Suvendu Adhikari Attacks Mamata Banerjee: ‘মাত্র ৯০ দিনেই একটা দলের পঞ্চত্বপ্রাপ্তি হয়েছে’—বিরোধীদের কটাক্ষ শুভেন্দু অধিকারীর। ভোট-পরবর্তী হিংসা, দুর্নীতি, জমি দখল থেকে পুজোর অনুমতি—একাধিক বিষয় তুলে ধরে তীব্র রাজনৈতিক আক্রমণ।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: ভোট-পরবর্তী হিংসায় নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো থেকে শুরু করে রাজ্যের প্রাক্তন শাসকদলের নেতাদের তীব্র আক্রমণ—একাধিক বিষয় নিয়ে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিগত ২৫ বছরে রাজনৈতিক হিংসায় নিহতদের পরিবারের সদস্যদের চাকরির প্রসঙ্গ তুলে ধরার পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি নিশানা করেন তিনি।
বক্তব্যের শুরুতেই তৃণমূলের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে কটাক্ষ করেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, যে দল একসময় সিপিএমের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য তৈরি হয়েছিল, সেই দলের নেতারাই এখন পুরনো রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছেন। এই প্রসঙ্গে তিনি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর সময়কার রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথাও টেনে আনেন।
তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে ভোটে পরাজয়ের পরে রাজনৈতিক দলের অস্তিত্ব, বিরোধী শিবিরের ভবিষ্যৎ এবং বাংলায় নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের প্রসঙ্গ।
‘মাত্র ৯০ দিনের মধ্যে একটা দলের পঞ্চত্বপ্রাপ্তি হয়েছে’—তৃণমূলকে কটাক্ষ শুভেন্দুর
তৃণমূলের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘হেরে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মাত্র নব্বই দিনের মধ্যে একটা পার্টির পঞ্চত্বপ্রাপ্তি হয়েছে।’ দেশের অন্য রাজ্যে নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পরেও রাজনৈতিক দলগুলি নিজেদের সংগঠন ধরে রেখেছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বিহারের রাষ্ট্রীয় জনতা দলের প্রসঙ্গ তোলেন।
শুভেন্দুর অভিযোগ, বাংলায় রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা। তাঁর দাবি, তৃণমূলের নেতাদের একাংশ এখন অন্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছেন। একই সঙ্গে কয়েকজন সাংসদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রতি সমর্থন প্রকাশের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বাম নেতৃত্বের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও কটাক্ষ করেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, একসময় সিপিএমের অত্যাচারের বিরুদ্ধে যে রাজনৈতিক লড়াই শুরু হয়েছিল, সেই অতীতের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির বৈপরীত্য।
‘সাহস থাকলে আবার লড়ুন, আবার হারাব’—মমতাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি নির্বাচনী লড়াইয়ের চ্যালেঞ্জও ছুড়ে দেন শুভেন্দু অধিকারী।
নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুরের নির্বাচনী ফলাফলের প্রসঙ্গ তুলে তিনি দাবি করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর কাছে দু’বার পরাজিত হয়েছেন।
এর পরেই শুভেন্দুর চ্যালেঞ্জ, ‘সাহস থাকলে আবার লড়ুন। আপনাকে আবার হারাব আমি।’
২০২৪ সালের ২২ জানুয়ারি অযোধ্যায় রামমন্দির উদ্বোধনের দিনের রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়েও মমতাকে আক্রমণ করেন তিনি। শুভেন্দুর অভিযোগ, ওই দিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক অবস্থান হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ভাবাবেগের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না।
পাশাপাশি দুর্গাপুজোর অনুষ্ঠানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শুভেন্দু।
১৫ আগস্ট স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের প্রসঙ্গ টেনেও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করেন তিনি।
‘এঁচড়ে পাকা ভাইপো’—অভিষেককে নিশানা
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী তাঁকে ‘এঁচড়ে পাকা ভাইপো’ বলে কটাক্ষ করেন।
দক্ষিণ ২৪ পরগনায় তৃণমূলের রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে একাধিক অভিযোগ তোলেন তিনি। শুভেন্দুর দাবি, ওই জেলার গণতান্ত্রিক কাঠামো ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিরোধীদের অংশগ্রহণে বাধা দেওয়া হয়েছে।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী জয়ের ব্যবধানের প্রসঙ্গ তুলে শুভেন্দু প্রশ্ন করেন, নির্বাচনের পরে তিনি কতটা সময় নিজের এলাকার মানুষের পাশে থেকেছেন।
ফলতার একটি পুরনো রাজনৈতিক বক্তব্যের প্রসঙ্গও টেনে আনেন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, সেখানে বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের উদ্দেশে আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছিল।
