শেষ কবে প্রাণভরে তারাভরা আকাশ দেখেছেন? ধ্রুবতারা বা কালপুরুষ চিনেছেন? শহরের কৃত্রিম আলোয় হারিয়ে গেছে আমাদের সেই আকাশ দেখার বিলাসিতা। এবার ক্যামেরা কাঁধে বেরিয়ে পড়ুন এমন ৫টি অফবিট ঠিকানায়, যেখানে অমাবস্যার রাতে আকাশ কথা বলে। জানুন মিল্কি ওয়ে (Milky Way) লেন্সবন্দি করার সেরা স্পট এবং Astro Photography-র খুঁটিনাটি টিপস।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: ছোটবেলার লোডশেডিং-এর কথা মনে আছে? হুট করে কারেন্ট চলে গেলে আমরা দৌড়ে ছাদে যেতাম। মাদুর পেতে শুয়ে তাকিয়ে থাকতাম আকাশের দিকে। মা-ঠাকুমারা আঙুল দিয়ে চিনিয়ে দিতেন—”ওই দেখ সপ্তর্ষিমণ্ডল, ওটা কালপুরুষ, আর ওই যে জ্বলজ্বল করছে ওটা ধ্রুবতারা।”
তখন আকাশটা আমাদের বড্ড আপন ছিল। কিন্তু বড় হওয়ার সাথে সাথে আমাদের জীবনটা বড্ড আলোয় ভরে গেল। রাস্তাঘাটে সোডিয়াম ভেপার ল্যাম্প, ফ্ল্যাটের ঝলমলে এলইডি, আর হাতের মুঠোয় স্মার্টফোনের নীল আলো। এই কৃত্রিম আলোর দাপটে বা ‘লাইট পলিউশন’-এর জেরে আমরা হারিয়ে ফেললাম আমাদের মাথার ওপরের সেই অনন্ত নক্ষত্রবীথিকে। এখন শহরের আকাশ মানেই ধোঁয়াশা আর একটা ঘোলাটে লালচে আভা। তারা? সে তো রূপকথার গল্প।
আরও পড়ুন : দার্জিলিংয়ের ভিড় এড়িয়ে বাছুন এই ৫টি অফবিট গ্রাম
কিন্তু জানেন কি, এই বাংলাতেই বা বাংলার খুব কাছেই এমন কিছু জায়গা লুকিয়ে আছে, যেখানে আজও রাত নামে তার নিজস্ব মহিমায়? সেখানে অমাবস্যার রাতে হাত বাড়ালেই মনে হয় আকাশ ছোঁয়া যাবে। সেখানে আকাশের বুক চিরে চলে গেছে ছায়াপথ বা ‘Milky Way’।
আপনি যদি ফটোগ্রাফি ভালোবাসেন, কিংবা শুধুই আকাশপাগল মানুষ হন, তবে এই প্রতিবেদনটি আপনার জন্য। আজ আমরা আপনাকে নিয়ে যাব এমন ৫টি আনকমন বা অফবিট ঠিকানায়, যা Astro Photography-র জন্য স্বর্গরাজ্য। এখানে নেই কোনো স্ট্রিট লাইট, নেই কোনো হাইরাইজ বিল্ডিং। আছে শুধু আপনি, আপনার ক্যামেরা আর লক্ষ কোটি নক্ষত্র।
আসুন, লেন্সের ফোকাস সেট করি অসীমের দিকে।

১. টংলু (Tonglu): কাঞ্চনজঙ্ঘার মাথায় তারার মুকুট
উচ্চতা: ১০,০৭০ ফুট। জেলা: দার্জিলিং (সিঙ্গালিলা রেঞ্জ)।
দার্জিলিং মানেই ম্যাল রোড বা টাইগার হিল নয়। আপনি যদি সত্যিকারের আকাশ দেখতে চান, তবে আপনাকে উঠতে হবে আরেকটু উঁচুতে। সান্দাকফু যাওয়ার পথে ছোট্ট একটি জনপদ টংলু।
