Annapurna Bhandar Eligibility Rules: অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পে মাসে ১০ হাজার টাকা আয় বা বাড়িতে তিনটি পাকা ঘর থাকলেই আবেদন বাতিল হবে কি না, তা নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে। প্রকল্পের যোগ্যতার শর্ত নিয়ে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন তথ্যের মধ্যে কোনটি সঠিক, তা জানা জরুরি।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার বা সরকারি নথিতে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ নিয়ে এখনও বহু মহিলার মধ্যে একটি প্রশ্ন ঘুরছে—মাসে ১০ হাজার টাকা আয় হলে কি এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া যাবে? আবার বাড়িতে তিনটি পাকা ঘর থাকলেও কি আবেদন বাতিল হয়ে যাবে? বিষয়টি নিয়ে নানা ধরনের তথ্য ছড়িয়ে পড়ায় বিভ্রান্তিও তৈরি হয়েছে।
সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, অন্নপূর্ণা যোজনায় যোগ্য মহিলাদের প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে সরাসরি আধার-সংযুক্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে DBT-এর মাধ্যমে দেওয়ার কথা। প্রকল্পটি ১ জুন ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে।
মাসে ১০ হাজার আয় হলে কী হবে? (Annapurna Bhandar Eligibility Rules)
এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হল—সরকারের ১৯ মে-র মূল বিজ্ঞপ্তিতে অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য ‘মাসে ১০ হাজার টাকা আয়’-কে সরাসরি অযোগ্যতার শর্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। মূল বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আবেদনকারী মহিলার বয়স ২৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে, তিনি স্থায়ী সরকারি চাকরি বা নির্দিষ্ট সরকারি/সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের বেতন-পেনশনভোগী হতে পারবেন না এবং তাঁকে আয়কর দিতে হবে না।
অর্থাৎ, শুধুমাত্র কোনও মহিলা মাসে ১০,০০০ উপার্জন করেন বলেই তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্নপূর্ণা যোজনা থেকে বাদ পড়বেন—এমন কথা সরকারি মূল বিজ্ঞপ্তিতে নেই। তবে নতুন আবেদনকারীদের তথ্য যাচাই করে তারপর চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
বাড়িতে তিনটি ঘর থাকলেই কি টাকা বন্ধ? (Annapurna Bhandar Eligibility Rules)
এই বিষয়টি নিয়েও বড় ভুল ধারণা রয়েছে। অন্নপূর্ণার আবেদনপত্রে বাড়িতে তিনটি বা তার বেশি পাকা ঘর রয়েছে কি না, সেই তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জমি, গাড়ি, স্বাস্থ্যবিমা এবং পরিবারের আয়-সম্পর্কিত তথ্যও চাওয়া হয়েছে।
কিন্তু বাড়িতে তিনটি ঘর থাকলেই আবেদন বাতিল হবে—এমন সরাসরি নিয়ম সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে নেই। ঘরের সংখ্যা সম্পর্কে তথ্য নেওয়া হচ্ছে মূলত পরিবারের আর্থিক ও সম্পত্তিগত পরিস্থিতি যাচাইয়ের জন্য। তাই তিন ঘরের বাড়ি থাকলেই ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার পাবেন না’—এই দাবি ঠিক নয়।
কারা পাবেন ৩,০০০? (Annapurna Bhandar Eligibility Rules)
বর্তমান সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, আবেদনকারীকে মহিলা হতে হবে এবং বয়স ২৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে। তিনি স্থায়ী সরকারি চাকরিতে থাকলে বা নির্দিষ্ট সরকারি/সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত বেতন বা পেনশন পেলে সুবিধা মিলবে না। আয়করদাতারাও এই প্রকল্পের আওতায় থাকবেন না।
অন্যদিকে, আগে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধা পাওয়া মহিলাদের অন্নপূর্ণা যোজনায় স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যদিও যাচাইয়ের সময় মৃত, স্থানান্তরিত বা নির্দিষ্ট কারণে বাদ পড়া নামগুলি নিয়ে আলাদা নিয়ম রয়েছে।
এখন কী করবেন? (Annapurna Bhandar Eligibility Rules)
নতুন করে আবেদন করতে চাইলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করে পরিবারের আয়, সম্পত্তি ও অন্যান্য তথ্য সঠিকভাবে দিতে হবে। কারণ আবেদন যাচাইয়ের পরই যোগ্যতার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বর্তমানে নতুন আবেদনের ৯০ দিনের প্রক্রিয়া চলছে এবং ২৫ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত আবেদন করার সময়সীমা রয়েছে বলে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী জানা যাচ্ছে।
সুতরাং, মাসে ₹১০,০০০ আয় বা বাড়িতে তিনটি ঘর—এই দুটি বিষয়কে একা ধরে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার থেকে নাম বাদ যাবে, এমনটা বলা ঠিক নয়। আসল বিষয় হল সরকারি যোগ্যতার শর্ত পূরণ করা এবং যাচাই প্রক্রিয়ায় তথ্য সঠিক প্রমাণিত হওয়া।
#AnnapurnaBhandar #AnnapurnaYojana #WestBengalScheme #GovernmentScheme #WomenWelfare #SchemeEligibility #WestBengalNews #FinancialAssistance
সাম্প্রতিক পোস্ট
‘সাথীরা, প্রশ্নফাঁস মাফিয়াদের রেয়াত নয়’– সংসদে বিল পাসের পর প্রথমবার কী বললেন প্রধানমন্ত্রী?
সিলেবাসে বড় পরিবর্তন কবে থেকে? শিক্ষক নিয়োগেও সুখবর? কী বললেন শিক্ষামন্ত্রী?
আবার কি বদলে যাবে নোট? দেশে আসছে প্লাস্টিকের নোট,জানুন, কী বদল আসছে?
১লা আগস্ট থেকে স্কুলের খাবারের দায়িত্ব ইস্কনের, ডিম বিতরণ, ও শিক্ষক নিয়োগে বড় ঘোষণা

