Purulia Manbazar JICA Project ঘিরে বড় উদ্যোগ, মানবাজারে নলবাহিত জল সরবরাহ প্রকল্পের শুভ সূচনার প্রস্তুতি। প্রকল্পের মাধ্যমে পুরুলিয়ার মানুষের কাছে পানীয় জলের পরিষেবা আরও সহজে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে নতুন পদক্ষেপ।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: মা মনসা পুজোর প্রাক্কালে পুরুলিয়ায় দাঁড়িয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পুরুলিয়া ও বাঁকুড়ার পানীয় জলের সমস্যা থেকে শুরু করে সীমান্ত নিরাপত্তা, জনগণনা, অনুপ্রবেশ রোধ, অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির তালিকা সংশোধন, সরকারি নিয়োগ এবং স্বাস্থ্য পরিষেবা—একাধিক বিষয় নিয়ে বক্তব্য রাখলেন তিনি। একই সঙ্গে জাপান সরকার ও জাইকার সহযোগিতায় পুরুলিয়ায় নলবাহিত পরিশুদ্ধ পানীয় জল সরবরাহ প্রকল্পের সূচনার কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, দীর্ঘদিনের জলকষ্ট দূর করতে এই প্রকল্পের মাধ্যমে পুরুলিয়ার একাধিক ব্লক ও পুরসভা এলাকার বিপুল সংখ্যক পরিবার উপকৃত হবে। পাশাপাশি আগামী দিনে রাজ্যের প্রত্যেক গ্রামে নলবাহিত পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যের কথাও জানান তিনি। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে সরকারের প্রথম একশো দিনের বিভিন্ন কাজের খতিয়ানও।
পুরুলিয়ায় নলবাহিত পানীয় জল প্রকল্পের সূচনা
পুরুলিয়া ও বাঁকুড়ার মানুষের দীর্ঘদিনের পানীয় জলের সমস্যার কথা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, জাপান সরকার এবং জাইকার সহযোগিতায় বড় মাপের জল সরবরাহ প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই প্রকল্পের মোট ব্যয় প্রায় ১,২৯৬ কোটি ২৫ লক্ষ টাকা, যার মধ্যে জাইকার পক্ষ থেকে প্রায় ৮৮৯ কোটি ৬ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছে।
এই প্রকল্পের আওতায় বারাবাজার, মানবাজার-১, পুরুলিয়া-১, কুঞ্চা, আরসা এবং পুরুলিয়া পুরসভা এলাকা-সহ একাধিক অঞ্চলে নলবাহিত পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, মোট ৮৭ হাজার ২৫১টি পরিবার, ৪৫৮টি মৌজা এবং প্রায় ৮ লক্ষ ১৩ হাজার মানুষ এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন।
প্রতিটি বাড়িতে দৈনিক জনপ্রতি প্রায় ৭০ লিটার পরিশুদ্ধ পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান তিনি। পুরুলিয়া, বাঁকুড়া এবং পশ্চিম বর্ধমানের জলকষ্ট ধীরে ধীরে দূর করার জন্য সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী।
জাপানের সঙ্গে সহযোগিতা, জলজীবন মিশনেও বড় পরিকল্পনা
জাপান সরকার এবং জাইকার সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে ভারত ও জাপানের দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
জলজীবন মিশন প্রসঙ্গেও বড় দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এর আগে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে পশ্চিমবঙ্গের জন্য বিপুল অর্থ বরাদ্দ করা হলেও আগের সরকারের সময় সেই প্রকল্পের বাস্তবায়নে দুর্নীতি হয়েছে এবং বহু জায়গায় নল থাকলেও জল পৌঁছয়নি।
মুখ্যমন্ত্রীর ভাষায়, ‘‘নল আছে, কিন্তু জল নেই’’—এই পরিস্থিতির পরিবর্তন করাই এখন সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। তাঁর দাবি, দায়িত্ব নেওয়ার পর কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রকের সঙ্গে রাজ্য সরকার চুক্তি করেছে। আগামী দিনে প্রায় ৩৯ হাজার কোটি টাকা জলজীবন মিশনের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গে কার্যকর করা হবে এবং রাজ্যের প্রত্যেক গ্রামে নলবাহিত পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করা হবে।
সীমান্ত নিরাপত্তা ও অনুপ্রবেশ রোধে সরকারের অগ্রাধিকার
সরকারের প্রথম একশো দিনের কাজের খতিয়ান তুলে ধরতে গিয়ে সীমান্ত নিরাপত্তার বিষয়টিও সামনে আনেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, দীর্ঘ সীমান্ত এলাকায় পরিকাঠামোগত ঘাটতির কারণে অবৈধ অনুপ্রবেশের সমস্যা তৈরি হয়েছিল।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, সীমান্তে নিরাপত্তার জন্য সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় জমি দেওয়ার কাজ সরকার অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে করেছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সরকারের প্রথম একশো দিনের অন্যতম বড় সাফল্য এটি।