কেন এটি অ্যাস্ট্রো-ফটোগ্রাফির জন্য সেরা? টংলুর সবথেকে বড় ইউএসপি (USP) হলো—এখানে বিদ্যুতের দাপট নেই। অনেক সময় জেনারেটরের আলোও রাত ১০টার পর নিভে যায়। আর ঠিক তখনই শুরু হয় আসল ম্যাজিক। সামনে বিশাল কাঞ্চনজঙ্ঘা দাঁড়িয়ে আছে প্রহরীর মতো, আর তার ঠিক মাথার ওপর দিয়ে ধনুকের মতো বেঁকে গেছে মিল্কি ওয়ে। এমন দৃশ্য জীবনে একবার দেখলে মৃত্যুর আগে পর্যন্ত ভুলবেন না। যেহেতু এটি ১০,০০০ ফুটের ওপরে, তাই এখানকার আকাশ কাঁচের মতো স্বচ্ছ। ধুলিকণা বা ধোঁয়াশা এখানে পৌঁছাতে পারে না।
ফটোগ্রাফারদের টিপস: টংলু টপে যে ট্রেকার্স হাট আছে, তার সামনে দাঁড়িয়ে ক্যামেরা ট্রাইপডে বসান। ফ্রেমে নিন কাঞ্চনজঙ্ঘাকে, আর ব্যাকগ্রাউন্ডে রাখুন তারার আকাশ। ‘স্টার ট্রেল’ (Star Trail) বানানোর জন্য এটি আদর্শ জায়গা। নিচে দূরে দার্জিলিং বা কার্শিয়াং শহরের আলোগুলো জোনাকির মতো মনে হবে, যা আপনার ছবিতে এক দুর্দান্ত কন্ট্রাস্ট তৈরি করবে।
কীভাবে যাবেন? এনজেপি থেকে শেয়ার জিপে বা রিজার্ভ গাড়িতে মানেভঞ্জন। সেখান থেকে ল্যান্ড রোভার ভাড়া করে টংলু। ট্রেকিং করেও যাওয়া যায়, সময় লাগে ৪-৫ ঘণ্টা।
কোথায় থাকবেন? জিটিএ (GTA) ট্রেকার্স হাট বা স্থানীয় দু-একটি প্রাইভেট হোমস্টে আছে। আগে থেকে বুকিং মাস্ট।

২. মুর্গমা ড্যাম (Murguma Dam): জলে তারার প্রতিচ্ছবি
অবস্থান: অযোধ্যা পাহাড়ের কাছে, পুরুলিয়া।
পাহাড়ের ওপর তো আকাশ দেখলেন, এবার চলুন দেখি জলের আয়নায় আকাশ। পুরুলিয়ার রুক্ষ মাটির বুকে এক নীল জলাধার—মুর্গমা।
কেন এটি অ্যাস্ট্রো-ফটোগ্রাফির জন্য সেরা? মুর্গমা ড্যামের চারপাশটা জনবসতিহীন। ছোট ছোট টিলা আর পলাশ বন দিয়ে ঘেরা। এখানকার আকাশ অত্যন্ত অন্ধকার বা ‘Dark Sky Zone’-এর মধ্যে পড়ে। মুর্গমার বিশেষত্ব হলো এর শান্ত জল। রাতে যখন বাতাস থাকে না, তখন ড্যামের জল আয়নার মতো কাজ করে। ওপরের লক্ষ কোটি তারা সেই জলে প্রতিফলিত হয়। আপনি যদি ড্যামের পাড়ে দাঁড়িয়ে একটা ছবি তোলেন, তবে মনে হবে আপনি মহাকাশের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছেন—ওপরেও তারা, নিচেও তারা। একে বলা হয় ‘রিফ্লেকশন অ্যাস্ট্রো-ফটোগ্রাফি’ (Reflection Astro-photography)।
