The Legacy of Bengali Panjika: বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ, আর সেই পার্বণের দিনক্ষণ থেকে দৈনন্দিন জীবনের শুভ-অশুভ মুহূর্তকে যুগ যুগ ধরে নিয়ন্ত্রণ করে আসছে পঞ্জিকা। দৈবজ্ঞ ব্রাহ্মণদের হাত ধরে শুরু হওয়া এই গণনা কীভাবে ছাপাখানায় পৌঁছল? কেনই বা গুপ্তপ্রেস এবং বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকার মধ্যে এত পার্থক্য? ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের জন্য পঞ্জিকায় কী অশনি সংকেত লুকিয়ে আছে? জানুন বিস্তারিত।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: কাঠফাটা রোদ। পাড়ার মোড়ের বইয়ের দোকানে ভিড় জমিয়েছেন বয়স্ক থেকে মধ্যবয়সী মানুষজন। সবার হাতে একটি করে নতুন বই, যার মলাটটা গোলাপি বা লালচে, আর উপরে ছাপা এক সৌম্যদর্শন যুবকের ছবি। চৈত্র সংক্রান্তি বা পয়লা বৈশাখের দিন হালখাতার মিষ্টির প্যাকেটের পাশাপাশি বাঙালির ঘরে ঘরে নতুন পঞ্জিকা নিয়ে আসার এই দৃশ্য শতাব্দীপ্রাচীন।
আজ একুশ শতকে দাঁড়িয়ে আমাদের হাতের মুঠোয় স্মার্টফোন। গুগল ক্যালেন্ডার বা ডিজিটাল রিমাইন্ডার আমাদের জীবনের প্রতিটি সেকেন্ডের হিসাব রাখে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, বিয়ের তারিখ ঠিক করা হোক, গৃহপ্রবেশের লগ্ন খোঁজা হোক, বা দুর্গাপূজার সন্ধিক্ষণ—বাঙালি আজও চোখ বন্ধ করে ভরসা করে সেই পুরনো পঞ্জিকার পাতার ওপর। পঞ্জিকা বা পাঁজি শুধু তো একটা ক্যালেন্ডার নয়, এটি আমাদের আবেগ, আমাদের সাংস্কৃতিক বিবর্তনের এক অভ্রান্ত রেখচিত্র। কিন্তু কখনও কি ভেবে দেখেছেন, এই পঞ্জিকার জন্ম কীভাবে হলো? কবে থেকে বাঙালি এই পাঁজির উপর এত নির্ভরশীল হয়ে পড়ল? সম্প্রতি ‘টাইম এন্ড টাইড’ পডকাস্টে উপস্থিত হয়ে নোয়াপাড়ার ব্রহ্মময়ী কালী মন্দির তথা কালীমঠের জগৎগুরু পরমাত্মানন্দজী মহারাজ বাংলার পঞ্জিকা-সংস্কৃতির এক অজানা ও বিস্ময়কর ইতিহাস তুলে ধরেছেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই আজ আমরা ডুব দেব পঞ্জিকার গভীরে।
দৈবজ্ঞ ব্রাহ্মণ থেকে পঞ্চাঙ্গ: সময় মাপার প্রাচীন বিজ্ঞান ও দর্শন
সাধারণ মানুষের মুখে যে শব্দটি ‘পাঁজি’ হিসেবে ব্যাপক পরিচিত, সেটি আদতে একটি অপভ্রংশ। মূল সংস্কৃত শব্দ ‘পঞ্চাঙ্গ’ থেকে এসেছে ‘পঞ্জিকা’, এবং কালক্রমে মানুষের মুখে মুখে তা ‘পাঁজি’-তে রূপান্তরিত হয়েছে। শব্দের মধ্যেই এর অর্থ নিহিত রয়েছে— ‘পঞ্চ অঙ্গ’ বিশিষ্ট একটি দিশানির্দেশক গ্রন্থ বা ব্যবস্থা। এই পাঁচটি অঙ্গ হলো: তিথি, বার, নক্ষত্র, যোগ এবং করণ। পরমাত্মানন্দজী মহারাজের মতে, এই মহাবিশ্বে সময়ের পরিমাপ অনন্ত হলেও, গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থানের ভিত্তিতে মানুষের জীবনের শুভ ও অশুভ সময়কে বিভক্ত করার যে প্রাচীন পদ্ধতি, তা-ই হলো পঞ্জিকা। এর প্রথম অঙ্গ ‘তিথি’ নির্ধারিত হয় চন্দ্র ও সূর্যের অবস্থানের উপর ভিত্তি করে।