ভোট-পরবর্তী হিংসায় নিহতদের পরিবারকে চাকরি, আর্থিক সাহায্যের কথাও জানালেন
রাজনৈতিক আক্রমণের পাশাপাশি ভোট-পরবর্তী হিংসায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন শুভেন্দু অধিকারী।
বিগত ২৫ বছরে রাজনৈতিক হিংসায় নিহতদের পরিবারের সদস্যদের চাকরির বিষয়ে তিনি বক্তব্য রাখেন। একই সঙ্গে রাজনৈতিক হিংসার ঘটনায় যাঁরা এখনও অভিযোগ দায়ের করেননি, তাঁদের অভিযোগ জানানোর আহ্বান জানান।
শুভেন্দু বলেন, যাঁরা ভোট-পরবর্তী হিংসার সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব পুলিশ প্রশাসনের।
একটি সংখ্যালঘু পরিবারের শিশুর মৃত্যুর ঘটনার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ওই শিশুর মৃত্যুর পরে তিনি পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।
শুভেন্দুর দাবি, সংশ্লিষ্ট পরিবার মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ২০ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য পেয়েছে। পরিবারের একজনকে চাকরি দেওয়ার কথাও জানান তিনি।
তাঁর বক্তব্য, শিশুটিকে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব না হলেও পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছেন তিনি।
অন্যদিকে, গুজবের জেরে এক হিন্দু যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগও তোলেন শুভেন্দু। এই ঘটনায় পুলিশের সঙ্গে তাঁর কথোপকথনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, নিহত যুবকের বিরুদ্ধে ছড়ানো অভিযোগের সত্যতা ছিল না।
‘বড় চোরটা কবে যাবে? ধৈর্য ধরুন’—দুর্নীতি ও জমি দখল নিয়ে হুঁশিয়ারি
রাজ্যের দুর্নীতি ও জমি দখলের অভিযোগ নিয়েও সরব হন শুভেন্দু অধিকারী। ‘আপনাদের মনে প্রশ্ন আছে, বড় চোরটা কবে যাবে? সময়টা একটু ঠিকঠাক দেখে করতে হয়।’
এর পরেই তাঁর মন্তব্য, ‘আমার রাজনৈতিক জীবনে ধৈর্য আর সহ্য—আপনারাও দয়া করে এটা পালন করুন। বড় চোর যাবে, চিন্তার কোনও কারণ নেই।’
শুভেন্দু আরও দাবি করেন, দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জমি দখলের অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে তিনি জানান, প্রশাসনিক স্তরেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বারুইপুর এবং ভাঙড়-সংলগ্ন এলাকায় জমি দখল ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগ তুলে কয়েকজন স্থানীয় নেতার নামও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর দাবি, প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের আশীর্বাদে বিভিন্ন এলাকায় অনিয়ম হয়েছে।
রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়েও একাধিক পরিসংখ্যান তুলে ধরেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, রাজ্যের ঋণের বোঝা আট লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। পাশাপাশি পরিযায়ী শ্রমিক ও শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
একই সঙ্গে আবাসন প্রকল্প, ঘূর্ণিঝড় আমফানের ত্রাণ এবং অন্যান্য সরকারি প্রকল্পের টাকা নয়ছয়ের অভিযোগ তোলেন।
পুজোর অনুমতি ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান নিয়ে কী বললেন শুভেন্দু?
দুর্গাপুজোর অনুমতি নিয়েও বক্তব্য রাখেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, রাজ্যে নতুন করে প্রায় ১৩ হাজার পুজোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। পুজো আয়োজনে কোথাও বাধা দেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়েও উপস্থিত মানুষের কাছে জানতে চান তিনি।
ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনের অধিকার রক্ষার প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, কোনও এলাকায় পুজো বা ধর্মীয় আয়োজনে বাধা দেওয়া হলে প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে।
একই সঙ্গে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এবং স্বামী প্রণবানন্দের নাম উল্লেখ করে বাংলার ইতিহাস ও ধর্মীয় পরিচয়ের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি।
শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যে একদিকে ছিল তৃণমূল ও বাম নেতৃত্বের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক আক্রমণ, অন্যদিকে ভোট-পরবর্তী হিংসায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে সাহায্য, দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে আয়োজনের বার্তা।
সাম্প্রতিক পোস্ট
নিয়োগ দুর্নীতি কি আগামী দিনে কমবে? জানুন, চাকরির নিয়মে এই পরিবর্তনে আসবে কি স্বচ্ছতা?
এক্সপোজড! ককরোচ জনতা পার্টির নেপথ্যে কোন চক্রান্তের গন্ধ? সত্যিটা জানলে চমকে উঠবেন
মহিলাদের বাসে টিকিট কাটতে হবে না! জানুন, এই কার্ড থাকলেই দিঘা থেকে দার্জিলিং সফর ফ্রী তে

