BJP West Bengal Election Spending: পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রায় ২৮৭ কোটি টাকা খরচের হিসাব প্রকাশ্যে আসতেই আলোচনায় কয়েকজন পরিচিত ইউটিউবার ও সমাজমাধ্যমের প্রভাবশালীর নাম। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া ব্যয়ের বিবরণে তাঁদের নামে অর্থের উল্লেখ ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে প্রচারের জন্য ভারতীয় জনতা পার্টি কত টাকা খরচ করেছে, সেই হিসাব নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা পড়তেই শুরু হয়েছে আলোচনা। জমা দেওয়া ব্যয়ের বিবরণ অনুযায়ী, রাজ্যে নির্বাচনী প্রচারে দলটি প্রায় ২৮৭ কোটি টাকা খরচ করেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ এবং যোগী আদিত্যনাথের মতো নেতাদের যাতায়াতের খরচ থেকে শুরু করে সংবাদমাধ্যমে প্রচার—বিভিন্ন খাতে বিপুল অর্থ ব্যয়ের তথ্য সামনে এসেছে। তবে সবচেয়ে বেশি চর্চা শুরু হয়েছে সমাজমাধ্যমে প্রচারের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন পরিচিত ইউটিউবার ও প্রভাবশালীর নাম এবং তাঁদের নামে উল্লেখ করা অর্থের পরিমাণ নিয়ে। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া বিজেপির ব্যয়ের তালিকার তথ্য ঘিরেই এই বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তালিকায় কয়েকজন পরিচিত মুখের নাম থাকায় ভোটের আগে তাঁদের তৈরি করা বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ের ভিডিও নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বাংলার ভোটে ২৮৭ কোটি টাকা, অন্য দলগুলির খরচ কত?
নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির মোট খরচ প্রায় ২৮৭ কোটি টাকা। নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ এবং যোগী আদিত্যনাথের মতো শীর্ষ নেতাদের যাতায়াতের ক্ষেত্রেই প্রায় ৫১ কোটি টাকা খরচ হয়েছে বলে প্রদত্ত তথ্যে উল্লেখ রয়েছে।
প্রিন্ট ও বৈদ্যুতিন সংবাদমাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারের জন্য বিজেপির খরচ হয়েছে ৫৫ কোটি টাকারও বেশি। অন্যদিকে, রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের মোট খরচ ৪২ কোটি টাকার কিছু বেশি বলে জানানো হয়েছে। প্রায় ২০০টি আসনে লড়াই করা সিপিএমের খরচ ছিল প্রায় ৮ কোটি টাকা। তৃণমূল কংগ্রেস অবশ্য এখনও তাদের নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ করেনি বলে প্রদত্ত তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনে জমা পড়া এই হিসাব প্রকাশ্যে আসার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ডিজিটাল প্রচার এবং সমাজমাধ্যমে পরিচিত মুখদের মাধ্যমে নির্বাচনী বার্তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য কত অর্থ খরচ করা হয়েছে, তা নিয়েই চর্চা বাড়ছে।
ডিজিটাল প্রচারে বিপুল অর্থ, তালিকায় কারা?