জোয়ার-ভাটা থেকে শুরু করে চন্দ্রগ্রহণ বা সূর্যগ্রহণ— সবকিছুই এই তিথির অঙ্কে নিখুঁতভাবে মিলে যায়। দ্বিতীয় অঙ্গ হলো ‘বার’, যা আজ আমাদের রোজনামচার অবিচ্ছেদ্য অংশ। তৃতীয় হলো ‘নক্ষত্র’, তিথির পাশাপাশি কোন নক্ষত্রে মানুষের জন্ম বা মৃত্যু হচ্ছে, তা বিচার করা সনাতন ধর্মে অত্যন্ত জরুরি। চতুর্থ অঙ্গ ‘যোগ’ হলো চন্দ্র ও সূর্যের কৌণিক দূরত্বের হিসাব, যা জাতক-জাতিকার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে কাজে লাগে। আর পঞ্চম অঙ্গ ‘করণ’ হলো একটি গোটা তিথির মধ্য থেকে সবচেয়ে উপযুক্ত বা শুভ ভগ্নাংশটিকে খুঁজে বের করা।
আজ থেকে প্রায় দেড় হাজার বছর আগে পঞ্জিকার এই জ্ঞানকে সংকলিত করার একটি প্রাথমিক প্রবণতা দেখা যায়। তবে সেই যুগে আজকের মতো ঘরে ঘরে জ্যোতিষী বা ছাপানো পাঁজি ছিল না। এই গ্রহ-নক্ষত্র চর্চা, গণনা এবং মানুষের প্রতিকার বিধানের কাজটি করতেন এক বিশেষ শ্রেণির ব্রাহ্মণ, যাদের বলা হতো ‘গ্রহ বিপ্র’ বা ‘দৈবজ্ঞ’। দেবনাথ বা আচার্য উপাধিধারী এই ব্রাহ্মণদের সমাজে প্রবল কদর ও চাহিদা ছিল। সে যুগে কারও সন্তান জন্ম নেওয়ার সময় আতুরঘরের বাইরে এই দৈবজ্ঞ ব্রাহ্মণেরা অপেক্ষা করতেন। ধাত্রীমাতার নির্দেশে বা শিশুর প্রথম ক্রন্দনের আওয়াজ শুনে তাঁরা নিখুঁত সময় লিপিবদ্ধ করতেন এবং তার ভিত্তিতেই তৈরি হতো ঠিকুজি বা কোষ্ঠী।
রাজদরবারেও এই দৈবজ্ঞদের বিশেষ সম্মান ছিল, যাঁরা ‘রাজ্যজ্যোতিষী’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সনাতন ধর্মে কাল বা সময়ের গুরুত্ব অপরিসীম। কালমাধবীয় গ্রন্থে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, সঠিক সময়ে একটি আহুতি দিলে যে পুণ্য লাভ হয়, অকালে লক্ষ আহুতি দিলেও তা নিষ্ফল। এমনকি শিবরাত্রির পৌরাণিক গল্পেও দেখা যায়, এক ব্যাধ সম্পূর্ণ অজান্তে সঠিক তিথি ও ক্ষণে শিবলিঙ্গের উপর বেলপাতা ফেলায় যমদূতের বদলে স্বয়ং শিবদূতেরা তাকে উদ্ধার করতে এসেছিল। অর্থাৎ, সঠিক সময় নির্ণয়ের এই বিজ্ঞান ও দর্শনকে সাধারণ মানুষের জীবনে প্রয়োগ করার জন্যই পঞ্জিকা বা পঞ্চাঙ্গের উদ্ভব হয়েছিল, যা আজও হিন্দু সমাজের আচার-বিচারকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে রেখেছে।
নবদ্বীপের মহারাজা থেকে বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত: পঞ্জিকার বিবর্তন ও সংঘাত
সময়ের সাথে সাথে জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে দৈবজ্ঞদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও জ্যোতিষ ও গণনার এই লাভজনক পেশায় যুক্ত হতে শুরু করে। এর ফলে গুরু-শিষ্য পরম্পরায় বাহিত প্রাচীন জ্ঞানে বিকৃতি দেখা দেয় এবং একেকজন গণনাকারী একেক রকম মত দিতে শুরু করেন। সমাজে বিভ্রান্তি যখন চরমে পৌঁছায়, তখন ত্রাতা হিসেবে অবতীর্ণ হন বাংলার সংস্কৃতির অন্যতম শ্রেষ্ঠ পৃষ্ঠপোষক, মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়। তাঁর ডাকে নবদ্বীপের প্রথিতযশা পণ্ডিতেরা একত্রিত হন। পণ্ডিত দুর্গাচরণ মিত্র এবং রামচন্দ্র বিদ্যানিধির নেতৃত্বে, মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাপতিত্বে বাংলার প্রথম সংহত রূপরেখা নিয়ে আত্মপ্রকাশ করে ‘নবদ্বীপ পঞ্জিকা’।
