Border 2 Movie Review: বর্ডার টু একটি যুদ্ধভিত্তিক নাট্যধর্মী সিনেমা, যার পটভূমি ১৯৭১ সালের যুদ্ধ। দীর্ঘ দৈর্ঘ্য সত্ত্বেও ছবিটি দর্শককে কোথাও বিরক্ত করে না। নাটকীয়তা, আবেগ এবং যুদ্ধকৌশলের ভারসাম্যই এই ছবির বড় শক্তি। যদিও শেষের দিকে কিছু দৃশ্যপ্রযুক্তিগত দুর্বলতা চোখে পড়ে, তবুও বর্ডার টু দেশপ্রেমে ভর করা এক আবেগঘন সিনেমা হিসেবে দর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছে।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: রাত তখন অনেক। সীমান্তে নিঃশব্দ অন্ধকার। দূরে কোথাও গোলার শব্দ শোনা যাচ্ছে। কিন্তু দেশের আরেক প্রান্তে, একটা ছোট ঘরে, কেরোসিনের আলোয় বসে আছে এক মা। ছেলের পাঠানো শেষ চিঠিটা বারবার পড়ে। চিঠির ভাঁজে লেগে থাকা ধুলোর গন্ধ যেন এখনও যুদ্ধক্ষেত্রের কথা মনে করিয়ে দেয়। পাশের ঘরে স্ত্রী চুপচাপ বসে—কিছু বলছে না, শুধু অপেক্ষা করছে। ঠিক এই অপেক্ষার নামই তো ছিল বর্ডার ।
১৯৯৭ সালে যখন বর্ডার Border মুক্তি পেয়েছিল, তখন আমরা শুধু যুদ্ধ দেখিনি। আমরা দেখেছিলাম সেনাদের পরিবার, তাদের ভয়, ভালোবাসা, আর সেই চিরচেনা প্রশ্ন—“ফিরবে তো?” লংগেওয়ালার যুদ্ধের মাঝে দাঁড়িয়ে সানি দেওলের গর্জনের সঙ্গে সঙ্গে বুকের ভেতর কেঁপে উঠেছিল সেইসব মা, স্ত্রী আর সন্তানের মুখ। “সন্দেশে আতে হ্যায়…” গানটার সঙ্গে সঙ্গে চোখ ভিজে উঠেছিল অজান্তেই।
আরও পড়ুন : ‘প্রজাপতি ২’ হিট না ফ্লপ
বছর কেটে গেছে। যুদ্ধের কৌশল বদলেছে, অস্ত্র বদলেছে, সময় বদলেছে। কিন্তু সীমান্তে দাঁড়িয়ে থাকা সেনার পেছনে যে পরিবারটা থাকে—তাদের অপেক্ষা বদলায়নি। সেই পুরনো স্মৃতি, সেই অশ্রু, সেই গর্ব—এই আবেগের সুতোটাকেই আবার নতুন করে ধরেছে বর্ডার টু (Border 2)। বর্ডার টু শুরু হয় ঠিক সেখান থেকেই, যেখানে বর্ডার আমাদের ছেড়ে গিয়েছিল—সেনাদের গর্জনের শব্দ দিয়ে নয়, বরং তাদের নীরব পরিবারের চোখ দিয়ে। আসে বাড়ির চিঠি, আসে সন্তানের আঁকা রঙিন ছবি, আসে ছোট্ট হাতে দেওয়া খেলনা। যুদ্ধের ময়দানে দাঁড়িয়ে থাকা এক সৈনিক যখন বাড়ি থেকে আসা সেই চিঠি খুলে পড়ে, তখন সে আর শুধু একজন সৈনিক থাকে না—সে হয়ে ওঠে কারও ছেলে, কারও স্বামী, কারও বাবা।
এইভাবেই নস্টালজিয়ার দরজা খুলে বর্ডার টু আমাদের টেনে নিয়ে যায় আধুনিক যুদ্ধের ভেতরে। পুরনো আবেগের ওপর দাঁড়িয়ে শুরু হয় নতুন প্রজন্মের লড়াই, নতুন মুখ, নতুন যুদ্ধকৌশল—কিন্তু আত্মত্যাগ থেকে যায় একই। বর্ডার যদি ছিল একটি প্রজন্মের কান্না আর গর্বের গল্প, তবে বর্ডার টু সেখানে দাঁড়িয়ে দৃঢ় কণ্ঠে বলে—এই গল্প এখনও শেষ হয়নি।
সিনেমাটা কেমন হয়েছে?