রাজ্য ও জাতীয় স্তরের প্রায় ৩৬ জন পরিচিত ইউটিউবার ও সমাজমাধ্যমের প্রভাবশালী ব্যক্তিকে মোট প্রায় ৫৫.৭৬ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে বলে ব্যয়ের তালিকায় উল্লেখ রয়েছে। সেই তালিকায় বিগ বসের প্রতিযোগী সায়ক চক্রবর্তী, শমীক অধিকারী, RJ প্রিয়াঙ্কা সরকার এবং জ্যোতিরাদিত্য রায়ের মতো নাম রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
তালিকায় নাম থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজন ভোটের আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয় নিয়ে ভিডিও তৈরি করে আলোচনায় এসেছিলেন। সেই কারণে তাঁদের নাম এবং অর্থের পরিমাণ সামনে আসার পর সমাজমাধ্যমে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
তবে এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, কোনও ব্যক্তির নাম ব্যয়ের তালিকায় থাকা এবং তাঁর তৈরি নির্দিষ্ট কোনও ভিডিওর বিষয়বস্তু সম্পর্কে সিদ্ধান্তে পৌঁছনো এক বিষয় নয়। প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, তালিকায় নাম ও অর্থের উল্লেখকে কেন্দ্র করেই প্রশ্ন উঠেছে—নির্বাচনের আগে তৈরি হওয়া কিছু ভিডিওর সঙ্গে এই অর্থের সম্পর্ক কী ছিল।
সায়ক চক্রবর্তীকে আড়াই লক্ষ টাকা দেওয়ার উল্লেখ
বিজেপির জমা দেওয়া ব্যয়ের তালিকায় সাহেক চক্রবর্তীর নাম রয়েছে বলে প্রদত্ত তথ্যে দাবি করা হয়েছে। তাঁকে আড়াই লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে।
২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে পার্ক স্ট্রিটের একটি নামী রেস্তোরাঁয় মাটনের পরিবর্তে বিফ স্টেক পরিবেশন করার অভিযোগ ঘিরে সায়ক চক্রবর্তী বিতর্কে জড়িয়েছিলেন বলে দেওয়া তথ্যে উল্লেখ রয়েছে। তিনি নিজেই সংবাদমাধ্যমে লেখালিখির মাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন। পরে পার্ক স্ট্রিট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হলে রেস্তোরাঁর এক কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে ওই তথ্যে দাবি করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ তাদের খাবারের তালিকা থেকে বিফ সরিয়ে নেয় বলেও উল্লেখ রয়েছে।
সায়কের নাম বিজেপির নির্বাচনী ব্যয়ের তালিকায় উঠে আসায় ওই ঘটনাকে ঘিরে তৈরি হওয়া আলোচনা আবারও সামনে এসেছে। তবে তাঁর নামের পাশে অর্থের উল্লেখ থাকাই ওই ঘটনার সঙ্গে অর্থপ্রদানের কোনও নির্দিষ্ট সম্পর্ক প্রমাণ করে না।
শমীক অধিকারীর ভিডিও ও ১৩ লক্ষ টাকার হিসাব
‘ননসেন্স’ শমীক অধিকারীর নামও বিজেপির নির্বাচনী ব্যয়ের তালিকায় রয়েছে বলে প্রদত্ত তথ্যে জানানো হয়েছে। তাঁকে ১৩ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে।
তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে শমীকের তৈরি বিভিন্ন ভিডিও ভোটের আগে রাজনৈতিক মহলে চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছিল। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা একটি ফৌজদারি অভিযোগও আলোচনায় আসে বলে দেওয়া তথ্যে উল্লেখ রয়েছে। অভিযোগকারিণী তাঁর বান্ধবী বলে পরিচিত এক মহিলা নিজের জবানবন্দিতে দাবি করেছিলেন, তাঁকে প্রায় ২০ ঘণ্টা একটি ফ্ল্যাটে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছিল। পরে মার্চ মাসে শমীক শর্তসাপেক্ষে জামিনে মুক্তি পান বলে প্রদত্ত তথ্যে উল্লেখ রয়েছে।
এই অভিযোগের প্রসঙ্গ এবং নির্বাচনী ব্যয়ের তালিকায় তাঁর নাম উঠে আসা—দুটি বিষয়কে ঘিরে সমাজমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে অভিযোগকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে ধরে নেওয়া যায় না। এখানে ব্যয়ের তালিকায় অর্থের উল্লেখ এবং তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তথ্য আলাদা করে দেখা জরুরি।
প্রিয়াঙ্কা সরকার ও জ্যোতিরাদিত্য রায়ের নামও তালিকায়
