Chickenpox Symptoms and Care: স্কুল থেকে বাড়ি ফিরেই যদি শরীরে লাল দানা, হালকা জ্বর আর অস্বস্তি দেখা দেয়, তবে অবহেলা নয়—সতর্ক হোন। চিকেন পক্সের প্রাথমিক লক্ষণ, সংক্রমণের ঝুঁকি, সঠিক যত্ন এবং মিথ ভাঙার পূর্ণাঙ্গ গাইড জানুন এই প্রতিবেদনে।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: দুপুরের রোদ তখন নরম হয়ে এসেছে। স্কুল ছুটির ঘণ্টা বাজতেই ব্যাগ কাঁধে নিয়ে বাড়ির পথে হাঁটছিল অর্ণব। সারাদিন ক্লাস, টিফিনে বন্ধুদের সঙ্গে হাসি-মজা—সব মিলিয়ে দিনটা ছিল একদম স্বাভাবিক। কিন্তু বাড়ি ফিরে জামা বদলাতে গিয়ে হঠাৎই সে থমকে গেল। আয়নায় তাকিয়ে দেখল বুকের কাছে ছোট ছোট লাল দানা। প্রথমে ভাবল হয়তো গরমের ঘামাচি। কিন্তু কয়েক মিনিটের মধ্যেই চুলকানি বাড়তে লাগল। মা কাছে এসে দেখলেন—দানা শুধু বুকে নয়, পিঠেও ছড়াচ্ছে। অর্ণবের গায়ে হালকা জ্বরও। তখনই প্রশ্নটা উঠল—এ কি চিকেন পক্স?এই ছোট্ট ঘটনাটাই অনেক পরিবারে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কারণ চিকেন পক্স এমন এক সংক্রামক রোগ, যা শুরুতে সাধারণ মনে হলেও দ্রুত ছড়াতে পারে।
প্রথমে হালকা জ্বর, মাথাব্যথা, শরীরের ক্লান্তি। অনেক সময় শিশুরা বলে—“আজ ভালো লাগছে না।” অভিভাবকেরা ভাবেন সাধারণ সর্দি-জ্বর। কিন্তু এক-দু’দিনের মধ্যেই মুখ, বুক বা পিঠে ছোট লাল দানা দেখা যায়। অর্ণবের ক্ষেত্রেও তাই হলো। বিকেলের মধ্যে দানাগুলো একটু ফুলে উঠল, আর চুলকানি শুরু হলো। এই পর্যায়েই সবচেয়ে বেশি সতর্ক হওয়া দরকার। কারণ দানা ওঠার আগের এক থেকে দুই দিন থেকেই আক্রান্ত শিশু অন্যদের সংক্রমিত করতে পারে। চিকেন পক্সে দানাগুলো প্রথমে লাল হয়, তারপর ফোস্কা হয়। দু’দিনের মধ্যে ফোস্কার ভেতরের তরল ঘোলাটে হয়ে শুকাতে শুরু করে। তারপর খোসা পড়ে। পুরো প্রক্রিয়াটি সাধারণত দশ থেকে চৌদ্দ দিন সময় নেয়। এই সময় নতুন দানা উঠতে পারে। ফলে একই শরীরে লাল দানা, ফোস্কা আর শুকনো খোসা—সব একসঙ্গে দেখা যায়।
মিথের ফাঁদে নয়
পাড়ার ঠাকুমা কাকিমারা এই সময় বলে থাকেন, স্নান করাবে না। আমিষ খেতে দিও না। কিন্তু চিকিৎসকের পরামর্শ একেবারেই আলাদা। চিকেন পক্স কোনো দেবদেবীর রোষ নয়, এটি ভাইরাসজনিত সংক্রমণ। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা না রাখলে বরং সংক্রমণ বাড়তে পারে। রোজ হালকা গরম জলে স্নান করে, পরিষ্কার সুতির পোশাক আর নখ ছোট রাখা—এই তিনটি বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আঁচড়ালে ফোস্কায় জীবাণু ঢুকে জটিলতা তৈরি হতে পারে। পুষ্টিকর খাবার দ্রুত সুস্থ হতে সাহায্য করে।
চিকেন পক্সের কারণ