সে যুগে এটি হাতে লেখা হতো এবং একদল পণ্ডিত সারা বছর ধরে এর নকল তৈরি করতেন। চৈত্র সংক্রান্তির দিন কুলদেবতার সামনে এই পঞ্জিকা পাঠের মাধ্যমে নতুন বছরের সূচনা হতো। তবে পঞ্জিকার এই হস্তলিখিত যুগ শেষ হয় ব্রিটিশ আমলে। ১৮১৮ সালে প্রথম কলকাতায় পঞ্জিকা আসে, কিন্তু ১৮৬৯ সালে পণ্ডিত বিশ্বম্ভরের নেতৃত্বে প্রথমবার ছাপার অক্ষরে আত্মপ্রকাশ করে ‘গুপ্তপ্রেস পঞ্জিকা’। সামান্য অর্থের বিনিময়ে মুদ্রিত পঞ্জিকা বাজারে আসায় তা সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে খুব সহজেই পৌঁছে যায়।
কিন্তু পঞ্জিকার জগতেও এক নীরব ও প্রবল বিপ্লব ঘটে ১৮৯০ সালে, যখন মাধবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের হাত ধরে জন্ম নেয় ‘বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা’। এর নেপথ্যে ছিল এক গভীর জ্যোতির্বিজ্ঞানের যুক্তি ও প্রয়োজনীয়তা। প্রাচীন পঞ্জিকাগুলি দেড় হাজার বছর আগের ‘সূর্য সিদ্ধান্ত’ মেনে চলত। কিন্তু মহাকাশে গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থান নিয়ত পরিবর্তনশীল। হাজার বছর আগের গ্রহের অবস্থানের সঙ্গে বর্তমানের হিসাব মেলালে তিথি বা ক্ষণ নিখুঁত হওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এই ত্রুটি দূর করতেই আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের (Drik Siddhanta) সাহায্য নিয়ে বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা তৈরি হয়। উড়িষ্যার পথানী পণ্ডিত থেকে শুরু করে তারকেশ্বর মঠের মহন্ত এবং স্বয়ং বাল গঙ্গাধর তিলক এই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিকে সমর্থন জানিয়েছিলেন।
এমনকি রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট তথা স্বামী বিবেকানন্দের গুরুভাই বিজ্ঞানানন্দজী মহারাজ, যিনি নিজে একজন প্রথিতযশা জ্যোতির্বিজ্ঞানী এবং স্থপতি ছিলেন, তিনিও এই বিশুদ্ধ সিদ্ধান্তের পক্ষেই জোরালো সওয়াল করেছিলেন। ১৯৫২ সালে ভারত সরকারও এই গণনাকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়। তাসত্ত্বেও, সংস্কারাচ্ছন্ন বাঙালি সমাজের এক বড় অংশ আজও প্রাচীন পঞ্জিকাকেই আঁকড়ে ধরে আছে, যার ফলে দুর্গাপূজা বা কালীপূজার মতো বড় উৎসবগুলিতে প্রায়শই দুই পঞ্জিকার মধ্যে তিথির পার্থক্য ও বিভ্রান্তি দেখা যায়। আশ্চর্যের বিষয় হলো, হিন্দু ধর্মের এই পঞ্জিকাতে মুসলিম শাসকদেরও গভীর প্রভাব রয়েছে। সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহ এবং মুঘল সম্রাট আকবরের আমলে রাজস্ব ও কর আদায়ের সুবিধার্থে সৌর সন এবং হিজরি সন পঞ্জিকার অন্তর্ভুক্ত হয়, কারণ কৃষকদের ফসল ওঠার সময়ের সঙ্গে কর আদায়ের একটি বাস্তব সামঞ্জস্য রাখা শাসকদের জন্য অত্যন্ত জরুরি ছিল।
বিজ্ঞাপনের দর্পণ, বেণীমাধবের ছবি এবং ১৪৩৩ সনের অশনি সংকেত
মুদ্রিত হওয়ার পর পঞ্জিকা কেবল তিথি-নক্ষত্রের হিসাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি, এটি হয়ে উঠেছিল সমকালীন বাঙালি সমাজ, অর্থনীতি এবং বিনোদনের এক জীবন্ত দর্পণ। ফুল পঞ্জিকা, হাফ পঞ্জিকা, ডাইরেক্টরি পঞ্জিকা বা সচিত্র পঞ্জিকার মতো এর নানা রূপ ছিল। বিশেষ করে ‘ফুল পঞ্জিকা’ ছিল সে যুগের গুগল বা ইন্টারনেট। কবে কোন ফসলের বীজ বুনতে হবে, বৃহৎ লাল মূলোর চাষ কীভাবে হবে, এমনকি পর্যটনের স্থান, তীর্থস্থানের ভৈরবদের নাম, ব্রতকথা থেকে শুরু করে টেলিফোনের ট্রাঙ্ককল কোড— সবকিছুই মুদ্রিত থাকত পঞ্জিকার হলুদ পাতায়। বিশ শতকের গোড়ার দিকে গুপ্তপ্রেস যখন লক্ষ লক্ষ কপি বিক্রি হতো, তখন এর ছাপার বিশাল খরচ উঠত বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে।