ফটোগ্রাফারদের টিপস: চেষ্টা করুন ড্যামের ধারের কোনো শুকনো গাছ বা নৌকোকে আপনার ছবির ‘ফোরগ্রাউন্ড’ (Foreground) বা সাবজেক্ট হিসেবে রাখতে। পেছনে থাকবে বিশাল জলাধার আর আকাশ। ওয়াইড অ্যাঙ্গেল লেন্স ব্যবহার করলে পুরো আকাশটা ধরতে পারবেন। পলাশ ফুলের সিজনে (বসন্তকালে) গেলে লাল পলাশ আর নীল আকাশের কম্বিনেশনটা জাস্ট ফাটাফাটি হয়।
কীভাবে যাবেন? পুরুলিয়া স্টেশন বা ঝালদা স্টেশন থেকে গাড়ি ভাড়া করে মুর্গমা। কলকাতা থেকে ট্রেনে বা বাইকেও যাওয়া যায়।
কোথায় থাকবেন? মুর্গমা ইকো রিসোর্ট বা পলাশ বিতান রিসোর্ট। ড্যামের খুব কাছেই থাকার ব্যবস্থা আছে।

৩. বাগুরান জলপাই (Baguran Jalpai): সাগরের গর্জনে নিঝুম রাত
অবস্থান: কাঁথি, পূর্ব মেদিনীপুর।
দীঘা বা মন্দারমণিতে এখন এত হোটেল আর এত আলো যে রাতে আকাশ দেখা দায়। কিন্তু সমুদ্রের পাড়ে দাঁড়িয়ে তারার আকাশ দেখার ইচ্ছা কি আপনার নেই? তার জন্য সেরা ঠিকানা বাগুরান জলপাই।
কেন এটি অ্যাস্ট্রো-ফটোগ্রাফির জন্য সেরা? এটি মন্দারমণি এবং জুনপুটের মাঝখানে অবস্থিত একটি অত্যন্ত নির্জন সৈকত। এখানে হোটেলের সংখ্যা হাতে গোনা। সূর্যাস্তের পর পুরো এলাকা অন্ধকারে ডুবে যায়। সমুদ্রের দিগন্তরেখা বা হরাইজন (Horizon) এখানে একদম পরিষ্কার। পূর্ব এবং দক্ষিণ দিকের আকাশ খোলা থাকায় মিল্কি ওয়ের ‘গ্যালাকটিক কোর’ (Galactic Core) বা উজ্জ্বল অংশটি এখান থেকে খুব ভালো দেখা যায়। সমুদ্রের ঢেউয়ের সাদা ফেনা আর ওপরের তারার আকাশ—এই দুইয়ের মেলবন্ধন আপনার ছবিকে এক ড্রামাটিক লুক দেবে।
ফটোগ্রাফারদের টিপস: সমুদ্র সৈকতে বালির ওপর ট্রাইপড বসালে সাবধান, ঢেউ এসে যেন ভিজিয়ে না দেয়। এখানে ‘টাইম ল্যাপস’ (Time Lapse) ভিডিও খুব ভালো হয়। ক্যামেরা সেট করে ১-২ ঘণ্টা ধরে আকাশের মুভমেন্ট রেকর্ড করতে পারেন। যেহেতু জায়গাটি নির্জন, তাই সেফটির জন্য হোটেলের কাছাকাছি বিচে থাকাই ভালো।
কীভাবে যাবেন? কাঁথি (Contai) স্টেশনে নেমে টোটো বা গাড়ি রিজার্ভ করে বাগুরান জলপাই। কলকাতা থেকে বাসে চাউলখোলা মোড়ে নেমেও যাওয়া যায়।
কোথায় থাকবেন? সাগর নিরালা রিসোর্ট এখানকার সবথেকে পুরনো এবং ভালো থাকার জায়গা। একদম সমুদ্রের গায়ে।

৪. চটকপুর (Chatakpur): জঙ্গল যখন আকাশ ছোঁয়