চিকেন পক্সের প্রধান কারণ একটি বিশেষ ভাইরাস। এই ভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তির শরীর থেকে কাশি, হাঁচি, লালা কিংবা ফুসকুড়ির তরলের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সংক্রমিত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলেই অন্যদের শরীরে ভাইরাস প্রবেশ করতে পারে। এমনকি লাল দানা ওঠার এক থেকে দুই দিন আগেও আক্রান্ত ব্যক্তি অন্যকে সংক্রমিত করতে পারেন। তাই এই রোগ দ্রুত ছড়ায়। যাদের আগে এই রোগ হয়নি বা টিকা নেওয়া নেই, তাদের ঝুঁকি বেশি।

চিকেন পক্সের প্রাথমিক লক্ষণ
চিকেন পক্স শুরু হওয়ার আগে শরীর কিছু সংকেত দেয়। প্রথমদিকে সাধারণ সর্দি-জ্বরের মতো উপসর্গ দেখা যায়—হালকা থেকে মাঝারি জ্বর, মাথাব্যথা, শরীর ব্যথা, অস্বস্তি বা দুর্বলতা, ক্ষুধামন্দা। এক থেকে দুই দিনের মধ্যে বুকে, মুখে বা পিঠে ছোট লাল দানা দেখা দেয়। এটিই রোগের প্রধান চিহ্ন।
পক্স হলে কীভাবে যত্ন নেবেন?
চিকিৎসক অন্তত ৭ থেকে ১০ দিন বাড়িতে বিশ্রাম নেওয়া প্রয়োজন এই সময়। ভীড় এড়াতে হবে। ব্যক্তিগত তোয়ালে জামা কাপড় আলাদা রাখতে হবে। প্রচুর জল ও তরল খাবার খেতে হবে। পুষ্টিকর ও সহজ পাচ্য খাবার খেতে হবে। শরীর ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করে নিজেই সেরে ওঠে। তাই ভালো খাবার ও বিশ্রাম ই প্রধান ওষুধ হওয়া দরকার।
দশমদিনে বোঝা যায় নতুন দানা আর উঠছে না। সব ফোস্কা শুকিয়ে খোসা হয়ে গেছে। জ্বর নেই, চুলকানি কমে গেছে। স্বাভাবিক শক্তি ফিরে এসেছে। তখন সংক্রমনের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। তারপর এক সপ্তাহ বিশ্রাম নেওয়া প্রয়োজন।
প্রাপ্তবয়স্কদের চিকেন পক্সের লক্ষণ, প্রতিরোধ
চিকেন পক্স একটি ভাইরাসজনিত সংক্রমণ, যার মূল কারণ ভ্যারিসেলা জোস্টার ভাইরাস। এটি অত্যন্ত সংক্রামক এবং বাতাসের মাধ্যমে দ্রুত ছড়ায়। শিশুদের মধ্যে সাধারণত হালকা উপসর্গ দেখা গেলেও প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে রোগটি তুলনামূলকভাবে বেশি তীব্র হতে পারে। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে ফুসকুড়ি মুখ, বুক, পিঠ, হাত-পা এমনকি চোখের আশপাশেও ছড়াতে পারে। চুলকানি তীব্র হওয়ায় অনেকে অজান্তেই ফোস্কা ফাটিয়ে ফেলেন, যা সংক্রমণ বাড়াতে পারে। গর্ভাবস্থায় সংক্রমণ হলে মা ও ভ্রূণ উভয়ের জন্যই ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই এই শ্রেণির ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট, ফুসকুড়ি চোখে ছড়িয়ে পড়া, অস্বাভাবিক মাথা ঘোরা, বুকে ব্যথা, ত্বকে ব্যাকটেরিয়া জনিত সংক্রমণ- এই লক্ষণগুলি দেখলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। কারণ এগুলি জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে।
পক্সের দাগ দূর করার ঘরোয়া উপায়
