Abhishek Banerjee Medical Certificate: চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার অনুমতি চেয়ে জমা দেওয়া নথি ঘিরে উঠল একাধিক প্রশ্ন। চিকিৎসকের রেজিস্ট্রেশন নম্বর না থাকা মেডিকেল সার্টিফিকেট নিয়ে অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালে নথি যাচাই এবং আদালতের পর্যবেক্ষণে নতুন মোড় নিল অভিষেকের বিদেশযাত্রার আবেদন।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার আবেদনকে ঘিরে এবার সরাসরি প্রশ্নের মুখে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমা দেওয়া মেডিকেল নথি। অভিযোগ উঠেছে, বিদেশযাত্রার অনুমতির জন্য কলকাতা হাইকোর্টে যে চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি জমা দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে থাকা একটি মেডিকেল সার্টিফিকেট নিয়েই রয়েছে বড়সড় অসঙ্গতি। এমনকি সেই সার্টিফিকেটকে ‘জাল’ বলে দাবি করে অভিযোগও দায়ের হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি চোখের চিকিৎসার নাম করে বিদেশ যাওয়ার রাস্তা তৈরি করতে চেয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়? কেনই বা আদালতে জমা দেওয়া চিকিৎসকের সার্টিফিকেটে নেই প্রয়োজনীয় রেজিস্ট্রেশন নম্বর? আর যদি সত্যিই বিদেশে চিকিৎসা এতটাই জরুরি হয়, তাহলে দেশের অন্যতম বড় সরকারি হাসপাতাল এসএসকেএম থেকে কেন সেই চিকিৎসা ভারতে সম্ভব নয়—এমন কোনও স্পষ্ট শংসাপত্র নেওয়া হল না? এই প্রশ্নগুলিই এখন সামনে আসছে। আদালতের পর্যবেক্ষণেও উঠে এসেছে, বিদেশে চিকিৎসার জন্য যাওয়ার আগে রাজ্যের সরকারি হাসপাতাল থেকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি যাচাই করিয়ে নেওয়া যেতে পারে।
চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশযাত্রা, হাইকোর্টে জমা পড়ে ৩০০ পাতার নথি (Abhishek Banerjee Medical Certificate)
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদেশে চিকিৎসার আবেদন ঘিরে আদালতে জমা পড়েছে প্রায় ৩০০ পাতার নথি। সেই বিশাল নথির মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বলে ধরা হচ্ছে মেডিকেল সার্টিফিকেটকে। কারণ, কোনও ব্যক্তি চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে চাইলে তাঁর শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত তথ্য এবং বিদেশে চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে চিকিৎসকের মতামত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
সেই মেডিকেল সার্টিফিকেটেই এবার প্রশ্ন উঠেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। অভিযোগকারীদের বক্তব্য, নথিতে চিকিৎসকের নাম থাকলেও নেই প্রয়োজনীয় রেজিস্ট্রেশন নম্বর। এমনকি চিকিৎসকের নির্দিষ্ট পরিচয় সংক্রান্ত আরও কিছু তথ্যও সেখানে উল্লেখ করা হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে।
এখান থেকেই প্রশ্ন উঠেছে, আদালতে জমা দেওয়া এই মেডিকেল সার্টিফিকেটটি আদৌ যথাযথ নিয়ম মেনে তৈরি করা হয়েছে কি না। আর যদি বিদেশে চিকিৎসার অনুমতি পাওয়ার জন্য এই নথিই অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হয়ে থাকে, তাহলে সেই নথিতে কেন প্রয়োজনীয় তথ্য থাকবে না?
এই প্রশ্নকে সামনে রেখেই এখন বিষয়টি আরও বড় আকার নিচ্ছে।
‘জাল মেডিকেল সার্টিফিকেট’ অভিযোগ, মেডিকেল কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো হল (Abhishek Banerjee Medical Certificate)
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদেশযাত্রার আবেদন সংক্রান্ত এই মেডিকেল সার্টিফিকেট নিয়ে ইতিমধ্যেই অভিযোগ জানানো হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। অভিযোগকারীদের বক্তব্য, বিষয়টি মেডিকেল সংক্রান্ত কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হয়েছে। পাশাপাশি প্রশাসনের কাছেও বিষয়টি জানানো হয়েছে বলে দাবি।
অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে সেই চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি, যার ভিত্তিতে বিদেশে গিয়ে চোখের চিকিৎসা করার অনুমতি চাওয়া হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, চিকিৎসকের নাম থাকলেও তাঁর রেজিস্ট্রেশন নম্বর বা প্রয়োজনীয় পরিচয় সংক্রান্ত তথ্য নথিতে নেই।
এই বিষয়টিই এখন বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে। কারণ চিকিৎসা সংক্রান্ত কোনও নথি যদি আদালতে পেশ করা হয়, তাহলে সেটির যথাযথতা এবং প্রামাণিকতা নিয়ে কোনও প্রশ্ন থাকা উচিত নয়—এমনটাই দাবি করা হচ্ছে।
এখন প্রশ্ন, এই নথি কীভাবে তৈরি হল? কে বা কারা এটি আদালতে জমা দিল? চিকিৎসক নিজে কি এই সার্টিফিকেট দিয়েছেন? তাঁর নাম ও পরিচয় কি সংশ্লিষ্ট মেডিকেল কর্তৃপক্ষের নথির সঙ্গে মেলে? আর যদি সত্যিই কোনও অসঙ্গতি থাকে, তাহলে তার দায় কার?
এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খোঁজার দাবি উঠেছে।
আদালতের প্রশ্ন, দেশে চিকিৎসা সম্ভব নয়—এমন শংসাপত্র কোথায়?
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদেশযাত্রার আবেদন নিয়ে আদালতের পর্যবেক্ষণেও উঠে এসেছে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যদি চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়া এতটাই জরুরি হয়, তাহলে দেশের কোনও বড় হাসপাতাল বা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছ থেকে কি এমন কোনও শংসাপত্র নেওয়া হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে—এই চিকিৎসা ভারতে সম্ভব নয়?
বিশেষ করে এসএসকেএম হাসপাতালের মতো রাজ্যের অন্যতম প্রধান সরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের প্রসঙ্গ সামনে এসেছে। প্রশ্ন উঠেছে, সেখানে কি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চোখের চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি যাচাই করা হয়েছে? সেখানকার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা কি জানিয়েছেন যে তাঁর নির্দিষ্ট চিকিৎসা ভারতে সম্ভব নয় এবং বিদেশেই সেই চিকিৎসা করাতে হবে?
আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই বিষয়টি আগে সরকারি হাসপাতালের মাধ্যমে যাচাই করানো যেতে পারে। অর্থাৎ, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে থাকা চিকিৎসা-সংক্রান্ত সমস্ত নথি এসএসকেএম-এর মতো সরকারি প্রতিষ্ঠানে যাচাই করিয়ে নেওয়া এবং সেখান থেকে বিদেশে চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে শংসাপত্র নেওয়ার পর আদালতে আবেদন করলে বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।
এখানেই আরও বড় প্রশ্ন—যদি দেশে চিকিৎসা সম্ভব হয়, তাহলে বিদেশ যাওয়ার প্রয়োজন কেন?
বিচারপতির মন্তব্যেও উঠে এল চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি যাচাইয়ের প্রসঙ্গ
মামলার শুনানিতে বিচারপতির পর্যবেক্ষণও এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আদালতের তরফে এমন মত উঠে এসেছে যে, শুধু বিদেশে চিকিৎসার কথা বললেই হবে না, তার জন্য যথাযথ চিকিৎসাগত প্রমাণও থাকা দরকার।
চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার অনুমতি চাওয়া হলে প্রথমে দেশের চিকিৎসা পরিকাঠামোতে সেই চিকিৎসা সম্ভব কি না, সেটিও দেখা দরকার। আর সেই কারণেই সরকারি হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি যাচাইয়ের প্রসঙ্গ সামনে এসেছে।
আদালতের পর্যবেক্ষণে আরও উঠে এসেছে, সংশ্লিষ্ট বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য অতীতে মেডিকেল কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ার হয়ে আইনজীবী হিসেবেও কাজ করেছেন। ফলে মেডিকেল সংক্রান্ত নথি ও নিয়ম সম্পর্কে তাঁর অভিজ্ঞতা রয়েছে বলেই আদালতের পর্যবেক্ষণকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে শুধুমাত্র আদালতে জমা দেওয়া একটি মেডিকেল সার্টিফিকেটের ভিত্তিতে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি পাওয়া সহজ হবে না—এমনই বার্তা আদালতের পর্যবেক্ষণ থেকে উঠে এসেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
তাহলে কি চোখের চিকিৎসার নাম করে বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা? (Abhishek Banerjee Medical Certificate)
এই প্রশ্নটাই এখন সবচেয়ে বড় হয়ে সামনে আসছে। বিরোধী পক্ষের দাবি, চোখের চিকিৎসার নাম করে বিদেশে যাওয়ার রাস্তা তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাঁদের প্রশ্ন, যদি চিকিৎসা সত্যিই জরুরি হয়, তাহলে দেশের বড় হাসপাতালগুলিতে আগে চিকিৎসার সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে না কেন?