উচ্চতা: ৭,৮৮৭ ফুট। জেলা: দার্জিলিং (সেনচ্যাল ওয়াইল্ডলাইফ স্যানচুয়ারি)।
টাইগার হিল থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখেছেন। কিন্তু জঙ্গল থেকে আকাশ দেখেছেন কি? চটকপুর হলো সেনচ্যাল অভয়ারণ্যের ভেতরে ছোট্ট একটি ইকো-ভিলেজ।
কেন এটি অ্যাস্ট্রো-ফটোগ্রাফির জন্য সেরা? চটকপুরের চারপাশ ঘন পাইন এবং ধুপির জঙ্গলে ঘেরা। এই গ্রামটি এতটাই ছোট যে এখানে আলোক দূষণ প্রায় শূন্য। এখানের ওয়াচ টাওয়ার থেকে ৩৬০ ডিগ্রি ভিউ পাওয়া যায়। একদিকে কাঞ্চনজঙ্ঘা (Kanchenjunga), অন্যদিকে নিচে শিলিগুড়ির আলো, আর ওপরে ঘন কালো আকাশ। চটকপুরের জঙ্গল এতই ঘন যে, পাইন গাছের ফাঁক দিয়ে যখন তারাগুলো উঁকি মারে, তখন এক অদ্ভুত রহস্যময় পরিবেশ তৈরি হয়। ‘সিলুয়েট ফটোগ্রাফি’ (Silhouette Photography)—অর্থাৎ গাছের কালো ছায়া আর পেছনে উজ্জ্বল আকাশ—এর জন্য এটি সেরা স্পট।
ফটোগ্রাফারদের টিপস: শীতকালে চটকপুরের আকাশ সবথেকে পরিষ্কার থাকে। তবে প্রচুর ঠান্ডা থাকে, তাই ক্যামেরার ব্যাটারি দ্রুত শেষ হতে পারে। অতিরিক্ত ব্যাটারি বা পাওয়ার ব্যাংক সঙ্গে রাখবেন। ওয়াচ টাওয়ারের ওপর থেকে শুট করলে সেরা ভিউ পাবেন।
কীভাবে যাবেন? এনজেপি থেকে গাড়ি রিজার্ভ করে সোনাদা হয়ে চটকপুর। রাস্তাটি জঙ্গলের ভেতর দিয়ে, খুব রোমাঞ্চকর।
কোথায় থাকবেন? বনদপ্তরের কটেজ বা স্থানীয় হোমস্টে। ধানমায়না হোমস্টে বা চটকপুর ইকো রিসোর্ট বেশ জনপ্রিয়।

৫. বিহারীনাথ পাহাড় (Biharinath Hill): লাল মাটির দেশে একলা পাহাড়
অবস্থান: বাঁকুড়া জেলা।
শুশুনিয়া বা অযোধ্যা পাহাড়ে এখন পর্যটকদের ভিড়। কিন্তু বাঁকুড়ার উচ্চতম পাহাড় বিহারীনাথ আজও তার গাম্ভীর্য বজায় রেখেছে।
কেন এটি অ্যাস্ট্রো-ফটোগ্রাফির জন্য সেরা? বিহারীনাথ পাহাড়ের পাদদেশটি খুব প্রশস্ত এবং ফাঁকা। আশেপাশে কোনো বড় শহর নেই, শুধু ছোট ছোট আদিবাসী গ্রাম। তাই রাতের আকাশ এখানে নিকষ কালো। পাহাড়টিকে সাবজেক্ট হিসেবে রেখে আকাশ তোলার জন্য এটি আদর্শ। বিশেষ করে শীতকালে যখন পলাশ ফোটে, তখন দিনের বেলার ল্যান্ডস্কেপ যেমন সুন্দর, রাতের আকাশও তেমনই মায়াবী। এখানকার বাতাসে ধুলোবালি কম থাকায় তারাগুলো খুব উজ্জ্বল দেখায়।
