ঠান্ডা ডিসেম্বরের সকাল। আলো-ঝলমলে শহর, কেকের গন্ধ, রঙিন আলোয় সেজে থাকা পার্ক স্ট্রিট (Christmas Celebration Then & Now) ফিরে এসেছে সেই সময়, কয়েকশো বছর আগে ইংরেজদের বড়দিন, হাতে আঁকা কার্ডের গন্ধ, বর্তমানে সমাজমাধ্যমে রিলস, জানুন, বড়দিনের জানা অজানা গল্প।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: নাহুমসের কেক তখন ছিল না। বেকারি বা বাটি কেকের প্রচলন ছিল। টিভির পর্দায় বা মাল্টিপ্লেক্সে অ্যাডভেঞ্চার ছিল না। শীতের সকাল, সোনালী রোদ, বাবার হাতের আঙুল স্পর্শ করে বেড়াতে যাওয়ার অনুভূতি ছিল। কাগজের কাপে মোড়া আদরের কাপকেক। অনেকটা সময় পেরিয়ে গেছে। পেস্ট্রি, ফ্রুট কেক, নাহুমসের কেকের সঙ্গে আজ বন্ধুত্ব। মোমবাতির আলোর পথ থেকে সরে এসে বন্ধুত্ব হয়েছে ক্রিসমাস ট্রি, ইভের সাথে। বড়দিনকে ঘিরে ইতিহাসের নানা গল্প আছে। সময়ের সাথে সাথে বড়দিনের উদযাপনেও পরিবর্তন এসেছে। গ্রিটিংস, ছবি, কোটেশন, বন্ধুদের জন্য বার্তা, কালের নিয়মে উৎসবের রীতিতেও এগুলোর সাথে মানুষ পরিচিত হয়েছে। এই প্রতিবেদনে জেনে নিন, সেকাল একালে বড়দিন পালনে কী কী পরিবর্তন ঘটেছে। সেই সময়ের ইউরোপীয় ঐতিহ্যের ছোঁয়া, প্রার্থনা, সংগীত আর কেকের গন্ধে যেন গোটা শহর জেগে উঠেছিল। আজ ২০২৫-এ দাঁড়িয়ে বড়দিন আর শুধু ধর্মীয় উৎসব নয় — এটি এখন বিশ্বসংস্কৃতির এক উজ্জ্বল প্রতীক, আনন্দ ও মানবতার উৎসব।
আরও পড়ুন : বড়দিনে শতাব্দীপ্রাচীন গ্লেনারি’স │ Glenary’s Darjeeling Christmas
ভারতে বড়দিনের ইতিহাস (Christmas Celebration Then & Now)
সময়টা ১৬৬৮ সাল। বড়দিনের ইতিহাস অনুসন্ধান করলে জানা যায়,ভারতবর্ষে এই বছর প্রথম ক্রিসমাস পালন করা হয়। জব চার্ণক প্রথম বড়দিন পালন শুরু করেছিলেন বলে শোনা যায়। বিশ্বের অধিকাংশ দেশে ২৫ ডিসেম্বর বড়দিন পালন করা হলেও ব্যতিক্রম রাশিয়া, জর্জিয়া, মিশর, আর্মেনিয়া। জুলিয়ান ক্যালেন্ডার অনুসারে ৭ জানুয়ারি এখানে বড়দিন পালন করা হয়। আজ থেকে ২০০০ বছর আগে যীশুখ্রীষ্ট শান্তি এবং কল্যাণের পথ দেখিয়েছিলেন মানুষকে। তাই তাঁর জন্মদিনে বড়দিন পালন করা হয়। সুদীর্ঘকাল ব্রিটিশ শাসনাধীন থাকার কারণে দেশের শহরাঞ্চলে বড়দিন পালন উপলক্ষে ব্রিটিশ রীতি অধিক মাত্রায় প্রচলিত। ব্রিটিশদের মতন এই দিনে এ দেশেও ফ্রুট কেক খাওয়ার প্রচলন রয়েছে। শহর এবং শহরতলীতে আলোকসজ্জার দৃশ্য দেখা যায়।