ডাবের জল: এটি পক্সের দাগের জন্য মহৌষধ। তুলোয় ডাবের জল ভিজিয়ে প্রতিদিন দু-তিনবার দাগের ওপর লাগান। এতে থাকা খনিজ উপাদান ত্বকের হারানো ঔজ্জ্বল্য ফেরাতে সাহায্য করে।
অ্যালোভেরা জেল: টাটকা অ্যালোভেরা পাতা থেকে জেল বের করে দাগের ওপর মালিশ করুন। এটি ত্বককে আর্দ্র রাখে এবং কোষের পুনর্গঠনে সাহায্য করে।
মধু ও লেবুর রস: এক চামচ মধুর সাথে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে দাগে লাগিয়ে রাখুন। ১৫-২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। লেবুর প্রাকৃতিক ব্লিচিং গুণ দাগ হালকা করতে সাহায্য করে। (ত্বক সংবেদনশীল হলে লেবু এড়িয়ে চলাই ভালো)।
চন্দন বাটা: চন্দন বাটা ত্বকের জ্বালাপোড়া কমায় এবং কালো দাগ দ্রুত মেটাতে সাহায্য করে। এটি ঠান্ডা জলের সাথে মিশিয়ে প্যাক হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন।
চিকেন পক্সের নির্দিষ্ট প্রতিকারমূলক ওষুধ নেই যা একেবারে ভাইরাস নির্মূল করে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ গ্রহণ করলে উপসর্গের তীব্রতা কমানো যায় এবং জটিলতার ঝুঁকি হ্রাস পায়। সচেতনতা এবং সময়মতো টিকা গ্রহণই প্রাপ্তবয়স্কদের চিকেন পক্স প্রতিরোধের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র। চিকেনপক্স সাধারণত শৈশবের রোগ হলেও এটি অত্যন্ত সংক্রামক। সঠিক পরিচর্যা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখলে অধিকাংশ রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠে। টিকাদান সংক্রমণ কমাতে বড় ভূমিকা রেখেছে। তাই সচেতন থাকুন, প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং শিশুর যত্নে কোনো গাফিলতি করবেন না।
#Chickenpox, #Varicella, #ChildHealth #SkinRash #ParentingTips #HealthAwareness #PublicHealth
(আরও গুরুত্বপূর্ণ খবর ও রাশিফল আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল WhatsApp চ্যানেলে যোগ দিন! সবচেয়ে আগে পান জ্যোতিষ, অফবিট নিউজ, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি, বিনোদন, জীবনধারা ও অফবিট এক্সক্লুসিভ আপডেট —আমাদের WhatsApp Channel-এ যোগ দিন)
সাম্প্রতিক পোস্ট
- ভোটের বছরেও ‘বঞ্চিত’ বাংলা? হাইস্পিড রেল আর ফ্রেট করিডর ছাড়া ঝুলিতে শূন্য! বাজেটে বাড়ল ক্ষোভের পারদ
- ভোটের আগে পশ্চিমবঙ্গের জন্য বাজেট কি জনদরদী হতে চলেছে? জানুন, লাইভ বাজেট আপডেট ২০২৬
- পুরনো ধাতুর ওপর বিশ্বাস │ রাজপথে কীভাবে ভিন্টেজ গাড়ি হয়ে ওঠে চলমান ইতিহাস
- ঋতুস্রাব আর বাধা নয় শিক্ষায় │ যুগান্তকারী রায় দেশের শীর্ষ আদালতের
- বাজেট প্রত্যাশা ২০২৬ │ ভোটের আগে বাংলার জন্য কী চমক রাখছে কেন্দ্র? │ জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞ