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও এই প্রশ্নকে জুড়ে দেখছেন বিরোধীরা। তাঁরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, নিজের নির্বাচনী এলাকায় ‘সেবাশ্রয়’-এর মতো কর্মসূচির মাধ্যমে স্বাস্থ্য পরিষেবার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাহলে চোখের মতো গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসার ক্ষেত্রে রাজ্যের সরকারি হাসপাতাল বা দেশের বড় চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কেন যোগাযোগ করা হল না?
এসএসকেএম, কলকাতা মেডিকেল কলেজ কিংবা দেশের অন্য কোনও বড় চোখের হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা সংক্রান্ত মতামত নেওয়া হয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও উঠছে।
যদি সত্যিই চিকিৎসা (Abhishek Banerjee Medical Certificate) দেশে সম্ভব না হয়, তাহলে সেই বিষয়ে সরকারি হাসপাতালের শংসাপত্র আদালতে জমা দেওয়া হোক—এমন দাবিও উঠেছে।
আর যদি সেই শংসাপত্র না থাকে, তাহলে বিদেশে যাওয়ার আবেদন নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
‘জাল’ সার্টিফিকেটের অভিযোগের তদন্ত চায় অভিযোগকারীরা (Abhishek Banerjee Medical Certificate)
এখন মূল নজর সেই মেডিকেল সার্টিফিকেটের দিকে। অভিযোগকারীদের দাবি, নথিটি যথাযথ নিয়ম মেনে তৈরি হয়নি। সেই কারণেই সেটিকে জাল বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে।
এই অভিযোগের ভিত্তিতে মেডিকেল কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি জানানো হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে প্রশাসনের কাছেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। এমনকি আদালতে বিষয়টি আরও বিস্তারিতভাবে তোলা হবে বলেও অভিযোগকারীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এখন যদি নথিটি যাচাই করা হয়, তাহলে বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যেতে পারে। চিকিৎসকের নাম সঠিক কি না, তাঁর রেজিস্ট্রেশন নম্বর কোথায়, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক আদৌ ওই সার্টিফিকেট দিয়েছেন কি না—সবটাই খতিয়ে দেখা সম্ভব।
আর সেখানেই পরিষ্কার হতে পারে, আদালতে জমা দেওয়া নথিটি কতটা সঠিক।
বিদেশযাত্রার অনুমতি নিয়ে ফের আদালতের দিকে তাকিয়ে অভিষেক
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদেশে চিকিৎসার আবেদন এখন আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে। আদালত যদি সরকারি হাসপাতাল থেকে নথি যাচাই করে আনতে বলেন, তাহলে সেই প্রক্রিয়ার পরেই বিদেশযাত্রার আবেদন নতুন করে বিবেচিত হতে পারে।
অন্যদিকে, মেডিকেল সার্টিফিকেট নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে, সেটিও এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ আদালতে জমা দেওয়া কোনও নথি নিয়ে যদি প্রশ্ন ওঠে, তাহলে সেটির সত্যতা যাচাই করাই প্রথম কাজ।
এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন একটাই—অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কি সত্যিই চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে চাইছেন, নাকি চিকিৎসার নাম করে বিদেশ যাওয়ার অন্য কোনও উদ্দেশ্য রয়েছে? বিরোধীদের দাবি, বিদেশে যাওয়ার জন্যই চিকিৎসার নথিকে সামনে আনা হয়েছে। আর সেই নথি নিয়েই এবার প্রশ্ন উঠেছে।
#AbhishekBanerjee #MedicalCertificate #ForeignTreatment #CalcuttaHighCourt #EyeTreatment #ForeignTravel #SSKMHospital #KolkataHighCourt #WestBengalPolitics
সাম্প্রতিক পোস্ট
রাত পেরিয়েও অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা এল না? এবার কী করতে হবে জেনে নিন, মিস করবেন না
রাজ্যে চালু প্রধানমন্ত্রী মাতৃ বন্দনা যোজনা, ১১ হাজার টাকা পাবেন কারা? জেনে নিন কীভাবে আবেদন করবেন?
মহিলাদের বাসে টিকিট কাটতে হবে না! জানুন, এই কার্ড থাকলেই দিঘা থেকে দার্জিলিং সফর ফ্রী তে
আপনার এলাকায় কি মিলবে ১২৫ দিনের কাজ? আজ থেকেই চালু নতুন প্রকল্প, জানুন কারা পাবেন এই সুবিধা