বড়দিনের সাথে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে আছে স্যান্টাক্লজ-এর নাম। ছোটদের কাছে উপহার পৌঁছে দেওয়ার জন্যই এই ব্যক্তিত্ব বড়দিন উদযাপনে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। অনেকের মতে স্যান্টাক্লজ নামটি ডাচ সিন্টারক্লাস নামের অপভ্রংশ, যার অর্থ হলো সেন্ট নিকোলাস। তুরস্কের বিশপ খ্রিস্টীয় চতুর্থ শতাব্দীতে সেন্ট নিকোলাস শিশুদেরকে অত্যন্ত পছন্দ করতেন। বড়দিনকে ঘিরে ইতিহাসের নানা গল্প আছে। বড়দিনের সেকাল অর্থাৎ ৪/৫ দশক আগের কথা। ডিসেম্বর মাস। এই সময়ে সেকালে কীর্তন হত। পাড়ায় কোন দলে লোকসংখ্যা বেশি, কি লিড করতে পারবে এগুলো নিয়েই আলোচনা শুরু হয়ে যেত প্রতিটি ঘরে ঘরে। দিন বদল হয়েছে। রুচিবোধের পরিবর্তন ঘটেছে। বিশ্বের সংস্কৃতির সাথে মিলন হয়েছে। তার সাথে তাল মিলিয়ে বড়দিনের উৎসব পাল্টেছে।

আজকের বড়দিন শুভেচ্ছা আর ভালোবাসার গল্প
বড়দিন মানেই — ভালোবাসা ভাগ করে নেওয়া, পুরোনো সম্পর্ক মেরামত করা, আর একটুখানি দান ও সহানুভূতির সময়। ঘরে ঘরে কেক কাটা, ক্যারল সংগীতে গির্জা মুখর, সান্তা ক্লজের উপহার বিতরণ, সোশ্যাল মিডিয়ায় শুভেচ্ছার বন্যা, আজকের বড়দিনে ভালোবাসার গল্প, শীতের সকাল থেকেই পিকনিক, মানুষের ব্যস্ততম জীবনে আনন্দের ছোঁয়া, ভাগ করে নেওয়া সুখ দুঃখ, মেলা মানুষকে এক সুরে গেঁথেছে। বড়দিন এখন কেবল চার্চের নয়, প্রতিটি হৃদয়ের উৎসব।সময়ের সঙ্গে বড়দিনের রীতিতেও এসেছে পরিবর্তন। সেই ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে গ্রিটিংস, ই-কার্ড, সেলফি, ইনস্টাগ্রাম রিলস, আর অনলাইন গিফট এক্সচেঞ্জ। আজকাল বড়দিনের আনন্দের অর্ধেকটাই ছবিতে। সান্তা টুপি পরে বন্ধুর সঙ্গে সেলফি, কেক কাটা মুহূর্তের ভিডিও। মুঠোফোনে আনন্দের ভাগ করে নিচ্ছে মানুষ (Christmas Celebration Then & Now)। এখনকার সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্টার, একসময় ছিল গ্রিটিংস কার্ড। যার প্রচলন হয়েছিল ১৮৪৬ সালে ইংল্যান্ডে। ভারতে অবশ্য অনেকটা পরে আসে। কয়েকশো বছর আগেকার বড়দিনের ইতিহাসের গল্প রাধাপ্রসাদ গুপ্ত দেশ পত্রিকায় লিখেছিলেন। বিশেষ ধরনের ওয়াইন সেসময় প্রচলিত ছিল। আজ সব কিছুই পরিবর্তিত। প্রাচীন কালের বড়দিন মডিফায়েড হয়েই আজকের বড়দিনে আভিজাত্যের আড়ালে মানবতার আর সহানুভূতির ছোঁয়া।
Most Viewed Posts
- মোটা হবেন না, মিষ্টি খান নিশ্চিন্তে │ Guilt-Free Sweets for Diwali Delight
- Dharmendra death: ধর্মেন্দ্রর জীবনের এই ১১টি তথ্য অনেকেই জানেন না │ 11 Untold Facts About Dharmendra
- ২০২৬-এ মেষ রাশির জন্য আসছে বড় মোড় │ Aries Horoscope 2026 Full Prediction
- জানেন কি নবরাত্রির চতুর্থ দিনে মা কুষ্মাণ্ডা পূজা কেন বিশেষ? ︱Why Ma Kushmanda Puja on Navratri Day 4 is Special?
- Digha Jagannath Temple Facts ︱দীঘা জগন্নাথ মন্দির সম্পর্কে জানুন এই দশটি অজানা তথ্য

