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আদালতের পর্যবেক্ষণেই স্পষ্ট হতে পারে—কোন আইনি ভিত্তিতে অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছিল এবং পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে চলেছে।
#abhishekbannerjee #bankaccountfreeze #highcourt #westbengalpolitics #courtnews #abhishekbannerjeecase #foreigntravel #medicaltreatment
সাম্প্রতিক পোস্ট
‘সাথীরা, প্রশ্নফাঁস মাফিয়াদের রেয়াত নয়’– সংসদে বিল পাসের পর প্রথমবার কী বললেন প্রধানমন্ত্রী?
সিলেবাসে বড় পরিবর্তন কবে থেকে? শিক্ষক নিয়োগেও সুখবর? কী বললেন শিক্ষামন্ত্রী?
আবার কি বদলে যাবে নোট? দেশে আসছে প্লাস্টিকের নোট,জানুন, কী বদল আসছে?