বর্ডার টু একটি শক্তিশালী যুদ্ধভিত্তিক নাট্যধর্মী সিনেমা, যার পটভূমি ১৯৭১ সালের যুদ্ধ। প্রায় তিন ঘণ্টা পনেরো থেকে কুড়ি মিনিটের দীর্ঘ দৈর্ঘ্য থাকা সত্ত্বেও ছবিটি দর্শকদের এক মুহূর্তের জন্যও বিরক্ত করে না—এটাই এর সবচেয়ে বড় চমক।
এই সিনেমা শুধুমাত্র অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যে বানানো কোনো সিক্যুয়েল নয়। বরং নাটকীয়তা, আবেগ এবং যুদ্ধের দৃশ্য—এই তিনটির একটি সুন্দর ও ভারসাম্যপূর্ণ মেলবন্ধন এখানে দেখা যায়। যুদ্ধের দৃশ্যগুলো শুধু গোলাগুলি বা বিস্ফোরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সৈন্যদের বুদ্ধি, সুপরিকল্পিত সিদ্ধান্ত এবং যুদ্ধকৌশলের ব্যবহার।
তবে সমালোচনার জায়গাও একেবারে নেই, তা নয়। ভিডিওতে উল্লেখ করা হয়েছে, ছবির শেষের দিকে কিছু দৃশ্যে দৃশ্যপ্রযুক্তিগত দুর্বলতা চোখে পড়ে। বিশেষ করে বড় যুদ্ধের দৃশ্যে আলো কম থাকার কারণে কিছু দর্শকের অস্বস্তি হতে পারে। তবুও সব মিলিয়ে বর্ডার টু একটি আবেগঘন, দেশপ্রেমে পরিপূর্ণ সিনেমা হিসেবেই দর্শকদের সামনে উঠে এসেছে।
পরিচালক ও অভিনয়শিল্পীরা কতটা সফল?
যুদ্ধের ময়দানে যখন গোলার শব্দ থেমে আসে, তখনও গল্প থামে না। কারণ যুদ্ধ শুধু বন্দুক আর বিস্ফোরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না—যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে ঘরের ভেতরে, মায়ের চোখে, স্ত্রীর অপেক্ষায়, সন্তানের প্রশ্নে। বর্ডার টু ঠিক সেই জায়গাটাকেই স্পর্শ করেছে, যেখানে সীমান্তে দাঁড়িয়ে থাকা এক সৈনিকের সঙ্গে সমানভাবে লড়াই করে তার পরিবারও।
এই গল্পের হাল ধরেছেন পরিচালক অনুরাগ সিং। তাঁর সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল—বর্ডার নামের সেই স্মৃতিকে অক্ষুণ্ণ রেখে নতুন প্রজন্মের কাছে আবার যুদ্ধের গল্প বলা। তিনি সেই দায়িত্ব যথেষ্ট সংবেদনশীলতা আর দৃঢ়তার সঙ্গে সামলেছেন। এই ছবি আগের সাফল্যের ছায়ায় দাঁড়িয়ে তৈরি কোনো ফাঁপা প্রয়াস নয়; বরং এটি একটি পূর্ণাঙ্গ, আবেগে ভর করা যুদ্ধকথা, যেখানে গর্জনের পাশাপাশি নীরবতারও মূল্য আছে।
সেই যুদ্ধের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছেন সানি দেওল। তাঁর কণ্ঠের দৃঢ়তা, চোখের আগুন আর সংলাপ বলার সেই চেনা তীব্রতা আবারও পর্দায় ফিরে আসে। তিনি শুধু একজন সেনানায়ক নন, তিনি হয়ে ওঠেন ভরসার প্রতীক। বিশেষ করে মাঝপথের একটি সংলাপে তাঁর কণ্ঠে যে আবেগ আর দৃঢ়তা ধরা পড়ে, তা হলে বসে থাকা দর্শকদের হাততালি আর উচ্ছ্বাসে ভরে তোলে।
