Why Writers Write: সময় বদলায়। বদলাবেই। নিয়নের আলো ফিকে হয়ে এলইডি’র উজ্জলতায়। স্মার্টফোন মাপে রক্তচাপ। মুহূর্তগুলো বন্দি আজ আঙুলের ছোঁয়ায়। তবু ছুটির দিনে ক্লান্ত দুপুরে ভাতঘুম মন। শিরিষ গাছের দীর্ঘ ছায়া আড়মোড়া ভাঙে তপ্ত ছাদে। আর মন কেমন করা রবিবার দুপুরে মজে থাকে ‘রোদ্দুরের কথকতা‘। কলমে-দেবব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়
” আপনার লেখাগুলো কেউ পড়ে না। আপনার লেখাগুলো কারো ভালো লাগে না। আপনার বই বিক্রি হয় না। আপনাকে কেউ চেনে না । তাহলে লেখেন কেন? “
প্রশ্নটি শুনে লোকটা আকাশের দিকে তাকাল। ভাবল অনেকক্ষণ। তারপর বলল, ‘আর কিছুই পারি না বলে।’ মানে বলতে চাইলো। অশ্রুত কথোপকথনের মতো।
এই এক লাইনের ভেতরেই পৃথিবীর সব লেখকের গোপন ইতিহাস লুকিয়ে আছে।
লোকটার মতো এই কথাটা আরও অনেকেই বলে গেছেন, একটু অন্য ভাবে।
কাফকা বলেছিলেন, “আমি লিখি না, লেখা আমাকে লেখে। আমি না লিখলে ভেতরটা পচে যায়।” লেখা তাঁর কাছে কোন কাজ ছিল না, ছিল একটি অস্তিত্ব। তাঁর বেঁচে থাকার একটা পদ্ধতি। একমাত্র প্রার্থনা।সারাজীবন তিনি প্রায় কিছুই ছাপেননি। বন্ধুকে বলে গিয়েছিলেন, মরে গেলে সব পাণ্ডুলিপি পুড়িয়ে দিও। বন্ধুটি কথা শোনেনি বলেই আজ আমরা কাফকাকে চিনি।
আরও পড়ুন : মহাকালের ঘণ্টা বাজছে, মায়ের ছবিতে মালা
জীবনানন্দ দাশ আমাদের মতোই এই প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছিলেন। একা, অখ্যাত, প্রায় পাঠকহীন। তিনি লিখেছিলেন — “সকলেই কবি নয়, কেউ কেউ কবি।”
আরও লিখেছিলেন,
“আমাকে খোঁজো না তুমি বহুদিন – কতদিন আমিও তোমাকে খুঁজি নাকো।”
তিনি জানতেন, কবিতা পড়ার লোক নেই। তবু লিখে গেছেন, কারণ কবিতা ছাড়া তাঁর বেঁচে থাকার আর কোনো উপায় ছিল না। রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন অনেক সহজ করে — “লেখার ইচ্ছা, বলার ইচ্ছার মতোই স্বাভাবিক। ফুল ফুটলে যেমন গন্ধ বেরোয়।”
চার্লস বুকোস্কি আরও নির্মম। তিনি বলেছিলেন, “যদি তোমার বুকের ভেতর থেকে রক্ত হয়ে লেখা বেরিয়ে না আসে, লিখো না। যদি কেউ তোমাকে না পড়ে, তবুও লেখা বেরিয়ে আসে, তাহলেই লিখো।” আর কাম্যু বলেছিলেন, “শিল্পী যখন কিছুই আর করতে পারে না, তখন সে লেখে।” লেখাটা কখনোই শুধু যোগাযোগ নয়। যোগাযোগ তো ব্যবসা, বিজ্ঞাপন, বক্তৃতাও। লেখা হলো আত্মরক্ষা। কর্ণের কবচ কুন্ডলের মতো নিবিড় ঢাল। অনন্ত গ্লানি আর অপমানের সামনে একা কুম্ভ। নিশ্চিত পরাজয়ের সামনে একক অভিমন্যু।
যে ছেলেটা ভিড়ের মধ্যে কথা বলতে পারে না, সে ডায়েরি লেখে। যে মেয়েটা কাঁদতে পারে না সবার সামনে, সে কবিতা লেখে। আমরা সবাই জীবনে এমন কিছু বয়ে বেড়াই, যা কাউকে বলা যায় না। লেখা সেই না-বলা কথাগুলোর জন্য একটা ঘর। একটা চিলেকোঠা। পাঠক পেলে সেই ঘরে আলো জ্বলে। পাঠক না পেলে ঘরটা অন্ধকার থাকে, কিন্তু ঘরটা থাকে। ভেঙে পড়ে না।
তাই যদি কখনো মনে হয়, আপনার লেখা কেউ পড়ছে না, কেউ বুঝছে না, বই বিক্রি হচ্ছে না, কেউ চিনছে না — ভয় পাবেন না। আপনি একা নন। পৃথিবীর বেশিরভাগ সত্যিকারের লেখাই প্রথমে একা ছিল। লোকজন আসবে কি আসবে না, সেটা সময়ের হাতে। আপনার হাতে শুধু একটা কাজ — লিখে যাওয়া।
কারণ আকাশ কাউকে দেখানোর জন্য নীল হয় না। নদী কেউ দেখবে বলে বয়ে যায় না। আর লেখক কেউ পড়বে বলেই লেখে না।
সে লেখে, কারণ আর কিছুই সে পারেও না, আর কিছুই সে হতেও চায় না। সমবেত না পারার সামনে, হাজার সত্যি অজুহাতের সামনে একমাত্র ‘পারলাম’ নামক আত্মবিশ্বাস।
হয়তো। হয়তো বা।।
#WhyWritersWrite #Writers #Writing #Authors #Literature #Books #WritersLife #CreativeWriting
সাম্প্রতিক পোস্ট
স্কুলের শৌচাগারে সাপ! নামী বেসরকারি স্কুলের নিরাপত্তা নিয়ে উঠল প্রশ্ন, কী বলছে কর্তৃপক্ষ
নিউ মার্কেটের অগ্নিকাণ্ডের নেপথ্যে আসল কারণ কী? ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য
অভিজিৎ দীপকে কি তবে এবার বিজেপিতে? রাজনৈতিক প্রস্তাব ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা
ঋতব্রতই বিরোধী দলনেতা, হাইকোর্টের বড় পর্যবেক্ষণ, কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের পদক্ষেপ কী?

