Sealdah Local Train Cancellation: শিয়ালদহ বিভাগের কল্যাণী ও কাঁচরাপাড়ার মধ্যে রেললাইনের রক্ষণাবেক্ষণের কাজ। শনিবার রাত সাড়ে ১০টা থেকে রবিবার ভোর সাড়ে ৫টা পর্যন্ত পরিষেবা ব্যাহত হবে একাধিক শাখায়।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: শনি ও রবিবার শিয়ালদহ বিভাগের ট্রেনে যাতায়াতের পরিকল্পনা রয়েছে? তাহলে বাড়ি থেকে বেরোনোর আগে জেনে নিন গুরুত্বপূর্ণ খবর। রেললাইন এবং মাথার উপর দিয়ে যাওয়া বিদ্যুতের তারের রক্ষণাবেক্ষণের কাজের জন্য শিয়ালদহ বিভাগের একাধিক শাখায় ট্রেন চলাচলে বড় পরিবর্তন করা হচ্ছে। শনিবার রাত থেকে রবিবার ভোর পর্যন্ত টানা সাত ঘণ্টা নির্দিষ্ট অংশে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে। এর জেরে বাতিল করা হচ্ছে প্রায় ৩০টি লোকাল ট্রেন।
রেল পরিষেবার এই পরিবর্তনের প্রভাব পড়বে শিয়ালদহ–রানাঘাট, শান্তিপুর, কৃষ্ণনগর, গেদে, কল্যাণী সীমান্ত, নৈহাটি এবং লালগোলা-সহ একাধিক শাখায়। শুধু ট্রেন বাতিলই নয়, কয়েকটি ট্রেনের যাত্রাপথও সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। কোনও ট্রেন শিয়ালদহের পরিবর্তে রানাঘাট পর্যন্ত চলবে, আবার কোনও ট্রেন কল্যাণী সীমান্তের পরিবর্তে নৈহাটি থেকে যাত্রা শুরু করবে।
অন্যদিকে, আসানসোল বিভাগেও আটটি মেমু ট্রেন বাতিল থাকার কথা জানা গিয়েছে। ফলে সপ্তাহান্তে যাঁরা লোকাল বা মেমু ট্রেনের উপর নির্ভর করে যাতায়াত করেন, তাঁদের পরিবর্তিত সময়সূচি জেনে নেওয়া জরুরি।
শনিবার রাত থেকে রবিবার ভোর পর্যন্ত কেন বন্ধ থাকবে ট্রেন চলাচল?
শিয়ালদহ বিভাগের কল্যাণী ও কাঁচরাপাড়া স্টেশনের মধ্যবর্তী অংশে রেললাইন এবং বিদ্যুতের ওভারহেড তারের রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করা হবে। সেই কারণেই নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শনিবার, ৩১ অক্টোবর রাত ১০টা ৩০ মিনিট থেকে রবিবার, ১ নভেম্বর ভোর ৫টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত মোট সাত ঘণ্টা এই কাজ চলবে।
রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নেওয়া এই সিদ্ধান্তের জেরে শনিবার রাত এবং রবিবার ভোরের একাধিক লোকাল ট্রেন বাতিল করা হচ্ছে। পাশাপাশি কিছু ট্রেনের যাত্রা শুরু ও শেষের স্টেশনও পরিবর্তন করা হয়েছে।
কোন কোন শাখায় কতগুলি লোকাল ট্রেন বাতিল?