‘সঞ্জীবনী সুধা’-র মতো অদ্ভুত সব ওষুধের বিজ্ঞাপন, যা খেয়ে মানুষ যৌবন ধরে রাখার স্বপ্ন দেখত, তা পঞ্জিকার একটি বড় ও মুখরোচক আকর্ষণ ছিল। এরই মধ্যে সবচেয়ে কৌতূহলোদ্দীপক গল্পটি লুকিয়ে আছে ‘বেণীমাধব শীলের ফুল পঞ্জিকা’-র প্রচ্ছদে। অনেকেই মনে করেন প্রচ্ছদের ওই সৌম্যদর্শন যুবকই বোধহয় নিজে পঞ্জিকা তৈরি করেছিলেন। কিন্তু আসল গল্পটা হলো তিন পুরুষের। বেণীমাধব শীলের পিতা পূর্ণচন্দ্র শীল এবং পুত্র দ্বারিকানাথ শীল টাকশালের চাকরি থেকে জমানো টাকা দিয়ে প্রথম পঞ্জিকার ব্যবসা শুরু করেন। প্রচ্ছদে কার ছবি যাবে, এই নিয়ে তর্ক উঠলে দাদু পূর্ণচন্দ্র তাঁর ছেলে বেণীমাধবের ২১ বছর বয়সের একটি ছবি এনে নাতি দ্বারিকানাথকে ছাপতে বাধ্য করেন। সেই থেকে আজ পর্যন্ত, বংশপরম্পরায় ওই ২১ বছরের যুবকের ছবিটিই বেণীমাধব শীলের পঞ্জিকার ট্রেডমার্ক হয়ে রয়ে গেছে।
তবে পঞ্জিকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও আকর্ষণীয় দিকটি হলো নতুন বছরের দেশ ও দশের ভবিষ্যদ্বাণী। আসন্ন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ (যা ইংরেজি ২০২৬-২৭ সালের সাথে সম্পর্কিত), পঞ্জিকার পরিভাষায় এই বছরের নাম দেওয়া হয়েছে ‘রুদ্র’। প্রাচীন শাস্ত্র অনুযায়ী, এই রুদ্র বর্ষের জন্য যে অশনি সংকেত বা পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, তা যথেষ্ট উদ্বেগজনক। এই বছর গ্রহসভার রাজা হলেন রবি (সূর্য) এবং মন্ত্রী হলেন বুধ। শাস্ত্র বলছে, “রবি রাজা পৃথিবী শোষমায়াতি রোগ দুর্ভিক্ষ সংকুল…” অর্থাৎ, রাজা রবি হওয়ার ফলে পৃথিবীতে প্রচণ্ড খরা বা শোষণ দেখা দেবে, রোগ ও দুর্ভিক্ষে বহু মানুষের প্রাণহানি হতে পারে এবং যুদ্ধ বা হানাহানির সম্ভাবনা প্রবল থাকবে। রাষ্ট্রপ্রধানদের মধ্যে অস্থিরতা বাড়বে।
অন্যদিকে, মন্ত্রী বুধ হওয়ার ফলে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হবে না এবং শস্যের ফলন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে, যা সাধারণ মানুষের চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াবে। এই বছরের জলাধিপতি হলেন শনি, যার প্রভাবে অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি বা প্রচণ্ড ঘূর্ণিঝড়ের মতো আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা রয়েছে। আর শস্যাধিপতি মঙ্গল হওয়ার ফলে কৃষিক্ষেত্রে চরম ক্ষতি এবং ধার্মিক বা সাধারণ মানুষের ওপর উপদ্রব বৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। নাস্তিক হোক বা আস্তিক, বাঙালির সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিবর্তনের এই অভ্রান্ত রেখচিত্রটি আজও আমাদের জীবনযাত্রার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। তাই আধুনিকতার চরম শিখরে পৌঁছেও, বিয়ের তারিখ ঠিক করা থেকে শুরু করে নতুন বছরের শুভ-অশুভ বিচার— সবকিছুতেই পঞ্জিকার পাতা উল্টানোর এই ট্র্যাডিশন হয়তো কোনোদিনই শেষ হওয়ার নয়।

