Bigg Boss Life Lessons: রঙচটা প্রাচীরের দেওয়াল ঘেঁষে টুপ করে সন্ধ্যা নামে। হামাগুড়ি দিয়ে অন্ধকার ঢোকে আমাদের বেডরুমে। যৌনতায় মিশে থাকে জীবনের টানাপোড়েন। ক্লাসিফাইড বিজ্ঞাপনে ভরসা খুঁজতে থাকে মধ্যবিত্ত মন। চৌকাঠের চিহ্ন রেখে যায় বদলে যাওয়া সময়, আর না বদলানো কিছু মানসিকতা দরজায় খিল দিয়ে দিনবদলের স্বপ্ন দেখে। আজকের কথকতায় জমে থাক ‘জীবনের ঘূর্ণিপাক‘। লিখছেন প্রাণকৃষ্ণ ঘোষ।
না। হোস্ট হিসেবে সৌরভ না দেব, কে এগিয়ে সেটা নিয়ে গবেষণা করার ধৃষ্টতা আমার নেই।
বিগ বস এর মতো শো এর সঞ্চালক হিসেবে সৌরভ এর সাজসজ্জা কতটা আকর্ষণীয় সেটাও আমার এই লেখার উদ্দেশ্য নয়। সেটা বিচার করার যোগ্যতাও আমার নেই।
সেই সমস্ত ভাবার জন্য পেশাদার টিম রয়েছে। টেলিভিশন রেটিং পয়েন্ট (টি আর পি) বা টেলিভিশন ভিউয়িং রেট (টি ভি আর) যে নামেই ডাকা হোক না কেন, মূল বিষয়টা যে আসলে জনপ্রিয়তা একথা বোঝার জন্য বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। বিগ বস এর মতো পপুলার শো এ সেইজন্যই বোধহয় প্রতিযোগীদের একটা বড় অংশই সেলিব্রিটি হন। আসলে তো জনপ্রিয়তার নিরিখেই হিট করে এই ধরণের শো। নাহলে ভাবুন না সাধারণ মানুষ এই ধরণের শো তে অংশ নিতে পারে না কেন! আবার অন্য দিক থেকে দেখতে গেলে বিগ বস এর মতো শো সবকিছুর থেকে আলাদা।
কীভাবে?
বিগ বস সেই অর্থে কোনো নাচ বা গান এর রিয়্যালিটি শো এর মতো সৃজনশীল নয়। দাদাগিরির মতো মেধাবী শো নয়। দিদি নম্বর ওয়ান এর মতো খেলার শো ও নয়। তাহলে বিগ বস এর মতো শো নিয়ে এত উন্মাদনা কীসের?
হ্যাঁ।
আমি আজ কথা বলবো এই বিষয়েই। আপাতভাবে মনে হতেই পারে বিগ বস এর মতো শো আসলে ওভার রেটেড। অতটা মাতামাতি হওয়ার মতো কোনো মেরিট নেই।
কিন্তু না।
ওই জায়গাতেই লুকিয়ে আছে মূল কথা। বেশ কয়েকবছর আগের কথা। তখনও বিগ বস বাংলাতে কোনোদিন হতে পারে এই ধারণা অতিবড় বিগ বস প্রেমীরও ছিল না। আমার ও ধারণা ছিল বিগ বস এর মতো শো আসলে সময় নষ্ট। সেলিব্রিটিদের নিজেদের মধ্যে ঝগড়া, পিছনে লাগা, মান, অভিমান, প্রেম, বিচ্ছেদ এসব দেখে নিজের রক্তচাপ বাড়ানোর কোনো মানে হয় না।
তারপর সময় পেরোলো।
জীবনবোধ পাল্টে গেল। জীবন শেখাতে শুরু করলো টিকে থাকতে গেলে লড়াই করতে হবে। সেই পাল্টে যাওয়া জীবনবোধ থেকেই উপলব্ধি করলাম বিগ বস এর মতো শো ই তো আসল শো। ওর থেকে সৃজনশীল আর কিছু হয় না, হতে পারে না। ওর থেকে মেধাবী ও আর কিছু হয় না। ওর থেকে স্পোর্টিং ও আর কিছু হয় না।
জীবনের নিরিখে ওর থেকে প্রাসঙ্গিক ও বোধহয় আর কিছু হয় না।
লড়াই করে টিকে থাকাটাই তো জীবনের আসল মজা। নিস্তরঙ্গ জীবন তো মরণেরই শামিল। বিগ বস এর মতো শো ই তো আপনাকে অস্তিত্ব সংগ্রামে এগিয়ে চলার আত্মবিশ্বাস দেবে। কে কতটা পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিয়ে এগিয়ে যেতে পারছে; সেটা পার্ট অফ লিভিং না আর্ট অফ লিভিং – সেই বিতর্কে না গিয়েও জোর গলায় বলে দেওয়া যায়, বিগ বস এর মতো শো থেকেই জীবনযুদ্ধে টিকে থাকার ভোকাল টনিক পাওয়া যায়। কথায় আছে এভরিথিং ইজ ফেয়ার ইন লাভ অ্যান্ড ওয়ার। হ্যাঁ। মানছি যে বিগ বস এর