Brahmananda Keshab Chandra College: সত্তর বছরের গৌরবময় পথচলার সমাপ্তি অনুষ্ঠানে শিক্ষা, গবেষণা, ভারতীয় ঐতিহ্য এবং উন্নত ভারতের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদদের বক্তব্যে মুখর হয়ে উঠল ব্রহ্মানন্দ কেশবচন্দ্র কলেজ। ভবিষ্যতের শিক্ষার রূপরেখাও উঠে এল আলোচনায়।
উত্তর কলকাতার অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্রহ্মানন্দ কেশবচন্দ্র কলেজ সত্তর বছর পূর্তি উপলক্ষে বর্ষব্যাপী উদ্যাপনের সমাপ্তি ঘটল এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে। ২০২৫ সালে শুরু হওয়া প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচির শেষ দিনের অনুষ্ঠান গত শুক্রবার কলেজ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়। কলেজের ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকদের কণ্ঠে ‘বন্দে মাতরম’ স্তোত্রগানের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়।
এদিনের অনুষ্ঠানের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘বিকশিত ভারতের উন্নয়নের নীলনকশা: ভারতীয় ঐতিহ্য ও বিজ্ঞানের অগ্রগতি’। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষাজগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. দেবব্রত মিত্র। বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দেন যোগেশচন্দ্র চৌধুরী কলেজের অধ্যক্ষ ড. পঙ্কজ রায় এবং পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. চিরঞ্জীব পাল।
অনুষ্ঠনের শুরুতে অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে কলেজের অধ্যক্ষ ড. পাপিয়া চক্রবর্তী বলেন, ব্রহ্মানন্দ কেশবচন্দ্র কলেজ ইতিমধ্যেই শিক্ষাক্ষেত্রে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করেছে। তবে ভবিষ্যতে জাতীয় শিক্ষানীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবং ছাত্রছাত্রীদের সার্বিক উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে আরও এগিয়ে যাওয়াই তাঁদের লক্ষ্য।

উন্নত ভারতের স্বপ্ন বাস্তবায়নে শিক্ষার ভূমিকা
মূল বক্তব্য রাখতে গিয়ে উপাচার্য ড. দেবব্রত মিত্র বলেন, ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে বিশ্বের উন্নত দেশগুলির কাতারে পৌঁছে দিতে হলে এখন থেকেই সুপরিকল্পিত প্রস্তুতি নিতে হবে। তাঁর মতে, বর্তমান প্রজন্ম প্রযুক্তি ও কারিগরি শিক্ষায় আগের প্রজন্মের তুলনায় অনেক বেশি দক্ষ। তাই শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান নয়, সেই জ্ঞানের বাস্তব প্রয়োগও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান জাতীয় শিক্ষানীতি শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশের লক্ষ্যেই এগোচ্ছে। একই সঙ্গে ব্রহ্মানন্দ কেশবচন্দ্র কলেজের সত্তর বছরের পথচলাকে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক বলে উল্লেখ করেন এবং ভবিষ্যতে কলেজের উন্নয়নের প্রয়োজনে পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
ভারতীয় জ্ঞানচর্চার ঐতিহ্যের উপর জোর
বিশেষ অতিথি ড. পঙ্কজ রায় তাঁর বক্তব্যে ভারতের প্রাচীন জ্ঞান-বিজ্ঞান ও শিক্ষার ঐতিহ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রাচীন ভারত ছিল বিশ্বের অন্যতম জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র। আর্যভট্ট, ব্রহ্মগুপ্ত, সুশ্রুত, চরক, জীবক এবং কৌটিল্যের মতো মনীষীদের অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, তক্ষশীলা, নালন্দা, সোমপুর, ওদন্তপুরী ও বিক্রমশীলার মতো বিশ্ববিদ্যালয় ভারতীয় শিক্ষার গৌরবের প্রতীক। তাঁর মতে, নতুন ভারত গড়ার পথে এই ঐতিহ্যই ভবিষ্যতের দিশা দেখাবে।
রয়েল সোসাইটির ফেলোকে সংবর্ধনা
অনুষ্ঠানে কলেজের প্রাক্তন শিক্ষক এবং বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. চিরঞ্জীব পাল-কে বিশেষ সংবর্ধনা জানানো হয়। সম্প্রতি তিনি রয়েল সোসাইটির ফেলো নির্বাচিত হওয়ায় কলেজের পক্ষ থেকে তাঁকে সম্মানিত করা হয়।
এদিন তাঁর বক্তৃতার বিষয় ছিল ‘দ্য বাইটস অব ইনোসেন্ট ইনসেক্ট ভেক্টরস: দ্য গুড, দ্য ব্যাড অ্যান্ড দ্য আগলি’। ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কোনও বিষয়ের একটিমাত্র দিক দেখে কখনও সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়। গবেষণার ক্ষেত্রে বিভিন্ন মত, তথ্য ও প্রমাণ বিচার করেই সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।
সত্তর বছরের ইতিহাসের স্মৃতিচারণ
অনুষ্ঠানে কলেজের অভ্যন্তরীণ গুণমান নিশ্চিন্তকারী কোষ (আইকিউএসি)-এর সমন্বয়কারী ড. কল্পতরু হালদার সংক্ষিপ্তভাবে কলেজের সত্তর বছরের গৌরবময় ইতিহাস তুলে ধরেন। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কলেজের অধ্যাপিকা অম্বিকা বড়ুয়া।
সত্তর বছরের এই উদ্যাপন শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী নয়, বরং শিক্ষা, ঐতিহ্য, গবেষণা এবং আগামী দিনের উন্নত ভারত গঠনের অঙ্গীকারকে আরও একবার সামনে নিয়ে এল বলেই মত উপস্থিত শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অতিথিদের।
#BrahmanandaKeshabChandraCollege #BKCCollege #70thAnniversary #HigherEducation #EducationNews #WestBengal #AcademicEvent #NationalEducationPolicy #Baranagar #CollegeNews
সাম্প্রতিক পোস্ট
রাত পেরিয়েও অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা এল না? এবার কী করতে হবে জেনে নিন, মিস করবেন না
রাজ্যে চালু প্রধানমন্ত্রী মাতৃ বন্দনা যোজনা, ১১ হাজার টাকা পাবেন কারা? জেনে নিন কীভাবে আবেদন করবেন?
মহিলাদের বাসে টিকিট কাটতে হবে না! জানুন, এই কার্ড থাকলেই দিঘা থেকে দার্জিলিং সফর ফ্রী তে
আপনার এলাকায় কি মিলবে ১২৫ দিনের কাজ? আজ থেকেই চালু নতুন প্রকল্প, জানুন কারা পাবেন এই সুবিধা

