প্রাচীনতম পর্বতমালাকে ঘিরে বিতর্ক। চাপের মুখে সরকারের নতিস্বীকার। জানুন আরাবল্লীর রহস্য (Aravalli Controversy), অজানা ইতিহাস, কেন আরাবল্লী শিল্পপতিদের নজরে।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: সমগ্র উত্তর ভারত জুড়ে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। আরাবল্লীকে ঘিরে বিতর্ক আজ সকলের সামনে উপস্থিত। পৃথিবীর প্রাচীনতম পর্বতমালা আরাবল্লী বিস্তৃত রাজস্থান, হরিয়ানা, গুজরাট এবং রাজধানী দিল্লি জুড়ে। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়কে ঘিরে বিতর্ক শুরু হয়েছে। দেশের শীর্ষ আদালতের সেই রায়ে বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট উচ্চতা এবং ভূপ্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য যুক্ত অঞ্চলকেই আরাবল্লীর অংশ হিসেবে ধরা হবে। আরাবল্লী ৯০% অঞ্চল সংরক্ষিত বলে চিহ্নিত করা হবে না কারণ ওই অংশের উচ্চতা ১০০ মিটারের কম। ১০০ মিটারের বেশি উচ্চতা থাকলে তবেই তা সংরক্ষিত হিসাবে ধরা হবে। পরিবেশ বিদরা মনে করছেন এই রায়ের ফলে পরিবেশের সুরক্ষা হারাবে আরাবল্লী। তাতে ক্ষতি হবে পরিবেশের। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই বিতর্কের সূত্রপাত হয়। ভারতের বুকজুড়ে ছড়িয়ে থাকা আরাবল্লী পর্বতমালা — নাম শুনলেই মনে হয় প্রাচীন, শান্ত, প্রকৃতির এক চিরকালীন সঙ্গী। কিন্তু এই শান্ত পাহাড়ের বুকেই এখন গর্জন করছে পরিবেশের ভয়াবহ ক্ষয়ের গল্প। এই লেখায় জানব, কীভাবে আরাবল্লীর জন্ম, আরাবল্লী না থাকলে কী হতে পারে? আর কেন প্রকৃতিই বলছে— এটা শুধু এক পর্বত নয়, এ এক সভ্যতার স্মৃতি।
আরও পড়ুন : শিক্ষক নিয়োগের মেয়াদ বৃদ্ধি করলো সুপ্রিম কোর্ট │ Supreme Court Teacher Recruitment Extension
আরাবল্লীর জন্ম
আরাবল্লী পর্বতমালা উত্তর-পশ্চিম ভারতে অবস্থিত। পর্বতমালার দৈর্ঘ্য প্রায় ৬৭০ কিলোমিটার যা দক্ষিণ পশ্চিম দিকে বিস্তৃত। পর্বতমালাটি দিল্লির কাছ থেকে শুরু হয়ে হরিয়ানা, রাজস্থানের মধ্যে দিয়ে যায় এবং অবশেষে গুজরাটে শেষ হয়। প্রাচীনতম পর্বতমালা গুলির মধ্যে এটি একটি যা ভাঁজ প্রক্রিয়ায় গঠিত হয়েছিল। এই পর্বতমালা জীব বৈচিত্রের অন্যতম হটস্পট। যেখানে রয়েছে বন্যপ্রাণীদের অভয়ারণ্য। খনিজ পদার্থে সমৃদ্ধ। তাপ নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। শুধুমাত্র ভারত নয়, অন্যান্য প্রতিবেশী দেশেও জল সরবরাহ করে।
ইতিহাসের পাতা খুলে দেখা
আরাবল্লী শুধু ভূগোল নয়, ইতিহাসেরও এক জীবন্ত চরিত্র। মউর্য যুগে এই পর্বতমালা ছিল বাণিজ্যপথের রক্ষাকবচ ( Aravalli Controversy)। মুঘল আমলে রাজস্থানের দুর্গনগরী যেমন মেহরানগড়, কুম্ভলগড়— সবই আরাবল্লীর প্রান্তে দাঁড়িয়ে ভারতের সামরিক গৌরবের সাক্ষী হয়েছে। মারওয়ার ও মেওয়াড় রাজবংশের যুদ্ধে এই পর্বতমালা ছিল আত্মরক্ষার প্রতীক। আজ সেই পাহাড়ের বুকেই দাঁড়িয়ে আছে উন্নয়নের যুদ্ধ, যার প্রতিপক্ষ— প্রকৃতি নিজেই।
প্রকৃতির আর্তনাদ: মরুভূমি এগিয়ে আসছে রাজধানীর দিকে
বিশেষজ্ঞদের মতে, আরাবল্লী ভাঙতে থাকলে থর মরুভূমি ধীরে ধীরে দিল্লির দিকে এগোবে। এই পর্বতই ছিল প্রাকৃতিক ‘ঢাল’, যা ধূলিঝড় ও শুষ্ক বাতাসকে আটকে রাখত। দিল্লির বায়ুদূষণের অন্যতম কারণ হিসেবেও ধরা হচ্ছে আরাবল্লীর ক্ষয়। যেখানে একসময় ছিল বন, সেখানে এখন কংক্রিটের জঙ্গল। গাছের জায়গায় বিল্ডিং, নদীর জায়গায় ড্রেন, আর প্রকৃতির জায়গায় প্রজেক্ট— এভাবেই এক সভ্যতা নিজের শ্বাসরোধ করছে।
ভবিষ্যৎ কি আরাবল্লীহীন ভারত?