ফটোগ্রাফারদের টিপস: পাহাড়ের নিচে যে শিব মন্দির আছে বা পুকুর আছে, সেটাকে ফ্রেমে রাখতে পারেন। পুকুরের জলে তারার রিফ্লেকশন খুব ভালো আসে। পূর্ণিমার রাতে এখানে যাবেন না, কারণ চাঁদের আলোয় তারারা ম্লান হয়ে যায়। অমাবস্যার আগে-পরে সময়টা বেছে নিন।
কীভাবে যাবেন? আসানসোল বা রানিগঞ্জ স্টেশনে নেমে গাড়ি ভাড়া করে বিহারীনাথ। কলকাতা থেকে বাইকে বা গাড়িতেও যাওয়া যায় (প্রায় ২৩০ কিমি)।
কোথায় থাকবেন? বিহারীনাথ ইকো টুরিজম রিসোর্ট বা স্পন্দন রিসোর্ট।
অ্যাস্ট্রো-ফটোগ্রাফি গাইড: নতুনদের জন্য টিপস (Astro Photography Guide)
ভাবছেন, জায়গা তো ঠিক হলো, কিন্তু ছবি তুলব কীভাবে? ডিএসএলআর (DSLR) নেই বলে মন খারাপ? চিন্তা নেই! আজকাল ভালো স্মার্টফোনেও দুর্দান্ত আকাশের ছবি তোলা যায়।
১. গিয়ার বা সরঞ্জাম:
- ক্যামেরা: ডিএসএলআর, মিররলেস বা প্রো-মোড (Pro Mode) যুক্ত স্মার্টফোন।
- ট্রাইপড (Tripod): এটি মাস্ট! অ্যাস্ট্রো-ফটোগ্রাফিতে শাটার অনেকক্ষণ খোলা রাখতে হয়। হাত কাঁপলে ছবি ঝাপসা হবেই। তাই একটা শক্তপোক্ত ট্রাইপড বা স্ট্যান্ড খুব জরুরি।
- ওয়াইড অ্যাঙ্গেল লেন্স: আকাশের অনেকটা অংশ ধরার জন্য ওয়াইড লেন্স (১৮ মিমি বা তার কম) সবথেকে ভালো।
২. ক্যামেরা সেটিংস (The Magic Formula):
- মোড (Mode): ম্যানুয়াল মোড (Manual/Pro Mode)।
- ফোকাস (Focus): ম্যানুয়াল ফোকাস। ফোকাস রিং ঘুরিয়ে ‘Infinity’ (∞) বা অসীমে সেট করুন।
- অ্যাপারচার (Aperture): লেন্সের মুখ যতটা সম্ভব খুলুন (f/2.8 বা f/1.8 হলে সেরা, f/3.5 হলেও চলবে)।
- শাটার স্পিড (Shutter Speed): এখানেই আসল খেলা। শাটার স্পিড রাখুন ১৫ থেকে ২০ সেকেন্ড। এর বেশি রাখলে তারাগুলো লম্বা দাগের মতো (Star Trails) হয়ে যাবে পৃথিবীর ঘূর্ণনের কারণে।
- আইএসও (ISO): ১৬০০ থেকে ৩২০০-র মধ্যে রাখুন। খুব বেশি বাড়ালে ছবিতে ‘নয়েজ’ (Noise) বা ঝিরঝire ভাব চলে আসবে।
- টাইমার: শাটারে চাপ দেওয়ার সময় ক্যামেরা নড়ে যেতে পারে। তাই ২ সেকেন্ড বা ৫ সেকেন্ডের টাইমার সেট করে দিন।
৩. অ্যাপস (Apps): আকাশে মিল্কি ওয়ে বা ধ্রুবতারা কোন পজিশনে আছে তা জানার জন্য মোবাইলে ‘Stellarium’ বা ‘Star Walk 2’ অ্যাপ নামিয়ে নিন। এগুলো জিপিএস ব্যবহার করে আপনাকে আকাশের ম্যাপ দেখিয়ে দেবে।
অ্যাস্ট্রো-ফটোগ্রাফির গোল্ডেন রুলস: কবে যাবেন, কখন যাবেন?