এর পাশাপাশি সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে জনগণনার কাজ শুরু করার কথাও জানান তিনি। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা চালু করার বিষয়টিও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।
অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির তালিকা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দাবি
অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির তালিকা নিয়েও সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, আগের সরকারের সময় ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির কারণে কিছু ক্ষেত্রে অনিয়ম করে অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রকৃতভাবে যারা অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত—তাঁরা যাতে সরকারি সুযোগ-সুবিধা পান, সেই লক্ষ্যেই অবৈধভাবে অন্তর্ভুক্ত নামগুলি বাতিল করা হয়েছে।
কুম্ভকার, স্বর্ণকার, তেলি, কুমি, যাদব, নাপিত-সহ বিভিন্ন প্রকৃত অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির মানুষ যাতে তাঁদের প্রাপ্য সুযোগ পান, সেই বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি।
স্বচ্ছ নিয়োগের প্রতিশ্রুতি, এক লক্ষের কাছাকাছি চাকরির ঘোষণা
সরকারি নিয়োগ নিয়েও বড় ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আগামী ২৩ মার্চ ২০২৭-এর মধ্যে শিক্ষক, পুলিশ-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রায় এক লক্ষের কাছাকাছি নিয়োগ করা হবে।
নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি। বিদ্যালয় পরিষেবা কমিশন, সরকারি কর্ম কমিশন এবং পুলিশ নিয়োগ পর্ষদের মাধ্যমে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ করা হবে বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী।
লিখিত পরীক্ষার গুরুত্ব বাড়ানো এবং মৌখিক পরীক্ষার নম্বরের গুরুত্ব কমিয়ে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া তৈরি করার কথাও বলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, আগের নিয়োগ ব্যবস্থার অনিয়ম বন্ধ করে যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরি দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
স্বাস্থ্য পরিষেবায় পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসার দাবি
স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রেও সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের মাধ্যমে পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসার সুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
প্রায় দেড় কোটি পরিবারের ছয় কোটির বেশি মানুষ এই স্বাস্থ্য পরিষেবার আওতায় আসবেন বলে দাবি করেন তিনি। আশা কর্মী, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী এবং প্রবীণ নাগরিকদেরও এই সুবিধার আওতায় আনার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালেও এই স্বাস্থ্য পরিষেবার সুবিধা পাওয়া যাবে। যারা আয়ুষ্মান ভারতের আওতায় আসতে পারবেন না, তাঁদের জন্যও একইভাবে পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার ব্যবস্থার কথা তুলে ধরেন তিনি।
সব মিলিয়ে, পুরুলিয়ার মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে এসেছে একাধিক বড় প্রতিশ্রুতি—পানীয় জলের সমস্যা দূর করা, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করা, স্বচ্ছ নিয়োগ, জনগণনা, অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির তালিকা সংশোধন এবং স্বাস্থ্য পরিষেবার সম্প্রসারণ। একই সঙ্গে মা মনসা পুজোর প্রাক্কালে পুরুলিয়া ও বাঁকুড়া জেলায় সরকারি ছুটির কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট, সরকারের আগামী দিনের অন্যতম বড় লক্ষ্য গ্রাম থেকে শহর—প্রতিটি এলাকায় মৌলিক পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া।
#Purulia #Manbazar #JICAProject #WaterSupply #PipedWaterSupply #DrinkingWater #WestBengal #RuralDevelopment #WaterProject #WestBengalNews
সাম্প্রতিক পোস্ট
‘সাথীরা, প্রশ্নফাঁস মাফিয়াদের রেয়াত নয়’– সংসদে বিল পাসের পর প্রথমবার কী বললেন প্রধানমন্ত্রী?
সিলেবাসে বড় পরিবর্তন কবে থেকে? শিক্ষক নিয়োগেও সুখবর? কী বললেন শিক্ষামন্ত্রী?
আবার কি বদলে যাবে নোট? দেশে আসছে প্লাস্টিকের নোট,জানুন, কী বদল আসছে?