দূর্গে যুদ্ধ যুদ্ধ ভাব, প্রেম, বিচ্ছেদ, ঝগড়া, ভাব, কাজ, অকাজ, টাস্ক, পারফরম্যান্স এসবের অনেকটাই স্ক্রিপ্টেড। কিন্তু তবুও বেঁচে থাকার জন্য যে শিক্ষার প্রয়োজন সেই শিক্ষা প্রদানের উপযুক্ত প্ল্যাটফর্ম অবশ্যই বিগ বস। ছলে, বলে কৌশলে এগিয়ে চলার মূলমন্ত্র তো বিগ বস এর মতো বড় মঞ্চ থেকেই পাওয়া যায়। সময়, পরিস্থিতি, সুযোগ এই তিনটি জিনিস জীবনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সবার সময়, পরিস্থিতি বা সুযোগ হবে না বিগ বস এর মঞ্চে আত্মপ্রকাশ করার। কিন্তু দর্শক হিসেবে উপলব্ধি করে শিক্ষা নেওয়ার সুযোগ কিন্তু আমাদের প্রত্যেকের কাছেই রয়েছে। আগের সিজনের এক প্রতিযোগী যথার্থই বলছিলেন,” তখন পরিস্থিতি ছিল। অংশ নিতে পেরেছিলাম। এখন হলে পারতাম না। সবার পক্ষে অংশ নেওয়া সম্ভব নয় কিন্তু দর্শক হিসেবে সঙ্গে থাকা অবশ্যই সম্ভব”।
সত্যি কথা হচ্ছে তিন মাস নিজের তৈরি করা জগত থেকে, পরিবার থেকে, মোবাইল থেকে, সোস্যাল মিডিয়া থেকে, কাজ থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ ভাবে ডিটাচ করে সারাক্ষণ অপরের নজরবন্দী হওয়ার মধ্যে যে মানসিক শক্তি লাগে তা আমাদের সমাজের বড় অংশের মানুষজনের নেই। যাঁদের হয়তো বা আছেও তাঁদের আবার সেই সময় বা পরিস্থিতি নেই।
আমাদের এই কঠিন সমাজে টিকে থাকতে গেলে, অস্তিত্বের সংকট উপেক্ষা করে সটান গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যেতে গেলে বিগ বস এর মতো শো দেখতেই হবে। শুধু দেখলেই হবে না। সেখান থেকে শিক্ষাও নিতে হবে।
হবেই।
শুধু সততা দিয়েও হবে না। আবার শুধু কৌশল দিয়েও হবে না। দূর্গ জয় করতে গেলে মেলবন্ধন দরকার। একই সঙ্গে হতে হবে পরিশ্রমী ও মেধাবী।
হতে হবে সৎ ও কৌশলী।
পরিষ্কার জীবনবোধ এর শিক্ষা নেওয়ার প্ল্যাটফর্ম অবশ্যই বিগ বস।
জীবনে কাঁটা তো থাকবেই। কিন্তু একবার কষ্ট করে কাঁটা পেরিয়ে যেতে পারলেই ফুলের দিগন্ত খুলে যাবে। সময় এর হাতেই তো সব। আজ রাজা, কাল ফকির। সকালে যে বন্ধু সন্ধ্যায় হয়তো সেই শত্রু।
তাই জীবনের খেলা জমে যাক।
হ্যাঁ।
সলমান না দাদা কে বেশি ফিট সেই বিতর্ক এখন থাক।
ভরত না তনুশ্রী কে বেশি হিট সেই ব্যাপারটাও না বলাই থাক।
ঝিলাম না সায়ক কে বেশি গিঁট সেটাও আপাতত উহ্য থাক।
বরং জমে যাক স্ট্রাগল।
স্ট্রাগল ফর এক্সিস্ট্যান্স…
#biggbosslifelessons #biggboss #biggbossbengali #biggbossrealityshow #biggbosscontestants #realityshow #realitytelevision #lifelessons #survivalskills #lifestruggles #strategyandsurvival #popularity #trp #bengalitelevision
সাম্প্রতিক পোস্ট
স্কুলের শৌচাগারে সাপ! নামী বেসরকারি স্কুলের নিরাপত্তা নিয়ে উঠল প্রশ্ন, কী বলছে কর্তৃপক্ষ
নিউ মার্কেটের অগ্নিকাণ্ডের নেপথ্যে আসল কারণ কী? ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য
অভিজিৎ দীপকে কি তবে এবার বিজেপিতে? রাজনৈতিক প্রস্তাব ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা
ঋতব্রতই বিরোধী দলনেতা, হাইকোর্টের বড় পর্যবেক্ষণ, কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের পদক্ষেপ কী?