শনিবার রাতে শিয়ালদহ বিভাগের বিভিন্ন শাখায় একাধিক লোকাল ট্রেন বাতিল থাকবে।
শনিবার, ৩১ অক্টোবর বাতিল ট্রেনের শাখাভিত্তিক হিসাব:
- শিয়ালদহ–রানাঘাট শাখায় ৫টি লোকাল ট্রেন।
- শান্তিপুর শাখায় ৪টি লোকাল ট্রেন।
- কৃষ্ণনগর শাখায় ২টি লোকাল ট্রেন।
- গেদে শাখায় ২টি লোকাল ট্রেন।
- কল্যাণী সীমান্ত–নৈহাটি শাখায় ১টি লোকাল ট্রেন।
- লালগোলা শাখায় ২টি লোকাল ট্রেন।
- দত্তপুকুর শাখায় ২টি লোকাল ট্রেন।
অন্যদিকে, রবিবার, ১ নভেম্বর ভোরের দিকেও একাধিক শাখায় ট্রেন বাতিল থাকবে।
রবিবার বাতিল ট্রেনের শাখাভিত্তিক হিসাব:
- নৈহাটি–কল্যাণী সীমান্ত শাখায় ১টি লোকাল ট্রেন।
- রানাঘাট শাখায় ২টি লোকাল ট্রেন।
- শান্তিপুর শাখায় ২টি লোকাল ট্রেন।
- কৃষ্ণনগর শাখায় ২টি লোকাল ট্রেন।
- গেদে শাখায় ২টি লোকাল ট্রেন।
অর্থাৎ শনি ও রবিবার মিলিয়ে প্রায় ৩০টি লোকাল ট্রেন বাতিল থাকার কথা জানানো হয়েছে। এর ফলে বিশেষ করে রাতের শেষ দিকের এবং ভোরের প্রথম দিকের ট্রেনে যাতায়াতকারী যাত্রীদের অসুবিধা হতে পারে।
কোন ট্রেন কোথা থেকে ছাড়বে, কত দূর যাবে? বদলাচ্ছে একাধিক ট্রেনের যাত্রাপথ
লোকাল ট্রেন বাতিলের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি ট্রেনের যাত্রাপথ সংক্ষিপ্ত করা হচ্ছে।
লালগোলা–শিয়ালদহ মেমু: এই ট্রেনটি শিয়ালদহ পর্যন্ত আসবে না। পরিবর্তিত ব্যবস্থায় রানাঘাট পর্যন্ত চলবে।
৩১৩৪১ আপ শিয়ালদহ–কল্যাণী সীমান্ত লোকাল: শনিবার এই ট্রেনটি কল্যাণী সীমান্ত পর্যন্ত না গিয়ে নৈহাটি পর্যন্ত চলবে।
৩১৩১১ আপ শিয়ালদহ–কল্যাণী সীমান্ত লোকাল: রবিবার এই ট্রেনটিও নৈহাটি পর্যন্ত চলবে।
৩১৩১২ ডাউন এবং ৩১৩১৪ ডাউন কল্যাণী সীমান্ত–শিয়ালদহ লোকাল: রবিবার এই দুটি ট্রেন কল্যাণী সীমান্তের পরিবর্তে নৈহাটি থেকে যাত্রা শুরু করবে।
৫৩১৭১ শিয়ালদহ–লালগোলা যাত্রীবাহী ট্রেন: রবিবার ট্রেনটি নির্ধারিত সময়ের ৬০ মিনিট পরে ছাড়বে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ট্রেনটির যাত্রাপথেও পরিবর্তনের উল্লেখ রয়েছে।
এ ছাড়া শনিবারের ৬৩১০৬ নম্বর ট্রেনের ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের কথা জানানো হয়েছে। তবে এই ট্রেনটির পরিবর্তিত যাত্রাপথের সম্পূর্ণ তথ্য স্পষ্ট নয়।
রবিবারের ৫৩১৭১ নম্বর ট্রেনটির গন্তব্য সম্পর্কেও পাওয়া তথ্যে অসংগতি রয়েছে। তাই এই দুটি ট্রেনের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সময়সূচি রেলের সরকারি বিজ্ঞপ্তি থেকে মিলিয়ে নেওয়া জরুরি।
আসানসোল বিভাগেও আটটি মেমু বাতিল, যাত্রীদের কী করণীয়?
শিয়ালদহ বিভাগের পাশাপাশি আসানসোল বিভাগেও আটটি মেমু ট্রেন বাতিল থাকার কথা জানা গিয়েছে। তবে কোন আটটি ট্রেন বাতিল হচ্ছে এবং সেগুলির নির্দিষ্ট সময়সূচি কী, সেই বিস্তারিত তথ্য এখানে পাওয়া যায়নি।
শনি ও রবিবারের এই পরিবর্তনের ফলে যাঁরা রানাঘাট, শান্তিপুর, কৃষ্ণনগর, গেদে, কল্যাণী সীমান্ত, নৈহাটি কিংবা লালগোলা শাখায় যাতায়াত করবেন, তাঁদের বিশেষ সতর্ক থাকা প্রয়োজন। কারণ শুধু ট্রেন বাতিল নয়, কয়েকটি ট্রেনের ক্ষেত্রে যাত্রার শুরু এবং শেষের স্টেশনও বদলে যাচ্ছে। ফলে নিয়মিত যে স্টেশন থেকে ট্রেন ধরেন, সেখান থেকে নির্দিষ্ট ট্রেনটি আদৌ পাওয়া যাবে কি না, তা আগে জেনে নেওয়া ভালো।