যাকে নিয়ে মুক্তির আগে সবচেয়ে বেশি সন্দেহ আর বিদ্রুপ ছিল, সেই বরুণ ধাওয়ানই এই গল্পের সবচেয়ে বড় চমক। পর্যালোচনা অনুযায়ী, এই ছবি কেবল সানি দেওলের একক যাত্রা নয়। বরুণ ধাওয়ান এখানে অনেক বেশি সময় ধরে পর্দায় উপস্থিত থাকেন, আর ধীরে ধীরে তাঁর চরিত্রটাই গল্পের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। যুদ্ধের ভয়, দায়িত্বের চাপ আর ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব—সব মিলিয়ে তাঁর অভিনয় অনেক দর্শকের চোখে তাঁকেই মূল চরিত্র করে তোলে।
দিলজিত দোসাঞ্জহের অভিনয় এই গল্পে আলাদা করে হৃদয় ছুঁয়ে যায়। তাঁর অভিনয়ে কোনো বাড়তি নাটকীয়তা নেই, আছে সহজতা আর গভীর আবেগ। বিশেষ করে শিশুদের সঙ্গে তাঁর কিছু দৃশ্য—একটি খেলনা দেওয়ার মুহূর্ত, একটি নীরব হাসি—যুদ্ধের নিষ্ঠুরতার মাঝেও মানবিকতার আলো জ্বালিয়ে রাখে।
আহান শেঠির চরিত্রটি তুলনামূলকভাবে দুর্বলভাবে লেখা। তাঁর অভিনয়ে চেষ্টা থাকলেও চরিত্রটি খুব গভীর ছাপ ফেলতে পারে না। যদিও গল্পের এক আবেগঘন মুহূর্তে তাঁর উপস্থিতি পুরনো বর্ডারের স্মৃতির সঙ্গে একটি যোগসূত্র তৈরি করে।
সানি দেওলের স্ত্রীর চরিত্রে মোনা সিং গল্পে এক নীরব শক্তি হয়ে ওঠেন। তাঁর চোখের ভাষা, অপেক্ষার দৃশ্য আর ধর্মীয় স্থানের কিছু মুহূর্ত সিনেমার আবেগকে আরও গভীর করে তোলে। তিনি মনে করিয়ে দেন—যুদ্ধ শুধু সীমান্তে নয়, ঘরের ভেতরেও সমানভাবে চলে।
দুই প্রজন্মের যুদ্ধের পার্থক্য কোথায়?
বর্ডার (১৯৯৭) ছিল লংগেওয়ালার যুদ্ধের উপর ভিত্তি করে তৈরি একটি কাল্ট ক্লাসিক। সেখানে ফোকাস ছিল সীমিত সংখ্যক চরিত্র, সরল যুদ্ধ কৌশল আর তীব্র দেশপ্রেম। বর্ডার টু- এখানে নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ও স্থলবাহিনীর সমন্বিত যুদ্ধ দেখানো হয়েছে। চরিত্রগুলোর ব্যক্তিগত জীবন, পরিবার, চিঠি, ছোট ছোট স্মৃতি—এইসব বিষয়কে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যুদ্ধের দৃশ্যগুলোতে শুধু গর্জন নয়, আছে স্ট্র্যাটেজি ও মাইক্রো-প্ল্যানিং।
দর্শকের মতামত কী বলছে?
সিনেমা হলে দর্শকদের প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত ইতিবাচক। সিনেমার প্রতিটি চরিত্রের ব্যাকস্টোরি থাকায় দর্শকরা শেষ পর্যন্ত গল্পের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পেরেছেন। শুধু প্রধান চরিত্র নয়, পার্শ্ব চরিত্রদের শহিদ হওয়াও দর্শকদের মনে গভীর প্রভাব ফেলেছে।
বর্ডার টু: কেন এতটা আকর্ষণ করছে?