জায়গা তো ঠিক হলো, কিন্তু হুট করে টিকিট কেটে ফেললেই হবে না। আকাশের ছবি তোলার জন্য পরিবেশ এবং আবহাওয়া—দুটোই খুব গুরুত্বপূর্ণ। জেনে নিন ৪টি জরুরি টিপস:
১. ঘুটঘুটে অন্ধকার (Darkness is Key): অ্যাস্ট্রো-ফটোগ্রাফির প্রধান শত্রু হলো আলো। তাই ভ্রমণের তারিখ ঠিক করার সময় ক্যালেন্ডার দেখে নিন।
- অমাবস্যা বা New Moon: এটিই সেরা সময়। অমাবস্যার রাতে বা তার ১-২ দিন আগে-পরে যান। আকাশ সবথেকে কালো থাকে, তাই তারা সবথেকে উজ্জ্বল দেখায়।
- পূর্ণিমা বা Full Moon: ভুলেও পূর্ণিমার রাতে বা শুক্লপক্ষে যাবেন না। চাঁদের জোরালো আলোয় তারারা ম্লান হয়ে যায়, ছবিতে কিছুই আসবে না।
২. বাতাসের গতি (Check Wind Speed): রাতের আকাশ তোলার জন্য আমরা ‘লং এক্সপোজার’ (Long Exposure) ব্যবহার করি, যেখানে ক্যামেরার শাটার ১৫-২০ সেকেন্ড খোলা থাকে। এই সময় যদি খুব জোরে বাতাস বয়, তবে আপনার ট্রাইপড বা ক্যামেরা কেঁপে যেতে পারে। সামান্য কম্পন বা ‘শেক’ (Shake) হলেও পুরো ছবিটা ঝাপসা হয়ে যাবে। তাই আবহাওয়া অ্যাপে বাতাসের গতি দেখে নিন। হাওয়া কম থাকলে ছবি শার্প হবে।
৩. মেঘমুক্ত আকাশ (Clear Sky): সব প্রস্তুতি নিলেন, কিন্তু গিয়ে দেখলেন আকাশ মেঘে ঢাকা—তাহলে সব পরিশ্রম জলে। বর্ষাকালে অ্যাস্ট্রো-ফটোগ্রাফি প্রায় অসম্ভব। অক্টোবর থেকে এপ্রিল—এই সময়টা সবথেকে ভালো। বিশেষ করে শীতকালে আকাশ ধুলিকণামুক্ত এবং স্বচ্ছ থাকে।
৪. লাইট পলিউশন এড়ান: চেষ্টা করবেন এমন জায়গায় ট্রাইপড বসাতে, যার আশেপাশে কোনো হোমস্টে বা গাড়ির আলো নেই। প্রয়োজনে টর্চ লাইট নিভিয়ে দিন। চোখকে অন্ধকারে অভ্যস্ত হতে দিন, তবেই ক্যামেরা ফ্রেমিং ভালো হবে।
শেষ কথা: আকাশের দিকে তাকান
আমরা এতই ব্যস্ত যে মাটির দিকে তাকিয়ে হাঁটতে হাঁটতে আকাশের কথা ভুলেই গেছি। অ্যাস্ট্রো-ফটোগ্রাফি শুধু ছবি তোলা নয়, এটি একটি মেডিটেশন। ওই অসীম আকাশের নিচে দাঁড়ালে বোঝা যায় মহাবিশ্বে আমাদের অস্তিত্ব কতটা ক্ষুদ্র। তখন জাগতিক সমস্যাগুলো খুব তুচ্ছ মনে হয়।
তাই পরের ছুটিতে ব্যাগ গোছানোর সময় ট্রাইপডটা নিতে ভুলবেন না। টংলুর কনকনে শীতে বা বাগুরানের নির্জন সৈকতে দাঁড়িয়ে একবার আকাশের দিকে তাকান। কে জানে, হয়তো কোনো খসা তারা (Shooting Star) বা লেন্সের চোখে হয়তো এমন কিছু ধরা দেবে, যা আপনার সারা জীবনের সেরা স্মৃতি হয়ে থাকবে! হ্যাপি গেজিং!
(আরও গুরুত্বপূর্ণ খবর ও রাশিফল আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল WhatsApp চ্যানেলে যোগ দিন! সবচেয়ে আগে পান জ্যোতিষ, অফবিট নিউজ, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি, বিনোদন, জীবনধারা ও অফবিট এক্সক্লুসিভ আপডেট —আমাদের WhatsApp Channel-এ যোগ দিন)
সাম্প্রতিক পোস্ট
- Gen Z-এর প্রেমের নতুন শব্দভান্ডার জানেন? ভালোবাসার নতুন ব্যাকরণ শিখুন | Gen Z Love Trends 2026
- ব্যস্ত সকালে এই ৫টি Tiffin Recipe রাখুন রোজের তালিকায় | Easy Tiffin Recipes
- ঠাকুর, দেবতা, ভগবান ও ঈশ্বর কি একই? গুলিয়ে ফেলার আগে জেনে নিন আসল তফাৎ | God vs Deity Meaning in Bengali
- জানুন, ব্যক্তি সুভাষের অনন্য প্রেমকাহিনী: সুভাষ ও এমিলি
- গান্ধী বনাম নেতাজি—মূল পার্থক্যটা কোথায়? | Gandhi vs Netaji