প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, পেশায় বেতারকর্মী প্রিয়াঙ্কা সরকারকে ১৫ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছে বলে বিজেপির ব্যয়ের তালিকায় উল্লেখ রয়েছে। আরজি করের নির্যাতিতার মাকে নিয়ে তাঁর মন্তব্য এবং বারুইপুরের গণধর্ষণের ঘটনায় সোনারপুরের বিধায়ক রত্না দে নাগের বক্তব্যের সমালোচনা করে তাঁকে আক্রমণ করার প্রসঙ্গও দেওয়া তথ্যে রয়েছে।
অন্যদিকে, ‘বলো তো বিজেপি’ নামে একটি ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে বিজেপির প্রচারের সঙ্গে যুক্ত জ্যোতিরাদিত্য রায়কে ১৭ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে বলে তালিকায় উল্লেখ রয়েছে। তাঁর নাম সামনে আসার পর ভোটের আগে তৈরি হওয়া প্রচারমূলক ভিডিও নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।
ছোটপর্দার অভিনেতা সুকান্ত কুন্দুর নামও বিতর্কে উঠে এসেছে। প্রদত্ত তথ্যে অভিযোগ করা হয়েছে, তিনি নিজের পাশাপাশি তাঁর বাবা ও মায়ের ব্যাঙ্ক হিসাবের মাধ্যমে মোট সাড়ে সাত লক্ষ টাকা পেয়েছেন। এর মধ্যে তাঁর মা শিখা কুন্দুর হিসাবে সাড়ে চার লক্ষ টাকা এবং বাবা সুব্রত কুন্দুর হিসাবে তিন লক্ষ টাকা জমা পড়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে। এই অর্থপ্রদানের বিবরণ ঘিরেও প্রশ্ন উঠেছে।
অর্থের বিনিময়ে প্রচার, স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন
রাজনৈতিক দলগুলির নির্বাচনী প্রচারে ডিজিটাল মাধ্যমের ব্যবহার এখন আলোচনার কেন্দ্রে। বিজেপির জমা দেওয়া ব্যয়ের বিবরণে পরিচিত ইউটিউবার ও সমাজমাধ্যমের প্রভাবশালীদের নাম রয়েছে বলে যে তথ্য সামনে এসেছে, তা ঘিরে মূল বিতর্ক তৈরি হয়েছে প্রচারের ধরন ও তার স্বচ্ছতা নিয়ে।
সমালোচকদের একাংশের প্রশ্ন, কোনও ইউটিউবার বা সমাজমাধ্যমের পরিচিত মুখ যদি রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে প্রচারমূলক বিষয়বস্তু তৈরি করেন, তাহলে দর্শকদের কাছে সেই অর্থপ্রদানের বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছিল কি না। প্রদত্ত তথ্যে দাবি করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কিছু ভিডিওতে অর্থের বিনিময়ে প্রচারের পরিচয় দেওয়ার মতো ঘোষণা ছিল না বলে সমালোচনা উঠেছে। তবে নির্দিষ্ট ভিডিও ও তার সঙ্গে যুক্ত অর্থপ্রদানের নথি ছাড়া প্রতিটি ক্ষেত্রে একই সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না।
অন্যদিকে, বিজেপির তথ্যপ্রযুক্তি শাখা ও মুখপাত্রদের বক্তব্য হিসেবে প্রদত্ত তথ্যে বলা হয়েছে, বর্তমান ডিজিটাল যুগে সংস্থা ও প্রভাবশালীদের মাধ্যমে প্রচার চালানো একটি বৈধ বিপণন পদ্ধতি। দলের দাবি, নির্বাচনী খরচের হিসাব নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।
এই বিষয়টি নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিরোধীদের তরফে কটাক্ষ করা হয়েছে বলেও দেওয়া তথ্যে উল্লেখ রয়েছে। তৃণমূলের বক্তব্য হিসেবে উদ্ধৃত হয়েছে, জনসমর্থনের বদলে অর্থের জোরে ভাড়াটে ইউটিউবারদের মাধ্যমে জনমত তৈরির চেষ্টা করেছে বিজেপি। এই বক্তব্য রাজনৈতিক দলের অভিযোগ, স্বতন্ত্রভাবে প্রতিষ্ঠিত সত্য নয়।
তালিকা প্রকাশ্যে আসার পর ফেসবুকসহ বিভিন্ন সমাজমাধ্যমে বিতর্ক ছড়িয়েছে। অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র, বিষয়বস্তু নির্মাতা কিরণ দত্ত এবং সিনেমা-পরিচিত রাহাতের মতো ব্যক্তিদের নাম ঘিরেও আলোচনা ও বাদানুবাদের কথা প্রদত্ত তথ্যে উল্লেখ রয়েছে।
সাম্প্রতিক পোস্ট
স্কুলের শৌচাগারে সাপ! নামী বেসরকারি স্কুলের নিরাপত্তা নিয়ে উঠল প্রশ্ন, কী বলছে কর্তৃপক্ষ
নিউ মার্কেটের অগ্নিকাণ্ডের নেপথ্যে আসল কারণ কী? ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য
অভিজিৎ দীপকে কি তবে এবার বিজেপিতে? রাজনৈতিক প্রস্তাব ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা
ঋতব্রতই বিরোধী দলনেতা, হাইকোর্টের বড় পর্যবেক্ষণ, কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের পদক্ষেপ কী?