সৈন্যদের পরিবার, চিঠি, ছোট ছোট স্মৃতি যুদ্ধের ভয়াবহতার মাঝেও মানবিক আবেগ তৈরি করেছে। বর্ডার এর আইকনিক আবহ, সংলাপের স্টাইল দর্শকদের পুরনো স্মৃতিতে ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘ রানটাইম সত্ত্বেও সিনেমা বোরিং লাগে না—এটাই বড় সাফল্য। তবে সমালোচনার জায়গাও একেবারে নেই, তা নয়। ছবির শেষের দিকে কিছু দৃশ্যে দৃশ্যপ্রযুক্তিগত দুর্বলতা চোখে পড়ে। বিশেষ করে বড় যুদ্ধের দৃশ্যে আলো কম থাকার কারণে কিছু দর্শকের অস্বস্তি হতে পারে। তবুও সব মিলিয়ে বর্ডার টু একটি আবেগঘন, দেশপ্রেমে পরিপূর্ণ সিনেমা হিসেবেই দর্শকদের সামনে উঠে এসেছে।
বর্ডার টু ছবির গানগুলো শুধু বিনোদনের অংশ নয়, বরং গল্পের আবেগকে আরও গভীর করে তুলেছে। এই ছবিতে গান ব্যবহার করা হয়েছে খুব সংযতভাবে, কিন্তু প্রতিটি গানই গল্পের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। ঠিক যেমনটা হয়েছিল প্রথম বর্ডার ছবিতে।
সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে দেশপ্রেমমূলক গানটি। এই গানটি বাজতেই হলের পরিবেশ বদলে যায়। সেনাদের দৃঢ় মনোবল, দেশের প্রতি অটুট ভালোবাসা এবং আত্মত্যাগের অনুভূতি—সবকিছু একসঙ্গে ধরা পড়েছে এই গানের কথায় ও সুরে।’ মহব্বত হো গেহি হ্যায়’ – সোনু নিগম এবং পালক মুচ্ছালের কন্ঠে গানটি অনবদ্য। হলের পরিবেশ কে করে তুলেছে আবেগঘন। অরিজিৎ সিং এর কন্ঠে ‘ঘর কব আওগে ‘ গানটিতে যেন নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এই গান ছবির গতিকে থামায় না, বরং গল্পকে আরও কাছের করে তোলে।
ছবি মুক্তির আগে নানা সময়ে বিতর্ক তৈরি হলেও বক্স অফিস কালেকশন যথেষ্ট ভালো। ছবি দর্শকের হৃদয় জয় করে নিয়েছে। ট্রেড অ্যানালিস্টদের মতে, প্রথম উইকেন্ডেই মুভিটি ১৫০ কোটি টাকার গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলতে পারে। তাই যারা এখনো পর্যন্ত সিনেমাটি দেখেননি, অবশ্যই হলে গিয়ে দেখে নিতে পারেন। নিরাশ হবেন না। এমন আরো নিউজের আপডেট পেতে অবশ্যই নিউজ অফবিটের পেজটি ফলো করুন।
(আরও গুরুত্বপূর্ণ খবর ও রাশিফল আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল WhatsApp চ্যানেলে যোগ দিন! সবচেয়ে আগে পান জ্যোতিষ, অফবিট নিউজ, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি, বিনোদন, জীবনধারা ও অফবিট এক্সক্লুসিভ আপডেট —আমাদের WhatsApp Channel-এ যোগ দিন)
সাম্প্রতিক পোস্ট
- Gen Z-এর প্রেমের নতুন শব্দভান্ডার জানেন? ভালোবাসার নতুন ব্যাকরণ শিখুন | Gen Z Love Trends 2026
- ব্যস্ত সকালে এই ৫টি Tiffin Recipe রাখুন রোজের তালিকায় | Easy Tiffin Recipes
- ঠাকুর, দেবতা, ভগবান ও ঈশ্বর কি একই? গুলিয়ে ফেলার আগে জেনে নিন আসল তফাৎ | God vs Deity Meaning in Bengali
- জানুন, ব্যক্তি সুভাষের অনন্য প্রেমকাহিনী: সুভাষ ও এমিলি
- গান্ধী বনাম নেতাজি—মূল পার্থক্যটা কোথায়? | Gandhi vs Netaji