পরিবেশবিদরা আশঙ্কা করছেন, যদি এখনই সংরক্ষণমূলক পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, আগামী ২০–২৫ বছরে আরাবল্লীর প্রায় ৪০% অঞ্চল হারিয়ে যাবে। ভারতের এক প্রাচীনতম ভৌগোলিক সত্তা তখন ইতিহাসের পাতা ছাড়া কোথাও থাকবে না। তবে আশার আলোও আছে— কিছু রাজ্য সরকার পুনঃবনায়নের প্রকল্প শুরু করেছে, স্থানীয় গ্রামগুলো ‘আরাবল্লী বাঁচাও’ আন্দোলন করছে, এবং নতুন প্রজন্ম প্রকৃতির জন্য কণ্ঠ তুলছে। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়— ইতিহাসের ভয়াবহ সত্য জেনে কি আমরা শিক্ষা নেব, নাকি সেই ইতিহাসই আবার নিজের পুনরাবৃত্তি ঘটাবে?
পরিবেশবিদরা কী বলছেন? (Aravalli Controversy)
আরাবল্লী পর্বত পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করছে। গাঙ্গেয় সমভূমিকে রক্ষা করে চলেছে। থর মরুভূমিকে পূর্বে হরিয়ানা এবং রাজস্থান পর্যন্ত ও পশ্চিমে উত্তর প্রদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত হতে সাহায্য করেছে। ভূগর্ভস্থ জলের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। আরাবল্লী পর্বত না থাকলে রাজস্থানে খরা বাড়বে। এই অঞ্চলে বৃষ্টিপাত হতে অনেকটাই সাহায্য করে আরাবল্লী, পর্যাপ্ত জলীয় বাষ্পের যোগান না থাকলে বৃষ্টিপাত হবে না। একাধিক নদী শুকিয়ে যাবে। দিল্লি, উত্তর প্রদেশ, হরিয়ানাতে বায়ু দূষণের পরিমাণ আরো বাড়তে পারে। পরিবেশবিদ ভূমিজা সিং বলেন, দিল্লিতে এখনও শ্বাস নেওয়া সম্ভব হচ্ছে এই আরাবল্লীর জন্যই। আরাবল্লীর ক্ষয় হলে দিল্লি শ্বাসরুদ্ধ হবে।
সরকার কী জানাচ্ছেন?
আরাবল্লীতে অবৈধ খনির দীর্ঘমেয়াদী মামলার শুনানির শেষে সুপ্রিম কোর্টের তরফে রায় জানানো হয়েছে। গুরুগ্রাম, উদয়পুর অঞ্চলের স্থানীয় লোকজনেরা রায় শুনে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। বিতর্কের মুখে কেন্দ্রীয় পরিবেশ বন এবং জলবায়ু পরিবর্তন দপ্তরের মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব জানিয়েছেন, অরণ্যের বিস্তৃতি, আরাবল্লী পর্বত শ্রেণীর ৯০ শতাংশ সুরক্ষিত থাকবে। অঞ্চল এবং খনন এর উপর কড়া নজরদারি থাকবে।
Most Viewed Posts
- ২০২৬-এ মেষ রাশির জন্য আসছে বড় মোড় │ Aries Horoscope 2026 Full Prediction
- মোটা হবেন না, মিষ্টি খান নিশ্চিন্তে │ Guilt-Free Sweets for Diwali Delight
- ‘মায়া ভরা রাতি’ আবার ফিরছে—অরিজিৎ সিং-এর কণ্ঠে নতুন করে জেগে উঠবে এক চিরন্তন গান
- বাড়িতে রাখুন এই নয় গাছ, সৌভাগ্য ফিরবেই
- Dharmendra death: ধর্মেন্দ্রর জীবনের এই ১১টি তথ্য অনেকেই জানেন না │ 11 Untold Facts About Dharmendra

